ইহুদীদের দ্বারা বিশ্ব বিজয়ের উদ্দেশে ইহুদী সমপ্রদায়ের বিজ্ঞ প্রবীনদের দ্বারা গৃহীত ভবিষ্যত নী

ইহুদীদের দ্বারা বিশ্ব বিজয়ের উদ্দেশে ইহুদী সমপ্রদায়ের বিজ্ঞ প্রবীনদের দ্বারা গৃহীত ভবিষ্যত নীল নঙ্া

ইহুদীদের দ্বারা বিশ্ব বিজয়ের উদ্দেশে ইহুদী সমপ্রদায়ের বিজ্ঞ প্রবীনদের দ্বারা গৃহীত ভবিষ্যত নীল নঙ্া

 
ইহুদীদের দ্বারা বিশ্ব বিজয়ের উদ্দেশে ইহুদী সমপ্রদায়ের বিজ্ঞ প্রবীনদের দ্বারা গৃহীত ভবিষ্যত পদক্ষেপ সমূহের নীল নঙ্া

ভূমিকা :
এই প্রটোকলের ইংরাজী অনুবাদকারী ভিক্টর-ই মার্সডেন স্বয়ং ছিলেন রুশ বিপ্লবের একজন  ভুক্তভোগী। তিনি বহু বৎসর যাবদ রাশিয়ায় বসবাস করেন এবং একজন রাশিয়ান মহিলার পানিগ্রহন করেন। তাঁর অন্যান্য কাজের মধ্যে উল্লেখ্য এই যে, তিনি মনিংপোষ্ট পত্রিকার রাশিয়ান সংবাদ পরিবেশক হিসাবে বিপ্লব-কালীন রাশিয়ার বাস্তব খবরাদি নিপুনতার সঙ্গে পরিবেশন করেন। এতে স্বভাবতঃই তিনি বিল্পবী সরকারের বিরাগ ভাজন হন। একদিন ’ক্যাপ্টেন ক্রোমি’ নামে একজন রাশিয়ান অফিসার ইহুদীদের হাতে খুন হলে, ভিক্টর মার্সডেনকে ও বন্দী করে পিটার-পল জেলে অন্তরীন করা হয়, সেখানে তিনি যে কোন সময়ে নিহত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটান। পরে তিনি এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে, ভগ্ন স্বাস্থ্য নিয়ে কোন মতে ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন এবং তাঁর স্ত্রী ও অন্যান্য বন্ধু বান্ধবদের সেবা শশ্র“ষায় ভাল হয়ে উঠেন। সুস্থ হয়ে উঠে প্রথমেই তিনি এই প্রটোকলের ইংরাজী অনুবাদ শুরু করেন। জনাব মার্সডেন প্রকৃত পক্ষেই এই অনুবাদের জন্য যথেষ্ট যোগ্য বক্তি ছিলেন। রাশিয়ার সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক, রাশিয়ান জীবন সম্পর্কে ও ভাষায় তার জ্ঞান এবং একজন সাংবাদিক হিসাবে ইংরাজী ভাষায় দক্ষতা এ সবই ছিল তাঁর জন্য বিশেষ সহায়ক, যে কারনে আমরা এই প্র্রটোকল এর একটি সুন্দর পাঠযোগ্য অনুবাদ লাভ করেছি। আদতে এটি কিছুটা অসংলগ্ন ও ছাড়া ছাড়া ভাবে থাকা সত্বেও জনাব মার্সডেনের সুন্দর লেখনীর বদৌলতে, নিম্নে বর্ণিত চব্বিশটি প্র্রটোকল একটি অনন্য সুন্দর ভাব প্রকাশের সহায়ক হিসাবে দেখা গেছে। বলা যেতে পারে যে, এই লেখা বাস্তবিক ভাবেই জনাব মার্সডেন এর জীবন ও রক্তের বিনিময়ে পাওয়া। তিনি এই ভূমিকা লেখককে বলেছিলেন যে বৃটিশ মিউজিয়ামে এই অনুবাদ কালে তিনি কখনও একটানা এক ঘন্টা সময়ও দিতে পারেননি, কারন বিষয়টির আভ্যন্তরীন নিষ্ঠুরতা  ও শয়তানী ভাবধারা তাকে বাস্তবিকই এতটা অসুস্থ করে তুলেছিল।
ইংল্যান্ডে ফিরে জনাব মার্সডেন মনিংপোষ্ট এর বিশেষ প্রতিনিধি হিসাবে মহামান্যা বৃটিশ সম্রাজ্ঞীর স্বামী প্রিন্স অফ ওয়েলস্ এর বৃটিশ সাম্রাজ্য ভ্রমনের সঙ্গী হয়েছিলেন। ফেরার পর তাঁর হৃত স্বাস্থ্য কিছুটা পুনরুদ্ধার করতে পারলেও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মৃত্যু মুখে পতিত হন।
এই অনুবাদ কর্মটি তাঁর একটি অবিস্মরণীয় কীর্তি। ইংরাজী ভাষাভাষি জনগোষ্ঠির কাছে তিনি যেভাবে এই জটিল বিষয়টিকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন, এর তুলনা নেই।

প্রস্তাবনা

এই প্রটোকল এর বিষয়টি নূতন করে উপস্থাপন করার কিছু নেই। এটি বই আকারে প্রথম ১৮৯৭ সালে ফিলিপ ষ্টিপানভ কর্তৃক তাঁর অন্তরায় বন্ধু মহলে বিতরনের জন্য ছাপা হয়। অধ্যাপক নাইলাস প্রথমে ১৯০১ সালে এটি “ক্ষুদ্রের মধ্যে বৃহৎ” এই নাম দিয়ে প্রকাশ করেন পরে ১৯০৫ সালে পুনরায় এটি ছাপা হয়। এর একটি কপি বৃটিশ মিউজিয়ামে ১৯০৬ সালের ১০ই আগষ্ট গৃহীত হয়। রাশিয়াতে যে সকল কপি ছিল কেরেনেক্সির শাসন আমলে সমস্তই নষ্ট করে দেওয়া হয়। যার কাছে এর কোন কপি থাকবে, দেখা মাত্র তাকে গুলি করার নির্দেশ ছিল। এই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করলে এই প্রটোকল এর সত্যতা ও বাস্তবতাই প্রমানিত হয়। ইহুদী পত্রিকা সমূহ অবশ্য এটিকে অধ্যাপক নাইলাস এর নিজস্ব তৈরী একটি জালিয়াতি হিসাবে উল্লেখ করতে সচেষ্ট।
জনাব হেনরীফোর্ড, ১৭ই ফেব্র“য়ারী ১৯২১ সালে নিউইয়র্ক “ওয়ার্ল্ড ” এ প্রকাশিত তাঁর এক বক্তব্যে বলেন “এই প্রটোকল এর ব্যাপারে এটুকু গ্রাহ্য করতেই হয় যে, এখন পর্যন্ত যা কিছু হচ্ছে তা সবই এর সঙ্গে সাযুয্যপূর্ণ। আজ প্রায় ষোল বছর হতে চলল -দেখা যাচ্ছে বর্তমান পৃথিবীর সব কিছুই এর সঙ্গে ফিট্ ”
”ঞযবু ভরঃ রঃ হড়.ি” 
হ্যাঁ, বর্তমান পৃথিবীতে যা কিছু হচ্ছে দেখা যাচ্ছে, সব কিছুই এখন পর্যন্ত এই প্রটোকলে উল্লেখিত বিষয়াদির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।
প্রটোকল কথাটির অর্থ হলো, সংক্ষিপ্ত কোন সারমর্ম, যা কোন দলিল এর প্রথমে থাকে, অথবা কোন খসড়া দলিল অথবা কোন সভার গৃহীত প্রস্তাব সমূহ। এখানে প্রটোকল কথাটির অর্থ হলো, ইহুদী সম্প্রদায়ের বিজ্ঞ প্রধানদের সভায় গৃহীত প্রস্তাব সমূহ। এই প্রটোকলে উল্লেখিত হয়েছে, ইহুদী সম্প্রদায়ের আভ্যন্তরীন শাসক বর্গের গৃহীত নীতি নির্ধারনী বিষয় সমূহ। ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা নীতিসমূহ, বর্তমান কালের পটভূমিকায়, কিভাবে গোপন কার্যক্রমের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে, তারই রূপরেখা এর মধ্যে বিবৃত হয়েছে। ইহুদী সম্প্রদায়ের অন্যান্য গোপন কার্যক্রম এর ফিরিস্তি, যা মাঝে মাঝে প্রকাশিত হয়ে পড়লে, ঐ সম্প্রদায়ের লোকরা সে সম্বন্ধে সরাসরি অস্বীকার করেন - সেই একই ভাবে, এই প্রটোকলের বিষয়টিও ইহুদীরা জাল বলে অস্বীকার করেছেন এবং এটিই এই প্রটোকলের সত্যতার বিশেষ প্রমান। তাছাড়া, এর মধ্যে উল্লেখিত রূপরেখা অনুসারেই ইহুদী জাতীর বর্তমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া এবং ফলাফল হিসাবে এখানে যা কিছু  উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে সেই ফলাফলেরই বাস্তব অবস্থা অবলোকন করায় ঐ প্রটোকলের সত্যতা সম্বন্ধে আর সন্দেহের কোন অবকাশ থাকে না। ইহুদীরা তাই এটির ব্যাপারে বেশী প্রতিবাদ মুখর না হয়ে কৌশলে এড়িয়ে যেতে চান। 
ক্যাপ্টেন এ.এইচ.এম. রামসে তার ধ্র“বাদী রচনা “যে যুদ্ধের নাম নেই” (”ঞযব ঘধসবষবংং ধিৎ)” এ’তে ’সরল ইংরাজি’ (চষধরহ ঊহমষরংয) এই নামে একটি বৃটিশ সাপ্তাহিক পত্রিকার ৩রা সেপ্টেম্বর ১৯২১ তে প্রকাশিত, একটি চিঠির উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে লেখা ছিল যে, “যতদূর ধারনা করা হয় সম্ভবতঃ তারও অনেক আগে থেকেই ইহুদীদের সমাজে এই বিজ্ঞ প্রবীনদের অবস্থান ও উপস্থিতি গোপনীয় ভাবে রয়েছে। আমষ্টারডাম নিবাসী বন্ধুবর জনাব এল.ডি. ভ্যালকার্ট সাম্প্রতিক কালে আমাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যার মধ্যে তিনি মুলহাইমে অবস্থিত সিনাগগ এর রাব্বি “ইবনে জার প্রাত” এর সঙ্গে অলিভার ক্রমওয়েলের চিঠি আদান প্রদান ও তার বিষয়বস্তু উল্লেখ করেছেন, যা নিম্নরূপঃ 
১৬ই জুন ১৬৪৭:
অলিভার ক্রমওয়েলের নিকট হ’তে ইবনে জার প্রাত এর প্রতি:
“আর্থিক সহযোগীতার বদলে ইংল্যান্ডে ইহুদীদের প্রবেশাধিকার প্রদান করা হবে। অবশ্য চালর্স বেঁচে থাকা অবস্থায় তা সম্ভব নয়। চালর্সকে বিনা বিচারে মৃত্যুদন্ড প্রদান আপাততঃ সম্ভব হচ্ছে না এবং বর্তমানে বিচার করে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার স্বúক্ষে তেমন বিশেষ কোন যুক্তি ও অজুহাত / ভিত্তি  নেই। অতএব এই ভাল যে চালর্সকে গোপনে হত্যা করা হোক। গুপ্তঘাতকই তাকে পালাতে সাহায্য করুক, পরে হত্যা করুক।” 
এর জবাবে যা লেখা হয়েছিলঃ
১২ই জুলাই ১৬৪৭:
অলিভার ক্রমওয়েল এর প্রতি, ই.প্রাত এর তরফ থেকে:
“চালর্স এর অপসারণ ও ইহুদীদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক সহযোগীতা অনুমোদিত হবে। গুপ্ত হত্যা খুবই বিপদজনক হতে পারে। চালর্সকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়া হোক, তার ধরা পড়ায়, বিচার করা ও মৃত্যুদন্ড দেওয়া সহজ হবে। মুক্ত-হস্ত সহযোগীতা করা হবে। তবে বিচার শুরু হওয়ার আগে এর শর্তাবলী আলোচনা নি®প্রয়োজন।”
ক্যাপ্টেন রামসে ১৯৫১ সালে প্রকাশিত ২ খন্ডে সমাপ্ত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “১ম চালর্স এর জীবন” এ বৃটেনের প্রথম ইহুদী প্রধানমন্ত্রী আর্ল অফ বেকন্সফিল্ড আইজ্যাক ডিজরেইলী (বেনজামিন ডিজরেইলীর পিতা) এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন তিনি বলেন- “১ম চালর্স এর অধীনে ইংল্যান্ডে বিপ্লব কোন যুগান্তরকারী ঘটনা নয়। ঐ সময় ও ঘটনাসমূহ থেকে আমরা আমাদের ইতিহাসে বিপ্লবের ধারাকে ঘৃনা করে এসেছি।” 
ঐ একই দলিলে আমরা এই উল্লেখযোগ্য আর একটি সংলাপ পাই, তা হ’ল-“স্মরন করুন! ফরাসী বিপ্লবের কথা, এর গোপন প্রস্তুতি সবই আমাদের উত্তমরূপে জানা ছিল, কেন না এটি ছিল সম্পূর্ণ আমাদের হাতেরই তৈরী।” (প্রোটোকল নং-৩ এর ১৪ ধারা)।
১৮৬৫ সালে ’জাইকর্ন’ নামে একজন ইহুদী রাব্বি ”প্রাগে” এক বক্তৃতায় ইহুদীদের “প্রটোকল” এ বর্ণিত বহু বিষয়াদির যথাযথ সার সংক্ষেপ হিসাবে বেশ কিছু বিষয়ের উল্লেখ করেছিলেন, যা প্রায় এগার বছর পরে স্যার জন র‌্যাডক্লিফ এর উদ্যোগে ছাপা হয়। উক্ত প্রকাশনীর পরপরই স্যার জন রাডক্লিফ আততায়ীর হাতে নিহত হন। এতে ইহুদীদের উক্ত গুপ্ত সংগঠনের প্রচন্ড শক্তিমত্তার ব্যাপারটি সেই সময়ই প্রমানিত হয়। উক্ত “প্রটোকল” যে ইহুদীদের গোপন সংগঠনের দ্বারা প্রচারিত ও পুনঃ প্রচারিত হয়েছে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। 
বাসেলে (ইধংষব) ১৮৯৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম জিয়নিষ্ট কংগ্রেসে   সভাপতিত্ব করেন আধুনিক জায়নবাদের জনক থিত্তডোর হার্সেল। “জিউইস ক্রনিকলস্” এ ১৪ই জুলাই ১৯২২ সালে প্রকাশিত হার্সেল এর লেখা “ডাইরী” এর কয়েকটি পরিচ্ছেদ প্রকাশিত হয়, যার মধ্যে হার্সেল তার ১৮৯৫ সালে ইংল্যান্ড ভ্রমনের বিষয় এবং কর্ণেল গোন্ডস্মিথ নামে একজন বৃটিশ সেনা কর্মকর্তা (যিনি ছিলেন আদতে ইহুদী, যদিও খৃষ্টান হিসাবে পালিত, কিন্তু অন্তরে অন্তরে খাঁটি ইহুদী জাতীয়তাবাদী ) - এর সঙ্গে সাক্ষাৎকার এর বিষয়াদি উল্লেখ করেন। গোন্ডস্মিথ হার্সেলকে এই ব’লে পরামর্শ দেন যে, ইংল্যান্ডের অভিজাত বর্গ ’কে বিনাপয়সায় ইহুদীদের স্বপক্ষে কাজে লাগানোর একটাই সহজতম উপায়, তাহচ্ছে, ইংল্যান্ডের জমির উপর ট্যাক্স বৃদ্ধি করতে তাদের কোন না কোন প্রকারে রাজি করানো। হার্সেল এটিকে একটি অভিনব প্রক্রিয়া হিসাবে স্বীকার করেন এবং বর্তমানে এটিকে আমরা “প্রটোকল” এর ৬ অধ্যায়ে বিধৃত দেখতে পাব।
হার্সেল এর ডাইরীতে উল্লেখিত উপরোক্ত বিষয় থেকে একথাই প্রমানিত হয় যে, ইহুদীরা পৃথিবী ব্যাপী ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র জাল বিস্তৃত করে রেখেছে এবং তাদের প্রধান ও বিজ্ঞদের “প্রটোকল” (প্ল্যান প্রোগ্রাম) যা পৃথিবীর সমস্ত শক্তিকে তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নেওয়ার জন্য অপকৌশলের রূপরেখা, তার বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে এবং তাদের প্ল্র্যান - প্রোগ্রাম মাফিকই যে বর্র্তমানকালে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘটনা সমূহ সংঘটিত হ’য়ে চ’লেছে, সেই ভয়ঙ্কর অমানবিক ষড়যন্ত্রজাল, যার বিষয়, জনাব মার্সডেনের লেখা অনুবাদ কর্মটি পড়লেই পাঠকের বোধগম্য হবে। 
এখানে সুইডেনের প্রধান রাব্বি ডাঃ এহরেন প্রাইস ১৯২৪ সালে এই প্রটোকল এর ব্যাপারে কি বলেছিলেন, তা দেখা যাক । তাঁর মতে Ñ ”এই প্রটোকল এর বিষয়াদির ব্যাপারে‘‘, এগুলি খৃস্টান প্রেসের মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার বহুকাল আগে থেকেই আমাদের জানা আছে। তবে এই প্রকাশিত প্রটোকলটি  মূল প্রটোকল নয়, বরং সেটির একটি অতি সংক্ষিপ্ত রূপ, ৭০ জন ইহুদী বিজ্ঞ - যাদের কথা এখানে উল্লেখিত হয়েছে তাঁরা নয় , সারা পৃথিবীতে মাত্র ১০ জন ব্যক্তিই উক্ত মূল প্রটোকল এর সঙ্গে পরিচিত।” 
ডাঃ এহরেন প্রাইস আরো বলেন “আমি ডাঃ হার্সেল এর সঙ্গে ১৮৯৭ সালে বাসেলে (ইধংষব) অনুষ্ঠিত প্রথম জিয়নিষ্ট কংগ্রেসে জোগদান করে ছিলাম,  হার্সেল ছিলেন ঐ কংগ্রেসের মধ্য-মনি। তিনি ছিলেন অতি দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, ঘটনা সামনে আসার বিশ বছর আগেই তিনি তা দেখতেন , যে সকল  ঘটনার দ্বারা বিশ্বযুদ্ধ হয়েছে, তা তিনি আগেই জানতেন এবং সেই প্রক্ষিতে আমাদের কি করনীয় তার জন্য আমাদের প্রস্তুত করেছিলেন । তুরস্কের ভেঙ্গে যাওয়া এবং ইংল্যান্ড যে প্যালেস্টাইন এর উপর আধিপত্য লাভ করবে তা তিনি আগেই দেখেছিলেন। আমরা যে সেই পরিস্থিতিতে নতুন কিছু লাভ করতে পারি, তাও তিনি বলেছিলেন।”
১৯২০ সালে ’হিজ রয়াল হাইনেস প্রিন্স অফ ওয়েলস’ এর পৃথিবী সফরের সঙ্গী হয়েছিলেন ডাঃ হার্সেল। তাঁর বিদায়ী ভোজে তাঁর উত্তরসূরী ডাঃ উইজম্যান, হার্সেল এর উদ্দেশ্যে বলেন “ঈশ্বর ইহুদী জাতীর জীবনে যে এক অভাবনীয় প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়েছেন, তা হ’ল, এই জাতীকে তিনি সারা পৃথিবী ব্যাপী  বিস্তৃত করে দিয়েছেন।” (জিউইস গার্ডিয়ান অক্টোবর ৮, ১৯২০)।
এখন এর সঙ্গে নিম্নে উল্লেখিত প্রোটোকল ১১ এর শেষ বাক্যের আগেরটি মিলিয়ে নেওয়া যেতে পারে, তা হ’ল - “ঈশ্বর আমাদেরকে অর্থাৎ তাঁর মনোনীত জাতীকে যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তা অন্যান্য জাতীর চোখে আমাদের দুর্বলতা মনে হলেও, আসলে তাই আমাদের শক্তি হিসাবে পরিনত হয়েছে, যার জন্য আমরা বর্তমানে সমস্ত পৃথিবীর উপর আধিপত্যের দরজার গোড়ায় এসে পৌছেছি।” 
উল্লেখিত লেখাগুলো কয়েকটি জিনিষ প্রমান করে, তার একটি হল ইহুদী সম্প্রদায়ের “বিজ্ঞ প্রবীন” - যাদের কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা বাস্তবিক ভাবে অবস্থান করছেন, এবং ডাঃ উইজম্যান তাঁদের সন্বন্ধে সব কিছুই ওয়াকিবহাল ছিলেন। আরো প্রমানিত হয় যে প্যালেষ্টাইনে “ন্যাশনাল হোম” প্রতিষ্ঠার ছদ্ম অভিপ্রায়ের পিছনে আরো বহু সুদুর প্রসারী আসল উদ্দেশ্য বিরাজমান। এটি আরো প্রমান করে যে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ইহুদীরা কখনই একত্রে ইসরাইল রাষ্ট্রের মধ্যে এসে বসবাসে আগ্রহী নয়, যদিও তারা প্রতি বাৎসরিক প্রার্থনায় মৌখিক ভাবে বলে যে, “আগামী নতুন বৎসরে সকলে প্যালেষ্টাইনে মিলিত হব”। এটি আরো প্রমান করে যে ইহুদী জাতী (শুধু ইসলামের বা মুসলিমদের জন্য নয় বরং) সমগ্র পৃথিবীর অন্যান্য জাতীর জন্যও একটি হুমকী স্বরূপ।

এই বিজ্ঞ প্রবীন কারা? 
এটি একটি রহস্য, যা এখনও গোপন র’য়েছে। এরা হল লুকানো হাত। তারা কোন সংস্থার বোর্ড অফ ডেপুটি নন, (যা ইংল্যান্ডে জুইস পার্লামেন্টে ছিল) অথবা “বিশ্ব ইহুদী সংস্থা”র কেউ নন, যার প্রধান কার্যালয় প্যারিসে রয়েছে। কিš ‘”আলঝিমাইনার ইলেক্ট্রি সিটায়েটস গেসেলস শ্যাফট” এর ওয়াল্টায়ার রাথিনাউ (বর্তমানে মৃত) এই বিষয়টির উপর কিছুটা আলোকপাত করেছেন, একজন প্রধান নেতা হিসাবে, তিনি তাঁদের প্রত্যেক কেই চিনতেন ও জানতেন।
“উইনার ফ্রি প্রেস” এ ১৯১২ সালের ২৪শে ডিসেম্বর তিনি লিখেন -  “তিন শত জন ব্যক্তি, যাঁরা একে অপরকে চিনেন, তাঁরাই ইউরোপ মহাদেশের ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রন করেন। নিজেদের একান্ত সহযোগীদের মধ্য থেকে তাঁরা তাঁদের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।” বেনজামিন ডিজরেইলী - যাঁর আসল নাম ছিল “ইসরাইল” তাঁর উপন্যাস “কনিংস বাই” এ এই সতর্ককারী বাক্যটি বিশেষ প্রনিধান যোগ্য। তিনি লিখেছেন - “এই পৃথিবী আসলে যে সবার অলক্ষ্যে কা’দের দ্বারা শাসিত হচ্ছে, তা এর পরদার পিছনের ব্যক্তিরা ছাড়া, অপর কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।” এবং তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে, সেই ব্যক্তিরা সকলেই “ইহুদী”। এখন সেই রহস্যের কুয়াসা সরে গিয়ে দিবালোকের মত পরিস্কার আমরা দেখতে পাব যে ’মিঃ ইসরাইল’এর দ্বারা  উল্লেখিত ঐ “পরদার পিছনের ব্যক্তিরা” প্রত্যেক সরকারের পিছনেই সক্রিয় ভাবে বিরাজমান। এতে প্রত্যেক সচেতন ব্যক্তির দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় যে, যারা নিজেদেরকে পৃথকভাবে “ঈশ্বরের মনোনীত” বলে দাবী করে এবং তাদের ও তাদের জাতী সম্বন্ধে পৃথিবীর অন্যান্য জাতীদেরকে নিয়ন্ত্রণের গর্ব করে, তাদের সম্বন্ধে বর্তমানে নূতন ভাবে ধারনা পরিবর্তনের এবং সেই অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহনের সময় অতিবাহিত হ’য়ে যেতে না দেওয়া।
বিশেষ নোট -  জেন্টাইল বলতে বুঝতে হবে সমস্ত অ-ইহুদী জাতীদের। ইহুদীদের মতে ঈশ্বর সমস্ত অ-ইহুদী জাতীকে শুধুমাত্র ইহুদী জাতীর সেবার জন্যই জগতে সৃষ্টি করেছেন।
এজেন্টুর - এর অর্থ হলো সামগ্রীক ভাবে যে সমস্ত এজেন্টরা বা এজেন্টদের সংস্থাসমূহ যারা এই ইহুদী বিজ্ঞ প্রবীনদের দ্বারা ব্যবহৃত হয় তা সে ইহুদীদের মধ্য থেকেই হোক বা জেন্টাইল (অ-ইহুদী) দের মধ্য থেকেই হোক।
পলিটিক্যাল  - বলতে মার্সডেন সম্পূর্ণ পলিটিক্যাল মেসিনারীকে বুঝিয়েছেন।







নোট-২
ইহুদীবাদের কল্পিত সাপ:
৩নং প্র্রটোকলে ইহুদীবাদের কল্পিত সাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯০৫ সালের প্রকাশনার মুখবন্ধে প্রফেসর নাইলাস এই কল্পিত সাপের নিম্নোক্ত বিবরণ উল্লেখ করেছেন:-
“ইহুদীবাদের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, ৯২৯ খৃষ্ট পূর্বাব্দে বা কাছাকাছি সময় থেকে সলোমন এবং অন্যান্য বিজ্ঞ প্রধানরা, ইহুদীদের জন্য সমস্ত পৃথিবী বিনাযুদ্ধে জয় করার উদ্দ্যেশে, একটি বিশেষ স্কিম এর চিন্তাভাবনা করে গেছেন। ইতিহাস যত আগিয়েছে, ঐ স্কিমকে ততই কাজে পরিনত করা হয়েছে। ঐ স্কিমের অগ্রগতি একটি কাল্পনিক সাপের মাথার অগ্রগতি দিয়ে বুঝানো হয়েছে, এর মাথা হলো ঐ সমস্ত ব্যক্তি, যারা ওই প্লানকে কাজে পরিনত করবেন এবং শরীর হলো সমগ্র ইহুদী জাতী। এর ব্যবস্থাপনা ও কর্ম পদ্ধতি সমস্তই ভীষন গোপনীয়, এমনকি ইহুদী রাষ্ট্রের কাছেও এটি গোপনীয় রাখা হয়েছে। এই সাপের মাথা যে যে রাষ্ট্রের উপর দিয়ে গিয়েছে, সে সমস্ত রাষ্ট্রের অইহুদী শক্তিকে সম্পুর্ণ ভাবে নিস্ক্রিয় করে ফেলা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, ঐ সাপের গতি এখনও শেষ হয়নি। ঐ সাপ সমগ্র ইউরোপ এর উপর দিয়ে বিচরন করার পর সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থনৈতিক ভাবে সমগ্র ইউরোপ ও অন্যান্য রাষ্ট্রকে প্রায় পঙ্গু করার পর তাদের নৈতিক মানদন্ডও সম্পূর্ন ভাবে ভেঙ্গে তাদের দূর্নীতির অতলে তলিয়ে দেওয়া হবে এবং এতে সাহায্য করবে ইহুদী মেয়েরা, যারা ফরাসী ও ইতালীয়ান মেয়েদের ছদ্মবেশে, বিভিন্ন রাষ্ট্রের কর্ণধারদের ও বিশেষ বিশেষ পদাধিকারীদের ব্যক্তিগত জীবনে প্রবেশ করবে।
ঐ কাল্পনিক সাপের যাত্রা এই ভাবে শুরু হয়েছে, ইউরোপে গ্রীসে ৪২৯ খৃঃ পূর্বাব্দে, পেরিক্লিসের রাজত্ব কালে ঐ সাপ, সর্ব প্রথম ঐদেশের সমস্ত শক্তিকে গলধকরন করে ফেলে। দ্বিতীয়তঃ অগাষ্টাসের  সময়ে ৬৯ খৃঃ পূর্বাব্দে রোমে ঐ সাপের মাথার আর্বিভাব। তৃতীয় -  ১৫৫২ খৃষ্টাব্দে, চালর্স ৫ম এর সময়ে মাদ্রিদে, চতুর্থ - ১৭৯০ খৃষ্টাব্দে ষোড়ষ লুই এর সময়ে প্যারিসে, পঞ্চম -  (নেপোলিয়নের পতনের পর) ইংল্যান্ডে ১৮১৪ সাল থেকে, ষষ্ঠ - বার্লিনে ১৮৭১ সালে প্রাঙ্কো প্র“সিয়ান যুদ্ধের পর থেকে; সপ্তম - সেন্ট পিটার্সবার্গে ১৮৮১ সালে,  এর পরে সাপের মাথা আমেরিকার দিকে অগ্রসর হয়েছে।
 “কাউন্সিল অন ফরেন রিলেসনস”, “ত্রিপাক্ষিক কমিশন” ইত্যাদির মধ্যে ইহুদীদের উপস্থিতি এবং রাষ্ট্রের উপর এগুলির প্রভাব থেকে বুঝা যায় যে, এরই মধ্যে উক্ত সাপ আমেরিকা (ইউ.এস.এ) কে বেষ্টন করতে শুরু করেছে। (১৯০৫ সালের কথা) (বর্তমান পরিস্থিতি হতে এটি স্পষ্ট বুঝা যায় যে ইহুদী শক্তিই আমেরিকান অর্থনীতিকে পুরাপুরি গ্রাস করার পর তাকে ২টি বিশ্বযুদ্ধে টেনে এনেছে এবং বর্তমানে মধ্য প্রাচ্যের প্রায় সমস্ত রাষ্ট্রের ক্ষমতা খর্ব করে এটি ইরাক ও আফগানিস্তানকে প্রায় হজম করার পর ইরান ও পাকিস্তান এর দিকে এর বিরাট মুখ হাঁ করে রেখেছে। রাশিয়ায় বিপ্ল¦বও তাদের দ্বারাই তৈরী আবার কমিউনিজমকে মুসলমানদের দ্বারা কৌশলে ধ্বংশ করে তারাই বর্তমানে শেষ যুদ্ধ (অর্মাগাডন’এ) এর ভয়ে ভীত হয়ে মুসলিম রাস্ট্রগুলোকে সম্পূর্ণ আগাম ধ্বংস করতে চাইছে)।
সাপের মাথাটি মস্কো হ’য়ে কিয়েভ, ওডেসা ইত্যাদি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ঐ শহর গুলিতে কি পরিমান জঙ্গী ইহুদীরা বসবাস করে (ক’রতো) তা সকলের জানা আছে। এরপর সাপের মাথা কনষ্টান্টিনোপল হয়ে ঘুরে জেরুজালেমে এসে আপাততঃ শেষ হয়েছে। এই ম্যাপ “তরুন তুর্কী”দের দ্বারা তুরস্কের সাংস্কৃতিক বিপ্লব যা “কামাল আতা তুর্ক” এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল, এর বহু পূর্বেই আঁকা হয়েছিল। (আমাদের দেশের বহু ব্যক্তিই তুরস্কের সংস্কৃতিক বিপ্লবের গাল ভরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ঐ বিপ্লব যে মুলত: তুরস্কে ইহুদীদের দ্বারা পরিচালিত মুসলিম বিরোধী বিপ্লব ছিল তার খবর কয়জনই বা রাখেন। বর্তমান তুরস্কের সেনাবাহিনী যে ইহুদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তাই বা ক’জন জানেন)।
নোট - ৩   
“গয়িম”বলতে অ-ইহুদী অর্থাৎ জেন্টাইলদের বুঝানো হয়েছে, যা মার্সডেন তাঁর অনুবাদে অপরিবর্তিত রেখেছেন।







বিজ্ঞ প্রবীন ইহুদীদের সভায় গৃহীত প্র্রটোকল সমূহ
প্রটোকল-১ (মূল মতবাদ)।
১। বাগাড়ম্বর বাদ দিয়ে, আমরা প্রতিটি চিন্তাধারার বিষয়ে সোজাসুজি কথা বলব। বিভিন্ন প্রেক্ষিত ও পরিস্থিতির তুলনা মূলক বিচার করে, আমরা পারিপাশ্বিক অবস্থা সমূহের উপর আলোকপাত করব।
২। প্রথমেই যা আমি নির্দিষ্ট করে বলতে চাইছি, তা হ’ল, প্রত্যেকটি জিনিষই ২টি দৃষ্টি ভঙ্গি দিয়ে বিচার্য্য - একটি হ’ল আমাদের অর্থাৎ ইহুদীদের দৃষ্টিভঙ্গি, অপরটি হ’ল গয়িমদের অর্থাৎ অ-ইহুদীদের।
৩। এটি অবশ্যই লক্ষনীয় যে, অসৎ প্রবৃত্তির দ্বারা পরিচালিত মানুষই সংখ্যায় সৎ থেকে অধিক, সেকারনেই তাদের শাসন করার সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হ’ল - তাদেরকে অরাজকতা ও সন্ত্রাস-ভীতির সাহায্যে শাসন করা এবং কখনই কেতাবী আলোচনার মাধ্যমে নয়। প্রত্যেক মানুষই ক্ষমতালোভী, সবাই যদি পারে, তবে স্বৈরাচারী ব’নতে চায়। খুবই কম মানুষ আছে যারা নিজেদের আয়-উন্নতির জন্য জনগনের স্বার্থকে জলাঞ্জলী দিতে চায় না।
৪। মানুষ নামের এই শিকারী জন্তুটিকে কোন শক্তি নিয়ন্ত্রন করে রেখেছে? তাদেরকে নির্দেশনা হিসাবে কিই বা দেওয়া হয়েছে?
৫। সমাজ পত্তনের গোড়ায় তারা ছিল নির্মম অন্ধ শক্তির অধীনে, পরবর্তীতে আইনের অধীনে, যা কিনা ঐ একই শক্তির ছদ্মনাম মাত্র। আমি এই বলে উপসংহার টানব যে, প্রকৃতিতে অধিকার বলতে বোঝায় “জোর যার মুল্লুক তার”।
৬। রাজনৈতিক স্বাধীনতা - একটি ধারনা (আইডিয়া) মাত্র, বাস্তবতা নয়। ক্ষমতায় অধিষ্টিত প্রতিপক্ষকে জনগনের দ্বারা যিনি প্রতিহত ও ধ্বংস করতে চান, তাকে এই (স্বাধীনতা) ধারনাটি, কোথায়, কখন ও কিভাবে প্রয়োগ করতে হবে তা অবশ্যই জানতে হবে। এই কাজটি আরো সহজ হবে, যদি ঐ প্রতিষ্টিত প্রতিপক্ষ নিজেই “স্বাধীনতা” ও ”উদারনীতি” এই ধারনার দ্বারা সংক্রামিত হয়ে থাকেন।
”উদারনীতি ”একটি আইডিয়া হিসাবে, নিজেই কিছু ক্ষমতার ছাড় দিতে চায়। আর এখানেই সংক্ষেপে আমাদের নীতির বিজয় নিহিত। সরকারের একটু শৈথিল্য, জীবনের নীতি অনুযায়ী আর এক নতুন আগ্রহী শাসকের দৃষ্টি আকর্ষন করবেই, কারন জনগনের অন্ধশক্তি একদিনও পরিচালক বিহীন অবস্থায় থাকতে পারে না। নতুন শক্তি স্বাভাবিক ভাবেই সেই স্থান অবিলম্বে দখল ক’রে নেয়। আর পুরাতন শক্তিতো উদার নীতির ফলে হ’য়ে পড়ে দুর্বল।
৭। আমাদের কালে উদারনৈতিক শাসকদের শক্তির স্থান দখল ক’রে নিয়েছে যে জিনিষটি সেটি হল ”স্বর্ণ”। এক সময় ছিল, যখন শাসন চলত বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে। স্বাধীনতার ধারনা বাস্তবে রূপায়িত হওয়া একরকম অসম্ভব, কেন না এ ধারনাটিকে সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত করা যায় কিভাবে, তা কারও জানা নেই। কিছু সময়ের জন্য মানুষকে নিজেদের হাতের সরকার এর উপর ছেড়ে দিলেই যথেষ্ট, এতে তারা অবশ্যই অল্প সময়ের মধ্যে এক বিশৃঙ্খল জনতায় পরিনত হবে। আর সেই মুহুর্ত থেকেই আমরা তাদের মধ্যে আমাদের নিজস্ব পন্থায় কাজ শুরু করব, যা শীঘ্রই তাদের মধ্যে এক শ্রেনী সংগ্রামের রূপ নেবে, যার মধ্যে তাদের রাষ্ট্র-ব্যবস্থা ও তার প্রয়োজনীয়তা জ্বলেপুড়ে শেষ হয়ে যাবে।
৮। কোন রাষ্ট্র নিজেদের অর্ন্তদ্বন্দ্বে নিজেরাই শেষ হয়ে যাক বা আভ্যন্তরীন দূর্বলতার কারনে তা বহিস্থ কোন বাহিনীর খপ্পরে পড়–ক, উভয় ক্ষেত্রই তাদের জন্য অপূরনীয় ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু তখন ঐ রাষ্ট্র বাস্তবে আমাদের আওতায় চলে আসে। আমাদের হাতে একচ্ছত্র ভাবে পুঞ্জিভুত অর্থ সম্পদের সহায়তা, ঐ ডুবন্ত রাষ্ট্রের কাছে তখন খড়কুটার মত আগিয়ে দেওয়া হয়, যা না ধরলে, তারা তখন একেবারেই ধ্বংশের অতলে তলিয়ে যাবে ( বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিত বিচার্য )।
৯। উদার মনের কেউ এটিকে একেবারে অনৈতিক ব্যাপার বলতে পারেন, সেক্ষেত্রে আমি প্রশ্ন করব - যদি কোন রাষ্ট্রের দুই জন শত্র“ থাকে এবং বর্হিশত্র“র পক্ষে যদি আক্রমনের কলা-কৌশল, আক্রমনের সময় ও সৈন্য সংখ্যা ইত্যাদি প্রতিপক্ষকে জানতে না দেওয়ার ব্যাপারটি অনৈতিক না হয়ে থাকে, তাহলে তার চেয়েও ভীষন যে শত্র“, যে দেশটির সমাজ কাঠামো অর্থনীতি সবকিছু ধ্বংশ করে দিতে চায়, তার জন্য এটি অনৈতিক ও অশোভন হবে কেন?
১০। সুস্থ যৌক্তিক জ্ঞান সম্পন্ন কেউ কি কোন জনতাকে যুক্তিপুর্ণ উপদেশ ও জ্ঞান গর্ভ কথা বার্তা দিয়ে সুপথে পরিচালনা করার আশা করতে পারে? যেখানে আভ্যন্তরীন ভাবে প্রতিবাদের ও স্ববিরোধীতার সম্ভাবনা, তা সে যত তুচ্ছই হোক না কেন, বর্তমান রয়েছে, আর যখন কিনা ঐ ধরনের তুচ্ছ অস্ত-র্বিরোধ, যুক্তির সাহায্যে ভালমন্দ যাচাই এর ক্ষমতাশূন্য জনতার সামনে, এক বিরাট ব্যাপার হিসাবে দেখা দিতে পারে?
ক্ষুদ্র আশক্তি তাড়িত মানুষের জনতা বা জনতার মানুষ মিথ্যা আবেগ, ভ্রান্ত বিশ্বাস,  প্রচলিত প্রথা ও সস্তা সেন্টিমেন্ট দ্বারা পরিচালিত হয় এবং সুযুক্তি এখানে সংখ্যা গরিষ্ঠের ইচ্ছার শিকারে পরিনত হয়, সে ইচ্ছা যতই  অযৌক্তিক আর ভ্রান্ত হোক না কেন। জনতার যে কোন সিদ্ধান্ত - সুযোগ ও সংগঠিত সংখ্যাগরিষ্টের উপর নির্ভরশীল, যা কিনা রাজনৈতিক অদুরদর্শিতার কারনে এমন সিদ্ধান্ত সমূহ গ্রহন করে, যার মধ্যেই অরাজকতার বীজ উপ্ত থাকে।
১১। রাজনীতির সঙ্গে ’নীতি’ কথাটির কোন সম্পর্ক নেই। যে শাসক নীতি দ্বারা পরিচালিত, তিনি কোন সুদক্ষ শাসক নন, তাই তাঁর সিংহাসন ও সুদৃঢ় নয়। সত্যই যদি কেউ সুশাসক হতে চান, তবে তাকে জানতে হবে সুচতুরতার সাহায্যে কেমন ভাবে বিশ্বস্ত^তা ও অর্জন করা যায়। মহান জাতীয় গুনাবলী - যেমন খোলামেলা ভাব , উদারতা ও সততা, এগুলি রাজনীতির ক্ষেত্রে ক্ষতিকর, কারন এগুলি শাসককে তার সিংহাসন হতে নামিয়ে আনতে পারে তার শক্তিশালী শত্র“র চেয়েও আরও সহজে ও সুনির্দিষ্টভাবে, তাই ঐ সমস্ত গুনাবলী “গইম” (অইহুদী) দের রাজ্যের বৈশিষ্ট্য হতে বাধা নেই, কিন্তু আমরা ঐ সমস্ত নীতিবোধ দ্বারা কখনই পরিচালিত হব না।
১২। আমাদের অধিকার নিহিত আছে “শক্তির” মধ্যে। “অধিকার” কথাটি একটি   অবাস্তব প্রপঞ্চ, (আইডিয়া) যা কোন কিছুর দ্বারাই প্রমানিত নয়। এর অর্থ একমাত্র এটিই যে, আমি যা চাই তাই আমাকে দিয়ে দাও, এর দ্বারা যেন প্রমানিত হয় যে আমি তোমার চেয়ে ”শক্তিমান”।
১৩। অধিকারের শুরু কোথায়, আর এর শেষই বা কোথায়?
১৪। কোন রাষ্ট্রে - যেখানে রয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্রের অব্যবস্থা ও উদার নৈতিকতার জোয়ারে উদ্ভুত দাবী দাবার প্রেক্ষিতে আইন ও ব্যক্তিত্বহীন শাসকদের নৈব্যক্তিকতা ও উদাসীনতা - সেখানে আমি দেখতে পাই একটি নতুন অধিকার, যা কিনা শক্তিমানের আক্রমন করে জয় করার অধিকার ও বিরাজমান ক্ষয়িষ্ণু অবস্থাকে হাওযার উড়িয়ে দিয়ে নতুন সার্বভৌম প্রভু হিসাবে সেখানে নিজ আধিপত্যকে সুদৃঢ় করার অধিকার, যার সুযোগ এদেশের শাসক বর্গের উদাসীনতা বা শৈথিল্য, স্বেচ্ছায় আমাদের সামনে এনে দিয়েছে।
১৫। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আমাদের শক্তি হয়ে উঠবে চরম অপ্রতিরোধ্য, কারন তা হবে অদৃশ্য এবং তা ততদিন দৃশ্যমান হবে না, যতক্ষন না তা যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠে, যাতে তা কখনও কোন অতি ধূরন্ধরও অগ্রাহ্য করার ধৃষ্টতা দেখাতে না পারে।
১৬। আমাদের বর্তমানে কৃত অপকর্ম যা আমরা করতে বাধ্য হচ্ছি, তার সুফল হিসাবে পাওয়া যাবে, একটি সুদৃঢ় রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও শাসন ব্যবস্থা, যা মোটেই উদার নৈতিকতার ধার ধরবে না। ফলেই পরিচয় বৃক্ষের। আমাদের এটা দেখার দরকার নেই কি ভাল এবং কোনটি নৈতিক, বরং এটাই দেখতে হবে যে, কোন জিনিষটি প্রয়োজনীয় ও ব্যবহার উপযোগী।
১৭। আমাদের সামনে একটি পরিকল্পনা রয়েছে, যার রূপরেখা থেকে আমাদের সামান্য বিচ্যুতির অর্থ হ’ল, আমাদের কয়েক শতাব্দির অর্জিত সফলতার পরিসমাপ্তি।
১৮। সুসংবদ্ধ কর্মপন্থা প্রসারিত করার জন্য, জনতার বোকামী, ঢিলেমী ও মতামতের দ্যেদুল্যমানতার উপর যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে হবে, কারন জনতা নিজে তার জীবনের অবস্থা সম্পর্কে জানে না এবং আরও জানে না, কিসে তার ভাল হবে। এটি মনে রাখতে হবে যে, জনগনের শক্তি অন্ধশক্তি, বোধজ্ঞানহীন এবং অযৌক্তিক, যা কোন পক্ষেরই কোন যুক্তি মানতে রাজী নয়। অন্ধ যদি অন্ধকে পথ দেখাতে চায়, তবে সে তাকে গর্তের মধ্যে না ফেলে কি পারে? একই ভাবে সমাজের উপর তলার মানুষ, তিনি জ্ঞানের সাগর হলেও, রাজনীতিতে অপরিপক্কতার দরুন, কখনই নেতায় পরিনত হতে পারেন না। (যেমন ডঃ কামাল হোসেন বা ডঃ ইউনুস) আর নেতা হতে গিয়ে তাঁরা পুরো জাতীর সর্বনাশ ডেকে আনা ছাড়া আর কিছুই করতে পারবেন না।
১৯। শৈশব থেকে, বিশেষ ভাবে রাজনৈতিক শব্দাবলীতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মাত্র একজন ব্যক্তিই রাজনৈতিক বর্ণমালাকে বাক্যে রূপ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
২০। নিজেদের খেয়ালখুশীর কাছে অর্পিত জনতার মধ্য হতে উদ্ভূত, ক্ষমতা ও খ্যাতি লোভীরা দলের ঐক্যকে ভেঙ্গে ফেলে। জনতার দ্বারা কি সম্ভব!শান্ত ও সুচিন্তিত ভাবে, পারস্পারিক হিংসা বিদ্বেষ বাদ দিয়ে ও ব্যক্তি-স্বার্থের উর্দ্ধে উঠে, দলের মঙ্গলের জন্য কর্মপদ্ধতি গ্রহন করা? তারা কি নিজেদেরকে বহির্শত্র“র আক্রমন থেকে রক্ষা করতে পারবে? না, এটি  একটি অচিন্তিনীয় ব্যাপার, কারন একটি পরিকল্পনা, যা জনতার মধ্যে যত লোক আছে তত অংশে খন্ডিত, তা থেকে একক সিদ্ধান্তে আসা এবং তা বাস্তবায়ন করা একটি অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

আমরা স্বৈরাচারী
২১। একজন একনায়কের পক্ষেই কেবল তার পরিকল্পনাকে শাসনযন্ত্রের সমগ্র স্থানে যথাযথ ভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং তা বাস্তবায়িত করা সম্ভব। অতএব এর থেকে এই অবশ্যম্ভাবী সিদ্ধান্তে আসতে হয় যে, সন্তোষজনক একটি সরকার তখনই হতে পারে, যখন ক্ষমতা একটি দায়িত্বশীল হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। পুরোপুরি একটি স্বৈরতন্ত্র ছাড়া সভ্যতার কোন অস্তিত্বই সম্ভবপর হোত না, কেননা সভ্যতা জন সমষ্টি দ্বারা নয় বরং তার অধিনায়কের দ্বারাই দিক নির্দেশিত হয়ে থাকে। তা সে অধিনায়ক যেই হন না কেন, জনতা সর্ব সময়ই বুনো স্বভাবের এবং সামান্য সুযোগ পেলেই তার বন্য স্বভাবের প্রদর্শনী ঘটে। যেই মাত্র জনতা স্বাধীনতার স্বাদ পায়, তখনই তা অরাজকতায় পরিনত  হয়, যা হল বন্য স্বভাবের সর্বশেষ রূপ।
২২ । ঐ মাতল পশুদের থেকে সাবধান, যারা নেশায় চুর, আর নেশার অবাধ ব্যবহার সে তো স্বাধীনতার সাথেই সম্পর্কিত। এটি আমাদের (ইহুদীদের ) পথ নয়, আমরা ওপথে হাঁটবো না।  গোয়িমরা (অ ইহুদীরা) মদের নেশার চুর,তাদের যুবকরা শৈশব থেকে কখনো প্রাচীন আদর্শিক চিন্তা চেতনায়,আবার কখনো অনৈতিকতায় বিভোর,  যা আমাদের স্পেশাল এজেন্টরা তাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে। যাদের দ্বারা তাদের সংক্রামিত করা হয়েছে, তারা হলো- শিক্ষক,ছদ্মবেশী অনুগত ভৃত্য, গভর্নেস, যারা  বড় লোকদের বাড়ীতে চাকুরীরত, কেরানী ও অন্যান্য এবং আমাদের নিযুক্ত মহিলারা যারা নষ্ট হওয়ার আখড়াগুলোতে নিয়মিত হাজিরা দেয়, যেখানে  গোয়িমরাও বিনোদনের জন্য স্বভাবতই হাজির হয়।  এই তালিকার শেষে আমি তাদেরও যোগ করতে চাই, যাদের তথাকথিত “সোসাইটি লেডি” বলে আখ্যা দেওয়া হয়, দুনীতি ও বিলাসিতার পথে যাদের স্বতঃস্ফুর্ত বিচরন। 
২৩। আমাদের অনুস্বাক্ষর হলো শক্তি প্রয়োগ আর বিশ্বাস অর্জন। শক্তি রাজনৈতিক বিষয়াবলীকে জয় করতে পারে কেবলমাত্র তখনই, যখন তা প্রকৃত বিচক্ষন রাজনৈতিক প্রতিভার আড়ালে লুকানো থাকে। সহিংসতাই হবে মূলনীতি,শঠতা এবং বিশ্বাস উৎপাদন করানোই - এইটাই হবে সেই সমস্ত সরকার এর কাছে ব্যবহারের  হাতিয়ার, যারা নতুন শক্তির পদতলে নিজেদের মুকুটকে বিসর্জন নিতে নারাজ। এই অপশক্তিই মঙ্গল অর্জনের একমাত্র উপায়। অতএব আমরা কেবল মাত্র ঘুস প্রয়োগ করেই ক্ষান্ত থাকবো না, আমাদের লক্ষ্য অর্জনে কপটতা, প্রতারনা ও বিশ্বাসঘাতকতা সবই প্রযুক্ত হবে, যখন যা দরকার। রাজনীতিতে একজনের সম্পদ হরনের কোন সংকোচ থাকতে নেই, বিশেষত: যখন এর দ্বারা আমাদের আধিপত্য ও একচ্ছত্রতা রক্ষিত হয়। 
২৪ । আমাদের রাষ্ট্র শান্তি পূর্ণভাবে বিজয়ের পথে অগ্রসরমান,তার অধিকার আছে যুদ্ধের বিভিষিকার বদলে অপেক্ষাকৃত কম দৃষ্টিগ্রাহ্য ২-১ টি মৃত্যুদন্ড আরোপ করে, সহিংসতার পরিবেশ কায়েম রেখে, পরিপূর্ন আত্মসর্ম্পন আদায় করা । দয়ামায়াহীন তীব্র কঠোরতাই রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি, শুধুমাত্র লাভের জন্যই নয় , কর্তব্যর খাতিরেও আমাদের অবশ্যই ঐ শক্তি প্রয়োগ ও বিশ্বাস অর্জনের নীতিতে অটল থাকতে হবে। হিসাব চুকিয়ে ফেলার এই নীতির কর্মপদ্ধতি, সংক্ষেপে বলতে গেলে তার লক্ষ্যের মতই শক্তিশালী। তাই শুধূ মাত্র কর্মপদ্ধতির প্রয়োগই নয়, বরং মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে তীব্র কঠোরতা দিয়েই আমরা সমস্ত রাষ্ট্রের সরকারদের উপর আমাদের সুপার গভর্নমেন্টের বিজয় সূচিত করব। এটুকু জানাই তাদের জন্য যথেষ্ট হবে যে, যে কোন ধরনের অবাধ্যতার জন্য আমরা একেবারেই দয়ামায়াহীন।
২৫।  প্রাচীন ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখবেন,  আমরাই মানুষকে “স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব” এই শব্দ গুলো শিখিয়েছি। তখন থেকে ভোট-কামী মূর্খ তোতাপাখীর দল, এই দানা ছিটিয়েই চতুর্দিকের মানুষকে আকর্ষন করে এসেছে আর এর দ্বারা দেশ দুনিয়ার মঙ্গল করতে চেয়েছে।  ব্যক্তির প্রকৃত স্বাধীনতা সেই যুগে  জনতার চাপের মুখে ছিল সুরক্ষিত। “গোয়িম”দের তথাকথিত জ্ঞানী  ব্যক্তিরা, এক কথায় ”আঁতেলরা” তখন ঐ জ্ঞানগর্ভ কথাগুলির কোন কিছুই বাস্তবায়ন করতে পারেনি, কেননা তারা দেখেনা যে, আদতে প্রকৃতির মধ্যেই কোন সমতা নেই, তাই স্বাধীনতাও নেই, প্রকৃতি স্বয়ং সব মানুষের মনকে সমান করে তৈরী করেনি, সবার চরিত্র, কর্মক্ষমতা, সমান নয়। প্রকৃতি অনুসারেই একথা সব সময়ে মনে রাখতে হবে যে, জনতা একটি অন্ধশক্তি, এবং তার মধ্য থেকে গজিয়ে উঠা মনোনীত ব্যক্তিও একই ভাবে অন্ধ; রাজনীতির দিক থেকে সেও ঐ জনতার মতই অন্ধ। কিন্ত আমাদের দ্বারা প্রতিপালিত ও প্রশিক্ষন প্রাপ্ত ব্যক্তি যদিও বোকা হয়, তবু শাসনে সক্ষম,অপর দিকে যে আমাদের প্রতিপালিত ও প্রশিক্ষিত নয়, যদি সে একজন জিনিয়াসও হয়, তবুও রাজনীতির ক্ষেত্রে সে সম্পূর্ন অজ্ঞ, বিশেষতঃ সে সমস্ত বিষয়ে, যে সমস্ত বিষয়ের ব্যাপারে গোয়িমরা (অ ইহুদী) সাধারনাতঃ ভ্রুক্ষেপও করে না । কিন্তু ঐ সমস্ত  বিষয়াদী প্রায়ই পারিবারিক ভাবে পিতা তার  সন্তানকে গোপনে শিখিয়ে যায়, যাতে বংশগত প্রভূত্ব কায়েম থাকে এবং পরিবারের সদস্য ছাড়া অপর কেউ তা না জানতে পারে, যাতে কেউ তা বিশ্বাসঘাতকতার দ্বারা শাসিতদের কাছে প্রকাশ করে দিতে না পারে। সময়ের বিবর্তনে ঘটনা সমূহের প্রকৃত অর্থ ও কারণ সমূহ ,  সম্পূর্ন গোপনীয়ভাবে ও বংশ পরম্পরায় প্রদানের বিষয়টি, গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে এবং এতে আমাদের সাফল্য আরো সূচিত হয়।
২৬। পৃথিবীর সমস্ত কোনায় কোনায় তারা আমাদের “স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্ব” এর ব্যানার অত্যান্ত আবেগ বিগলিত ভাবে বহন করে চলেছে।  আর সব সময়ে এই কথাগুলিই ঘুনপোকার মত গোয়িম‘দের (অ-ইহুদী) রাজ্যগুলির সুখশান্তি ও সংহতিকে ধ্বংস করে চলেছে। পরবর্তী কালে আপনারা দেখবেন যে কিভাবে এগুলিই আমাদের বিজয় কে চুড়ান্ত করেছে - কিভাবে এগুলি তাদের রাজ্যগুলিতে আমাদের হাতকে প্রসারিত করতে এবং সেখানকার বিশেষ সুযোগপ্রাপ্ত অভিজাতদের ক্ষমতাকে খর্ব করে দিতে, ট্রাম-কার্ডের মত ব্যবহৃত হচ্ছে। স্বাভাবিক ও বংশগত অভিজাতদের ধ্বংসস্তুপের উপরই আমরা আমাদের প্রশিক্ষিত ও অভিজাতদের তৈরী করি, যাদের প্রধান ভিত্তি হল “অর্থ”। এই অভিজাত্যের যোগ্যতা হল ”অথর্” (টাকা), যা আমাদের উপরই নির্ভরশীল এবং সেই ”জ্ঞান”, যার জন্য আমাদের বিজ্ঞ জ্ঞানীরাই হলেন প্রধান চালিকা শক্তি। 
২৭। আমাদের বিজয় আরো সহজতর হয়েছে যে কারণে, তা হল আমরা যে মানুষদের চাই, তাদের সাথে আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি - আমরা সব সময় মানুষের মনের সবচেয়ে স্পর্শ কাতর স্নায়ূতন্ত্রীটির উপরেই কাজ করি। নগদ টাকা, যৌন চাহিদা, মানুষের অপূরনীয় পার্থিব প্রয়োজন, এই সব দূর্বলতা গুলির প্রত্যেকটিই মানুষের উদ্দ্যমকে ধ্বংশ করে দিতে যথেষ্ঠ, কারণ এগুলি পূরণের বিনিময়েই আমরা মানুষের কার্যকলাপকে কিনে নিয়ে থাকি।
২৮। স্বাধীনতার বিমূর্তন বা নিষ্কর্ষই আমাদের সাহার্য্য করেছে সমস্ত দেশে, যাদের জনগণকে আমরা বুঝাতে পেরেছি যে, সরকার হ’ল জনগণের সেবক আর জনগণই হ’ল প্রকৃত মালিক এবং সেবককে যে কোন সময় পূরানো মোজার মত পরিত্যাগ করা যায়। 
২৯। এই ভাবে জন প্রতিনিধিদের পরিবর্তন সাধনের ক্ষমতা তাদেরকে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে এবং তাই আগেও যেমন বর্তমানেও তেমনি, তাদের পূর্ণ নিয়োগের ক্ষমতা আমাদেরই হাতে।  

প্রটোকল নং -২ (অর্থনৈতিক যুদ্ধ)

০১। আমাদের উদ্দেশ্যের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য এই যে, পারত পক্ষে যুদ্ধের দ্বারা ভৌগোলিক বিজয় নয় বরং অর্থনৈতিক বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য, যেখানে বিভিন্ন জাতী দেখবে আমাদের অর্থনৈতিক শক্তির বিপুলতা, এতে উভয় পক্ষই নিজেদেরকে আমাদের আন্তর্জাতিক এজেন্টদের দয়ার পাত্র  হিসাবে  বিবেচনা করবে, যাদের লক্ষ লক্ষ সদা জাগ্রত ও নিরবচ্ছিন্ন দৃষ্টি সবকিছু পর্যবেক্ষণরত। আমাদের আন্ত-র্জাতিক অধিকারগুলি তখন জাতীয় অধিকারগুলিকে সমূলে মুছে দেবে এবং সমস্ত জাতী শাসিত হবে আমাদের দ্বারা, যেভাবে কোন রাষ্ট্র  তার অধীনস্ত প্রজাদের শাষন করে। 
০২। জনগণের মধ্য থেকে আমরা যাদের প্রশাসক হিসাবে মনোনীত করব, তারা হবে আমাদের একান্ত অনুগত বসংবদ। তারা রাজনীতির কলাকৌশলে শিক্ষিত হবে না, ফলে তারা আমাদের পালিত, শৈশব থেকে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত,  বিশেষভাবে বিজ্ঞ ও সারা বিশ্বের ঘটনা সমূহকে পরিচালনাকারী উপদেষ্টাদের দাবার ঘুটীতে পরিণত হবে। এটা আপনারা জানেন যে, আমাদের এই সমস্ত বিশেষজ্ঞরা ইতিহাসের ধারা থেকে প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে আমাদের তৈরি রাজনৈতিক নক্সাসমূহ বাস্তবায়নে নিয়তক্রিয়াশীল, ঐ উপাত্তসমূহ প্রতিনিয়তই ঘটনা পরম্পরা থেকে আমরা সংগ্রহ করছি। গোয়িমরা (অ ইহুদীরা) কখনোই নিরপেক্ষভাবে ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ দ্বারা প্রাপ্ত উপাত্তের বাস্তব ব্যবহার দ্বারা পরিচালিত হয়না বরং তারা কোন ঘটনা কার্যক্রম ও পরিণতি সম্বন্ধে কোন অনুসন্ধানমূলক দৃষ্টি ভঙ্গি ছাড়াই গতানুগতিক তাত্ত্বিক রুটিন মাফিক চলতে অভ্যস্ত। 
অতএব, তাদেরকে কোন ব্যাপারে  আমাদেরকে আমলে আনারই প্রয়োজন নেই। তারা তাদের প্রমোদেই মেতে থাকুক, যখন পর্যন্ত না সময়ের ঘন্টা বেজে উঠে, অথবা নতুন কোন আমোদ প্রমোদ আবিষ্ক‹ারের আশায় সময় কাটাক বা তাদের যাপিত জীবনের সুখ কল্পনাতে বিভোর থাকুক। তাদের জন্য তাই প্রধান কার্যকরী ভূমিকা পালন করুক, আমরা  যা বিজ্ঞানের নির্দেশ (থিওরী) হিসাবে তাদের গ্রহণ করতে প্রেরণা দিয়ে এসেছি। এই উদ্দেশ্যেই  আমরা  আমাদের প্রেস এর সাহায্যে ঐ থিওরী গুলোর উপর  অন্ধ আস্থা স্থাপনের জন্য অনবরত প্রচার কার্য চালিয়ে এসেছি। গোয়িমদের  আঁতেল- সম্প্রদায় তাদের জ্ঞানের গর্বে ফুলে উঠবে এবং কোন রকম যৌক্তিক প্রত্যায়ন ছাড়াই তারা আমাদের বিশেষজ্ঞ এজেন্টদের দ্বারা তৈরী করা বৈজ্ঞানিক উপাত্ত সমূহ প্রয়োগে ব্যস্ত হয়ে উঠবে, যে উপাত্ত সমূহ তাদেরকে আমরা যে দিকে চাই, সে পথে চালানোর জন্য সু-কৌশলে প্রস্তুত করা হয়েছে। 
বিধ্বংসী শিক্ষা ব্যবস্থা
০৩। মূহুর্তের জন্যও মনে করেণ না যে, এই গুলি ফাঁকা কথা; মনে করে দেখুন কেমন সফলতা আমরা তৈরী করে দিয়েছিলাম ডারউইন, মার্কস ও নিটস্ এর বিষয়ে, তাদের থিওরীর উপর প্রচারনা চালিয়ে। আমাদের অর্থাৎ ইহুদীদের কাছে এগুলির বিষয় ছিল, এই থিওরীগুলোর দ্বারা আমরা অইহুদীদের মধ্যে কিভাবে মানসিক বিভেদ দৃষ্টি করতে পারি, তারই পর্যবেক্ষণ করা। 
০৪। এটি আমাদের জন্য অবশ্যকরণীয় একটি বিষয়, তাহল বিভিন্ন জাতীর চিন্তা-চেতনা, চরিত্র, প্রবনতা ইত্যাদি ব্যাপারে পুংখানুপুঙ্খ হিসাব রাখা, যাতে আমাদের কোন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিফলে না যায় ।
আমাদের সুনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমের বিজয় ব্যহত হতে পারে, যদি যে শাসনযন্ত্র নিয়ে আমরা কাজ করতে যাচ্ছি তার বিভিন্ন অংশের মনমানসিকতার সস্বন্ধে আমরা ওয়াকিফহাল না থাকি এবং যদি আমাদের প্রযুক্ত কার্যক্রম, অতীতের ঘটনাসমূহ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান এর উপর স্থাপিত ও বর্তমানের আলোকে অনুশীলীত না হয়। 
০৫। বর্তমানে রাষ্ট্রের হাতে এক বড় শক্তি রয়েছে যা মানুষের চিন্তা চেতনার আলোড়ন তুলতে পারে, তা হ’ল প্রেস  (মিডিয়া)। এর প্রধান লক্ষ্য হবে, আমরা যা চাই সে গুলি অবশ্যম্ভাবী করে তোলা, জনগণের অভিযোগকে সরব করে তোলা, অসন্তোষ সৃষ্টি করা ও তা প্রচার করা । প্রেসের মধ্যেই বাক-স্বাধীনতার বিজয় যেন পূনর্জন্ম লাভ করেছে। কিন্তু গোয়িম রাষ্ট্র নায়করা জানেনা, এটির প্রকৃত সুব্যবহার কিভাবে করতে হয়, আর এটি  আমাদের  হাতে এসে পড়েছে। প্রেসের সাহায্যেই আমরা আড়ালে থেকেও প্রভাব বিস্তার করার শক্তি অর্জন করেছি। “প্রেস”-কে ধন্যবাদ, আমরা  যেন স্বর্ণ পেয়ে গেছি, তা পেতে যদিও আমাদের কে রক্ত ও অশ্র“র সাগর পার হতে হয়েছে।   কিন্তু আমাদের তা কাজে লেগেছে। যদিও বহু জীবনের বিনিময়ে আমরা তা পেয়েছি । আর ঈশ্বরের চোখে তো আমাদের একজনের মূল্য গোয়িমদের হাজার জনের  সমান। 


প্রটোকল নং -০৩ ( বিজয়ের পদ্ধতি)

০১। আজ আপনাদের বলছি, আমাদের গন্তব্য আর কয়েক কদম মাত্র বাকি। আর অল্প কিছু দূর মাত্র যেতে হবে আমাদের, আমরা যে এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এসেছি, আমাদের প্রতীকী সাপের চক্র শেষ হতে আর সামান্য পথ অবশিষ্ট আছে। এই চক্র শেষ হলেই, সমগ্র ইউরোপ আমাদের কব্জায় এসে যেমন একটা কঠিন সাঁড়াশির মধ্যে আঁটকা পড়বে।
০২। বর্তমান কালের গঠন কাঠামো গুলো শীঘ্রই ভেঙ্গে পড়বে, কারণ আমরা এই গুলিকে বিশেষ কিছু ভারসাম্য হীন পাল্লার উপর দাঁড় করিয়েছি, যা সতত:ই দোদুল্যমান অবস্থায় এক সময় তার কেন্দ্র বিন্দু বা আবর্তনকীলক এর উপর আঘাত হানবে। গোয়িমরা মনে করে যে, তাদের সমাজ কাঠমোগুলেকে তারা খুব মজবুতভাবে ঝালাই করে রেখেছে এবং তারা আরও মনে করে যে, দোদুল্যমান পাল্লা গুলো এক সময়ে সমতায় আসবে। কিন্তু ঐ কেন্দ্র বিন্দু বা আবর্তনকীলক অর্থ্যাৎ  সিংহাসনে সমাসীন বিভিন্ন রাজদের কথাই বলছি, তারা তাদের পারিষদদের সঙ্গে একসুতোয় এমনিভাবে সেলাই করা, যে তাদের (পারিষদদের ) বোকামীপূর্ণ, অসঙ্গত ও ভারসাম্যহীন কার্যকলাপ এর দায়-দায়িত্ব রাজাদের উপরই বর্তায়। আর তাদের এই কার্য কলাপ, প্রাসাদ কেন্দ্রিক বিভিষিকায় পরিপূর্ণ, যা রাজাদেরকে তাদের প্রজাদের কাছ পর্যন্ত পৌছাতে দেয় না, ফলে দুইজনের মধ্যে চাওয়া পাওয়ার ব্যবধান থেকেই যায়। আমরা একক ক্ষমতালোভী রাজা আর জনসাধারণের অন্ধ আবেগের মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক করে দিয়েছি, যাতে উভয়ের পাওয়াই অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায় , কেননা অন্ধ এবং লাঠি পরষ্পর দূরে থাকলে উভয়ই শক্তিহীন। 
০৩। ক্ষমতালিপ্সুদের ক্ষমতার অপব্যবহার করতে আমরা প্ররোচিত করেছি। আর বিরূদ্ধ শক্তিগুলোকে পরস্পরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে স্বাধীনতার স্বপক্ষে তাদের মনোভাব কে বিরূপকরে দিয়েছি। এই লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন সংস্থাা গড়ে তুলেছি । আমরা  সকল পক্ষকেই অন্ত্র জুগিয়েছি,আর শাসন ক্ষমতাকে আমরা উচ্চাভিলাষীদের লক্ষ্যবস্তু তে পরিনত করেছি। রাষ্ট্র গুলিকে আমরা শক্তি পরীক্ষার মল্লভূমিতে পরিণত করেছি, বিভিন্ন পরস্পর বিরোধী ইস্যু দাঁড় করিয়ে....আরো একটু ব্যস ..তার পরই বিশৃঙ্খলা ও দেউলিয়াপনা ছাড়িয়ে পড়বে সারা বিশ্বময়।
০৪।  পার্লামেন্ট ও শাসন বিভাগীয় বোর্ডগুলির সম্মেলন পরিণত হয়, অস্ত:হীন গোলমাল সৃষ্টিকারীদের বির্তকের আখড়ায়। নির্ভীক সাংবাদিকরা ও অবিবেচক প্রচার পুস্তিকার ভ্রান্ত চালকেরা প্রতিনিয়তই শাসন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধ সোচ্চার আক্রমন চালায়। ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিটি সংস্থাকে উৎখাতের চরম পরিণতির দিকে নিয়ে আসবে এবং উদ্ধত জনতার ঠেলায় সবকিছু আকাশে উড়ে যাবে।
দারিদ্র আমাদের অস্ত্র
০৫। বর্তমানে দারিদ্রের চাপ, প্রতিটি ব্যক্তিকে শ্রমের  শৃঙ্খলে, পূর্বের যে কোন সময়ের তুলনায় অধিকভাবে বেঁধে রেখেছে। তারা দাসত্ব ও গোলামীর শৃঙ্খলে বাঁধা। এর থেকে হয়তো তারা কোন ভাবে নিজেকে মুক্ত করে স্থির হয়ে ব’সতে পারত, কিন্তু দারিদ্র্য বা অভাব থেকে তারা কোন ভাবেই মুক্ত হতে পারবে না। 
  আমরা শাসন তন্ত্রের মধ্যে এমন সব জিনিষ অন্তর্ভূক্ত করে দিয়েছি, যা মূলত: ফাঁকা বুলি, কিন্তু আকর্ষনীয়। এই সব তথাকথিত গণ-অধিকার কেবল মাত্র কল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এগুলি কখনই বাস্তবায়িত হতে পারে না ।  
প্রলেতারিয়েত বা সর্বহারা শ্রমিকদের কি অবস্থা!! তারা তো দ্বিগুন শ্রমের চাপে আরো নত হয়ে  পড়েছে। আর তা’দের ভাগ্য হয়েছে আরো বিড়ম্বিত। বক্তারা যদি যা খুশি তাই ব’লে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং সাংবাদিকরা যদি উপযুক্ত তথ্যের পাশাপাশি যেমন খুশি লেখার অধিকার পায়, তাহলেও সর্বহারাদের তা দিয়ে কোন লাভ নেই। মেহনতী বা সর্বহারা শ্রমিকদের আমরা শাসনতন্ত্র মোতাবেক যা কিছু দিয়েছি, তা নেহায়েতই দয়পরবশ হয়ে, আমাদের উচ্ছিষ্ট থেকে কিছু দিয়েছি মাত্র। 
আমাদের  দালাল শ্রেণীর অন্তর্গত যে সমস্ত গোলামকে আমরা শাসন ক্ষমতায় বসিয়ে দিতে চাই, তাদের পক্ষে, অথবা আমাদের নির্ধারিত ব্যক্তির স্বপক্ষে ভোট দেওয়ার প্রতিদান হিসাবেই, আমরা দয়া করে, ঐ মেহনতী সর্বহারা শ্রমিকদের সামান্য কিছূ উচ্ছিষ্ট দান করি।  জনসাধারণের জন্য প্রজাতান্ত্রিক অধিকারকে ভাগ্যের পরিহাস বলা চলে । মৌলিক চাহিদা পূরনের জন্য তাকে যে হাড় ভাঙ্গা  পরিশ্রম করতে হয়, তার কোন রকম যোগ্য প্রতিদানই সে পায় না । উপরন্তু চাকুরীর স্থায়ীত্বের গ্যারান্টি প্রত্যাহার করে নিয়ে, তাদেরকে কমরেডদের পরিচালিত ধর্মঘট ও মালিকদের লক-আউট, এই দুই এর মধ্যে  ঝুলন্ত অবস্থায় রাখা হয়। 

আমরা কমিউনিজম কে (সমাজতন্ত্রকে) সমর্থন করি ।
০৬। আমাদের অনুপ্রেরনাতেই জনসাধারণ তাদের সমাজের অভিজাত শ্রেণীর ধ্বংস সাধন করে ছেড়েছে। অথচ এরাই ছিল এক সময়ে তাদের সমাজের সমস্ত সুযোগ সুবিধা ও অধিকারাদির একমাত্র পালক-মাতা। বর্তমানে অভিজাত শ্রেণী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরে জনসাধারন নিতান্ত হৃদয়হীন, অর্থলোভী, দুষ্টদের খপ্পরে পড়েছে এবং এই শ্রেণী, শ্রমিকদের গলায় নির্মম ফাঁস এঁটে দিয়েছে।
০৭। এই অবস্থায় আমরা রঙ্গ মঞ্চে উপস্থিত হই নিপীড়িত শ্রমিকদের উদ্ধার-কর্তা হিসাবে এবং তাদেরকে প্রস্তাব দিই, আমাদের সংগ্রামী বাহিনীতে যোগদান করতে। আমাদের এই সংগ্রামী বাহিনী হল সমাজতন্ত্রী, নৈরাজ্য-বাদী আর কম্যুনিষ্ট এর দল। আমরা এদের সব সময় সমর্থন দিয়ে থাকি -তথাকথিত বিশ্ব-ভ্রাতৃবোধ ও মানবতার ধুয়া তুলে, যা কিনা আমাদের ম্যানসনদেরই তৈরী । অভিজাত শ্রেণী, যারা আইনের জোরে শ্রমিকদের শ্রম থেকে মুনাফা হসিল ক’রছিল, তারা চাইত যে শ্রমিকরা তাদের শ্রমদানের খাতিরেই ভাল খাওয়া পরা করুক, সুস্থ ও সবল থাকুক। আমরা কিন্তু ঠিক এর বিপরীতটির বিষয়েই আগ্রহী, যা হল, গোটা অ-ইউদী সমাজকে অর্থাৎ গোয়িমদের কে পুরোপুরি ধ্বংসের মধ্যে ঠেলে দেওয়া। স্থায়ীভাবে শ্রমিকদের খাদ্যের ও সুস্বাস্থ্যের অভাব - এর মধ্যেই আমাদের শক্তি নিহিত । কারণ এ দুটি বিষয়ই শ্রমিকদেরকে আমাদের ইচ্ছার দাসে পরিণত করে, যার কারণে তারা কখনই আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি ও উৎসাহ কোনটাই পায়না । ক্ষুধার সাহায্যেই আমরা শ্রমিকদেরকে  রাজা-বাদশাহ দের থেকেও আরো নিশ্চিতভাবে শাসন করে থাকি।
০৮। অভাব এবং তার থেকে সৃষ্টি হিংসা ও ঘৃনার সাহায্যেই আমরা জনতাকে আমাদের ইচ্ছানুসারে চলতে বাধ্য করব এবং যারা আমাদের স্বপক্ষের পথের প্রতিবন্ধক তাদের সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস করে দেব।
০৯। “ যখন সম্গ্র বিশ্বের মহান অধিপতি হিসাবে আমাদের নেতার অভিষেক উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসবে তখন এই মেহনতী জনতার হাত দিয়েই আমরা তার সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে মুছে দেবো। “ (বাইবেলে উদ্বৃত এন্টি-ক্রাইষ্ট)।
১০। গোয়িমদের (অ-ইহুদীদের) সমাজ, চিন্তা-শক্তি হারিয়ে ফেলেছে, তারা তা খুঁজে পায় না, যতক্ষন না আমাদের বিশেষজ্ঞরা তাদের চিন্তার বিষয়বস্তু জুগিয়ে দেয়। এই কারণে আমাদের রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হলে তৎক্ষনাৎ আমরা কি কি কর্মপন্থা অবলম্বন করব, সে বিষয়ে চিন্তা করে দেখার কোন প্রয়োজনীয়তা তারা আদৌ অনুভব করে না। আমাদের মতানুসারে জাতীয় বিদ্যালয় গুলিতে একটি চরম সত্য শিক্ষাদান একান্তই জরুরী, যা সকল জ্ঞানের মূল ও মানবজীবন ও সামাজিক অস্তিত্বের ভিত্তি, তাহল, কর্মের বিভাজন বা জনসাধারনকে কর্মের ভিত্তিতে শ্রেণী বিভাগ করা। এটি সকলের জানা একান্তই প্রয়োজন যে, মানুষের ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য-মূলক কাজের দরুন, তাদের অবস্থা কখনই একরকম বা সমান হতে পারে না। কোন ব্যক্তি তার কাজের দ্বারা একটি বিশেষ শ্রেণীর পক্ষ থেকে আপোশ-রফা করে এলেও, তা ঐ শ্রেণীর সকলের উপর প্রযোজ্য হতে পারে না, কারণ, ব্যক্তি তার কোন কাজের দ্বারা নিজের অস্তিত্ব ও মর্যাদা ছাড়া, অন্য কারো প্রতিনিধিত্ব করে না। সমাজ কাঠামো সম্বন্ধে প্রকৃত জ্ঞানে কখনই আমরা অ-ইহুদীদের প্রবেশাধিকার দিই না । গোয়িমদের (অ-ইহুদীদের) আমরা যা করতে আদেশ দিই, তা করার ফলে, তাদের সমাজের সর্বত্র যে দু:খ দুর্দশা বেড়ে যাবে, এ সত্য তাদের কাছে গোপন রাখা একান্ত জরুরী। আমাদের শিক্ষা তাদের এটুকুই শিখাবে যে, তাদের অবস্থান ও কাজ-কর্ম একটি চক্র-সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, যাতে তারা সমাজের দু:খ দুর্দশার কারণ না হয়ে পড়ে। আর সে শিক্ষায় তাদের কোন প্রয়োজন নেই, যা তাদের, যে কাজ করতে বলা হয়েছে, সে কাজের জন্য সহায়ক নয় । এই শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পর, মানুষ  স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে রাষ্ট্র নায়কদের কাছে আত্মসমার্পন করবে, আর রাষ্ট্র-কর্তারা তাদেরকে যে যে পদ দান করবে, তা তারা সকলেই সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেবে। জ্ঞানের এই অবস্থা এবং তাকে আমরা যেদিকে ঘুরাতে চাইবো সেই উদ্দেশ্যে রচিত নিয়মাবলী ছাপার অক্ষরে দেখতে পেয়ে মানুষ মনে দৃঢ় বিশ্বাস ও আনন্দ লাভ করবে। বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রচিত আমাদের নিয়ম কানুন ও জনগনের অজ্ঞতার জন্য ধন্যবাদ। জনসাধারন এমন একটা অবস্থায় পৌছে গেছে যে, তারা সকল অবস্থাতেই কেবল একটা অন্ধ বিদ্বেষ- ভাব পোষন করে থাকে। এর কারণ এই যে তারা নিজেদের শ্রেণী বিভাগ ও সঠিক মর্যাদার বিষয় সম্পূর্নই অজ্ঞ।

“ইহুদীরা সুরক্ষিত থাকবে”
১১। অর্থনৈতিক দুর্গতি এই বিদ্বেষের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দেবে, কারণ ঐ অবস্থায় ব্যাংক ও শিল্প কারখানা সবই বন্ধ হয়ে যাবে।আমরা আমাদের গুপ্ত কর্মপদ্ধতির সাহায্যে, ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে, আমাদের ষড়যন্ত্র ও স্তুপীকৃত স্বর্নের দ্বারা, এমন অর্থনৈতিক অচল অবস্থা সৃষ্টি করব যে, সকল মেহনতী মানুষ পথে বের হয়ে আসতে বাধ্য হবে। ঐ জনতা তখন উত্তেজিত ও উল্লাসিত হয়ে ঐ সমস্ত লোকদের রক্তপাত করতে ছুটে যাবে, যাদের তারা অশৈশব হিংসা করে এসেছে এবং তাদের সম্পত্তি তখন তারা লুটপাঠ করবে।
১২। আমাদের (ইহুদীদের) তখন তারা স্পর্শও করবে না, কারণ ঐ আক্রমনের মূহুর্ত আমাদের জানা এবং আমরা আমাদের সম্পত্তি রক্ষার জন্য তখন যথেষ্ঠ পদক্ষেপ নেব।
১৩। আমরা উন্নতির এমন এক কাল্পনিক চিত্র গোয়িমদের (অ-ইহুদীদের) সামনে তুলে ধরেছি, যার আশায় তারা আমাদের সার্বভৌম ক্ষমতার বশ্যতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়। আমাদের এই একচ্ছত্র ক্ষমতার কারণ হিসাবে রয়েছে, এক ধরনের কৌশল, আমাদের শাসকরা জানেন, কোন ধরনের বিচক্ষনতা ও কঠোরতার দ্বারা জনগনের আস্থাশীলতা দূর করা যায় এবং কি উপায়ে সমস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে উদার নৈতিকতা ও সহনশীলতা বিলীন করে দেওয়া যায়।
১৪। জনগণ দেখেছে যে, যে সমস্ত সুযোগ সুবিধা তারা ভোগ ক’রছিল, স্বাধীনতার মোহে তারা তাও হারিয়ে ফেলেছে। কেননা তারা নিজেদেরকেই এখন একক শক্তি হিসাবে ধ’রে নিয়েছে এবং নিজেদের ম’ধ্য থেকেই একটি বিশেষ শ্রেনীকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। কিন্তু একান্ত স্বাভাবিকভাবেই, যে কোন অন্ধের মত, তারা একটা প্রতিবন্ধকতার সামনে হুমকি খেয়ে পড়েছে। একজন নতুন গাইড পাওয়ার আশায় তারা ছুটে এসেছে এখন আর পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোন কল্পনাও তারা করতে পারে না। এই মনোভাবের পরিনতি স্বরূপ তারা তখন, তাদের সমস্ত ক্ষমতা ও অধিকার আমাদের পদতলে বিসর্জন দিয়েছে।
”স্মরণ করুন ফরাসী বিপ্লবের কথা, আমরাই এটিকে ’মহান’ এই নামে অভিহিত করেছি। এর সকল গুপ্ত প্রস্তুতির খবর আমাদের জানা ছিল, কারণ এটি ছিল সম্পূর্ণ ভাবে আমাদেরই হাতের তৈরী।” 
১৫। এর পর থেকে আমরাই জনগনকে, একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির থেকে অপর আরেক টি বিশৃঙ্খলার দিকে, ঠেলে দিয়ে আসছি। একের পর এক এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, আমরা করে আসছি এই কারনে, যেন জনগন এক সময়ে সব কিছুর উপর আস্থা হারিয়ে সর্বময় কর্তৃত্বশালী আমাদের ইহুদী-রক্তের রাজার দিকে ঝুকে পড়ে,  যাঁকে আমরা সমগ্র বিশ্ব শাসনের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করে চলেছি।
১৬। বর্তমান কালে আমরা একটি আন্তর্জাতিক শক্তি, অপ্রতিরোধ্য, কারণ আমরা আক্রান্ত হলে বহু রাষ্ট্র আমাদের রক্ষার জন্য এগিয়ে আসবে। গোয়িমদের (অ-ইহুদীদের) এটি একটি সীমাহীন বোকামী এই যে, তারা ক্ষমতার গদীর দিকে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এগিয়ে যেতে চায়। কিন্তু তারা দূর্বলের প্রতি নির্মম,সামান্য দোষ ও অপরাধের প্রতি অতি মাত্রায় কঠোর, স্বাধীন সমাজের স্বাভাবিক মত-পার্থক্যের উপর চরম অসহিষ্ণু এবং নিজেদের কর্তৃত্ব, যে কোন মূল্যে বহাল রাখতে চায়। তাদের এই মনোভাবই আমাদের বিজয়ের পথকে সুগম করে দিয়েছে। বর্তমানে এক একজন স্বৈরাচারের অধীনে, গোয়িমদের (অ-ইহুদীদের) সমাজ যে ভাবে নিঃষ্পেষিত হচ্ছে এবং সে সমস্ত দূর্ব্যবহার তাদের সহ্য করতে হচ্ছে, এর জন্য ইতি পূর্বে তারা বিশ জন রাজাকেও হত্যা করতে কুন্ঠিত হ’তো না । 
১৭। এই ব্যাপারটি ব্যাখ্যা কি হতে পারে? কেন জন-সাধারণ এমন ভাবে এক-নায়ক তন্ত্রের তাবেদার হয়ে গেলো?
১৮। এটি এই ঘটনা দ্বারা ব্যাখ্যা দেওয়া যেতে পারে যে, এই সমস্ত এক-নায়করা তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে জনসাধারণের কানে এই রকম একটা ধারনার কথা দিতে থাকে যে, এক-নায়কদের বিরোধীতা করলে রাষ্ট্রেরই ক্ষতি সাধন করা হবে। জনসাধারণের কাছে অনবরত এই কথাই বলা হয় যে, তাদের কল্যাণের জন্য বিশ্বভাতৃত্ব বোধকে অটুট রাখার স্বার্থে, ঐক্য, সংহতি ও সমানাধিকার অর্জনের লক্ষ্যে এক-নায়ক তন্ত্র খুবই জরুরী। এক-নায়করা কখনো একথা জনগণের কাছে প্রকাশ করেন না যে, এই ঐক্য ও সংহতি আমাদের (ইহুদীদের) সার্বভৌম শাসনের অধীনেই বিকশিত হবে।
১৯। এভাবেই জনগণ, সৎলোকের নিন্দা এবং অপরাধীর প্রশংসা করতে থাকে এবং নিজেদের অজ্ঞতার কারণে, যা খুশি তাই করার অধিকার তাদের আছে মনে ক’রে, নিজেদের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট ক’রে, অনবরত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চলেছে। 
২০। “স্বাধীনতা” এই কথাটি, মানুষকে যে কোন বিরূদ্ধ শক্তির বিপক্ষে সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে, যে কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে, এমন কি ঈশ্বর ও প্রাকৃতিক নিয়মের বিরূদ্ধেও। এই কারণে আমরা আমাদের রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হলে, এই কথাটি আমাদের জীবনের অভিধান থেকে মুছে দেব, যা কিনা মানুষকে রক্ত পিপাশু পশুতে পরিনত করে।
২১। এই পশুগুলো আবার যতবার রক্ত পান করে, ততবারই নেশার ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন তাদের বেড়ীতে বাঁধা সহজ হয়। কিন্তু তারা যদি আবার রক্ত না পায় তাহলে পুনরায় সংগ্রাম শুরু করে।
প্রটোকল নং- ০৪ (ধর্মের পরিবর্তে আসবে বস্তুবাদ)
০১। প্রতিটি প্রজাতন্ত্রকেই কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এদের মধ্যে প্রথমটি হলো গন-উম্মাদনা, উত্তেজনার বসে জনসাধারণ অন্ধ হয়ে তখন এদিক ওদিক বিক্ষিপ্ত হয়। দ্বিতীয় বাধাটি হল - উত্তেজনা সৃষ্টিকারীদের নেতৃত্ব , এর থেকে সৃষ্টি হয় নৈরাজ্যের, যা অবশ্যম্ভাবী রূপে এক নায়কতন্ত্রকে ডেকে নিয়ে আসে। এই স্বৈরাচার আইন সম্মত নয় এবং জন সাধারনের চক্ষে ধরা পড়ার  মতও নয়। এই শাসন ব্যবস্থা অদৃশ্য ও গুপ্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়ী থাকে। ঐ গুপ্ত প্রতিষ্ঠান এর কার্যকলাপ একান্তই অবিবেচনা প্রসূত, কিন্তু তা পর্দার আড়ালে থেকে তার এজেন্টদের মাধ্যমে সমস্ত কাজ সুচারু ভাবে করিয়ে নেয় । অপর দিকে সরকার বা এজেন্টদের ঘন ঘন পরিবর্তনে ঐগুপ্ত প্রতিষ্ঠানের কোন ক্ষতিতো হয়ই না বরং তার শক্তি আরো  ক্রমান্ময়ে বৃদ্ধি হতে থাকে। 
 ০২। এই অদৃশ্য শক্তিকে উৎখাত করতে পারে এমন কে আছে? এটিই আমাদের  শক্তির প্রধান রহস্য । জেন্টাইল (অইহুদী) ম্যাসনারীরা অন্ধভাবে আমাদের গুপ্ত শক্তির  আবরণ হিসাবে কাজ করে, কিন্তু আমাদের শক্তির কর্মপদ্ধতির পরিকল্পনা ও এর অবস্থান, সমস্ত কিছু জনগণের কাছে অজানা রহস্য হিসাবেই  র’য়ে যায়। 
আমরা ধ্বংস করব ঈশ্বরকে (!)
০৩। স্বাধীনতা সত্যিই কল্যাণকর হ’তে পারে এবং রাষ্ট্রিয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও জনগণের ক্ষতির পরিবর্তে উপকার বয়ে আনতে পারে যদি তা ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস ও মানব সমাজের পারস্পারিক ভ্রাতৃত্বের ধারনার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। সকল অনর্থের মূল হল সমানাধিকারের দাবী, কেননা তা প্রাকৃতিক নিয়মের পরিপন্থী, অর্থাৎ সৃষ্টিগত ভাবে সবাই সমান নয়। এই বিশ্বাসের জোরে মানুষকে ধর্মীয় নেতাদের অধীনে সহজে শাসন করা সম্ভব। পৃথিবীর সব কিছুর উপর সৃষ্টি কর্তার কর্তৃত্ব স্বীকার করে আধ্যাত্বিক নেতাদের হাতে নিজেদের সমার্পন করে, পরিপূর্ণ তৃপ্তি ও আনুগত্য সহ সুখী জীবন যাপনের জন্য মানুষ সব সময়ই প্রস্তুত। এই কারণে মানুষের  বিশ্বাসকে এবং ঈশ্বরীর ধারনাকে সমূলে গয়িমদের মন থেকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা আমাদের জন্য একান্তভাবেই জরুরী, যার ফলে, সেখানে শুধু গনিতের হিসাব ও বস্তুগত প্রয়োজনই থাকতে পারে। 
০৪। গয়িমরা (অ-ইহুদী) যাতে কোন ধরনের চিন্তা ভাবনা করার সময় না পায়, সেই কারণে তাদের মনকে, শুধুমাত্র শিল্প-কারখানা ও ব্যবসার দিকে জড়িত করে রাখতে হবে। এই ভাবে সমস্ত গয়িম জাতীকেই তাদের স্বার্থের নেশা এমন ভাবে গ্রাস করে ফেলবে এবং তারা পারষ্পরিক প্রতিযোগীতায় এমন ভাবে অন্ধ হয়ে থাকবে যে, কে তাদের একমাত্র শত্র“, তার দিকে কোন খেয়াল করার সুযোগই তারা পাবে না। তারপর আবার অ-ইহুদী জাতীগুলিকে স্বাধীনতার নামে যাতে চিরতরে ধ্বংশ করা যায়, সে উদ্দেশ্যে তাদেও শিল্প-কারখানা গুলিকে ফাটকা বাজারের হাতে সমর্পন করা হবে এবং এর ফলে শিল্প-কারখানা দেশ থেকে যা কিছু আয় উপার্জন করবে, ফাটকা বাজারের সাহায্যে তা আমাদেরই হাতে এসে পড়বে। 
০৫। প্রাধান্য বিস্তারের জন্য পরষ্পরের প্রতিযোগীতা এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের প্রচন্ড আঘাত, এর ফলে জন্ম নেবে, না, জন্ম নিয়েছে, নিরাসক্ত, উদাসীন এবং হৃদয়হীন জাতী-সমূহ । এই ধরনের জাতী গুলি উচ্চতর রাজনীতি ও ধর্মের উপর চরম ঘৃণা পোষন করবে। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হবে - স্বার্থ ও সোনা। পার্থিব সুখ ও আরাম আয়েশ লাভের উদ্দেশ্যে তারা একটি বিভিন্ন মুখী সংস্কৃতি গড়ে তুলবে। এই পর্যায়ে আসার পর, গয়িম (অ-ইহুদী) দের নীচুশ্রেনীর লোকেরা, কোন ভাল কিছু পাওয়ার জন্য নয় বা সম্পদ লাভের জন্যও নয়, বরং শুধু মাত্র সুবিধাভোগী শ্রেনীর বিরূদ্ধে, আমাদের শেখানো চরম ঘৃণা পোষনের দরুনই, আমাদের নির্দেশে তাদের সেই বুদ্ধিমান শ্রেনীকে আক্রমন করে বসবে, যারা ছিল আমাদের শক্তি সঞ্চয়ের প্রধান অন্তরায়।
প্রটোকল ৫ ( একনায়ক-তন্ত্র ও আধুনিক প্র’গতি)
০১। যে সমাজের সর্বস্তরে দূনীতি প্রবেশ করেছে, তাদের জন্য কি ধরনের রাষ্ট্র-ব্যবস্থার বিধান দেওয়া যেতে পারে? যে সমাজে চাতুর্য ও তাক লাগানো কৌশলের সাহায্যেই ধন সম্পদ অর্জন করা সম্ভব!! যে সমাজে শাসন ব্যবস্থা ঢিলে ঢালা, যে সমাজে নৈতিকতা স্বতঃষ্ফুর্ত নয়,বরং আইন ও কঠোর শাস্তির ভয় দেখিয়ে তা রক্ষা করা হয়; যেখানে মানুষের বিশ্বাস ও দেশের প্রতি মনোভাব পৃথিবীতে প্রচলিত বিভিন্ন ধরণের সংমিশ্রিত ধ্যান-ধারনা প্রসূত, সে ধরনের জাতীকে কোন্ শ্রেণীর শাসন ব্যবস্থা দেওয়া যেতে পারে? কঠোর এক-নায়কতন্ত্র ছাড়া, এধরনের জাতী আর কোন্ শাসন ব্যবস্থারই বা আশা করতে পারে?  আমরা  সরকারের সমস্ত ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করতেই চাই, যাতে ঐ জাতীর সর্বময় কর্তৃত্ব আমাদের  মুঠোর মধ্যেই থাকে । আমরা তাদের রাজনৈতিক জীবনের সব কিছু যান্ত্রিক কলাকৌশলের ম’ত ক’রেই নিয়ন্ত্রন করব-নূতন আইনের সাহায্যে । সেই আইন ধীরে ধীরে গোয়িমদের জীবনের সব সুবিধা ও স্বাধীনতাকে হরন করবে। আমাদের বৈশিষ্ঠ্যই  হল স্বৈরাচার, যাতে অ-ইহুদী জনসাধারণ আমাদের কোন কাজের বিরোধীতা করলে, আমরা তাদের যে কোন সময়ে, যে কোন স্থানেই, সরাসরি পৃথিবী-পৃষ্ঠ থেকে মুছে দিতে পারি। 
 ০২। আমাদের বলা হবে যে, যেমন স্বৈরাচারের কথা আমি বলছি, তা বর্তমান উন্নত যুগে চলা সম্ভব নয়, কিন্তু তা খুবই সম্ভব, এবং তা আমি প্রমান করে দেব।

০৩। এমন এক সময় ছিল, যখন মানুষের সিংহাসনে আসীন রাজা বাদশা’দের কে ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতিরূপ হিসাবেই ধরে নিত এবং বিনা প্রতিবাদে রাজাদের স্বৈরতন্ত্রের কাছে মাথা নত করে দিত। কিন্তু যখন থেকে আমরা মানুষের মনে তাদের নিজেদের অধিকারের কথা জাগিয়ে দিয়েছি, সেদিন থেকে তারা সিংহাসনে আসীনদের, তাদের নিজেদের মতই মরনশীল মনে করতে শিখেছে। রাজা-রাজড়ারা স্বয়ং ঈশ্বরের প্রতিনিধি-এ বিশ্বাস যখন জনসাধারনের মন থেকে মুছে গেছে এবং ঈশ্বরের প্রতি যেটুকু বিশ্বাস মানুষের  ছিল, তাও আমরা দুর করে দিতে পেরেছি, সেদিন থেকে শাসনদন্ড রাস্তার জনসাধারনের হাতের নাগালে এসে পড়েছে এবং আমরা তা ঠিক সময়েই হতের মুঠোয় নিতে পেরেছি। 
জনতা মিথ্যা দ্বারা পরিচালিত হয়।
০৪। উপরন্তু, চাতুর্যের দ্বারা তৈরী সূত্র ও বাগাড়ম্বর, জীবন যাপন এর সাধারণ নিয়মাবলীও অন্যান্য প্রবঞ্চনার দ্বারা জনসাধারণ ও বিশেষ ব্যক্তিদের কিভাবে পরিচালনা করতে হবে, তার কলাকৌশল যা গোয়িমরা কিছুই জানেনা, এগুলি একমাত্র আমাদের মধ্যে শাসন তন্ত্র সম্পর্কীয় বিশেষজ্ঞদেরই জানা আছে। বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা, পর্যবেক্ষন ও শুক্ষè হিসাব নিকাশ এর দক্ষতার বিষয়ে আমাদের কোন জুড়ি নেই। রাজনৈতিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা তৈরী করতে এবং এর সঙ্গে সংহতি প্রকাশে আমরা  অপ্রতিদ্বন্ধী। এই ব্যাপারে কেবলমাত্র জেসুইটদেরই আমাদের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে । কিন্তু আমরা সহজেই আম জনতার কাছে, তাদের বিষয় খারাপ মনোভাব তৈরী করে দিতে সক্ষম হয়েছি এবং আমাদের  নিজেদেরকে অন্ধকারের আড়ালে রাখতে পেরেছি। যাই হোক দুনিয়ার সামনে ক্যাথলিকদের  শাসন ব্যবস্থার প্রধান পোপ আর আমাদের জিয়ন রক্তের স্বৈরাচারের মধ্যে খুব একটি পার্থক্য লক্ষিত না হলেও আমাদের কাছ অর্থাৎ ঈশ্বরের নির্বচিত জাতীর কাছে কি এই পার্থক্য কখনোই উপেক্ষিত নয়।
 ০৫। সমস্ত অ-ইহুদীদের মিলিত শক্তি অর্থাৎ কোয়ালিশন হয়তো সাময়িকভাবে  আমাদের মোকাবিলা করতে পারে, কিন্তু এর থেকে নিরাপদ থাকার উদ্দেশ্যে আমরা তাদের মধ্যে এমন গভীর বিভেদের সৃষ্টি করে দিয়েছি, যে তা তারা কোন মতেই দূর করতে পারবে না। আমরা অইহুদী সমাজের মধ্যে একে অন্যের বিরুদ্ধে এবং এক জাতীকে অন্য জাতীর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছি এবং তাদের মধ্যে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঘৃনা বিগত ২০টি শতাব্দি ধরে ছড়িয়ে এসেছি, এর কারনে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারনের 
ব্যাপারে কখনই একটি রাষ্ট্র অপর একটি রাষ্ট্রের সহযোগিতা পেতে পারবে না। আর তারা এটা ভাল করেই জানে যে, আমাদের বিরুদ্ধে একজোট হলে তা তাদের জন্য লাভজনক নয় বরং ক্ষতিরই কারণ হবে। আমরা ভীষন শক্তিশালী, আমাদের কৌশলে  পরাজিত করার বা এড়িয়ে যাওয়ার সাধ্য কারো নেই। বিশ্বের জাতীগুলির মধ্যে কোন ক্ষুদ্রতম গোপন চুক্তিও করা সম্ভব নয়, যার মধ্যে আমাদের হাত থাকবে না।
০৬। আমার (ইহুদী/জায়নদের) মাধ্যমেই রাজারা দেশ শাসন করে। নবীরাই বলে গেছেন যে পৃথিবী শাসন করার জন্য আমরাই ঈশ্বরের মনোনীত জাতী। ঈশ্বর আমাদেরকে আমাদের কাজের উপযুক্ত প্রতিভা দান করেছেন। যদি আমাদের বিরুদ্ধ- শক্তির কাছে প্রতিভার দেখা মেলে, তাহলে তারা এক সময়ে আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। কিন্তু পুরাতন প্রতিভার সামনে অবনত নূতন প্রতিভা, কোন মতেই দাঁড়াতে পারবে না। তাই তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই হবে ভীষন নির্মম। পৃথিবী হয়তো এর আগে আর এমন ভীষন লড়াই দেখিনি। ঈশ্বর করুন, প্রতিভা তাদের মধ্যে যেন অনেক দেরীতে আসে। রাষ্ট্রগুলির সব চাকা ইঞ্জিনের শক্তিতে ঘুরে, আর সেই ইঞ্জিন আমাদের হাতে, তা হ’ল ’অর্থ’ অর্থাৎ ’সোনা’। রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থা সম্বন্ধে যে সুক্ষ্ম জ্ঞান আমাদের বিজ্ঞ প্রবীনরা আবিস্কার করেছেন, তা পুঁজিকেই রাজকীয় মর্যাদা প্রদান করে আসছে।
একচ্ছত্র পুঁজি 
০৭। পুঁজিকে যদি অবাধে সমন্বিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া যায়,তবে তা শীঘ্রই শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে একচ্ছত্র অবস্থা (মনোপলি) ক্বায়েম করে ফেলবে। আমাদের এক অদৃশ্য হাতের কারসাজীতে ইতিমধ্যে পৃথিবীর সর্বস্তরে এই ব্যবস্থা কার্যকরী হতে চলেছে। এই স্বাধীনতা, শিল্পপতিদের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে তুলে দেবে। আর এর ফলে সাধারণ জনগনের উপর তাদের অত্যাচার আরো প্রকট হয়ে উঠতে পারবে। আধুনিক কালে মানুষকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেয়ে, অস্ত্র সম্বরন করে দেওয়া বেশী প্রয়োজনীয়। প্রবল অনুভূতিতে জ্বলে উঠা আগুনকে চাপা দেওয়ার চাইতে, আমাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধির কাজে লাগানো অধিক সঙ্গত, যা তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। আমাদের ডাইরেক্টরেটের প্রধান কর্মসূচী হচ্ছে, সমালোচনার সাহায্যে জনগনের মনকে বিভ্রান্ত করে দেওয়া, প্রতিরোধস্পৃহাকে পুরন করার জন্য, জনগনের মনকে গুরুত্ব পূর্ন বিষয়ের দিক থেকে ফিরিয়ে, সব সময়ে হালকা বিষয়ে উপরে জুড়ে রাখা । মানুষের  সকল উদ্যোগ উদ্দীপনাকে,নিরর্থক কাছে আর ফাঁকা বুলির যুদ্ধ অভিনয়ের মধ্যে বিনষ্ট করে দেওয়া। 
০৮। সমস্ত যুগেই মানুষ কাজের চেয়ে কথার দামই বেশী দিয়ে এসেছে। কারণ তারা বাইরের চাকচিক্য দেখেই খুশি জানানোর ক্ষেত্রে প্রতিশ্র“তি কাজে পরিনথ হচ্ছে কিনা তা একবারও খবিয়ে দেখে না। অতএব আমরা কতকগুলি লোকদেখানো সংস্থা ক্বায়েম করব যারা তাদের সামনে আয় উন্নতির বিভ্রান্তিকর তথ্যসমূহ উপস্থাপন করবে। (বাংলাদেশে প্রায় ২০০ এর কাছাকাছি বিদেশী সংস্থা ইহুদীদের অর্থে পরিচালিত হচ্ছে, যারা বিভিন্ন উপাত্ত সংগ্রহের কাজে ব্যপৃত)।
 ৯। আমরা সকল দল ও মতের ভাব দেখেই উদ্দেশ্য বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব নিজেদের উপরই রাখব, আর তাদের সম্পর্কে বিরূপ প্রচারের জন্য, বক্তাদের মূখে ভাষা যুগিয়ে দেব। তারা এতই বক্তৃতা করবে যে শ্রোতাদের ধৈর্য্যরে বাঁধ ভেঙ্গে ফেলবে এবং বক্তৃতা ক’রতে ক’রতে এর উপর মানুষের বিতৃষ্ণা গড়ে তুলবে।
১০। জনগনের মতামতকে আমাদের হাতে নেওয়ার জন্য, আমরা একে এমন একটি বিভ্রান্ত কর পরিস্থিতিতে নিয়ে আসব এবং তা এতদীর্ঘ সময় ধরে করব যে, যাতে অইহুদী( গোয়িম) সমাজ বিভিন্ন পরস্পর বিরোধী মতাবাদের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে  উপনীত হয় যে, রাজনৈতিক কোন ব্যাপারে কোন মতামত পোষন করারই দরকার নেই, কেননা এ বিষয়ে জনসাধারনের কোন জ্ঞানই নেই। একই সঙ্গে তাদের মনে এ বিশ্বাস জন্মাবে যে রাজনীতি চালানোর জ্ঞান বা পদ্ধতি কেবল মাত্র নেতারাই বুঝতে পারেন, কাজেই জনসাধারণের এতে নাক গলানোর কোন প্রয়োজনই নেই। আর এটাই হচ্ছে আমাদের গুপ্ত পলিসির পহেলা নম্বর। 
১১। আমাদের সরকারের সফলতার দ্বিতীয় নম্বর গোপন সূত্রটি হলো এই যে, আমরা কোন দেশের জাতীয় অভ্যাস, অনুভূতি আবেগ ও জনজীবনকে এমন বিভ্রান্তকর পর্যায়ে পৌছে দেব যে, যাতে কোন লোকই যেন  সমাজে তার নিজের সঠিক ভূমিকা চিনে নিতে না পারে এবং এর ফলে যেন পরস্পর পরস্পরের কাছে নিতান্তই দুর্বোধ্য হয়ে উঠে। এই পদক্ষেপটি আমাদের আরো অন্য উপায়ে সাহার্য্য করবে, তা হ’ল সমস্ত দলের মধ্যে অনৈক্যের বীজ বুনে দেওয়া, আমাদের  বশ্যতা স্বীকার করতে রাজী নয় এমন ঐক্যবদ্ধ শক্তির শিকড় উপড়ে দেওয়া, এবং আমাদের উদ্দেশ্যের সামান্যতম বিরোধী যে কোন ব্যক্তি উদ্যোগকে সমূলে বিনষ্ট করে দেওয়া। ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও উদ্দীপনার চেয়ে বেশী অনিষ্টকারী বিষয় আমাদের জন্য আর কিছুই নেই, আর তার পিছনে যদি প্রতিভা বা বুদ্ধিমত্তা যোগ হয়ে যাকে তাহলে তো আর কথাই নেই । তাহলে এমন প্রতিভার সাহায্যে চালিত ব্যক্তি উদ্যম, লক্ষ লক্ষ লোকের বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার চেয়েও অধিক ক্ষতিকর । গোয়িম (অ-ইহুদী) সমাজের শিক্ষা ব্যবস্থাকে  আমরা এমনভাবে পরিচালিত ক’রবো যে, ব্যক্তিগত উদ্যম ও আশা নিয়ে যখনই তারা কোন উদ্যোগ গ্রহন করবে, তখনই হতাশা ও নিরাশায় তাদের হাত অবশ হয়ে আসবে। কাজের স্বাধীনতার ফলে উদ্ভূত মানসিক উত্তেজনা, অপর স্বাধীন মানসিকতা সম্পন্ন দলের মুখো মুখি হলো পরষ্পর যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় । এর ফলে পারস্পারিক সংঘর্ষের কারনে, মানসিক আঘাত, উদ্যমহীনতা ও ব্যর্থতার সৃষ্টি হয়।  এই সমস্ত উপায়ে আমরা গোয়িম (অ-ইহুদী) সমাজকে এমনভাবে ধরাশায়ী করে ফেলব যে, তারা বাধ্য হয়ে সমস্ত আন্তর্জাতিক ক্ষমতা আমাদের  হাতে তুলে দেয়, যাতে আমরা  ক্রমান্বয়ে বিনা বাধায় পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতাকে আমাদের  নিয়ন্ত্রনাধীনে এনে, সারা বিশ্ব জুড়ে আমাদের  একটি “সুপার পাওয়ার গভর্নমেন্ট” তৈরী করতে পারি। আজকের শাসকদের পরিবর্তে আমরা এমন একটা শাসন ব্যবস্থা ক্বায়েম করবো, যাকে এক কথায় “সুপার গভর্নমেন্ট শাসন ব্যবস্থা” বলা হবে।  এর হাত সমস্ত দিকে সাঁড়াশীর মত পৌছে যাবে এবং এর অধীনে বিভিন্ন সংস্থা এতই বিরাট ক্ষমতাবান হবে যে, পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্রগুলিকে পদানত করা এর পক্ষে মোটেই কঠিন হবে না । (লীগ অফ নেশান এবং ইউনাইটেড নেশন ইত্যাদি এর উদাহরণ)।


প্রটোকল-০৬ ( বিজয় লাভের পদ্ধতি)
০১। আমরা শিঘ্রই একচ্ছত্র ভাবে বিভিন্ন অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান খুলে বসব এবং এতে এত অর্থলগ্নী করব যে, গোয়িম (অ-ইহুদী) দের ভাগ্য এর উপরই অনেকাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়বে এবং রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর-পর তারা রাষ্ট্রিয় ঋণ এর সঙ্গে সঙ্গে নিজেরাও ঋনের অতলে তলিয়ে পড়বে।
০২। উপস্থিত ভদ্রমহোদয়গণ! আপনারা যাঁরা অর্থনীতিবিদ, এ অপূর্ব সমন্বয় এর তাৎপর্য একটু অনুধাবন করুন তো!
০৩। আমাদের সুপার গভর্নমেন্ট এর গুরুত্ব আরো বাড়ানোর তাগিদে, আমরা সম্ভব্য সব রকম উপায়ে, আমাদের কাছে স্বেচ্ছায় বশ্যতা স্বীকারকারীদের ত্রাণকর্তা ও রক্ষক হিসাবে নিজেদেরকে উপস্থাপিত করব। 
০৪। গোয়িম (অ-ইহুদী) সমাজের অভিজাতরা, রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে মৃত্যু বরণ করেছে; আমরা এদেরকে কোন গ্রাহ্যের মধ্যে নেব না। তবে ভূমির অধিকারী হিসাবে এখন ও তারা আমাদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে,কারণ তাদের জীবন যাপন এর উপকরন গুলিতে  এখনও তাঁরা স্বয়ং-সম্পূর্ণ । তাই ভূমির মালিকানা থেকে তাদের  যে কোন উপায়ে উচ্ছেদ করা আমাদের অত্যান্ত জরুর্।ী এই লক্ষ্য টি অর্জন করা যেতে পারে, ভূমির উপর তাদের ঋনের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে। এই ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে ভূমির মালিকানা আমাদের নিয়ন্ত্রনে থাকবে এবং ভূমি মালিকগণ সব সময়ে এক রকম বিনা শর্তেই বশ্যতা স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকবে। 
০৫। গোয়িম (অ-ইহুদী) সমাজের অভিজাতরা বংশগতভাবে অল্প কিছুর (কম খরচের) মধ্য দিয়ে চলতে অভ্যস্ত নয়, তাই তারা ধীরে ধীরে নি¯প্রভ হয়ে এক সময়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে। 
০৬। একই সময়ে আমরা ব্যবসা বানিজ্য ও শিল্প কারখানার পৃষ্টপোষকতা করব, আর তার চেয়েও আমরা উৎসাহ দেব ফাটকাবাজারীকে। ফাটকাবাজার (যেমন শেয়ার 
মার্কেট) বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান এর জন্য ভারসাম্য রক্ষাকারী ওজন  হিসাবে কাজ করবে। ফাটকা বাজারী না থাকলে শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে সম্পদ ব্যক্তিগত তহবিলে জমা হতে থাকবে, এর ফলে শিল্পপতিরা জমি-বন্ধকী ব্যাংক গুলো থেকে জমি ছাড়িয়ে আবার এগুলোর মালিক হতে পারে। আমরা যা চাই তা হচ্ছে শিল্প কারখানা গুলি দেশের শ্রম ও সম্পদ এক  জায়গায় জমা করবে, আর ফাটকা বাজারের মাধ্যমে দুনিয়ার সব সম্পদ আমাদের হাতে এসে জড়ো হবে এতে গোয়িম (অ-ইহুদী) সমাজ সর্বহারা শ্রমিকের স্তরে নেমে আসবে। তখন গোয়িম’রা (অ-ইহুদীরা) আমাদের সামনে মাথা নত করে দেবে, ,আর কিছুর জন্য না হলেও শুধু মাত্র তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই। 
০৭। গোয়িম (অ-ইহুদী) দের শিল্প কারখানা ধ্বংস সাধনের উদ্দেশ্যে, আমরা ফাটকা বাজারীর সাথে গোয়িম (অ-ইহুদী) সমাজে বিলাসিতারও আমদানী করেছি। বিলাসী জীবন যাপনের উদগ্র কামনা ও আকাঙ্খা গোয়িম (অ-ইহুদী) সমাজকে যেন গিলে খেতে চাইছে। আমরা শ্রমিকদের পারিশ্রমিকের হার বৃদ্ধি করব। তবে এর দ্বারা শ্রমিকদের কোন লাভই হবে না। কারণ একই সময়ে আমরা কৃষি পন্যের উৎপাদন হ্রাস ও পশু সম্পদের বংশ হ্রাস এর অজুহাত তুলে, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দামও বাড়িয়ে দেব।  আমরা ঐ সময়ে সুকৌশলে উৎপাদন হ্রাসের আরো সুদুর প্রসারী ব্যবস্থা অবলম্বন করব। আর এই কাজে সফলতা অর্জনের উদ্দেশ্যে, আমরা শ্রমিকদের মধ্যে  অপরাধ প্রবনতা ও মদ্যপান (নেশা আসক্তি) ইত্যাদির মাত্রা বাড়িয়ে দেব, আর তাদের  দ্বারাই আমরা গোটা অইহুদী সমাজের শিক্ষিত শ্রেণীকে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করেন দেবার ব্যবস্থা করব। 
০৮। এই বিষয় গুলির মূল তাৎপর্যের ব্যাপারে অইহুদী সমাজ, একটা বিশেষ সময় পর্যন্ত যাতে কিছুই বুঝতে না পারে, সেই উদ্দেশ্য আমরা শ্রমিকদের দরদী বন্ধুর মুখোস ধারণ করে থাকব এবং রাজনৈতিক অর্থনীতির সম্বন্ধে বড় বড় নীতিকথা প্রচার করে আসল ব্যাপার থেকে তাদের ভুলিয়ে রাখব।
প্রটোকল-০৭ ( পৃথিবীব্যাপি মহাযুদ্ধ)
০১। উপরে উল্লেখিত পরিকল্পনা গুলো বাস্তবায়নের জন্য ভারী যুদ্ধ অস্ত্রের সাহায্যে প্রস্তুতি ও পুলিসী ব্যবস্থা জোরদার করার একান্ত প্রয়োজন। আমাদের যা করতে হবে তা হলো এই যে, পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্রে আমরা তো থাকবই আর শুধু থাকবে মেহনতী  দিনমুজুর শ্রেণী, আমাদের জন্য নিবেদিত প্রাণ অল্প কিছু কোটিপতি, পুলিস আর সেনা বাহিনী ।
০২। সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত অন্যান্য মহাদেশেও আমরা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্দোলনের অবস্থা, মতানৈক্য ও  বিদ্বেষ সৃষ্টি করে যাব। এতে আমাদের দুই দিকে লাভ রয়েছে। প্রথমতঃ আমরা সব দেশকেই আমাদের নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারব, কারণ তারা জানবে যে, আমাদের শক্তি আছে, যখন খুশী আমরা বিশৃঙ্খলা করতে  পারবো,  আর যখন খুশী শান্তিও রক্ষা করতে পারবো । এই সমস্ত দেশ গুলি আমাদের অপ্রতিরোধ্য দমননীতি দেখতে অভ্যস্ত। আর দ্বিতীয়ত: আমরা আমাদের ষড়যন্ত্রের সাহায্যে পৃথিবীর সকল দেশের কেবিনেটের (মন্ত্রীসভা) মধ্যে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক চুক্তি অথবা ঋণের দায়দেনার দ্বারা যে জাল বুনে রেখেছি, তাও গুটিয়ে আনতে পারবো। এ ব্যাপারে সফল হতে হলে, আমাদেরকে আলাপ আলোচনা ও চুক্তির পর্যায়ে খুবই চতুর ও অনুপ্রবেশকারী হতে হবে, কিন্তু যাকে বলে “সরকারী ভাষা” এর সময়ে আমরা কিন্তু সম্পূর্ণ বিপরীত ধরণের আচরন করব এবং সততা ও শুভেচ্ছার মুখোশ ধরে থাকব। এই অ-ইহুদী সরকার ও জনসাধারন কে আমরা যেটুকু দেখবার সুযোগ দিই, সেই বাহ্যিক রূপ টি দেখেই তারা মুগ্ধ হতে অভ্যস্ত, এভাবেই তারা আমাদেরকে তাদের উপকারী ও মানব জাতীর ত্রাণকর্তা হিসাবে কবুল করে নেবে।

বিশ্ব যুদ্ধ
০৩।  যে সমস্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্র আমাদের বিরুদ্ধাচারন করতে সাহস করবে, তাদেরকে প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের সমর-সজ্জার প্রাচুর্য থাকবে যথেষ্ট, আর যদি এই সমস্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্র একযোগে আমাদের  আক্রমন করতে চায়, তবে আমরা কৌশলে বিশ্ব যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়ে তার প্রতিরোধ করব। 
০৪। রাজনৈতিক বিষয়ে সাফল্যের চাবিকাঠি হ’ল, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে গোপনীয়তা রক্ষাকরা। রাজনীতিবিদ এর কথার সঙ্গে কাজের কোন মিল থাকতে পারবে না। 
০৫। আমরা অ-ইহুদী রাষ্ট্রকে আমাদের সুদূর প্রসারী নীতি গুলির বাস্তবায়নের স্বপক্ষে কর্ম পদ্ধতি গ্রহণ করতে বাধ্য করব, যা ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত হতে শুরু হয়েছে। তা হ’ল জনগনের ইচ্ছার বাস্তবায়ন, আর সে জনমতকে আমাদের  স্বপক্ষে আমরাই গোপনে বিভিন্ন ভাবে তৈরী করেছি, তাদের মাধ্যমে - যাদের বলা হয়ে থাকে মহাশক্তি, তা হ’ল সংবাদ পত্র বা মিডিয়া, যা দুএকটি ব্যতিক্রম বাদে সম্পূর্ণভাবে আমাদেরই হাতে।
০৬। এক কথায় বলতে গেলে, ইউরোপে অ-ইহুদী  রাষ্ট্র গুলি আমরা  আমাদের  আয়ত্বে এমন ভাবে সংযত রাখব যে,  তাদের কোন একটি, আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করলে, তার মধ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাহায্যে, আমরা আমাদের শক্তির প্রমান দিয়ে দেবো। আর যদি তারা কখনও একজোটে আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করতে সাহস পায় তখন আমেরিকা, চীন ও জাপানের অস্ত্র (আমাদের স্বপক্ষে) গর্জে উঠবে। (১৯০৪-১৯০৫এর রুশ জাপান যুদ্ধ)।
প্রটোকল-০৮ ( অস্থায়ী বা সাময়িক সরকার)
 ০১। আমাদের বিপক্ষ শক্তি যা কিছু অস্ত্র আমাদের  উপর প্রয়োগ করতে পারে, তার প্রতিরোধ্য সব কিছুর দ্বারা আমরা সু-সজ্জিত থাকব। প্রকাশ ভঙ্গিমার সামান্য ছায়া পর্যন্ত আমাদের আয়ত্ব করতে হবে, যার দ্বারা আইনের সুক্ষ্ম মার-প্যাচ কাটিয়ে আমরা কোন বিষয়ে যে রায় দেব,  তা অস্বাভাবিক পরিমাণে বিদ্বেষ পূর্ন ও অন্যায়  হ’লেও তা ভাষার মাধূর্যে অতি উঁচুস্তরের আইনী নৌতিকতা সম্পন্ন বলে অভিনন্দন লাভ করবে (গণ হত্যা কনভেনসন, ও জাতীসংঘের শিশু অধিকার বিষয়ক ঘোষনা ইত্যাদি)।  যে সমস্ত সভ্যতাগুলির মধ্যে আমাদের কাজ করতে হবে, সে গুলির মধ্যে যে শক্তি নিহিত রয়েছে, সে গুলিকে আমাদের ডাইরেক্টরেট এর চারিদিকে জমায়েত করতে হবে। আমাদের ডাইরেক্টরেটের চতুর্পাশ্বে সমবেত হবে প্রচারক, বাস্তববাদী আইনী-জীবি, প্রশাসক, রাজনীতি-বিশারদ আর  থাকবে আমাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ব্যক্তিরা যাদেরকে আমরাই নিয়োগ ক’রবো (রোডেস স্কলারশীপ, লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স)। এই সমস্ত ব্যক্তিরা সমাজের সকল গোপন তথ্য ও উপাত্ত সম্পর্কে অবগত থাকবে, রাজনৈতিক শব্দ ও বর্ণমালার সাহায্যে কখন কোন ভাষা  রচনা  করতে হবে, তা তাঁদের অবশ্যই জানা থাকবে। মানব মনের গহীনে অবস্থিত দূর্বলতা সম্বন্ধে তাদের জানা থাকবে এবং সেই দূর্বলতার সুতো ধ’রে কখন গোয়িমদের কিভাবে পরিচালিত করতে হবে, তা তাদের শেখানো হবে।,সেই সুতোগুলো হ’ল, অ-ইহুদীদের সমাজের মানসিক অবস্থা, কোনদিকে তাদের প্রবনতা, দূর্বলতা, তাদের মন্দ এবং ভালোর দিক, তাদের সমাজের বিশেষ বিশেষ শ্রেণীর বিশেষ মানসিক অবস্থা, যার দ্বারা আমরা তাদের পরিচালিত করব। একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, কর্তৃত্ব করার জন্য আমরা যে সমস্ত লোকদের নিয়োগ করব, তারা কখনই  অইহুদী সমাজের হবে না। গোয়িমরা তো কেবলমাত্র, আমাদের বিধিবদ্ধ পদ্ধতিতে শাসনতন্ত্র পরিচালনা করতেই অভ্যস্ত। যে কাজ তাদের দ্বারা করানো হয়, তার উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে কোনরকম চিন্তাভাবনা করার কষ্ট তারা কখনই স্বীকার করে না ॥ গোয়িমদের শাসকরা কাগজ না পড়েই স্বাক্ষর করে। ( যেমন মার্গারেট থ্যাচার ম্যাসট্রিষ্ট সন্ধির প্রাক্কালে বৃটিশ সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়েছিলেন,যেমন অস্ট্র্রেলিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানরা জাতিসংঘের প্রায় ২০০০ সন্ধি পত্রে সম্ভবত: না পড়েই সহি করেছেন) এবং তারা এটা করে থাকেন হয়তো অর্থলোভে অথবা উচ্চাকাঙ্খায় । 
০২। আমরা আমাদের সরকারের চার পাশে, অর্থনীতিবিদদের একটা পরিপূর্ণ জগত সৃষ্টি করে নেবো। এই জন্যই আমাদের অর্থাৎ ইহুদীদের শিক্ষার প্রধান বিষয়ই হচ্ছে অর্থনীতি বিজ্ঞান। আমাদের চারদিকে তাই আবারো একটা পরিমন্ডল থাকবে, যার মধ্যে থাকবে ব্যাংক-মালিক, থাকবে শিল্পপতি আর পুঁজিপতিরা, কেননা সকল জটিল বিষয়ই টাকার অংকে বিবেচিত হবে।
০৩। যতদিন আমাদের ইহুদী ভাইদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার সমস্ত দায়িত্ব অর্পন নিরাপদ মনে না হয়, ততদিন আমরা এমন লোকজনের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে রাখব, যাদের অতীত বা কার্যকলাপ এমন ছিল, যাতে জনসাধারণের সাথে তাদের একটা বিরাট ফাঁক থাকবে, আর সেই সমস্ত লোকজন আমাদের অবাধ্য হলে, তাদের  বিরুদ্ধে ক্রিমিন্যাল চার্জ আনা যাবে অথবা পৃথিবী থেকে তারা সম্পূর্ণ মুছে যাবে। এই ভয়ে তারা আমাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য জীবন নাশ করবে (বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক নেতা/ নেত্রীদের অবস্থার কথা চিন্তা করার বিষয়)।

প্রটোকল-০৯ (পুনঃ শিক্ষায়ন)
০১। আমাদের নীতিগুলি বাস্তব প্রয়োগের উদ্দেশ্যে,  যে দেশে আপনারা বসবাস করবেন সেখানকার জনসাধারনের চারিত্রের গতি প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট সম্বন্ধে আপনাদের ওয়াকেফহাল হতে হবে - যতদিন না তারা, যে শিক্ষা আমরা দিতে চাই, সেই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠে, নচেৎ আমাদের সাফল্য বিঘিœত হবে। সতর্কতার সাথে আমাদের নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আপনারা দেখতে পাবেন যে, গোঁড়া লোকদের পরিবর্তন করতে এক-দশক সময়ও লাগবেনা এবং ঐ সময়ের মধ্যে আমরা অনেক নতুন লোককেও আমাদের বশীভূত করতে পারব। 
০২। উদারনৈতিকদের কথাগুলি, যা বাস্তবে আমাদের ম্যাসনদের দ্বারাই উদ্ভাবিত-যথা “স্বাধীনতা ”, “সাম্য”, “ভ্রাতৃত্ব” এই কথাগুলিকে আমরা ক্ষমতায় আসার পর এমনভাবে পরিবর্তিত করব, যাতে স্লোগান হিসেবে এদের মূল্য শেষ হয়ে যায় এবং শুধূ মাত্র আদর্শবাদ প্রচারের বাহন হিসেবেই ব্যবহার হতে  পারে - যেমন স্বাধীনতা অধিকার, সাম্যবাদের কর্তব্য, ভ্রাতৃত্ববোধের আদর্শ ইত্যাদি। আমরা এগুলিকে এভাবে পরিবর্তিত করব, যাতে ষাঁড়ের শিংএ হাত দিয়ে, পরে এটিকে ধীরে ধীরে বশ করে নেওয়া যায়। আমরা বাস্তবিক ভাবে ইতিপূবের্, আমাদের ছাড়া অন্যের নিয়ম বা শাসন ব্যবস্থাকে মুছে দিয়েছি। যদিও বাহ্যদৃষ্টিতে কিছু ক্ষেত্রে অন্যদের শাসন ব্যবস্থাও টিকে রয়েছে বলে মনে হয়। এখনকার দিনে, যদিও কোন রাষ্ট্র আমাদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ উত্থাপন করে, জানতে হবে সেগুলো আমাদেরই তৈরী । কেননা তাদের  ইহুদী বিরোধীতা, আমাদের মধ্যে শ্রেণীগত ভাবে যারা নিচু শ্রেণীর ইহুদী রয়েছে,তাদের নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য বিশেষ জরুরী । আমি এ বিষয়টির আর অধিক ব্যাখ্যা করব না । কেননা আমাদের মধ্যে এই আলোচনার পুনঃআবৃত্তি বহুবার ঘটেছে ।

“ইহুদী সুপার স্টেট”
০৩। আমাদের কাজের পরিধি, নির্ণয়ের বাহিরে। আমাদের সুপার গভর্ণমেন্ট অত্যাধিক আইনগত ভিত্তির উপরেই প্রতিষ্ঠিত রয়েছে, যাকে রাজনৈতিক পরিভাষায় “এক নায়কতন্ত্র” বলা হয়। মুক্ত কন্ঠে আজ আপনাদের বলে দিতে চাই যে, যথা সময়ে আমরা এই আইনদাতারাই বিচার করে, রায় ঘোষনা করব ও শাস্তি প্রদান করব, হত্যা করব অথবা ছেড়ে দেব। আমরা আমাদের সেনাবাহিনীর পরিচালক হিসেবে, তাদের সাহায্যে, অন্যান্য শাসকদের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে  রয়েছি। আমরা ইচ্ছা শক্তির সাহায্যে শাসন করি, কেননা আমাদের হাতে একাধিক শক্তিশালী শাসকদের অবশিষ্টাংশ টুকরো বিরাজমান রয়েছে, যাদের  আমরা বিলুপ্ত করে দিয়েছি। আর আমাদের হাতে রয়েছে অপরিমেয় শক্তি, যা হলো,  সীমাহীন উচ্চাকাঙ্খা, প্রজ্জলিত লালসা, নির্মম  প্রতিহিংসা, ঘৃনা ও বিদ্বেষ।
০৪। আমাদের কাছ থেকেই সর্বগ্রাসী সন্ত্রাস বিস্তরিত হয়। আমাদের দাসত্বেই নিয়োজিত, সব ধরনের ব্যক্তিরা, সকল আদর্শে বিশ্বাসীরা, রাজতন্ত্রের পুনরূদ্ধারকামী, গনতন্ত্রের উদ্গাতা জননেতা, সাম্যবাদী, সমাজতন্ত্রী আর সুখরাজ্যের কল্পনা-বিলাসীরা আমাদেরই নিয়োজিত। আমরা তাদের কাঁধে তাদের কর্তব্যের  জোয়াল তুলে দিয়েছি। প্রত্যেকেই তার নিজের নিজের পদ্ধতিতে, সব রকমের প্রতিষ্ঠিত শৃঙ্খলাকে ভেঙ্গে-চুরে একাকার করে যাচ্ছে। আমাদের এসব কাজের কারণে, সমস্ত রাষ্ট্রই এক উদ্বেগময় পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। শান্তি ও শৃঙ্খলার জন্য  তারা যে কোন মূল্য দিতে প্রস্তুত। কিন্তু যতক্ষন না তারা আমাদের আন্তর্জাতিক সুপার গভর্ণমেন্টকে খোলাখুলিভাবে স্বীকার এবং বশ্যতা স্বীকার না করে, ততক্ষন আমরা তাদের শান্তিতে থাকতে দেব না । 
০৫। কোন একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে “সমাজ তন্ত্র” বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌছানোর জন্য জনসাধারন চিৎকার শুরু করেছে । বিভিন্ন ভাবে বিভক্ত দল গুলির   অন্তর্বিরোধ, তাদেরকে আমাদের হাতেই তুলে দিয়েছে, কারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা সংগ্রাম চালু রাখতে প্রয়োজন অর্থের, আর অর্থ সামগ্রিকভাবে আমাদেরই  হাতে। 
০৬। অ-ইহুদীদের শাসক শ্রেণীর মধ্যে যারা স্বচ্ছ দৃষ্টি সম্পন্ন, তাদের সাথে অন্ধ জনসাধারনের একটা আপোষ রফা হয়ে গেলে আমাদের জন্য অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, এইজন্য  আমরা সম্ভব্য সব উপায়ে এর সম্ভবনাকে বিনাশ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা তাদের উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক ভয় ও অবিশ্বাসের একটা দেয়াল খাড়া করে দিয়েছি। এর ফলে জনসাধারনের অন্ধ গোষ্ঠি’টি আমাদের স্বপক্ষেই রয়েছে, এবং আমরা কেবলমাত্র আমরাই তাদেরকে একজন যোগ্য নেতা মনোনীত করে দেব, যার ফলে তারা অবশ্যই আমাদের নির্দেশিত লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত হতে পারে।
০৭। অন্ধ জনশক্তির হাতটি যাতে আমাদের পরিচালকের হাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে না পারে, সে উদ্দেশ্যে আমরা প্রায়শই ঐ হাতটির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলব, সরাসরি ভাবে না হলেও যে কোন উপায়ে, আমাদের অতিবিশ্বস্ত কোন ভাইএর মাধ্যমে । যখন আমাদেরকে একমাত্র কর্তৃপক্ষ বলে স্বীকার করে নেওয়া হবে, তখন আমরা প্রকাশ্য হাটে-বাজারে জনসাধারনের সাথে খোলাখুলি আলাপ আলোচনা করব এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কীত বিষয়ে এমন সব বিজ্ঞ উপদেশ বিতরন করব, যা তাদেরকে আমাদের ঈপ্সিত লক্ষ্যের দিকে দ্রুত নিয়ে যেতে পারে। 
০৮। গ্রাম্য স্কুলে কি শিক্ষা দেওয়া হয়, তা যাচাই করে দেখতে যায় কে? কিন্তু, সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা সিংহাসনে সমাসীন একজন রাজা যে সব উক্তি করেন, তা সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে যায়। কারণ জনগনের মুখে মুখেই এ সব উক্তি প্রচারিত হয়ে যায়। 
০৯। গোয়িম (অ-ইহুদী) দের সমাজের প্রতিষ্ঠান গুলিকে যথাসময়ে সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস করার লক্ষ্যে, সেই সময়ের আগে, আমরা তাদেরকে দক্ষতা ও কোমলতার স্পর্শ দিয়েছি এবং আমরা সেই ¯িপ্রং গুলোর প্রান্তদেশ (গোড়া) ধরে রেখেছি যা দিয়ে ঐ (সামাজিক প্রতিষ্ঠান) গুলি পরিচালনা করা হয়ে থাকে । সেই ¯িপ্রং গুলো অত্যান্ত সুন্দর ভাবেই স্থাপিত হয়েছিল, কিন্তু উদারতাবাদের নামে হাঙ্গামা সৃষ্টি করে আমরাই এগুলিকে অবিন্যস্ত করে দিয়েছি। আমরা আইন প্রয়োগের জায়গায় আমাদের হাত কে প্রসারিত করে দিয়েছি, তাছাড়া নির্বাচন পরিচালনার বিষয়ে, সংবাদ পত্রে, ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয়ে ও বিশেষত: স্বাধীন সত্বা বজায় রাখার দুটি স্তম্ভ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মধ্যেও।
খৃষ্টান যুব সমাজকে ধ্বংস করা হয়েছে
১০। গোয়িমদের যুব সমাজকে কয়েকটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন আদর্শের মধ্যে লালন করে আমরা তাদের বোকা বানিয়েছি, বিভ্রান্ত করেছি এবং দুর্নীতি পরায়ন করে তুলেছি আর আমরা জানতাম যে ঐ আদর্শের বুলি গুলো মিথ্যা, কিন্তু আমরা ঐ গুলিকেই তাদের হৃদয়ে প্রবিষ্ট করে দিয়েছি। 
১১। প্রচলিত আইন গুলোকে খুব একটা পরিবর্তন না করে, বরং এদের মধ্যেই কিছু ঘোর-প্যাঁচ ক’রে এমন সব পরস্পর বিরোধী ব্যাখ্যা আমরা দেওয়া আরম্ভ করেছি, যাতে কোন ফলাফলে পৌছানোর আগেই প্রতিবন্ধকতা দাঁড়িয়ে যায়। ফলে এই বাস্তবতা দাঁড়ায় যে, আইনের ব্যাখ্যাই আইনকে ঘিরে রাখে । এরপর আইনের এই জট পাকানো অবস্থা থেকে সত্যিকার কিছু বের করে আনা অসম্ভব - এই কারণে বিষয়টি ক্রমান্বয়ে সরকারের দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়। 
১২। এটিই হ’ল শালিসী ব্যবস্থার মূলকথা।
১৩। আপনারা বলতে পারেন যে, আমাদের সময় আসার আগেই অ-ইহুদী (গোয়িম) সমাজ, এই সমস্ত ষড়যন্ত্রের বিষয় জানতে পেরে, অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু পশ্চিমা দেশ-গুলিতে আমরা এধরনের আশঙ্কাকে প্রতিহত করার জন্য এমন কতকগুলি ভীতিপূর্ণ ও কৌশলী পরিকল্পনা তৈরী করে রেখেছি যে, অত্যন্ত সাহসী হৃদয়ও তাতে কেঁপে উঠবে। গুপ্ত প্রতিরোধ বাহিনী, নাগরিক-সম্প্রদায় এবং অন্যান্য গোপন বাহিনীদের, সেই সময়ের আগেই প্রতিটি নগরের গোপন আস্তানায় নিয়ে আসা হবে এবং সেখান থেকে প্রতিটি শহর বা নগরকে তাদের যাবতীয় সংগঠন ও দলীল পত্র, রেকর্ডসহ একেবারে শূন্যে মিলিয়ে দেওয়া হবে। 



প্রটোকল নং -১০
  ০১। আজ আমি পূর্বে কথিত কিছূ বিষয়ের পূনরাবৃত্তি করে বক্তব্য শুরু করছি। আপনদের মনে রাখতে হবে যে, সরকার এবং জনসাধারন রাজনীতির বাইরের চেহারা দেখেই সন্তষ্ট থাকতে চায়। অ-ইহুদী সমাজের লোকজন কি ভাবে কোন বিষয়ের অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝে উঠতে পারবে? যখন তাদের নেতারা শুধু মাত্র পার্থিবজীবনকেই পূর্ণভাবে উপভোগ করার জন্য নিজেদের সকল উৎসাহ উদ্দীপনা কে নিয়োজিত করেছে! আমাদের নীতির প্রধান কথা হ’ল, এই সমস্ত ক্ষুদ্র বিষয় গুলিও আমাদের  আমলে নিতে হবে, এগুলি আমাদের কাজে আসবে। আমরা সম্পত্তির কর্তৃত্বের বিভিন্ন দায়িত্ব বন্টন, এতে বসবাসকারী , কর-প্রদানকারী (গুপ্ত ট্যক্স এর ধারনা) এদের  বিষয়েও চিন্তা করব, যারা হল বাস্তবিক পক্ষে আইনের প্রতিবর্তী ক্রিয়া স্বরূপ। এই সমস্ত বিষয় গুলির ব্যাপারে প্রকাশ্য কিম্বা সরাসরি ভাবে জনসাধারনের জ্ঞাতসারে, কোন পদক্ষেপ প্রহন করা কখনই সঙ্গত হবে না। আর যদি এ সমস্ত বিষয় গুলির আলোচনা কখনও একেবারেই অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা এগুলির নাম উল্লেখ না করেই এবং এর কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই তা করব, যাতে জনসাধারনের মনে এ রকম ধারনা থাকে যে, প্রচলিত আইনের সকল অধিকারই আমরা স্বীকার করি। সু-স্পষ্ট ভাবে নাম উল্লেখ না করার সুবিধা এই যে, এতে আমাদের কাজের সুবিধা হবে, এই ভাবে যে, আমরা এই গুলিকে, যেমন প্রয়োজন তেমন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারি । আর যদি ঐ গুলিকে বিশেষ নাম দিয়ে উল্লেখ করতেই হয়, তাহলে আমাদের ইচ্ছামত কাজ করার অসুবিধা হতে পারে, কেননা এতে বোঝা যাবে যে, ঐ অধিকার গুলি আগেই দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। 
০২। জনতা, প্রতিভাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপরে মোহগ্রস্ত থাকে ও তাদের ডাকে সাড়া দেয় এবং তাদের হিংসাত্বক কাজেরও সমর্থন দিয়ে যায়। তারা বলে“ব্যাটা বদমাস” হ্যাঁ, বদমায়েসীই বটে, তবে চতুরতার সঙ্গে”-- এটা একটা চালাকীর বিষয় মাত্র। কিন্তু কি কৌশল এবং নিপুনতার সঙ্গে করা হলো! এটা সত্যই প্রশংসার যোগ্য । 

আমাদের আসল লক্ষ্য হ’লো সমস্ত জগতের উপর কর্তৃত্ব করা।
০৩। আমরা জগতের সমস্ত জাতীদেরকে নিয়ে মৌলনীতির একটা নতুন কাঠামো দাঁড় করানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি (জাতিসংঘ)। এই জন্যই সকলের  আগে আমাদের নিজেদের নিরঙ্কুশ অপ্রতিরোধ্য ও উদ্ধত শক্তি অর্জন করতে হবে, যেন আমাদের সক্রিয় কর্মীরা সমস্ত বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে আগিয়ে যেতে পারে। আমাদের এই বিপ্লব (ক্যু দাঁতাত) সংঘটিত করার পর,  আমরা বিভিন্ন জনগণের সামনে বলবো, অবস্থা একেবারেই শোচনীয় হয়ে গেছে, দুর্ভোগে সবাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে, আমরা তোমাদের এই দু:খ দুর্দশার কারণ গুলো - যেমন জাতীয়তাবাদ, দেশের সীমান্তরেখা ও মুদ্রার অসমতা - এগুলি দুর করে দিচ্ছি, তোমরা আমাদের শাস্তি দিতে পার, কিন্তু এগুলির ফলাফল সত্যিই ভাল হয় কিনা তা দেখার আগেই আমাদের শাস্তি দেওয়া কি সত্যই ন্যায় বিচার হবে? তখন জনসাধারণ আমাদের দিকে শ্রদ্ধার চোখে তাকাবে এবং আশা এবং ভরসা নিয়ে আমাদেরকে দুই হাতে উপরে তুলে ধরবে।  মানব জাতির ছোট ছোট সংস্থা গুলিকে বিশ্ব শাসনের শক্তিতে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সভা সমিতি ও আভ্যন্তরীন চুক্তি সমূহের ও ভোটের যে রীতি-নীতি আমরা চালু করে রেখেছি, তা তখনই আমাদের লক্ষ্য ও স্বার্থ সিদ্ধির কাজে লাগবে । এর পরই আমাদের খারাপ বলার পরিবর্তে, জনসাধারণের আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থাপনের আকাঙ্খা  জাগবে।
০৫।  আমাদের শাসন ক্ষমতা নিরঙ্কুশ রাখার লক্ষ্যে  আমরা  অবশ্যই শ্রেণী ও শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি ছাড়াই জনগণের ভোটদানের ব্যবস্থা করব। এর ফলে আমরা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা লাভে সমর্থ হবো, যা শুধু মাত্র শিক্ষিত বিত্তবানদের কাছ থেকে আমরা পাবো না। এ দ্বারা আমরা জনসাধারনের মধ্যে, নিজের সম্পর্কে একটা গুরুত্ববোধ জাগ্রত করে দিয়ে, আমরা পারিবারিক গুরুত্ব ও শিক্ষার মর্যাদা একেবারেই মিটিয়ে দেব। জনতা উত্তেজিত ভাবে আমাদের দ্বারা পরিচারিত হয়ে, কখনোই সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিতদের গ্রাহ্য করবে না, এমনকি তাদের কোন কথাই শুনতে চাইবে না। 
এই সমস্ত কর্মপদ্ধতির দ্বারা আমরা একটা অপ্রতিরোধ্য শক্তির সৃষ্টি করব। কিন্তু সেই শক্তি আমাদের  নির্দেশনা ছাড়া বিন্দু মাত্র এদিক সেদিক চলতে পারবে না। আম জনতাকে বিশেষ দিকে পরিচালনা করার জন্য আমাদের নিযুক্ত এজেন্টরাই তাদের নেতৃত্ব দেবে। জনসাধারণ আমাদের এজেন্টদের শাসন ব্যবস্থা মেনে নিতে কোন দ্বিধা করবে না (হামিদ কারজাই)। কারন আমাদের প্রচার প্রচারানার দ্বারা আমরা এমন অবস্থা সৃষ্টি করব যে, যেন একমাত্র আমাদের এজেন্টরাই তাদের সমস্ত প্রকারের বৈষয়িক উন্নতি, সুখ-সমৃদ্ধি ও সুযোগ সুবিধা দিতে পারে, তখন তাদেরকেই জনসাধারণ সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য বলে মেনে, নেবে। 
০৬। সম্স্ত সরকারী পরিকল্পনা গুলো একটি মাত্র মস্তিস্ক থেকেই বের হয়ে আসবে,  কারণ বিভিন্ন প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা ধারাকে আমলে নিয়ে কোন সরকারই সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে না। সেই কারণে আমরা পরিকল্পনা গুলির বাহ্যিক চেহারা তাদের কে দেখতে দেবো, কিন্তু বিস্তারিত আলোচনা এড়িয়ে চলবো। কারণ বিস্তারিত আলোচনার দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ হয়ে পড়তে পারে । আমরা পরিকল্পনার বিভিন্ন অংশ গুলিকে স্বাধীন সংস্থায় রূপদান ক’রব এবং গোপন ভাবে এদের প্রত্যেকটিকেই কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রন করব। পরিকল্পনা পরিবর্তন করার অধিকার, বহু সংখ্যক লোকের আলোচনা ও জোটের উপর নির্ভশীল হ’লে, পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য বিনষ্টকারী যুক্তি গুলোকেও গ্রহণ করতে হবে। তাই আমরা পরিকল্পনা গুলিকে শক্তিশালী করতে এবং প্রয়োজন মত এগুলির উদ্দেশ্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দেয়ার পথও খোলা রাখতে চাই। 
এই জন্যই আমাদের প্রতিভাবান উপদেষ্টাদের তৈরী কর্ম-পরিকল্পনা গুলোকে কখনই আমরা উত্তেজিত জনতা বা অন্য কোন সংস্থার মতামতের উপর ছেড়ে দিতে চাই না । 
০৭। আমাদের তৈরী কর্মপরিকল্পনা গুলো, কখনই প্রচলিত সংস্থা গুলোকে সঙ্গে সঙ্গে উৎখাত করে দেবে না । আমাদের কর্মপরিকল্পনার সাহায্যে শুধু প্রচলিত সংস্থাগুলোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে এবং এর ফলে তাদের সামগ্রিক কার্যপদ্ধতি আমাদের অভিষ্ট পথে ঘুরে যাবে।
“উদার নৈতিকতার বিষ”
০৮। বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে প্রায় এক ধরনেরই  সংস্থা প্রচলিত আছে। জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রীসভা, সিনেট, স্টেট কাউন্সিল, আইন পরিষদ ও শাসন বিভাগ এগুলি বিভিন্ন নামে সব দেশেই রয়েছে। এগুলির ম’ধ্যের আভ্যন্তরীন সম্পর্কের বিষয়ে       বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন নেই, কারণ এগুলি আপনাদের জানা আছে। শুধু এটুকু জানাই যথেষ্ঠ যে, উপরে উল্লেখিত সব সংস্থগুলিই কোন না কোন গুরুত্বপূর্ণ সরকারী দায়িত্ব পালন করছে। আমি কোন সংস্থাকে গুরুত্ব পূর্ণ বলতে চাইছি না, কিন্তু সংস্থাগুলি যে দায়িত্ব পালন করে সে গুলিই গুরুত্ব পূর্ণ বলতে চাইছি। এক কথায় বলা যায়, কোন সংস্থাই গুরুত্ব পূর্ণ নয়, বরং যে কাজ সে করে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। এই সংস্থাগুলো, তাদের নিজেদের মধ্যে সরকারের সমস্ত কাজকে ভাগ করে নিয়েছে,  যেমন শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ,বিচার ব্যবস্থা, তারা পরস্পরে এই ভাবে কাজ করে যেমন শরীরের মধ্যস্থ বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ একে অন্যের উপর নিভর্রশীল হয়ে কর্মক্ষমতা বজায় রাখে। তাই আমরা যদি এই রাষ্ট্রযন্ত্রের যে কোন একটি অঙ্গকে ঘায়েল করে দিতে পারি, তাহলে রাষ্ট্রব্যবস্থা মানব শরীরের মত অসুস্থ হয়ে পড়বে এবং পরিণামে - হ্যাঁ- মারা যাবে। 
 ০৯। যখন আমরা এই রাষ্ট্র যন্ত্রের মধ্যে উদারনীতির বিষ ঢুকিয়ে দেতে পেরেছি, তখন এর একটি বিরাট রাজনৈতিক পরিবর্তন সাধন হয়েছে । রাষ্ট্র একটা মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে এর নৈতিক অসুস্থতা ও রক্ত দুষন শুরু হ’য়ে গেছে । আর এর প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্র গুলো শুধু যেন মৃত্যুর অপেক্ষা করছে। 
১০। উদারতাবাদ শাসনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে, যা অ-ইহুদীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল ’স্বেচ্ছাচারী শাসন ব্যবস্থা’র স্থান দখল করেছে, আর শাসনতন্ত্র, আপনারা জানেন যে, তা পরস্পর বিচ্ছিন্নতার শিক্ষালয়, পরষ্পর ভুল বোঝাবুঝি, বিবাদ, অমিল, নিস্ফল দলগত উত্তেজনা, ও খামখেয়ালীপনার আখড়া ছাড়া অন্য কিছুই নয় । এক কথায় তা রাষ্ট্রযন্ত্রকে বিকল বানানোর একটা স্কুল মাত্র । বাক্যবাগিশদের মঞ্চ, সংবাদ পত্রের চেয়েও এটি আরো অধিক প্রভাবশীল-ভাবে, শাসকদের নিস্ক্রয়তা ও অক্ষমতার কথা প্রচার ক’রে, তাদেরকে ব্যর্থ ও অবাঞ্চিত ঘোষনা করে দেয়, এর ফলে অনেক দেশেই তাদেরকে ক্ষমতাচ্যুৎ করা হয়েছে । এর পরপরই  শাসন ব্যবস্থার প্রকৃত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে । আমরা তাদের পূর্ববর্তী শাসক এর জায়গায়, এক তামাশা দেখানোর মত করে সরকার স্থাপন করেছি, উত্তেজিত জনতা মধ্য থেকে আমাদের  হাতের পুতুল একজন বা দাসকে প্রেসিডেন্ট পদে বসিয়ে দিয়ে। এটি হল অ-ইহুদী জনসাধারণের পায়ের নীচে একটা মাইন স্থাপন, অন্য কথায় বলা যায় - সমস্ত অ-ইহুদী জন-সমাজ সমূহের পায়ে নীচে।
“আমরা প্রেসিডেন্টদের নিয়োগ করি”
১১। অদূর ভবিষ্যতে আমরা প্রেসিডেন্টদের দায় দায়িত্ব নির্ধারণ করে দেব। 
১২। ঐ সময়ের মধ্যে, আমরা সমস্ত রকম নিয়মকানুন ও রীতি নীতি ভঙ্গ করার শক্তি অর্জন করে নেবো। তবে নিয়মকানুন ও রীতি-নীতি ভঙ্গের জন্য ঐ পুতুল সরকারই দায়ী এবং দোষী বিবেচিত হবে। যদি ঐ সমস্ত ক্ষমতালোভীদের সংখ্যা দিন দিন কমে আসে এবং প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী যদি না পাওয়া যায় এবং এতে যদি রাষ্ট্র অচল হয়েই আসে, তাতে আমাদের কি আসে যায় ? 
 
১৩। আমাদের  পরিকল্পনা থেকে উদ্দিষ্ট ফল লাভের জন্য, আমরা  এমন লোকদের প্রেসিডেন্ট পদ প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করাবো, যাদের অতীত জীবনের কিছু কালো অধ্যায় রয়েছে, যা জনসাধারনের কাছে অজ্ঞাত (“পানামা” এর মত কোন কিছু বা ’জারদারী’ ধরনের কোন ব্যক্তি)। এ ধরনের লোক যদি প্রেসিডেন্ট হয়, তাহলে তাঁরা ভয়ে আমাদের বিশ্বস্ত এজেন্টে পরিণত হবে। আরো একটা কারণ এই যে, তারা নিতান্ত স্বাভাবিক ভাবেই, ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা, সম্মান, অগ্রাধিকার, সব কিছুই অধিক সময় পর্যন্ত উপভোগ করতে চায়। আইন পরিসদের সদস্যরা প্রেসিডেন্টকে নিরাপত্তা দান করবে এবং তাঁর পক্ষে ভোট দেবে, কিন্তু আইন পরিষদের হাত থেকে আমরা নতুন আইনের প্রস্তুাবনা ও প্রচলিত আইনের সংশোধনের ক্ষমতা কেড়ে নেবো এবং তা প্রেসিডেন্ট এর হাতে তুলে দেব, যিনি আমাদের হাতের ক্রিড়নক মাত্র। স্বাভাবিক ভাবেই তখন ঐ প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন সংস্থাগুলি আক্রমনের লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হবে, কিন্তু আমরা তখন ঐ প্রেসিডেন্টকে তাঁর আত্মরক্ষার খাতিওে, জনগনের সামনে একটা আবেদন জানানোর জন্য পরামর্শ দেবো। জনসাধারণের প্রতিনিধিদের মাথা ডিঙ্গিয়ে, জনসাধারনের মতামত চাওয়া - অন্য কথায় বলতে গেলে, আমাদের সেই দাসদেরই মতামত চাওয়া - যারা অনিয়ন্ত্রিত জনতার একটি অংশ। এ ব্যবস্থা ছাড়াও আমরা প্রেসিডেন্টের হাতে জরুরী অবস্থা ঘোষনা করার অধিকার দিয়ে রাখব, আর এই ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য আমরা যুক্তি পেশ করব যে, সমস্ত সেনাাহিনীর প্রধান হিসেবে, প্রজাতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার রক্ষক হিসাবে, এটিকে রক্ষা করার জন্য, প্রেসিডেন্টকে জরুরী অবস্থা মোকাবিলায় যথাযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই হবে। (ইরান ? গ্রানাডা?  কুয়েত? ইরাক? পানামা? বাংলাদেশ!!!)।
১৪। এটা বোঝা অত্যন্ত সহজ যে, এই অবস্থায় আইনের চাবি-কাঠি আমাদের হাতেই থাকবে এবং আমাদের বাইরের কোন ব্যক্তিই আইন প্রনোয়নের ব্যাপারে কোন নির্দেশনা প্রদান করতে পারবে না। 
১৫। এ সমস্ত ছাড়াও, নতুন প্রজাতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু করার সাথে সাথে, আমরা আইন পরিষদ গুলো থেকে গোপনীয়তা রক্ষার ধুয়া তুলে, সরকারের কাজের ব্যাখ্যা চাওয়ার অধিকার, খর্ব করে দেব এবং আরো --- এই শাসন তন্ত্রের দ্বারা আমরা, জনপ্রতিনিধিদের সংখ্যাও কমিয়ে আনব। এতে জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক প্রবনতা ও রাজনীতিতে অংশগ্রহনের ইচ্ছা অনেকাংশে  কমে আসবে। যদিও আশা করা যায়না, তবু যদি জনপ্রতিনিধিরা আমাদের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠে, তখন আমরা জনসাধারণের কাছে সরাসরি আবেদন পেশ কওে, তাদের সেই প্রচেষ্টাকে নিষ্ফল করে দেব । প্রেসিডেন্ট এর ইচ্ছার উপরই নির্ভরশীল হবে, চেম্বার ও আইন পরিষদের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টদের নিয়োগ । এর জন্য পার্লামেন্টের অধিবেশন বসা, আমরা কয়েক মাসের মধ্যেই নির্দিষ্ট করে দেব, বার বার এই একই বিষয় নিয়ে বসতে দেব না । উপরন্তু, সর্বময় নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হিসাবে, প্রেসিডেন্টের হাতেই থাকবে পার্লামেন্ট ডাকার ও বরখাস্ত করে দেওয়ার অধিকার এবং এর শেষের ক্ষেত্রে নতুন পার্লামেন্টের নির্বাচন বিলম্বিত করার অধিকারও প্রেসিডেন্ট কেই দেওয়া হবে। আমাদের এই সব কাজ, যা বাস্তবিক পক্ষে অন্যায় এবং অসঙ্গত, তার অপবাদ থেকে আমাদের মনোনীত প্রেসিডেন্টকে মুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে, আমরা মন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ অফিসারদেরকে স্বেচ্ছা-প্রনোদিত হয়ে আমাদের উদ্দেশ্য-প্রনোদিত প্রস্তাব পেশ করার জন্য প্ররোচিত করব,  যা করে, তারা নিজেরাই নিজেদের কাজের জন্য, বলির পাঁঠা হিসাবে বিবেচিত হবে। এই কাজ আমরা সিনেট, স্টেট-কাউন্সিল এবং মন্ত্রীদের কাউন্সিলকে দিয়ে করাব। কখনই তা ব্যক্তি বিশেষকে দিয়ে করানো হবে না। 
১৬। প্রেসিডেন্ট আমাদের সিদ্ধান্ত অনুসারে, প্রচলিত আইন গুলির বিভিন্ন ব্যাখ্যার মধ্য থেকে, আমাদের জন্য সুবিধা জনক ব্যাখ্যাটি প্রদান করবেন এবং পরবর্তীতে আমাদের ইসারাতেই আবার আগের ব্যাখ্যাটি পাল্টিয়ে ফেলবেন। এ ছাড়াও সাময়িক ভাবে আইন প্রনয়নের ক্ষমতাও তাঁর হাতে থাকবে, আরও থাকবে শাসনতন্ত্রের বিধি-নিষেধ লঙ্ঘন ক’রে কোন কার্যক্রম গ্রহন করার ক্ষমতা। এই ধরনের যে কোন কার্যক্রম রাষ্ট্রের বৃহৎতম কল্যাণের জন্যই গ্রহণ করা হয়েছে - যুক্তি দেখানো হবে। (এফ.ডি.আর এর মত প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি, যার ফলে ডলারের মূল্য মান কমে গিয়েছিল, স্বর্ণ হয়েছিল হাত ছাড়া এবং যা আমেরিকার সরকারকে তার জনগনের বিরুদ্ধে জরুরী অবস্থা ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিত মত অবস্থার সম্মুখীন করে দিয়েছিল)। 
“আমরা ধ্বংস করব সব কিছু”
১৭। এই সমস্ত অবস্থার সৃষ্টি করে আমরা ধীরে ধীরে, একের পর এক, উপরিউক্ত সব কিছু ধ্বংস করার ক্ষমতা অর্জন করব। যখন আমরা আমাদের ক্ষমতায় অধিষ্টিত হব, তখন প্রত্যেকটি রাষ্ট্রের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোকে ভেঙ্গে চুরে ইন্দ্রিয়াতীত ভাবে মিলিয়ে দেব, তখনই সমস্ত রকমের সরকারী সংস্থাকে ভেঙ্গে দিয়ে, আমাদের  স্বৈরাচার কায়েমের সময় আসবে। 
 ১৮। আমাদের স্বেচ্ছাচারী সরকারের স্বীকৃতি, হয়তো শাসনতন্ত্র ধ্বংসের আগেও হতে পারে, যে সময়ে আমরা এমন ব্যবস্থা নেব যে, নিজেদের শাসকদের অনিয়ম ও অযোগ্যতার উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে, জনসাধারণ উত্তেজিত ভাবে দাবী করবে - “এদের সরিয়ে দাও এবং পৃথিবীতে আমাদের জন্য এমন একজন রাজা এনে দাও যিনি আমাদেরকে একত্রিত করবেন, সীমান্তে, দেশের অভ্যন্তরে, ধর্মে, রাষ্ট্রিয় ঋণ এর ক্ষেত্রে - আমাদের বিভেদগুলিকে দূর করে দেবেন, যিনি আমাদের মধ্যে শান্তি ও সমৃদ্ধি এনে দেবেন, যা আমরা আমাদের বর্তমান শাসকদের কাছ থেকে কোন দিনও পাব না। 
১৯। কিন্তু আপনার নিজেরা খুব ভাল ভাবেই জানেন যে, বিশ্বের সব জাতীর জনসাধারণের কাছ থেকে এধরনের দাবী প্রকাশ করার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য প্রত্যেকটি দেশের সরকার ও জনগণের মধ্যে অবিরাম বিবাদ, পরস্পর মতভেদ, ঘৃনা, লড়াই, হিংসা, অত্যাচার, অনাহার, অভাব ও রোগ ব্যাধির ইত্যাদির সাহায্যে অশান্তির সৃষ্টি করে, অ-ইহুদী (গোয়িম) সমাজকে এমনভাবে অস্থিরতায় নিক্ষেপ করতে হবে যে বাধ্য হয়ে তারা আমাদের “অর্থের” সার্বভৌমত্বের অধীনতা গ্রহণ করবে এবং এর পরপরই আমাদের  সর্বময় কর্তৃত্ব স্বীকার করে নেবে। 
২০। কিন্তু, আমরা যদি দুনিয়ার মানুষকে একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার অবকাশ দেই, তাহলে হয়তো, আমাদের সেই বহু আকাঙ্খিত বিজয়ের সময় নাও আসতে পারে ।

প্রটোকল নং ১১
০১। ষ্টেট কাউন্সিল - এটি আগেও যেমন ছিল তেমনি বর্তমান কালেও - কর্তৃপক্ষের নির্দেশ গুলি প্রকাশের একটি উপযুক্ত ক্ষেত্র। এটি আইন প্রনোয়নের একটি লোক দেখানো সংস্থায় পরিণত হবে। একে শাসক এর তৈরী আইনগুলির সম্পাদনা সমিতিও বলা যেতে পারে। 
০২। বর্তমানে, নতুন শাসন তন্ত্রের কার্যসূচী, আমরা এই ভাবে করব যে, আমরা আইন প্রনয়ন, অধিকার ও ন্যায়বিচার রক্ষা করব নিম্নলিখিত বিষয় গুলির মাধ্যমে :-
(ক) আইন প্রনেতাদের কাছে প্রস্তাব করার বাহানায়। 
(খ) সাধারণ আইনের ছদ্মবেশে প্রেসিডেন্টের ডিক্রির দ্বারা এবং মন্ত্রী সভার আদশ এর আবরনে সিনেটের আদেশ ও স্টেট কাউন্সিলের আদেশ সমূহের সাহায্যে।
(গ) সময় ও সুযোগ মত রাষ্ট্র-বিপ্লব সাধনের মাধ্যমে। 
 ৩। আমাদের কর্মপদ্ধতিকে মোটামুটি ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার পর, আমরা আমাদের পরিকল্পনাকে স্বার্থক করে তোলার জন্য, শাসনযন্ত্রের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লবাত্মক পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে বিষদ কর্মসূচী গ্রহন করে, তা আমাদের পরিচলিত অভিষ্ট লক্ষ্যের দিকে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেব। শাসনযন্ত্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে আমি এইকথা বোঝাতে চাইছি যে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সমিতি গঠনের অধিকার, বিবেকের স্বাধীনতা, ভোট দানের রীতি-নীতি, এবং এই ধরনের আরো অনেক বিষয়, নতুন শাসন-তন্ত্র প্রবর্তনের সাথে সাথে মানুষের মন থেকে চিরদিনের জন্য মুছে যাবে অথবা ঐ সব বিষয় আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে । এটিই সেই চরম মূহুর্ত, যখন আমরা এক সঙ্গে আমাদের সকল আদেশ ঘোষনা করে দেব, কারণ এর পর কোন ছোট খাটো উল্লেখ যোগ্য পরিবর্তন নিম্নলিখিত কারণে বিপদজনক হতে পারে - এই পরিবর্তন যদি কঠোরতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করা হয়, তাহলে জনসাধারণের মধ্যে কঠোরতা জনিত নৈরাশ্য দেখা দিতে পারে। অপর পক্ষে, যদি পবির্তনের ব্যাপারে শৈথিল্য দেখানো হয়, সে ক্ষেত্রে মানুষে বলাবলি করবে যে, আমরা নিজেদের অন্যায় বুঝতে পেরে তাদের অধিকার স্বীকৃতি দিয়েছি, এর ফলে, আমাদের কর্তৃত্বের সম্মান নষ্ট হবে, অথবা একথাও বলা হতে পারে যে, আমরা সতর্ক হয়ে গেছি এবং নমনীয় ভাব দেখাতে বাধ্য হয়েছি, যার জন্য আমরা ধন্যবাদতো পাবই না, কেননা এটি আমাদের উপর বাধ্যতামূলক মনে করা হবে। উভয় ব্যাপারই আমাদের নতুন শাসন ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হবে । আমরা যা চাই তা হল এই যে, নতুন শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রথম থেকেই অত্যান্ত কঠোর মনোভাবের পরিচয় দিয়ে জনসাধারণকে ভীত সন্ত্রস্ত করে রাখতে হবে । বিপ্লবের পরপর যখন মানুষ ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবে, তখন তারা আমাদের গৃহীত পদক্ষেপ থেকে, তারা আমাদেরকে চির দিনের মত অত্যান্ত শক্তিশালী, অপ্রতিরোধ্য এবং চরম ক্ষমতার অধিকারী বলে মেনে নিতে বাধ্য হবে, আমরা তাদের কোন কিছুই গ্রাহ্য করব না । তাদের কোন মতামতের ও ইচ্ছার কোন রকম তোয়াক্কাও করব না। যে কোন মুহুর্তে, যে কোন জায়গায়, আমরা তাদের যে কোন রকম বিরোধিতাকে চুরমার করে দিতে সমর্থ ও প্রস্তুত, আর এটাও তারা বুঝবে যে, আমরা যা কিছু চেয়েছি সবই দখল করে নিয়েছি এবং আমরা তাদের সঙ্গে কোন কিছুই ভাগাভাগি করতে রাজি নই । তখন তারা ভয়ে প্রকম্পিত হয়ে, সব কিছু থেকে চোখ বুজবে এবং অপেক্ষা করবে শেষ পর্যন্ত কি তাদের পরিণাম দাঁড়ায়, তা সহ্য করে নেওয়ার জন্য । 
“আমরা নেকড়ে”
০৪। গোটা অ-ইহুদী সমাজ হল এক পাল ভেড়া আর আমরা হচ্ছি নেকড়ে বাঘ এবং আপনারা জানেন যে, ভেড়ার পালের মধ্যে নেকড়ে পৌছে গেলে কি অবস্থা হয় । 
০৫। আরও একটা কারণ আছে, যে কারণে তারা তাদের চোখ বন্ধ করে নেবে, তাহল আমরা তাদের হৃত স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেবার জন্য বার বার প্রতিশ্র“তি দেব - শত্র“দের  দমন ও অন্যান্য বিরুদ্ধ দলকে পোষ মানিয়ে নেবার পর। 
০৬। একথা প্রকাশ করা কখনই জ’রুরী হবে না যে, সেই হৃত স্বাধীনতা তাদের ফিরে পেতে কতকাল অপেক্ষা করতে হবে। 
০৭। তাহলে আর কি উদ্দেশ্য নিয়েই বা আমরা এই সব বিভিন্ন পন্থা আবিষ্কার করেছি আর অ-ইহুদী সমাজ এর মনে কোন অন্তর্নিহিত বিষয়ের চিন্তা ও ভাবনার সুযোগ না দিয়েই, আমাদের সমস্ত কার্যকলাপকে নির্বিবাদে মেনে নেবার প্রবৃত্তি ঢুকিয়ে দিয়েছি। অবশ্য এই জন্যই যে - পরস্পরের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত অবস্থায় আমাদের ইহুদী গোষ্ঠি সরাসরি চেষ্টা করে যা অর্জন করতে পারে না,  তা এই ভাবে, বাঁকা পথেই অধিকার করতে হবে! এইটাই যে আমাদের গুপ্ত ম্যাসনারী’র আসল উদ্দেশ্য তা অপর কারও জানা নাই এবং অ-ইহুদী গরু-গাধারা এর সম্বন্ধে কিছু সন্দেহ ও করে না এবং লোক দেখানো ফ্রি-ম্যাসন-লজ (ঋৎবব গধংড়হ খড়ফমব) গুলির প্রতি আকৃষ্ট হয় যে গুলি, সততঃই তাদের চোখে  ধূলো দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। 
০৮। ঈশ্বর আমাদের অর্থাৎ তাঁর মনোনীত জাতিকে সারা পৃথিবীতে বিক্ষিপ্ত করে দিয়েছেন, এটা সবার চোখে আমাদের দুর্বলতা বলে মনে হয়, কিন্তু আসলে এটাই আমাদের শক্তি এবং আমাদের পৃথিবী শাসন করার সার্বভৌম শক্তি যুগিয়েছে। 
০৯। আমরা যে ভিত্তি রচনা করে নিয়েছি, বর্তমানে এর উপর আর বেশী কিছু করার নেই। 
প্রটোকল -১২
০১। ’স্বাধীনতা’ কথাটির বিভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা দেখা যায়, তবে আমাদের দেওয়া ব্যাখ্যাটা নিম্ন রূপ :- 
০২। স্বাধীনতা হ’ল তাই - আইন যা করার জন্য অনুমতি দেয়। এই ব্যাখ্যাটা সময় মত আমাদের কাজে লাগবে, কারণ এই যে, সব স্বাধীনতাই আমাদের হাতে চলে আসবে, কারণ আইন সে টুকুই রাখবে বা অবলুপ্ত করে দেবে, যেটুকু আমরা উপরোক্ত কর্মপদ্ধতি অনুসারে চাইবো। 
০৩। আমরা “প্রেস” এর সাথে   নিম্নোক্ত ভাবে ব্যবহার করে যাব:-
 বর্তমানে প্রেস (সংবাদ পত্র) এর ভূমিকা কি? এটি সেই প্রকৃতিকে জাগ্রত বা স্তিমিত করতে পারে, যা আমাদের উদ্দেশ্য পূরনের জন্য প্রয়োজনীয়। অথবা এটা অন্য কোন দলের স্বার্থেও কাজ করতে পারে । এটি সাধারণত: নি¯প্রাণ, অন্যায়, মিথ্যা বিবরণ দিতে অভ্যস্ত এবং অধিকাংশ জন-সাধারণের এ সম্বন্ধে কোন ধারনাই নাই যে, আসলে এটি কি উদ্দেশ্য সাধন করে। আমরা একে আইনের শক্ত লাগাম দিয়ে আষ্টে পৃষ্টে বেঁধে ফেলবো। আমরা ছাপাখানার আরো অন্যান্য উৎপাদন সম্পর্কেও একই ব্যবস্থা গ্রহন করব। কারণ বই-পুস্তিকা ইত্যাদির মাধ্যমে, আমাদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনাই যদি থাকল, তাহলে ছাপাখানা নিয়ন্ত্রন করে আমাদের লাভ কি ? প্রচার কার্যের জিনিস পত্র বর্তমান কালে বেশ ব্যয় বহুল ব্যাপার, তাই আমরা এটাকে রাষ্ট্রর জন্য একটা আয়ের উৎস হিসাবে পরিনত করব। আমরা এর উপর বিশেষ কর আরোপের ব্যবস্থা করব এবং জামানত হিসাবে নগদ টাকা জমা রাখার ব্যবস্থাও করব, যাতে আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে কোন কিছু আক্রমনাত্মক ভূমিকা গৃহীত হতে না পারে। আর যদি এর পরও আমাদের উপর কোন আক্রমনের উদ্যোগ হয়, তাহলে আমরা নির্দয় ভাবে জরিমানা আরোপ করব। এই ভাবে বিশেষ কর, জামানতের টাকা, জরিমানা ইত্যাদি বাবদ বিপুল পরিমান অর্থ রাষ্ট্রের আয়ের খাতে জমা হতে থাকবে । এটি সত্য যে, পার্টি মুখপাত্র গুলি প্রচারের কাজে এভাবে প্রচুর খরচ করতে রাজি থাকবে না। সংবাদপত্র গুলির আক্রমন, প্রথম দফায় আমরা মাফ করলেও দ্বিতীয় বারের ক্ষেত্রে আমরা পত্রিকা গুলি বন্ধ করে দেব। আমাদের কার্যক্রমের ভ্রান্তির ব্যাপারে তাই কেউ আঙ্গুল তুলে দেখাতে পারবে না। পত্র-পত্রিকা বন্ধ করার ব্যাপারে আমরা  যুক্তি পেশ করব এই যে, অসময়ে এবং অন্যায়ভাবে এগুলি জনসাধারনের মনকে ক্ষেপিয়ে তুলেছে। আপনারা ভাল করে শূনে রাখুন যে, আমাদের বিরুদ্ধে আক্রমনকারী সংস্থাগুলির মধ্যে ঐ সব পত্রিকা সামিল থাকবে, যারা আমাদের দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত এবং তারা ঐ সমস্ত বিষয়েই আক্রমন করবে যে গুলি পরিবর্তন করতে আমরা ইচ্ছুক থাকব। 
আমরা প্রেস নিয়ন্ত্রন ক’রব।
০৪। আমাদের নিয়ন্ত্রন ছাড়া কোন খবরই জনসাধারণের কাছে পৌছাতে পারবে না । এমন কি আমরা এখনই এই পর্যায়ে পৌছে গে’ছি, কেননা সমস্ত সংবাদগুলি মাত্র কয়েকটি এজেন্সির মাধ্যমেই সংগৃহিত হয়ে থাকে। সারা দুনিয়া থেকে ঐ সমস্ত কয়েকটি অফিসেই সংবাদগুলি জমায়েত করা হয়ে থাকে, ঐ এজেন্সি গুলি সম্পূর্ণ ভাবে আমাদের এবং তারা শুধু মাত্র ঐ গুলিই প্রকাশ করবে, যে গুলো আমরা প্রকাশ করতে বলব। 
০৫। যদি এখনই আমরা গোয়িম (অইহুদী) দের মনে এমন প্রভাব বিস্তার করে থাকি, যাতে তারা পৃথিবীর পরিস্থিতিকে তাদের নাকের ডগায়, আমাদের লাগানো রঙ্গিন চশমা দিয়েই দেখতে বাধ্য হয়, আর এখনই যদি আমরা এমন কোন অ-ইহুদী রাষ্ট্র নেই যার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে অর্থ্যাৎ অ-ইহুদী স্টুপিডরা যাকে রাষ্ট্রিয় গোপনীয়তা বলে থাকে, সে ব্যাপারে জানতে বাধা প্রাপ্ত না হয়ে থাকি, তাহলে যখন আমরা নিজেরাই এই দুনিয়ার একচ্ছত্র অধিপতি বনে যাব, তখন আমাদের আধিপত্য কত জোরদার হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। 
০৬। পূনরায় আমরা “প্রেস” এর বিষয়ে আলোচনায় ফিরে আসতে চাইছি। যারা প্রকাশক, লাইব্রেরিয়ান বা মুদ্রাকর হতে চান তাদের প্রত্যেক কেই আমাদের কাছ থেকে “ডিপ্লোমা” গ্রহণ করতে হবে, তারা কোন দোষ করলেই আমরা ঐ “ডিপ্লোমা” বাতিল করে দেব। এই ব্যবস্থা গ্রহণ করার ফলে, চিন্তা শক্তির কলকব্জা গুলো, আমাদের সরকারের হাতে শিক্ষনীয় বিষয় হিসাবে থাকবে, যার দ্বারা বিভিন্ন জাতীয় জনসাধারণকে, আমাদের দ্বারা উন্নয়নের সুফল সম্পর্কে, আঁকা বাকা পথে চালিত করে পথভ্রষ্ট করতে পারবে না। আমাদের  মধ্যে এমন কেউ কি আছেন, যিনি জানেন না যে, এই সব উন্নয়নের ধারনাগুলি নির্বোধ কল্পনার সরাসরি ব্যাখ্যা, যা মানুষকে এবং শাসক ও শাসিতের সর্ম্পককে নৈরাজ্যের পর্যায়ে পৌঁছে দেয়? কারণ উন্নয়ণ অথবা উন্নয়নের ধারনা, সব রকমের তৎপরতাকে উৎসাহিত করে এবং এর কোন সীমারেখা নেই ..........। সকল তথাকথিত উদার নৈতিকরাই নৈরাজ্যবাদী, বাস্তবে না হলেও চিন্তার ক্ষেত্রে এরা তাই -ই । এরা প্রত্যেকেই স্বাধীনতার ছায়া শরীরের পিছনে ছুটে বেড়ায় এবং এর জন্য তারা যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করার যেন লাইসেন্স প্রাপ্ত, আর সেই লাইসেন্স হচ্ছে প্রতিবাদের খাতিরেই প্রতিবাদ করা । 

স্বাধীন সংবাদ পত্রকে আমরা ধ্বংস করেছি
০৭। এখন আমরা সাময়িক পত্র পত্রিকার বিষয়ে আলোচনা করব। আমরা এর উপরে প্রতি পাতায় ষ্ট্যাম্প-ট্যাক্স, জামানতের টাকা ধার্য্য করব, ত্রিশ পাতার কম হলে, এই “কর” হবে দ্বিগুন। এই গুলিকে আমরা প্রচার পত্র (প্যামপ্লেটস্) হিসাবে বিবেচনা করব, অপর পক্ষে এর দ্বারা ম্যাগাজিন এর সংখ্যাও হ্রাস পাবে, যা কিনা ছাপার অক্ষরে বিষাক্ত জিনিষ। এর দ্বারা একদিকে লেখার পরিমাণও কমবে সুতরাং পড়া শুনাও কম হবে, লেখা দীর্ঘ হলে দাম পড়বে অনেক বেশী। অপর পক্ষে আমরা  আমাদের লাভের উদ্দেশ্যে জন সাধারনের মনে যে সমস্ত চিন্তা ধারার উন্মেষ ঘটাতে চাইবো, সেই বিষয়ের লেখা গুলির দাম পড়বে সস্তা। যে কারণে সকলেই তা পড়বে। ট্যাক্সের দ্বারা আমরা লেখা লেখির প্রবনতাকে একটা নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে রেখে দেব। “কর”ভারে এবং জরিমানা আদায় এর ফলে লেখকরা, অনেকটা আমাদের উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। আর যদি দেখা যায়, আমাদের বিরূদ্ধে কেউ কিছু লিখছে, তাহলে তারা তা প্রকাশ করার জন্য (ছাপার জন্য ) কোন প্রকাশক খুঁজে পাবে না । প্রকাশক ও মুদ্রাকরদের কোন জিনিষ ছাপার আগে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে । এভাবে আমরা আগেই জানতে পারব, আমাদের বিরুদ্ধে কি কি লেখা লেখি হতে যাচ্ছে এবং তার জবাব আগে থেকে তৈরী করে আমরা তাদের সে উদ্যোগকে নস্যাৎ করে দেব ।
০৮। সাহিত্য ও সাংবাদিকতা, এই দুইটিই হল শিক্ষার শক্তিশালী মাধ্যম, তাই আমাদের সরকার অধিকাংশ পত্রিকা গুলির মালিক হয়ে বসবে। এর ফলে ব্যক্তি মালিকানাধীন সংবাদপত্র গুলির ক্ষতিকর প্রভাব কে দুর করা সম্ভব হবে, ফলে জনসাধারনের মনের উপর আমরা অপরিসীম প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবো.........। যদি আমরা দশটি পত্রিকার অনুমতি দেই, সে ক্ষেত্রে আমরা নিজেরাই ৩০(ত্রিশ) টি সংবাদপত্র চালু করব। নতুন প্রকাশনার ক্ষেত্রে এই অনুপাতই চালু থাকবে । কিন্তু জনসাধারণ যেন এই ব্যাপারে ঘুর্নাক্ষরেও কোন সন্দেহ করতে না পারে । এই কারণে আমাদের দ্বারা প্রকাশিত সংবাদ পত্র গুলি, উল্টা প্রকৃতির হবে এবং বাহ্যত এগুলি আমাদের মনোভাবের, চিন্তা ধারার ও মতামতের  বিরুদ্ধে মতামত প্রকাশ করে, জন সাধারনের মনে আমাদের বিষয়ে আস্থা আনতে সাহায্য করবে, যাতে আমাদের উপর সন্দেহপ্রবন ও বিরোধীদেরও ফাঁদে আঁটকে, শক্তিহীন করে দেবে। 
০৯। সংবাদপত্র গুলির প্রথম সারিতে থাকবে সরকারী ধরনের সংবাদপত্র গুলি । এই গুলি সর্বদা আমাদের স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে, তাই এগুলির প্রভাব থাকবে অত্যন্ত কম। 
১০। দ্বিতীয় সারিতে থাকবে, আধা সরকারী গোছের পত্রিকা গুলি, এগুলির লক্ষ্য হবে নির্জীব ও লক্ষ্যহীনদের উপর আক্রমন। 
১১। তৃতীয় সারিতে থাকবে, আমাদের দ্বারা স্থাপিত পত্রিকাগুলো, বাহ্যত এগুলো আমাদের  বিরোধী ভাব দেখাবে, এতে আমাদের প্রকৃত বিরোধীরা এই ছদ্ম বিরোধীতা দেখে, তাদের উপর আস্থা স্থাপন করবে এবং এর ফলে তারা নিজেদের স্বরূপ আমাদের কাছে খুলে দিবে। 
১২। আমাদের সংবাদপত্র গুলো সব রকম রং-ই ধারন করবে, সাম্রজ্যবাদী, রিপাবলিকান, বিপ্লবী, এমনকি নৈরাজ্যবাদীও - ততদিন পর্যন্তই, যতদিন পর্যন্ত কনস্টিটিউশন বজায় থাকে ,...........। ভারতীয় দেবতা বিষ্ণু মত ১০০ হাতওয়ালা, তার হাতের প্রতিটি আঙ্গুল, বিভিন্ন জনমতের যখন-যেমন প্রয়োজন হবে, সেই সুর বাজাতে ব্যস্ত। যখন কোন শিরার গতি বেড়ে যাবে, তখন অন্য হাত গুলি আমাদের উদ্দেশ্যের স্বপক্ষে মতামত গড়ে তোলার জন্য আগিয়ে আসবে । কারণ এক জন  উত্তেজিত রোগী সব শক্তি হারিয়ে ফে’লে এবং অপরের সাহায্য গ্রহন করে । এই বোকার মনে করে যে, তাদের পক্ষের একটি সংবাদ পত্র তাদের মতামতকে পুনরাবৃত্তি করছে,প্রকৃত পক্ষে এরা আমাদের মতামত বা আমাদের অভিষ্ট কোন মতামত ব্যক্ত করছে । এই ভ্রান্ত বিশ্বাসে তারা মনে করে যে, তারা তাদের দলের মুখপত্রের মতামত অনুসরণ করে চলছে । প্রকৃত পক্ষে এরা কিন্তু আমাদের পতাকার পিছনেই আগিয়ে আসছে। 
১৩। আমাদের  সংবাদ পত্র বাহিনীকে এ বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আমাদের বিশেষ ও সুক্ষভাবে  বিষয়টিকে হাতে তুলে নিতে হবে। সংবাদ পত্রের কেন্দ্রীয় বিভাগ শিরোনামে আমরা সাহিত্য ও লেখক সম্মেলনের আয়োজন করব, যেখানে আমাদের এজেন্টরা সকলের অগোচরে, আমাদের আদেশ ও ওই দিনের সাংকেতিক শব্দ গুলি ঘোষনা করে দেবে, এর ফলে আমাদের  মুখপাত্র সংবাদ সংস্থা গুলি আলোচনা ও বিরোধীতার দ্বারা আমাদের সাথে একটা লোক দেখানো যুদ্ধ শুরু করে দেবে এতে সরকারী সংবাদ পত্র গুলি ঐসব অভিযোগের জবাব দেওয়ার মাধ্যমে, আমাদের বক্তব্য ও মতামত অধিকতর স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার সুযোগ পাবে, এভাবে আমাদের  বক্তব্য প্রকাশের যে সুযোগ হবে, তা সরকারী সংবাদ পত্র গুলো কখনওই ঘোষনার মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারতো না। 
১৪। আমাদের উপর এই আক্রমন দ্বারা আমাদের  আরও একটি উদ্দেশ্য সিদ্ধি হবে, তা হ’ল আমাদের প্রজারা (জনগন) বুঝে নেবে যে, আমাদের  মধ্যে পূর্ণ বাক-স্বাধীনতা রয়েছে, এতে তারা আমাদের এজেন্টদেরকে সুযোগ করে দেবে একথা বোঝানোর, যে আমাদের বিরোধীতায় যারা কথা বলতে চায়, তাদের কথা অন্ত:সারশূন্য বুদ্বুদ মাত্র এবং আমাদের  বিরোধীতা করার মত কোন যোগ্যতাই তাদের নেই ।

মিথ্যাই ক্রমাগত ছাপা হবে
১৫। ব্যবস্থাপনার এই সব কলাকৌশল, যা জনসাধারণের চোখে অদৃশ্য, অথচ ভীষণ ভাবে ক্রিয়াশীল, তা জনসাধারনের মন মানসিকতাকে সন্তুষ্ট ক’রে, আমাদের সরকারের স্বপক্ষে নিয়ে আসার জন্য নি:সন্দেহে একটি গাণিতিক পদক্ষেপ। আমাদের  এই ব্যবস্থাপনাকে ধন্যবাদ ! এর দ্বারা আমরা যখন প্রয়োজন তখন জনগনকে রাজনৈতিক ভাবে উসকানী দিয়ে ক্ষেপিয়ে তুলবো, আবার শান্ত করব। তাদেরকে কখনও বিশেষ মত মেনে নিতে রাজি করাবো,আবার কখনও বিভ্রন্তিও সৃষ্টি করব। কখন সত্য ঘটনা মিথ্যা ছাপিয়ে এগুলি কিভাবে নেওয়া হচ্ছে, তা বুঝে, সবসময়ই খুব সাবধানী পদক্ষেপে, আমরা আগিয়ে যাবো। আমরা আমাদের বিরোধীদের উপর সুনিশ্চিতভাবে বিজয় লাভ করব, কারণ উপরোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে, বিরোধী পক্ষ তাদের মতামতকে পূর্ণভাবে ব্যক্ত করার জন্য, সংবাদ পত্রের কোন সহযোগিতা পাবে না । এমনকি এই অবস্থা দাঁড়াবে যে, দুই একটা ভাসা-ভাসা অভিমত ছাড়া, তাদের বিরোধী কথা-বার্তা বলার প্রয়োজনও আমাদের পড়বে না । 
১৬। সংবাদ পত্রের তৃতীয় সারির থেকে আমরা আমাদের উপর এই ভাবে পরীক্ষামূলক ”গুলী” চালাবো। আবার প্রয়োজনে আমাদের আধা সরকারী সংবাদ পত্র গুলির দ্বারা সেই “গুলি”-কে সাফল্য জনক ভাবে প্রতিহত করব। 
১৭। এমনকি এখনও ফ্রান্সের সংবাদ পত্রগুলির বিষয়টিই দেখুন! আমাদের সাংকেতিক শব্দগুলিকে ব্যবহার করে এখনও কিছু পত্র-পত্রিকা ফ্রি-ম্যাসনদের স্বপক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। প্রেস এর সকল বিভাগই পেশাগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে বাধ্য। আমরা যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করি, তাহলে  তারা কোন গোপন সুত্রই প্রকাশ করবে না। কোন একজন সাংবাদিকও এই গোপনীয়তার বিষয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, কেননা কোন লেখককেই লেখা-লিখির জন্য সুযোগ করে দেওয়া হয় না, যদি না তার অতীত জীবনে কোন একটা গোপন “ঘা” থেকে থাকে। সেই কলঙ্ক প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে সাংবাদিক তখন তার গোপন তথ্য ফাঁস করা থেকে বিরত থাকেন । সাংবাদিকের এই গোপন কলঙ্ক যতদিন সীমাবদ্ধ থাকে, ততদিন তার সম্মানও বজায় থাকে, আর দেশবাশী অত্যন্ত আশা উদ্দীপনার সাথে তাকে অনুসরণ করে। 
১৮। আমাদের বিচার বুদ্ধি ও হিসাব-নিকাশ গুলি আরো বিষদভাবে আমরা প্রদেশ গুলির বিষয়ে প্রয়োগ করি। আমাদের অপরিহার্য কার্যক্রম এই যে, আমরা প্রদেশ গুলিতে এমন সব আশা আকাঙ্খা ও অনুভুতি ছড়াবো, সেগুলি নিয়ে আমরা যে কোন  সময়ে রাজধানীর উপর ঝাপিয়ে পড়তে পারি এবং রাজধানীতে একথাই প্রচারনা চালাব যে, এই সব আশা-আকাঙ্খা গুলি ঐ প্রদেশ গুলিরই দাবী। অথচ ঐ সমস্ত  আশা-আকাঙ্খা দাবী-দাবার উৎস হল একটাই, তা হ’ল আমরা। আমাদের দরকার এটুকুই যে, যতদিন না আমরা যথেষ্ট ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে পারি, ততক্ষণ পর্যন্ত রাজধানী যেন প্রদেশগুলির দ্বারা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় থাকে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের এজেন্টদের ব্যবস্থাপনায় সৃষ্টি করা হবে। আমরা এটুকুও চাই যে, সেই মনস্তাত্মিক মুহুর্ত্বে কেন্দ্রগুলি (রাজধানী) যেন কোন একটি বিষয় প্রদেশ গুলিকে  যুক্তি দ্বারা সন্তুষ্ট ক’রে, কোন ঐক্যমতে এগিয়ে যেতে না পারে, অন্তত এই যুক্তিতে যে, প্রদেশগুলিতে জনমতের অগ্রগন্য দাবী অনুসারে এটি করা হচ্ছে। 
১৯। নতুন শাসন ক্ষমতা গ্রহণ ক’রে, পূর্ণ সার্বভৌম ক্ষমতা লাভ  করার  পর্যায়ে, আমরা সংবাদপত্রকে জনগণের অসাধুতার কোন সংবাদ প্রকাশ করতে দেবো না । এটাই প্রয়োজনীয় যে, জনসাধারন যেন মনে করে - নতুন শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে সব অন্যায় অপরাধ যেন একেবারে উঠে গেছে। অপরাধ ও জুলুমের বিষয়গুলি কেবলমাত্র ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সামান্য কয়েক জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং আর কেউই এটি জানবে না। 



প্রটোকল -১৩
০১।  দৈনন্দিন খাবারের প্রয়োজনই ’গইম’ (অ-ইহুদী) সমাজকে চুপচাপ থাকতে ও আমাদের অনুগত দাস হিসাবে থাকতে বাধ্য করেছে।  গইম (অইহুদী) -দের মধ্য  থেকে যাদের আমরা আমাদের সংবাদ পত্রের জন্য এজেন্ট নিয়োগ করব , তারা আমাদের নির্দেশে ঐ সমস্ত বিষয়াদী আলোচনা করবে, যে-গুলো সরাসরি সরকারী সংবাদপত্রে আলোচনা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় । ঐ সমস্ত আলোচনার সুত্র ধ’রে আমরা এমন কতকগুলি সাজানো তথ্য জনসাধারনের সামনে পেশ করব, যার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়ে যাবে এবং তা কেউ রদ করার সাহসও পাবে না। আর জনসাধারনের পক্ষে তা একটা উন্নত ব্যবস্থা গ্রহণ হিসাবেই বিবেচিত হবে । আর সাথে সাথেই সংবাদ- পত্র এই বিষয়টি থেকে জনগণের আকর্ষণ অন্য দিকে ফেরানোর উদ্যোগ নেবে। নতুন প্রশ্ন - আমরা কি জনসাধারনকে শুধুই নতুন বিষয়ের অনুসন্ধান করতে শিক্ষা দিয়ে আসিনি? ঐ সমস্ত নির্বোধ সুযোগ সন্ধানীরা, নতুন নতুন বিষয়ের প্রতি নিজেদের  নিক্ষেপ করবে, অথচ বোকার দল! ঐ সমস্ত আলোচনার ভিতরের আসল উদ্দেশ্য বুঝতে সম্পূর্ণ ভাবে অক্ষম। রাজনৈতিক প্রশ্নাবলীর উদ্দেশ্যও সমাধান খোঁজা তাদের কাজ নয়, এটা শুধু তারাই করতে পারে, যারা এটির স্রষ্টা। 
০২। এ সমস্ত থেকে আপনারা দেখবেন যে, জনগনের মতামত সংগ্রহের অজুহাতে আমরা আমাদের কাজকে আগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছি মাত্র, এবং আপনারা উপলব্ধি করবেন যে, আমরা জনগনের মতামত সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন  সময়ে যা কিছু  প্রচার করে থাকি, সে গুলির বাস্তবায়ন কখনই আমাদের লক্ষ্য নয়, শুধু প্রচারনা চালানোই আমাদের উদ্দেশ্য। অথচ আমরা ক্রমাগত এটাই প্রচার করে চলেছি যে, জনসাধারনের মঙ্গল সাধন করাই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। 

“আমরা শ্রমিকদের প্রতারিত করি”
০৩। রাজনৈতিক প্রশ্ন নিয়ে যে সমস্ত ব্যক্তিরা আমাদের জন্য কষ্টদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, তাদেরকে অন্য পথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যে, বর্তমানে আমরা শিল্প কারখানার বিষয়টি উত্থাপন করছি। এই বিষয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেই আলাপ আলোচনা যথেষ্ট ভাবে চলুক। জনসাধারন রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনা বলতে যা বুঝে, তার থেকে মুক্ত হয়ে কিছু দিন বিশ্রাম নিতে চায় এবং নিস্ক্রিয় হয়ে থাকতে চায় (গোয়িম সরকারের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আমরা তাদের যে ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছি) কেবল মাত্র নতুন নতুন চাকুরী লাভের আশায়। আর এর মধ্য দিয়েই আমরা তাদেরকে সেই অসুধই লিখে দিচ্ছি যা আমাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফলের সহায়ক। আর জনসাধারণ যাতে কিছুই বুঝে উঠতে না পারে যে, আমরা তাদের নিয়ে কি করতে যাচ্ছি, সে উদ্দেশ্যে আমরা তাদের মধ্যে আমোদ-প্রমোদ, খেলা-ধুলা, সময় কাটানো, ভাবাবেগ বৃদ্ধি -  ইত্যাদির উপাদানকে ছড়িয়ে দিচ্ছি। শীঘ্রই আমরা পত্র- পত্রিকা মারফত শিল্প সংস্কৃতির প্রতিযোগিতা, ও খেলা-ধুলার বিভিন্ন রকম প্রতিযোগিতা শুরু করিয়ে দেবো । এই সমস্ত প্রতিযোগিতা শীঘ্রই তাদের মন ও মগজ’কে ঐ সমস্ত বিষয় থেকে সরিয়ে দেবে, যে গুলিতে তারা আমাদের বিরূদ্ধাচরণ করত। আমরা কি- ভাবে এবং কোথায় তাদের ক্ষতি করতে চাই, তা তারা বুঝে উঠতে পারবে না। প্রতিবাদের অভ্যাস হারিয়ে ফেলে, তারা ক্রমশ আমাদের সাথে একই সুরে কথা বলায় অভ্যস্ত হয়ে পড়বে, কারণ তাদের নতনু চিন্তার বিষয় তো আমরাই নির্ধারণ করে দিচ্ছি -এমন এমন লোকদের মারফত নতুন চিন্তাধারা ঢুকিয়ে দিয়ে - যাদেরকে, জনসাধারণের  কখনই এমন সন্দেহ করবে না যে, আমাদের সাথে তাদের কোন যোগাযোগ আছে। 

০৪। উদারনৈতিকদের স্বপ্ন-বিলাসীগণ শেষ খেলা দেখাবেন, যখন আমাদের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। ঐ সময় না  আসা পর্যন্ত, তারা আমাদের পক্ষে সুন্দরভাবে কাজ করে যেতে থাকবেন। অতএব, ঐ সময় পর্যন্ত আমরাও তাদের মগজে নতুন নতুন অলীক ও আপাতদৃষ্টিতে উন্নত অথচ অবাস্তব - চিন্তাধারা প্রবিষ্ট করতে থাকবো। আমরা কি মগজহীন অ-ইহুদীদের মাথায় সাফল্য জনক ভাবে উন্নতির ভ্রান্ত ধারণাকে ঢুকিয়ে দিতে পারিনি? অ-ইহুদীদের একজন লোকও এই কথাটা বুঝতে পারছে না যে “উন্নয়ন” এই  কথাটার মধ্যে বাস্তবিক ভাবে আবিস্কারের কিছুই নেই, আর এই শব্দটির মধ্যেই বা¯তবতা থেকে সরে যাওয়ার একটা ধারনা লুকিয়ে রয়েছে। কেননা সত্য একটাই, সেটা হল যে, উন্নয়নের কোন স্থানই নেই। ’উন্নয়ন’ হল একটা অর্থহীন আইডিয়া মাত্র, যা সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়, এটা আমরা ঈশ্বরের মনোনীত জাতি - যারা এর অভিভাবক, শুধু তাদেরই জানা আছে।                                                                                                                                                                                                                
০৫। যখন আমরা আমাদের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে ফেলব, তখন আমাদের বক্তারা বড় বড় সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবে, যে বিষয় গুলো মানবতা কে উলট পালট করে দিয়েছে, এর উদ্দেশ্য হবে, আমাদের কল্যাণময় শাসনাধীনে সেই সমস্যা গুলির শেষ করা ।
০৬ । তখন কে বিশ্বাস করবে যে, এই সমস্ত জনসাধারনকে একটি মঞ্চে একত্রিত করা হয়েছিল, একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনার অধীনে - যা কেউ কোন দিন শত শত বৎসর পরেও কল্পনা করতে পারবে না? 
প্রটোকল-১৪
০১। যখন আমরা আমাদের রাজ্যে সমাসীন হবো, তখন আমাদের একেশ্বরবাদ ছাড়া অন্য কোন ধর্মের অস্তিত্বও আমরা মেনে নেব না। ঈশ্বরের মনোনীত জাতী হিসাবে - যাঁর সঙ্গে আমাদের ভবিষ্যত বাঁধা, তাই সারা পৃথিবীর ভবিষ্যতও আমাদের সঙ্গে বাঁধা থাকবে। সেই কারণে, আমরা আর অন্য সব রকম ধর্ম বিশ্বাসকেই মুছে দেব। এর ফলে যদি, আজকাল যেমন আমরা দেখি, নাস্তিকতার জন্ম হয়েছে, তবে তা একটা সাময়িক ব্যাপার  হবে মাত্র এবং তা আমাদের ধর্মীয় মতবাদ প্রচারে কোন বাঁধা সৃষ্টি করতে পারবে না, কিন্তু তা একটা সাবধানবানী হিসাবে কাজ করবে মাত্র, ঐ সমস্ত জাতির কাছে, যারা আমাদের প্রচার মনোযোগ সহকারে শুনবে। তারা জানতে পারবে যে, মুসা (আঃ)-এর স্থিতিশীল ও বিষদ বিস্তারিত ধর্ম পদ্ধতির কারণেই আজ পৃথিবীর সমস্ত মানুষ আমাদের অধীনে এসেছে। তখন আমরা এই ধর্মের অতিন্দ্রীয় ক্ষমতার উপর বিশেষ জোর দেব, বলব যে এর উপরেই ধর্মের যাবতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত। এখন প্রতিটি সুযোগেই আমরা প্রবন্ধাদি প্রকাশ করব, যে গুলির মধ্যে আমরা আমাদের ও পূর্ববর্তী শাসন ব্যবস্থার তুলনামূলক বিচার করব। শত শত বৎসরের যে উত্তেজনা বিরাজমান ছিল, তা মূহুর্তে শান্ত হয়ে পড়বে; যদিও এই শান্তি জোর করে আনা হয়েছে, কিন্তু এটি যে বৃহত্তর কল্যাণ বয়ে নিয়ে এসেছে, আমরা সেই দিকটি নির্দিষ্ট করে দেখিয়ে  দেব। অ-ইহুদী সরকার গুলির ভুলত্র“টি, আমরা জনগনের কাছে সবিস্তারে বর্নণা করব। ঐ শাসন আমলের এমন ভয়ঙ্কর চিত্র আমরা তুলে ধরব যে, জনসাধারণ - উত্তেজনাকর স্বাধীনতা যা মানবতাকে দলিত করেছে, যা মানব সমাজের অস্তিত্বকেই ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তার ঐ সময়ের তুলনায়, বর্তমানের দাসত্বকেই শান্তিপূর্ণ বলে মেনে নেবে। অ-ইহুদী সমাজের রাষ্ট্র ব্যবস্থাগুলিকে অকার্যকর করার জন্য, আমরা গোয়িম (অ-ইহুদী) -দের যে ভাবে নিয়োজিত করেছি, তা তাদের এমন ভাবে চরম হতাশায় নিমর্জিত করবে যে, তারা শেষে আমাদের শাসনাধীনে যেকোন কষ্ট সহ্য করতে প্রস্তুত হবে, তবুও তারা আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চাইবে না। 

“আমরা যিশু খৃষ্টকে বাতিল করব”
০২। এর মধ্যে আমরা গইম (অইহুদী) সরকারের আমলের ভুলভ্রান্তি গুলি ফলাও করে প্রকাশ করতে কসুর করব না, এবং তাই এই যে, সরকার গুলো মানবতার কল্যাণ করার পরিবর্তে শুধু তার অকল্যাণ করে এসেছে যুগ যুগ ধরে, কি ভাবে মানব কল্যাণ সাধিত হয় তার সম্বন্ধে প্রকৃত বোধ ও জ্ঞানের অভাবে তারা শুধুমাত্র কাল্পনিক কল্যাণও অবাস্তব স্বপ্ন-বিলাসের পিছনে ছুটে চলেছিল যা কল্যানের বদলে অকল্যাণই ডেকে এনেছিল এবং মানুষের জীবনের সার্বজনীন সম্পর্ককেও নষ্ট করে দিয়ে ছিল, যা ছিল মানব জীবনের মূল ভিত্তি।
০৩। আমাদের নীতির সমস্ত শক্তি ও কৌশল এই বাস্তবতার মধ্যে নিহিত থাকবে যে, আমরা এই গুলিকে পুরাতন, মৃত ও গলিত সমাজ জীবনের সম্পূর্ণ বৈপরীত্য হিসাবে চিত্রিত করে উপস্থাপন করব। 
০৪। আমাদের দার্শনিকরা গইম (অইহুদী) সমাজের বিভিন্ন বিশ্বাসের অসারতা কে সবিস্তারে বর্ণনা করবে। কিন্তু তাদের কেউ কখনই আমাদের প্রকৃত বিশ্বাস নিয়ে কোন আলাপ আলোচনা করবে না, কেননা এর প্রকৃত স্বরূপ সম্বন্ধে আমরা ছাড়া আর কেউই জানবে না - যারা, এর গোপনীয়তার ব্যাপারে কোন দিনও বিশ্বস্ততা হারাবে না। 
০৫। যে সমস্ত দেশ প্রগতিশীল ও আলোকপ্রাপ্ত, সেই সব দেশে আমরা কিছু অর্থহীন নোংরা ও অশ্লীল সাহিত্য সৃষ্টি করেছি। আর আমরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার কিছু পর পর্যন্ত, এ সমস্ত সাহিত্যকে টিকিয়ে রাখবো। কারণ পরবর্তীকালে আমাদের বিদ্বান ব্যক্তিরা যখন বিভিন্ন বক্তৃতা ও পাটি প্রোগ্রামে সুন্দর বক্তব্য পেশ করবেন, তখন এর বৈপরীত্য ঐ সব সাহিত্যের তুলনায় প্রকট হয়ে দেখা দেবে, যা প্রকারান্তরে আমাদের মহাত্বই প্রচার করবে। আমাদের জ্ঞানী ব্যক্তিরা যাঁরা গইম (অ-ইহুদী) দের নেতা হওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, তাঁরা বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতি, স্মারক ও প্রবন্ধ রচনা করবেন, যা আমরা, গইম (অ-ইহুদী) সমাজের মন মানসিকতাকে পরিবর্তন করতে ব্যবহার করবো - সেই জ্ঞান ও ভাবধারার দিকে - যে দিকে পরিবর্তন করার জন্য আমরা নির্ধারণ করে দিয়েছি। 
প্রটোকল-১৫
০১। পরিশেষে যখন সর্বত্র একই দিনে,“ক্যু দাঁতাঁত” এর মাধ্যমে আমরা সমগ্র পৃথিবীর ক্ষমতা দখল করব (আর সম্ভবত এখন থেকে একশত বৎসরও লাগবে না আমাদের সেই দিন আসতে) তার আগেই আমরা লক্ষ্য করব, যেন আমাদের বিরূদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র হতে না পারে । এই ভাবে, আমাদের রাজ্যে সমাসীন হওয়ার উদ্দেশ্যে, আমরা নির্মমভাবে হত্য-যজ্ঞ চালাব তাদের বিরুদ্ধে, যারা আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে (ওয়াকো, র‌্যান্ডি-উইভার, পোট-আর্থার, ওকলাহোমা এর মত)। গোপন সংগঠন, আন্ডার-গ্রাউন্ড সংস্থা, ইত্যাদি ধরনের সংস্থাগুলোর জন্য দেওয়া হবে মৃত্যুদন্ডের ব্যবস্থা । আর তাদের  মধ্যে যাদের বর্তমানে আমরা জানি, যারা আমাদের হয়ে কাজ করছে বা করেছে, সে গুলোকে আমরা ভেঙ্গে দেব এবং ইউরোপ থেকে দূরে নির্বাসিত করে দেব। এই ভাবে আমরা ঐ গইম (অ-ইহুদী)  ম্যাসনদের সাথে ব্যবহার করব, যারা আমাদের সম্বন্ধে অনেক কিছু জানে। এদের মধ্যে কিছু সংখ্যক কে আমরা রেহাই দেব, যারা নির্বাসনের ভয়ে স্তব্ধ থাকবে। আমরা আমাদের কেন্দ্রের আদেশ মোতাবেক আইন জারী করে, ঐ সমস্ত গোপন সংগঠন গুলোকে ইউরোপ  থেকে দূর করে দেব। 
০২। আমাদের সরকারের সিদ্ধান্তই হবে চুড়ান্ত এবং এর বিরুদ্ধে কোন আপীল চলবে না। 
০৩। গইম (অ-ইহুদী)  সমাজের ভিতরে আমরা অমিল ও পরস্পর বিরোধীতার  শিকড় যে ভাবে গভীরে প্রোথিত করে দিয়েছি, ক্ষমতায় আসা’র পর তা থেকে সমাজকে রক্ষার জন্য, কেবলমাত্র কঠোর ও দয়ামায়াহীন শাস্তির ব্যবস্থা করার প্রয়োজন হবে, যেন আমাদের কর্তৃত্বের শক্তি প্রমানিত হয়ে যায়। যারা নির্মমতার শিকার হবে, তা’দের জন্য কোন রকম দয়ামায়া বা ক্ষমা দেখানো যাবে না, ভবিষ্যতের মঙ্গলের জন্য তারা হবে “কুরবানী”। কিছু লোকের জীবন বিসর্জন দিয়ে হলেও ভবিষ্যতে যাতে মঙ্গল হয়, তার চেষ্টা করা প্রত্যেক সরকারের কর্তব্য ও দায়িত্ব এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যও নির্ভরশীল, আর ক্ষমতার এই দীপ্তিবলয় অর্জন করতে হলে, ক্ষমতা এমনই রাজকীয় কঠোরতার সাহায্যে অনড় ভাবে প্রয়োগ করবে হবে, যেন মনে হবে তা কোন অতীন্দ্রিয়, অবর্নণীয়, গুঢ় কারণে, নিতান্তই অনিচ্ছাকৃতভাবে, আল্লাহ্র ইচ্ছায় প্রযুক্ত হচ্ছে।  বর্তমান কাল পর্যন্ত রাশিয়ার শাসন ব্যবস্থা ছিল এই রকমই । এরাই ছিল পৃথিবীতে আমাদের সব চেয়ে বড় শত্র“, অবশ্য পোপতন্ত্র ছাড়া। উদাহরণ স্বরূপ মনে করুন ইতালির কথা, যখন সেখানে রক্তের বন্যা বই ছিল। আর এই রক্তপাত যে করছিল, সেই “সুল্লা”র কেশাগ্রও কেউ স্পর্শ করার সাহস পায়নি, “সুল্লা” তার শক্তির কারণে, যেন দেবত্ব প্রাপ্ত হয়েছিল সে। অকুতোভয়ে ইতালিতে তার ফিরে আসায়, তার চারিদিকে একটা অলঙ্খনীয়  বেষ্টনীর সৃষ্টি হয়ে ছিল। যদি কোন ব্যক্তি তার সাহস ও মানসিক শক্তির সাহায্যে মানুষকে মন্ত্রমুদ্ধ করে ফেলতে পারে, তখন তার দিকে কেউ আঙ্গুলও তুলে না। 

“গোপন সংগঠন সমূহ”
 ০৪। ইতিমধ্যে, যতদিন না আমাদের নিজেদের রাজ্যে ফিরে যাওয়া হয়ে উঠছে ততদিন পৃথিবীর সকল দেশে “ফ্রি ম্যাসন লজ” এর সংখ্যা বৃদ্ধি করতেই থাকবো। আর যারা সমাজের মাথা হিসাবে পরিচিত, সেই সব লোকজনকে এই ”লজ” এর সদস্য করে নিতে থাকব, কেননা এটিই হচ্ছে জনগণের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের জন্য আমাদের সুচতুর ব্যবস্থা। এই সমস্ত ”লজ” গুলোকে আবার একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রন সংস্থার অধীনে আনা হবে, যার খবর শুধু আমাদেরই জানা থাকবে, দুনিয়ার আর কেউ তা জানবে না, এটি আমাদের বিজ্ঞ জ্ঞানীরা নিয়ন্ত্রন করবেন। এই ”লজ” গুলির সদস্যরা হবে একটি পর্দার মত যা নিয়ন্ত্রনকারী মেসনারী-বোর্ডকে লোক চক্ষুর আড়ালে লুকিয়ে রাখবে। ঐ বোর্ড গোপনে থেকে সংকেতবানী ও  কর্মসূচী প্রদান করবে। আমরা এই ”লজ” গুলিতে বিপ্লবী ও উদারনৈতিক উভয় প্রকার লোকদেরই একত্রে গাঁটছড়া বেঁধে দে’ব। সমাজের সব শ্রেণীর লোক থেকে আমরা এর সদস্যদের গ্রহণ করব। অত্যন্ত গোপনীয় রাজনৈতিক পরিকল্পনা গুলোও আমাদের জানা হয়ে যাবে এবং শুরু থেকেই আমাদের বিজ্ঞ পরিচালকদের নিয়ন্ত্রনে এসে যাবে। “লজ” গুলির সদস্যদের মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পুলিশ বাহিনীর লোকজনও থাকবে, কেননা তাদের সহযোগিতা আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজন। তারা নিজেদের ক্ষমতায় একদিকে যেমন অধীনস্থদের দমন করবে, অপর দিকে তেমনি আমাদের যাবতীয় কাজকে পর্দা দিয়ে ঁেঢকে রেখে গণ- অসন্তোষ এর হাত থেকে রক্ষা করবে। ইত্যাদি। 
০৫। যে সমস্ত লোক জন সাধারণত আমাদের গোপন সংস্থাগুলির সদস্য হতে চায় তারা হ’লো, যারা নিজেদের বুদ্ধির সাহায্যে জীবিকা নির্বাহ করে (বুদ্ধিজীবি), নিজেদের কেরিয়ার গড়ে তুলতে সচেষ্ট ও অধিকাংশ হালকা মনের অধিকারী ব্যক্তিরা (আঁতেল) যাদের দিয়ে আমরা যে ধরনের সমাজ-যন্ত্র স্থাপন করছি তা চালাতে কোন ধরনের অসুবিধা হবে না । যদি এই পৃথিবী অশান্ত হয়ে উঠে তাহলে বুঝতে হবে যে, পৃথিবীর নিরবচ্ছিন্ন শান্তি ভঙ্গ করার জন্য এধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি আমরাই করেছি। যদি পৃথিবীর মাঝে কোন একটি চক্রান্তের জন্ম নিয়ে থাকে, তাহলে ধরে নিতে হবে যে এই চক্রান্তের মাথায় রয়েছে আমাদেরই অতি-বিশ্বস্থ একজন গোলাম। কাজেই অত্যন্ত স্বাভাবিক এ’টাই যে সমস্ত ম্যাসনারী কার্যকলাপের আমরাই নেতৃত্ব দেব। কেননা একমাত্র আমাদেরই জানা আছে কোন দিকে আমরা সমাজকে পরিচালিত করব। প্রতিটি আন্দোলন কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, তার লক্ষ্যস্থল শুধু আমাদেরই জানা। অন্যদিকে    অ-ইহুদী সমাজ এর কিছুই জানে না । এমনকি কোন একটি কার্যক্রমের পরবর্তী পরিনতি কি তাও তাদের জানা নেই। তারা শুধু নিজ মতামতের আত্মতৃপ্তি জনিত তাৎক্ষনিক হিসাবকে সামনে রেখে, তাদের নিজস্ব চিন্তার সাহায্যে আগিয়ে যায়, কিন্তু জানেনা যে তাদের সেই চিন্তা ধারা আমাদেরই প্ররোচনায় তাদের মনে সৃষ্টি করা হয়েছে। 
“অ-ইহুদীরা হল স্পুপিড”(বোকা)”
 ০৬। অইহুদী সম্প্রদায় আমাদের “লজ” গুলোতে আসে কৌতুহলের বশবর্তী হয়ে অথবা জনগনের পিঠায় ঠোকর বসিয়ে কিছু খেয়ে নিতে, আবার কেউ কেউ তাদের উদ্ভট ও কাল্পনিক পরিকল্পনার কথা শোনানোর জন্য পাবলিক স্টেজ পাওয়ার আশায়। তা’দের আকাঙ্খা হল জীবনে সাফল্য ও সুনাম অর্জন, আর তা দেবার জন্য আমরা রীতিমত মুক্ত হস্ত। আর এই কারণেই আমরা তাদেরকে ঐ সাফল্য টুকু দান করে থাকি কারণ আমরা তাদের অহংকারবোধকে আমাদের স্বার্থে নিয়োজিত করতে পারব বলে। ফলে তারা তাদের নিজেদের অজ্ঞাতে এমন সব বক্তব্য ও বক্তৃতা পেশ করতে থাকে, যা আমাদের প্রস্তাব গুলোর সাথে একান্তই সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা যেহেতু তাদের যুক্তি সঠিক হওয়া সম্বন্ধে দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী, তাই আমাদের প্রস্তাব গুলোর ব্যাপারে কোন রকম সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন মনে করে না। আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না যে, কত সহজেই অ-ইহুদী সমাজের সবচেয়ে জ্ঞানী লোকটিকেও তার নিজের অজ্ঞাতে তার আত্মগর্বের কারণেই এক অকপট সরলতায় আনা স¤ভব হয় এবং ঐ একই কারণে তার সামান্য ব্যর্থতার ফলে কিভাবে সে হত্যোদ্যম হয়ে যায়, অথচ হয়তো সেটা তার ব্যর্থতা নয়, শুধু তার বাহবা পাওয়ার ক্ষেত্রটি কিছূটা সঙ্কুচিত হয় মাত্র, আর সে টুকু ফিরে পাওয়ার জন্য যে কি পরিমাণ দাসত্বের মনোভাব নিয়ে আমাদের অনুগত হয় ! আমরা যেমন আমাদের পরিকল্পনাকে স্বার্থক রূপ দেওয়ার জন্য অন্যান্য স্বার্থকে পরিত্যাগ করতে পারি, অ-ইহুদীরা তেমনি তাদের পাথিব সাফল্যের জন্য, নিজেদের যে কোন পরিকল্পনাও সহজে ত্যাগ করতে প্রস্তুত। পার্থিব সম্পদের জন্য অ-ইহুদীদের এই মানসিক অবস্থার কারণেই আমরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে এদের, আমাদের  প্রয়োজন মাফিক যে দিকে ইচ্ছা সেদিকে পরিচালনা করতে পারি। এরা দেখতে বাঘের মত কিন্তু এদের অন্তর মেষের আর এদের মস্তিস্ক এতই ফাঁকা যে, এর মধ্য দিয়ে বাতাস সহজেই এদিক থেকে ও দিকে যেতে পারে। আমরা তাদেরকে একটা সখের ঘোড়ার উপর চড়িয়ে দিয়েছি, তাহ’ল ব্যক্তিগত চিন্তা বাদ দিয়ে সমষ্টিগত স্বার্থের কথা চিন্তার ধারনা। তারা এখন বুঝতে পারেনি আর কোন দিনও পারবেও না যে, এই খেয়ালী চিন্তাটি প্রয়োজনীয় একটি প্রাকৃতিক নিয়োমের বিরোধী, যা দুনিয়া সৃষ্টির শুরু থেকেই চলে আসছে তা হল প্রতিটি সৃষ্টিই এক একটি একক সত্ত্বা এবং তাদের প্রত্যেকের স্বাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্যই তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। 
০৭। আমরা অ-ইহুদীদেরকে তাদের অজ্ঞতার কারণে এই ভাবে একটি অন্ধকার গহ্বর এর সামনে নিয়ে এসে থাকি, তাতেই কি প্রমান হয় না, যে তারা মানসিকভাবে কতটা অপরিনত বুদ্ধির? আর এটিই হল আমাদের সাফল্যের গোড়ার কথা। 
“অ-ইহুদীরা গরু-গাধার মত”
০৮। আমাদের বিজ্ঞ প্রবীনরা কত বিচক্ষনতার সাথেই না অতীতে বলেছিলেন যে, প্রয়োজনীয় লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য যারা আমাদের “বলী"তে পরিণত হবে, আমরা কোন দিনই তাদের সংখ্যা গননা করব না। অইহুদী এই সব গরু-গাধাদের কতজন যে শিকারে পরিনত হয়েছে, তাদের সংখ্যা আমরা গুনে দেখিনি, আমাদের নিজেদের লোকজনও বেশ কিছু এই উদ্দেশ্যে আমরা হারিয়েছি, কিন্তু তার জন্য আমরা পৃথিবীতে তাদের যে সম্মান দিয়েছি, সেটুকু তারা কোন দিনই স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারত না । খুব কম সংখ্যাক লোকই আমাদের মধ্য থেকে এই ভাবে মৃত্যুর শিকার হয়েছে, কিন্তু তাদের মৃত্যু আমাদের গোটা সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে। 
০৯। মৃত্যুই সকলের স্বাভাবিক পরিণতি। আর যারা আমাদের কাজে বাঁধার সৃষ্টি করে,  আমরা তাদের এই স্বাভাবিক পরিণতির দিকে দ্রুত পৌছিয়ে দেব। আমরা ম্যাসনদের এমন কায়দায় মৃত্যুদন্ড দিই যে, আমাদের ভ্রাতৃ সঙ্ঘের সদস্য ছাড়া অপর কেউই এ বিষয়ে কোন সন্দেহ পোষন করতে পারবে না, এমন কি মৃত্যু দন্ড প্রাপ্তরাও নয়। যখন প্রয়োজন তখন যেন অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবে  অসুখ বিসুখের কারণেই তাদের মৃত্যু হবে। আর এটি জানা আছে, এই কারণেই ভ্রাতৃ সংঘের লোকজনও এই ব্যাপারে কোন প্রতিবাদ করার সাহস পর্যন্ত পায়না। এই পদ্ধতির সাহায্যে আমরা ম্যাসনদের মধ্য থেকে প্রতিবাদ করার শক্তিকেও ছিনিয়ে নিয়েছি। সে কারণে তারা আমাদের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে কোন রকম প্রতিবাদ করতে পারেনা । একদিকে যখন আমরা অইহুদী সমাজের কাছে উদারনৈতিকার বাণী প্রচার করি, এই সময়ে আমরা আমাদের নিজস্ব লোক ও এজেন্টদের’কে প্রশ্নাতীত আনুগত্যে থাকতে বাধ্য ক’রি। 
১০। আমাদের প্রভাবের ফলে অ-ইহুদী সমাজে আইনের প্রয়োগ একবারেই কমে এসেছে। উদারনৈতিক ব্যাখ্যা দেওয়ার ফলে, আইনের মর্যাদাকে যথাসম্ভব খাটো করে ফেলা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক বিষয় গুলির ব্যাপারে বিচারকরা যে রায় দিয়ে থাকেন, তা আমাদেরই নির্দেশ মোতাবেক দেওয়া হয়ে থাকে। আর অন্যান্য বিষয়গুলিতে তারা আমাদেরই দৃষ্টিভঙ্গি মোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আমরা অবশ্যই এ কাজ গুলি আমাদের ক্রীড়নকদের মাধ্যমে করিয়ে নিয়ে থাকি,  যদিও তাদের সঙ্গে আমাদের কোন দৃশ্যমান যোগসুত্র নেই... তবুও খবরের কাগজের মতামত বা অন্যান্য উপায়ে...এমন কি সিনেটর ও উচ্চ মহলের শাসকরাও আমাদের পরামর্শ গ্রহণ করে থাকেন। অ-ইহুদীদের পশু-মন কোন কিছুরই বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষন করতে সম্পূর্ণ অপারগ এবং কোন কিছুর পরিণতি যে কি হতে পারে, সে সম্বন্ধে কোন ধারণাই তাদের নেই। 
১১। চিন্তা শক্তিতে গইমদের সাথে আমাদের এই পার্থক্য, এটাই প্রমাণ করে যে, আমরা ঈশ্বরের মনোনীত ও অনেক উঁচু গুনাবলীর অধিকারী আর অ-ইহুদীরা পশু সাদৃশ্য। তাদের চোখ খোলা, কিন্তু তাদের সামনে তারা কিছুই দেখে না, কোন জিনিষের রহস্যও ভেদ করতে পারে না (অবশ্য হয়তো, কোন বস্তুর রহস্য ছাড়া)। এর থেকে এটাই প্রমানিত হয় যে, প্রকৃতিই আমাদের সৃষ্টি করেছে বিশ্ব পরিচারনা ও শাসনের জন্য । 

“আমরা অ’ধীনতা দাবী করি”
১২। যখন আমাদের প্রকাশ্য শাসন ব্যবস্থা কায়েম হয়ে যাবে এবং এর সুফল প্রকাশিত হওয়ার সময় আসবে তখন আমরা সমস্ত আইন নতুন ভাবে জারী করব। আমাদের আইন গুলি হবে সংক্ষিপ্ত, সরল ও স্থিতিশীল এবং এ গুলো’র কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন হবে না, এগুলি এমন হবে যে, যা’তে, যে কোন লোকই সে গুলি সম্পূর্ন ভাবে জানতে-বুঝতে পারে। সব আইন গুলির মধ্যে একটি বিশেষ জিনিষ থাকবে তা হ’লো আমাদের হুকুমের কাছে বশ্যতা স্বীকার করা । আর এই মূলনীতিটি কেই আমরা চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌছে দেব ফলে এর অপব্যবহার বা অবাধ্যতা, নীচের পদ সমূহ থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সকল স্তরেই সম্পূর্ণ ভাবে দূরীভূত হয়ে যাবে। ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের আমরা দৃষ্টান্ত মূলক এমন কঠোর শাস্তি দেব যে, কেউ তার নিজের ক্ষমতা নিয়ে পরীক্ষা মূলক ভাবেও আর অপব্যবহার করতে সাহস করবে না। আমরা শাসকদের কর্মের উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখব যার দ্বারা রাষ্ট্র সুন্দর ভাবে চলতে পারে, কেননা এখানে শিথিলতা অন্যান্য সব ক্ষেত্রে শিথিলতার জন্ম দিতে পারে। অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কোন ঘটনাই দৃষ্টান্ত মূলক কঠিন সাজা না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না । 
১৩। অপরাধ গোপন করা, শাসন কার্যে নিয়োজিতদের মধ্যে পরস্পর গোপন যোগা যোগ রাখা ইত্যাদি অপরাধ প্রবনতা, দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি প্রয়োগের প্রথম চোটেই দূরীভূত হয়ে যাবে। আমাদের শাসন ব্যবস্থার পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য সামান্য তম অপরাধেরও কঠোরতম সাজা দেওয়া অত্যন্ত জরুরী। যদিও তাদের শাস্তি তাদের অপরাধের তুলনায় বেশী হবে, তবওু ভুক্তভোগীরা এই শাস্তি, সৈনিক-সুলভ মনোভাব নিয়ে, শাসন ব্যবস্থার স্বার্থে, নিজেদের পতনকে মেনে নেবে। এর থেকে শিক্ষা এই হবে যে, নৈতিকতা ও আইন কখনই শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিতদের ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের সুযোগ দেয় না । উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, আমাদের বিচারকদের অবশ্যই একথা জানা থাকতে হবে যে, বোকার মত উদাহরণ দেখিয়ে তারা যদি তাদের সম্মান বৃদ্ধি করতে চান, তাহলে তাঁরা বিচারের মূলনীতি লঙ্ঘন করবেন, যার উদ্দেশ্যই হচ্ছে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিয়ে অধ:পতিত মানুষের নৈতিক মান-উন্নয়ন। বিচারকের আত্মীক গুনাবলী প্রদর্শনের ক্ষেত্র এটি নয়। ব্যক্তিগত জীবনে ঐসব গুনাবলী থাকা ভালো, কিন্তু পাবলিক ময়দানে তা প্রদর্শনের জিনিষ নয়, যেখান থেকে মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। 
১৪। আমাদের আইন বিভাগের কর্মকর্তাগণ কখনই ৫৫ বৎসরের বেশী চাকুরী করবেন না। প্রথমত: এই কারণে যে, বুড়ো লোকেরা তাদের মতামতের ব্যাপারে বেশী একগুয়েঁ যে হয়ে থাকেন, আর নতুন কোন নির্দেশনা গ্রহন ক’রে নিতে তাঁরা অপারগ।। দ্বিতীয়ত: এর ফলে কর্মকর্তাদের আরো দ্রুত পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে,সেক্ষেত্রে তাঁরা আমাদের চাপের কাছে বেশী নত থাকবেন। যিনি তাঁর চেয়ার ঠিক রাখতে ইচ্ছুক তাঁকে অবশ্যই অন্ধভাবে আমাদের আনুগত্য করতে হবে। সাধারণ ভাবে বলতে গেলে এই বলতে হয় যে, আমরা বিচারকদের মনোনয়ন দেওয়ার সময়ে তাদেরই দেব, যাঁরা বুঝেন যে, তাদের দায়িত্ব হবে আইনের প্রয়োগ ও শাস্তি প্রদান এবং তা কখনই বর্তমানের    অ-ইহুদী সমাজে প্রচলিত, সরকারী খরচে উদারতা প্রদর্শণ এর জন্য নয়। সরকারী কর্মচারীদের আমরা প্রায়ই স্থান পরিবর্তন বা বদলী করাবো, যাতে তাদের মধ্যে যাঁরা একই ধরনের চাকুরী করেন তাদের মধ্যে কোন ঐক্য গড়ে না উঠে এবং সরকারের স্বার্থে যেন তারা ব্যবহৃত হতে পারেন, যার উপর তাঁদের স্বার্থও একান্তভাবে নির্ভরশীল। নবীন বিচারকদের আরোও একটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যে, আইনের প্রয়োগের ফলে যেন কোন ভাবেই আমাদের  প্রতিষ্ঠিত সমাজের মূল লক্ষ্য বিঘিœত না হয়।
১৫। বর্তমান সময়ে অ-ইহুদী সমাজের বিচারকরা, তাঁদের অফিসের গুরুত্ব না বুঝে, সব ধরনের অপরাধকে প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। এর কারণ এই যে, বর্তমান শাসক শ্রেণী বিচাকরদের নিয়োগের সময়ে তাদের মনের মধ্যে কর্তব্যবোধ ও দায়িত্ববোধ প্রবিষ্ট করে দেয় না, যা তাঁদের মধ্যে থাকা একান্তই জরুরী। এক হিংস্র পশু যেমন তার বাচ্চাদেরকে শিকারের জন্য ছেড়ে দেয়, অ-ইহুদীরাও ঐ সমস্ত দায়িত্বপূর্ণ পদ যাদের হাতে ছেড়ে দেয়, তাঁদের অবস্থাও যেন ঐ রকম। তারা নিয়োগপ্রাপ্তদের বুঝিয়ে দেয় না, এ দায়িত্ব তাঁদের উপর দেওয়ার উদ্দেশ্য কি। এই কারণেই অ-ইহুদীদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা তাদের নিজেদের লোক দ্বারাই- নিজেদের শাসন ব্যবস্থাতেই, ধ্বংস প্রাপ্ত হতে চলেছে। 
১৬। এই সমস্ত বিষয়ের অভিজ্ঞতা থেকে, আমাদের সরকারের জন্য শিক্ষনীয় বিষয় গ্রহণ করা উচিৎ।
১৭। আমাদের সরকারে যে সমস্ত বিশিষ্ট কর্মকর্তারা অধস্তন কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্য করে তোলেন, তাদের ভিতর থেকে উদারনৈতিকতা সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলতে হবে। কেবল মাত্র তাঁদেরই এই সমস্ত গুরুত্ব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে যাঁরা শাসন ক্ষমতা পরিচালনা করার জন্য আমাদের দ্বারা বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হবেন। বয়স্ক কর্মচারীদের অবসর দানের সময়ে বেশ একটু আর্থিক খরচের সম্মুখীন হতে হবে, এই আপত্তির ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে, যে চাকুরী হারালো তার পরিবর্তে তাঁদেরকে কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে, আর দ্বিতীয়ত: আমি বলবো যে, পৃথিবীর সমস্ত অর্থই তো আমাদের হাতে পুঞ্জিভূত হবে, সেক্ষেত্রে আমাদের সরকারকে কোন সময়েই খরচের জন্য কোন দু:চিন্তা করতে হবে না। 
আমরা হ’বো অতিমাত্রায় ক্রুর প্রকৃতির
১৮। আমাদের  একচ্ছত্র এ শাসন ক্ষমতা, সমস্ত বিষয়ে একান্ত যুক্তিসঙ্গত ভাবেই কঠোর থেকে কঠোরতর হয়ে উঠবে এবং প্রতি ক্ষেত্রেই আমাদের চুড়ান্ত ইচ্ছা সম্মানিত ও বিনা বাধায় প্রতিপালিত হবে। আমাদের এই সর্বাত্মক ক্ষমতা, সব রকম কথা বার্তা ও     অসন্তষ্টিকে অগ্রাহ্য করে এগিয়ে যাবে এবং সামান্যতম বিরোধিতার প্রচেষ্টাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে সমূলে বিনষ্ট করে দেবে। 
১৯। আমরা আপীলের অধিকার বিলুপ্ত করে দেব, এটি কেবলমাত্র আমাদের হাতেই থাকবে - যিনি শাসন কর্তা একমাত্র তিনিই এটি আমলে নিতে পারবেন।  আমরা কখনই জনগনের মধ্যে এই ধরনের চিন্তাধারাকে প্রশ্রয় দেব না যে, এমন কোন বিষয় কখনও ঘটতে পারে, যা আমাদের নিযুক্ত বিচারকদের সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকারের মধ্যে নাই। আর যদি এমন কোন ব্যাপার ঘ’টেই থাকে, তাহলে আমরা নিজেরাই সেই সিদ্ধান্তকে মিটিয়ে দেব, এবং ঐ বিচারকের উপর তাঁর বোধশক্তিহীনতা ও তাঁর প্রয়োগের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে অজ্ঞতার কারনে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যার ফলে ঐ রকম ঘটনা আর কখনই ঘটবেনা । আমি পুনরায় বলছি - এটি আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমাদের শাসন ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপই আমাদের জানা থাকবে, যা খুবই নিকট থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ সবই করা হবে জনসাধারণ যাতে আমাদের উপর সন্তুষ্ট থাকে। কারণ একটি ভাল সরকারের কাছ থেকেই ভাল কর্মচারীদের আশা করা যেতে পারে । 
২০। আমাদের সরকারের প্রকৃতি হবে আমাদের শাসনকর্তার তরফ থেকে বংশের প্রবীন ব্যক্তির মত অভিভাবক-সূলভ। আমাদের স্ব-জাতীয় (ইহুদীরা) এবং প্রজারা (অ-ইহুদীরা) আমাদের  শাসনের মধ্যে একটা পিতৃ-সুলভ রক্ষনাবেক্ষনের ভাব দেখতে পাবে। তাদের প্রতিটি কাজ, প্রজা হিসাবে তা’দের একজনের সঙ্গে অপরের পারস্পারিক সম্পর্ক ও শাসকবর্গের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক, সব ব্যাপারেই এই অভিভাবকত্ব প্রকাশ পাবে। এতে তারা পরিস্কার ভাবে বুঝতে পারবে যে, সুখ শান্তি ও শৃঙ্খলার সাথে জীবন যাপন করতে হলে, এই অভিভাবক রুপী শাসক এর অভিভাবকত্ব মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। এভাবেই তারা  আমাদের স্বেচ্ছাচারী শাসকের শাসনকে একাগ্রতা ও শ্রদ্ধা সহকারে মেনে নেবে, বিশেষ ভাবে যখন তারা দেখবে যে আমাদের  নিয়োগকৃত অন্যান্য ব্যক্তিরা নিজেদের ইচ্ছামত শাসনকার্য করে না, বরং ঐ স্বেচ্ছাচারী শাসকের আদেশ নিষেধ যথাযথভাবে পালন করে, তখন তারা আর অবাধ্য হওয়ার চিন্তাও করবে না । শাসিতেরা তখন বরং এই কারণেই আরও আনšিদত হবে যে, আমরা অভিভাবক ও পিতা-মাতার মত তাদের সমস্ত ক্রিয়া-কলাপ কে দেখাশুনা করছি । পিতা-মাতা সব রকমের যতœ নেয় বলেই, সন্তানের কাছ থেকে আনুগত্য ও কর্তব্যনিষ্ঠা আশা করে । একই ভাবে, আমাদের শাসকরাও প্রজাদের কাছে সঙ্গত কারণেই আনুগত্য ও কর্তব্য- নিষ্টা পালনের দাবী করবে। এটা এই কারণে যে, রাষ্ট্র পরিচালনার গোপন রহস্য সম্পর্কে পৃথিবীর অন্যান্য জাতি সমূহ আমাদের তুলনায় নিতান্তই অল্প বয়স্ক শিশু মাত্র। আর তাদের সরকার গুলিও তাই। 
২১। আপনার দেখছেন, আমি দেখালাম যে, আমাদের স্বৈরাচার এর ভিত্তি হচ্ছে অধিকার ও কর্তব্য পালন। একটি সরকারের দায়িত্ব ও অধিকার হচ্ছে - প্রত্যেককে তার কর্তব্য পালনে বাধ্য করা আর আমাদের সরকার হচ্ছে প্রজাদের জন্য পিতৃ সুলভ। সরকারের অধিকার আছে মানব সমাজকে তার স্বাভাবিক নির্ধরিত স্থান অর্থাৎ বশ্যতা ও আনুগত্য স্বীকার করার পর্যায়ে পৌঁছানো। দুনিয়াতে প্রত্যেকটি জিনিষই আনুগত্যের মধ্যে অবস্থান করছে, মানুষের কাছে না হলেও পরিস্থিতির কাছে, অথবা এর আভ্যন্তরীন প্রকৃতির কাছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই যা অধিক শক্তিশালী তার কাছে। তাই মঙ্গলের স্বার্থে আমরা কঠোর প্রবলের ভূমিকা গ্রহণ করব। 
২২। যে সব ব্যক্তিরা আমাদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা ভঙ্গ করার চেষ্টা করবে, আমরা তাদের নিদ্বিধায় কুরবানী ক’রে ধন্য হব, কেন না দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মধ্যে শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।
২৩। যে দিন ইস্রাইলের রাষ্ট্র-প্রধান ইউরোপের দেওয়া রাজমুকুট তার পবিত্র মাথায় পরিধান করবেন, তখন থেকে তিনি সারা দুনিয়ার বাদশাহ্ এর স্থান লাভ করবেন। অনিবার্যভাবে এবং তাঁর প্রয়োজনে যারা কুরবানী হতে বাধ্য হবে, তাদের সংখ্যা, শতশত বৎসরের অ-ইহুদী জাতি গুলির অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে নিহিতদের সংখ্যা থেকে কখনই বেশী হবে না। 
২৪। আমাদের বাদশাহ্, জনগনের সঙ্গে সার্বক্ষনিক যোগযোগ রাখবেন, তিনি যে সমস্ত বানী দান করবেন, সেগুলির সুখ্যাতি সঙ্গে সঙ্গেই সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে। 

প্রটোকল-১৬
০১। একমাত্র আমাদের শক্তি ছাড়া, বিশ্বের আর সমস্ত সমষ্টিগত শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য প্রথমেই আমরা সমষ্টির প্রাণকেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় গুলিকে এক নূতন ধরনের শিক্ষা পদ্ধতির সাহায্যে খোজায় পরিণত (নিক্রিয়) করে দেব। তাদের কর্মচারী ও অধ্যাপকরা একটা বিস্তারিত কর্মসূচী অনুযায়ী নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য তৈরী হবেন এবং কখনও একচুল এদিক ওদিক বিচ্যুত হবেন না। বিশেষ সতর্কতার সাথে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তাঁরা হবেন সরকারের উপর একান্তভাবে নির্ভরশীল। 
০২। আমরা পাঠ্যতালিকা থেকে রাষ্ট্রের আইন ও রাজনীতি বিষয়ক প্রশ্নগুলোকে বাদ দিয়ে দেব। এ বিষয়গুলি কেবলমাত্র কয়েক ডজন ছাত্র - যারা বিশেষ গুনের অধিকারী এবং অনেক ভর্তি-ইচ্ছুকদের মধ্য থেকে বাছাই করে নেওয়া হয়েছে, তাদেরই শিখানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে শাসনতন্ত্র সম্পর্কীত বানোয়াট প্লান পাঠানো বন্ধ করে দিতে হবে, এগুলো কোন মিলান্তক বা বিয়োগান্তক নাটক নয় যে, শাসন তন্ত্রের ব্যাপারে তাদের এই ভাবে আগ্রহ প্রকাশ করতে দেওয়া হবে, কারণ আজ এই সমস্ত বড় বিষয়ে তারা চিন্তা করতে চায়, অথচ তাদের বাবাদের কোনদিনই এধরনের কোন চিন্তা শক্তি ছিল না। 
 ০৩। অ-ইহুদীদের বিশ্বব্যাপি শিক্ষা ব্যবস্থা আলোচনা করলে আপনারা নিজেরাই দেখতে পা’বেন যে, রাজনীতির ব্যাপারে ভ্রান্ত ধারনায় পরিচালিত এক বিপুল সংখ্যক জনগন, অবাস্তব কল্পনা-বিলাসী ও অবাঞ্চিত নাগরিক সৃষ্টি করে মাত্র। আমরা তাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন কতকগুলি নিয়মনীতি প্রবিষ্ট করে দেব যা তাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙ্গে দেবে । কিন্তু আমরা যখন ক্ষমতায় আসব তখন পাঠ্য বিষয় থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী সমস্ত বিষয় কে বাদ দিয়ে দেব এবং যুবসমাজকে শাসকবর্গের অনুগত সন্তানে পরিণত করব, যারা শান্তি ও শৃঙ্খলার আলোয় তাদের ভালবাসবে ও সমর্থন করবে। 


“আমরা ইতিহাসকে পরিবর্তীত ক’রব”
০৪। প্রাচীন গ্রীক ও রোমান সাহিত্য আর পুরাতন ইতিহাস পড়ার মধ্যে, ভালোর তুলনায় মন্দটাই বেশী। আমরা এর বদলে ভবিষ্যতের কর্মসূচী পাঠের ব্যবস্থা করব। আমাদের  কাছে যা অপ্রয়োজনীয়, অতীতের সেই সমস্ত ঘটনাবলী আমরা মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে দেবো। শুধু মাত্র অ-ইহুদী (গইম) শাসন আমলের ভুল-ভ্রান্তির চিত্র গুলোকে আমরা রেখে দেব। বাস্তব জীবন সম্পর্কে শিক্ষা, প্রচলিত নিয়মের প্রতি দায়িত্ববোধ, মানুষের একের সঙ্গে অন্যের সম্পর্কের বিষয়াদি, খারাপ ও  স্বার্থপর উদাহরণাদি বাদ দেওয়া, যা কিছু খারাপ জিনিষকে ছড়ায় তা বর্জন - এই ধরনের শিক্ষনীয় বিষয় গুলি আমাদের শিক্ষা প্রোগ্রামের সম্মুখ সারিতে থাকবে, ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষার্থীর মান ও অবস্থা ভেদে এ সমস্ত বিষয় তাদের শিক্ষা দেওয়া হবে। সকলকে একই শিক্ষা দেওয়া হবে না - এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। প্রত্যেকের জীবনের  লক্ষ্য ও গন্তব্য স্থল ও কাজ মোতাবেক নির্দিষ্ট সীমরেখার মধ্যে তাদের শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হবে। অবশ্য যারা জিনিয়াস তারা সব সময়েই জীবনের এক অবস্থা অতিক্রম করে অপর অবস্থায় পৌছায় এবং পৌছাবেও। তবে এধরনের দু-চার জনের জন্য গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে সব ধরনের লোকের জন্য অবাধ প্রবেশক্ষেত্রে পরিণত করা নিতান্তই বোকামীর কাজ।কারণ এভাবেই অনেক জিনিয়াসকে বঞ্চিত করে অনেক অবাঞ্চিত গুনহীন ব্যক্তিও তাদের স্থানে পৌছে যায়। এর ফলে, অ-ইহুদী সমাজ কোন্ অবস্থায় এসে দাঁিড়য়েছে তা আপনাদের বিলক্ষণ জানা আছে। 
০৬। যিনি দেশ শাসন করবেন তাঁকে তাঁর প্রজাদের মনে-প্রাণে অনড় আসন গড়ে নিতে হ’লে, তাঁর চিন্তা ধারা ও কাজ কর্মের খবর এবং তাঁর সৎগুনাবলীর বিষয় গুলি বিভিন্ন স্কুল এমন কি প্রয়োজনে হাট-বাজারের মাধ্যমে হ’লেও সমগ্র জাতির কাছে পৌছে দিতে হবে। 
০৭। আমরা জন শিক্ষা বিষয়ক স্বাধীনতা হরন ক’রব। শিক্ষার্থীদের তাদের পিতা-মাতার সাথে বিদ্যালয়ে একত্রিত হওয়ার সুযোগ থাকবে, যেমন ক্লাবের সদস্যদের থাকে। এই একত্রিত হওয়ার দিনে, ছুটির দিনে, শিক্ষকরা মানবিক সম্পর্কের ব্যাপারে দৃষ্টান্ত স্থাপনের আইন বা যে নতুন দার্শনিক মতবাদ এখনও পৃথিবীর মানুষের সামনে ঘোষিত হয়নি - এমন সব বিষয়াদি প’ড়ে শুনাবেন বা বিনা মূল্যে বক্তৃতা ক’রে শুনাবেন। আমাদের নিজস্ব মতবাদ পর্যন্ত পৌছানোর আগে আমরা এই সমস্ত মতবাদকে অন্তর্বর্তী- কালীন যোগসূত্রমূলক মতবাদ হিসাবে তুলে ধ’রব। আমাদের কর্ম সূচির   বাস্তবায়ন বর্তমান ও ভবিষ্যত কালে কেমন হবে তা ব্যাখ্যা করার পর এখন আমি আপনাদের এই সব মতবাদের মূলনীতির বিষয়গুলি প’ড়ে শুনাবো। 
০৮। এক কথায়, কয়েক শত বৎসরের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, মানুষ বসবাস করে এবং পরিচালিত হয় কেবল মাত্র আইডিয়ার (ধারনা) দ্বারা। আর এই সব ধারনা, মানুষের মধ্যে আত্মস্থ হয় শিক্ষার মাধ্যমে, যা সব বয়সী মানুষকে সমান ভাবেই সংক্রামিত করে। কিন্তু আমরা বিভিন্ন বৈচিত্রময় পদ্ধতির সাহায্যে,মানুষের চিন্তার স্বাধীনতাকে নিশ্চিহৃভাবে গলধকরণ করে, মানুষগুলিকে আমাদের ইপ্সিত ধারনা ও মতবাদের দিকে পরিচালিত করব, যা বাস্তবিক পক্ষে আমরা অনেক আগের কাল থেকেই ক’রে আসছি। চিন্তাধারায় লাগাম পরানোর কাজ - ইতোমধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় “অবজেক্ট-লেসন” চালু করার মাধ্যমে শুরু হ’য়ে গেছে, যার উদ্দেশ্য হল, অ-ইহুদী সমাজকে চিন্তা শক্তিহীন অনুগত পশুর স্তরে নামিয়ে আনা, যেন তাদের চোখের সামনে কোন জিনিষ তুলে না ধ’রলে তারা নিজস্ব চিন্তার সাহায্যে কোন কিছুর সম্বন্ধে কোন ধারনা’ই ক’রে উঠতে না পারে । ফ্রান্সে, আমাদের  এজেন্টদের অন্যতম একজন, বুর্জোয়া, ইতোমধ্যে এই ধরনের “অবজেক্ট-লেসন” শিক্ষাদানের  এক নতুন কর্মসূচী জনগনের সামনে প্রচার করেছেন।
প্রটোকল-১৭
০১। ওকালতির পেশা মানুষকে শীতল, নিষ্ঠুর, নাছোড়বান্দা ও নীতি-বিচ্যুত ক’রে তোলে। তারা সমস্ত বিষয়ে নির্ব্যক্তিক ও সম্পূূর্ণ আইনগত দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হ’য়ে দাঁড়ায়। তাদের প্রতিটি জিনিষের প্রতিরক্ষা মূল্য যাচাইয়ের সংশোধনাতীত অভ্যাসের কারণে, তারা জনকল্যাণ মূলক কাজের উপর গুরুত্ব আরোপ ও তার ফলাফল যাচাই এর প্রচেষ্টা করে না । তারা যেকোন পক্ষের প্রতিরক্ষার ব্যাপারে সমর্থন ক’রতে কখনও অস্বীকার করে না। বরং আইনের সুক্ষèাতিসুক্ষè ফাঁক-ফোঁকর খুঁজে, তারা বিচার কার্য্যের শৃঙ্খলাকে দুর্বল ক’রে দিয়ে, অভিযুক্তদের নির্দোষ প্রমান করার জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করে। এই জন্য এই পেশাটাকে আমরা অত্যান্ত সংকীর্ণ গন্ডীতে সীমিত ক’রে দেব যাতে এটি কেবল মাত্র নির্বাহী সরকারী চাকুরীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হ’য়ে থাকে। এ্যাডভোকেট’রা বিচারকদের মত একই ভাবে মামলায় জড়িত উভয় পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে। তারা কেবল মাত্র আদালত থেকেই মামলা গ্রহণ ক’রবে এবং  বিভিন্ন কাগজ পত্র দেখে, মোয়াক্কেলদের দলীল পত্রাদি বিবেচনা ক’রে ও তাদের আদালত গৃহেই জিজ্ঞাসাবাদ ক’রে, ঘটনা সম্বন্ধে জেনে নিয়ে, পক্ষ সমর্থনের যুক্তি খাড়া ক’রবে। মামলার আকার-প্রকার ইত্যাদি বিবেচনায় না এনে, তাদের মোটা-মুটি একটা  সম্মানী দেওয়া হবে। এর ফলে তারা আইন ব্যবস্থায় এক একজন রির্পোটার হিসাবে পরিগণিত হবে এবং বিরূদ্ধ পক্ষের আইনজীবির উত্থাপিত অভিযোগের জবাব দেওয়া পর্যন্ত, তাদের তৎপরতা সীমিত হয়ে প’ড়বে। এইভাবে সততা ভিত্তিক ও বিদ্বেষ-বর্জিত আইন ব্যবস্থার একটা নতুন পথ বে’র হ’য়ে আসবে, যা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং ন্যায়ের মানদন্ডেই প’ক্ষ সমর্থন করা হবে। এই ব্যবস্থার ফলে উকিলদের ষড়যন্ত্র-মূলক পরস্পর যোগাসাজোসের মাধ্যমে অধিক অর্থ প্রদানকারীর স্বপক্ষে আদালতের রায় আদায় করার বর্তমান দূর্নীতি মূলক অভ্যাস, দূরীভূত হবে।

“আমরা ধর্মযাজক প্রথা ধ্বংস ক’রে দেব”
০২। আমরা প্রাচীন কাল থেকেই অ-ইহুদী ধর্মযাজকদের মতবাদকে ধ্বংস ক’রে দেওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছি এবং পৃথিবী পৃষ্ঠে তাদের কার্যক্রমকে ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছি, যা কিনা আজকের দিনেও আমাদের পথের এক বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। দিনে দিনে দুনিয়ার লোকের উপর এদের প্রভাব ক্রমশই কমে আসছে। স্বাধীন চিন্তাধারার কথা সর্বত্রই ঘোষিত হয়েছে। তাই আর মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধান, তার পরই খৃষ্টান ধর্ম সম্পূর্ণ ভাবে বাতিল হ’য়ে যাবে। অন্যান্য ধর্মের ব্যাপারে, তাদের সামলানো আমাদের জন্য খুব সামান্যই অসুবিধার ব্যাপার । তবে এই ব্যাপারে এখনই কিছু বলা সমুচিত হবে না । আমরা যাজকতন্ত্র ও যাজকদের ক্ষেত্র এমনি সংকীর্ন করে দেবো যে, তাদের প্রভাব ইতিপূর্বের প্রগতির তুলনায়, দিন দিন নিতান্তই কম হতে থাকবে। 
০৩। পোপের আদালতকে উচ্ছেদ করার সময় যখন আসবে, তখন একটি অদৃশ্য হাতের একটি আঙ্গুল বিভিন্ন জাতিকে ঐ আদালতটিকে নির্দিষ্ট করে দেখিয়ে দেবে। এর পর যখন ঐ বিভিন্ন জাতির লোকেরা সেটির উপর ঝাপিয়ে প’ড়বে তখন আমরা সেটি’র রক্ষাকারী হিসাবে আগিয়ে আসব. যেন অতিরিক্ত রক্তপাত রোধ করার উদ্দেশ্যেই আমরা তা ক’রছি। এই সুযোগে আমরা তাদের পেটের ভিতর ঢুকে প’ড়ব এবং এর আভ্যন্তরীণ সব ব্যবস্থাকে অকেজো ক’রে দেওয়ার আগে আমরা এর থেকে বের হবো না এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকুন। 
০৪। ইহুদীদের সম্রাটই জগতের প্রকৃত পোপ এবং আন্তর্জাতিক গির্জার প্রধান পুরোহিত। 
০৫। কিন্তু, ইতোমধ্যে আমরা যখন নব্য যুবকদের শিক্ষাদান ক’রবো বা পরবর্তী পর্যায়ে আমাদের ধর্মমতে দীক্ষিত ক’রব, সেই সময়ে আমরা বর্তমানে অবস্থিত গীর্জা গুলোর উপর সরাসরি কোন রকম হস্তক্ষেপ ক’রব না। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সমালোচনার মাধ্যমে সংঘাতের পরিকল্পনা তৈরী ক’রব। 
০৬। সাধারণ ভাবে আমাদের সংবাদ পত্রগুলি, রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপ,ধর্ম ও অ-ইহুদী সমাজের অযোগ্যতা ইত্যাদি বিষয়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত ক’রে যেতে থাকবে। এইভাবে নিতান্ত অনৈতিক প্রচারনার মাধ্যমে আমরা এমনভাবে সমালোচনা চালিয়ে যাব, যার ফলে তাদের সম্মান লোকচক্ষে দিন দিন খাটো হ’তে থাকবে। এই ভাবে সুপরিকল্পিত প্রচারনা চালানো একমাত্র আমাদের  জাতির জিনিয়াসদের দ্বারাই সম্ভব।(গিয়ানায় জিম জোনস্ সম্প্রদায়ের গণআত্মহত্যার প্রচারনা আদতে কি সি.আই.এ /এম.কে আলট্্রা/ ইউ,এস সরকারের গণহত্যা নয়? ওয়াকো এবং টেক্সাসে দ্রাবিড়িয়ান সভ্যতার শাখার গণহত্যা ছিল বা পরিচালিত হয়েছিল বি.এ.টি এফ/ এফ বি. আই/ সি আই.এ/ইউ.এস.সরকার দ্বারা)। 
০৭। আমাদের ধর্মরাজ্য হবে হিন্দুদের দেবতা বিষ্ণুর মত একশত হাত ওয়ালা, যার প্রতিটি হাতে ধরা থাকবে মানুষের সামাজিক জীবনের এক একটি সূত্র । আমরা সরকারী পুলিশ বাহিনীর কোন রকম সহায়তা ছাড়াই সব কিছু জানতে পারবো। আমরা অইহুদী রাষ্ট্রের ব্যবস্থা মধ্যে পুলিশদের যে সব কর্তব্য নির্ধারণ ক’রে দিয়েছি তার দ্বারা সরকার সেই সব কিছুই জানতে ও বুঝতে পারবেনা। আমাদের পরিকল্পনা অনুসারে দেশের এক তৃতীয়াংশ অধিবাসী বাকি দুই তৃতীয়াংশের উপরে রাষ্ট্র কর্তব্যের খাতিরেই স্বেচ্ছা প্রনোদিত ভাবে নজরদারী রাখবে। সেই কারণে একজন গুপ্তচর বা ইনফরমার হওয়া কোন লজ্জার ব্যাপার বলে বিবেচিত হবে না, বরং সম্মানের বলে অভিহিত হবে । আর ভিত্তিহীন অভিযোগের জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা হবে যাতে এই ক্ষমতার অপগ্রয়োগ কেউ না করতে পারে। 
০৮। আমাদের এজেন্টরা  সমাজের উঁচু ও নীঁচু সব স্তর থেকে, যারা বিশেষতঃ আমোদ প্রমোদে দিন কাটায় তাদের থেকে, এমনকি শাসক শ্রেণীদের মধ্য থেকেও গৃহীত হবে।  এদের মধ্যে থাকবে সম্পাদক, প্রকাশক, ছাপাখানার মালিক, বই বিক্রেতা, কেরানী সেলসম্যান, শ্রমিক, গাড়োয়ান, চাকর, চামচা শ্রেণী লোক ইত্যাদি, ইত্যাদি। এরা কিন্তু নিজের থেকে কারও বিরূদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকারী হবে না । এটাকে কর্তৃত্বহীন পুলিশ বাহিনী বলা যেতে পারে, তারা শুধু স্বাক্ষী হবে এবং নালিশ জানাবে। তাদের রিপোর্ট যাচাই করা ও গেরেফতারের আদেশ ইত্যাদি বিষয়গুলো পুলিশ বাহিনী নিয়ন্ত্রনকারী একটি ক্ষুদ্র দলের উপর থাকবে। গেরেফতারের কাজ সম্পন্ন করবে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী অথবা মিউনিসিপাল পুলিস। যদি কোন এজেন্ট চোখে দেখা কোন ঘটনা বা রাষ্ট্রের সম্পর্কে গুরুত্ব পূর্ণ কিছু শোনার পরও যথাযথ ভাবে রিপোর্ট না করে তাহলে সত্য গোপন করার দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হবে এবং তা প্রমানিত হলে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে।
০৯। বর্তমান সময়েও ঠিক এমনিভাবে আমাদের সম্প্রদায়ের সকলে নিজ নিজ পরিবারের ধর্মত্যাগীদের বিষয়ে আমরা ’কাবাল’এ রিপোর্ট দাখিল করে থাকি, এমনকি কেউ যদি “কাবাল” এর বিরুদ্ধে কিছু করে থাকে তাহ’লেও। সুতরাং আমাদের রাজত্ব সারা পৃথিবীতে প্রসারিত হলে আমাদের প্রজাদের প্রত্যেককের এটা দায়িত্ব হবে পরস্পরের কার্যকলাপ ও রাষ্ট্রের  প্রতি কর্তব্যের বিষয়টি দেখা ও রিপোর্ট করা ।
১০। এধরনের একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হলে ক্ষমতার অপব্যবহার, বলপ্রয়োগ ও ঘুস দেওয়া নেওয়া ইত্যাদি বন্ধ হয়ে  যাবে। বস্তুত আমরাই এগুলি আমাদের অতি-মানবিক দক্ষতার বদৌলতে গইম (অ-ইহুদী) সমাজের মধ্যে প্রবিষ্ট করিয়েছি। কিন্তু আমাদের রাজ্যাধিকারের পর আর কত দিন আমরা  ঐ সমস্ত শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী বিষয় গুলি তাদের মধ্যে চলতে দেবো? শৃঙ্খলা পূন:স্থাপনের প্রক্রিয়া সমূহের মধ্যে সব থেকে প্রয়োজনীয় এটাই যে - এজেন্ট বাহিনীকে আমরা অইহুদী সমাজের দূর্বলতা গুলো দূর করার জন্য ভার অর্পন ক’রব এবং তারা দূর করবে শাসন ব্যবস্থার ভাঙ্গন, মন্দের প্রতি আশক্তি, একগুয়েমী আত্মবর্গ, ক্শতার অপপ্রয়োগ এবং সর্বোপরি অর্থলোলুপতা যা ছিল আমাদের দ্বারাই প্রবিষ্ট। (জেনেট রিনো? বি.এ.টি,এফ? সি.আই.এ?) 

প্রটোকল-১৮
০১। আমাদের গুপ্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (কর্তৃপক্ষের সম্মানের ব্যাপারে যা নাকি বিষবৎ) কে আরো শক্তিশালী করার প্রয়োজন হলে, আমরা একটা সাজানো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করব। অসন্তোষ দানা-বাঁধানো ও ভাল ভাল বক্তার মাধ্যমে বিক্ষোভ প্রদর্শনের আয়োজন করব। এই সব বক্তাদের চারপার্শ্বে থাকবে তা’রা, যারা তাদের বক্তব্যের উপর সহানুভুতিশীল। এই রকম অবস্থা সৃষ্টি হলে অইহুদী রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যারা আমাদের লোক রয়েছে, সক্রিয়া তৎপরতার সাথে তা’দের তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ করার একটা সুযোগ পাওয়া যাবে। (অষ্ট্রেলিয়ার ওয়ান নেশন পার্টি ? এ.ডি.এল?) 
০২। ষড়যন্ত্রকারীদের অধিকাংশই নিছক শখের বসে খেলা মনে ক’রে এ কাজ ক’রে থাকে এবং বিভিন্ন ধরনের কথার-জন্যই-কথা বলে থাকে। তাই যতক্ষণ না তা’রা আমাদের জন্য ক্ষতিকারক কোন কাজ না ক’রে বসে, ততক্ষণ আমরা তাদের উপর কোন আঙ্গুলও তুলব না, কিন্তু তাদের মধ্যে আমাদের পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ করিয়ে দেব। মনে রাথা দরকার যে, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বার বার ষড়যন্ত্র হলে, তা কর্তৃপক্ষের জন্য মর্যদাহানীকর হয় । এ ধরনের ঘটনা বার বার ঘটলে, তা কর্তৃপক্ষের জন্য সচেতনতার দূর্বলতা ও অবিচার ইত্যাদির সন্দেহ সৃষ্টি করে, যা আরো মারাত্মক। আমরা জানি যে আমাদের এজেন্টদের মাধ্যমে বার বার জীবন নাশের উদ্যোগ নিয়ে আমরা অ-ইহুদী শাসন-কর্তাদের সম্মানকে বিনষ্ট করে দিয়েছি। অন্ধ ভেড়ার দলকে দুচারটি আপ্ত-বাক্যে ভুলিয়ে যে কোন ধরনের মারাত্মক অপরাধের জন্য প্রস্তুত করা যায়, শুধু অপরাধ টি যদি রাজনৈতিক রং-এ রঞ্জিত করে দেওয়া সম্ভবপর হয়। বর্তমান শাসকদের গুপ্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্বন্ধে প্রকাশ্য ভাবে প্রচার করে দিয়ে আমরা তাদের দূর্বলতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য করেছি এবং এভাবেই আমরা তাদের শাসন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেব।
০৩। আমাদের শাসক কে গোপনীয় ভাবে অত্যন্ত সাধারণ ধরনের পাহারা দিয়ে হেফাযাত করা হবে। কেননা এটা আমরা কখনও স্বীকার করে নেব না যে, আমাদের শাসকের বিরুদ্ধে কোন  বিদ্রোহ হতে পারে, আর হলেও তিনি তা প্রতিরোধ করতে অক্ষম, বা এর থেকে তাকে লুকিয়ে থাকতে হবে। 
০৪। আমরা যদি এই চিন্তাকে অ-ইহুদীদের মত প্রশ্রয় দিই, তাহলে পরোক্ষ ভাবে আামরা আমাদের মৃত্যুর পরওয়ানায় সই করব। যিনি শাসক হয়তো তিনি এ’ভুল করার পরও ভাগ্যক্রমে রক্ষা পেয়ে যেতে পারেন কিন্তু, অদূর ভবিষ্যতে তার ভাগ্য বিড়ম্বিত হ’তে পারে। 
“সরকার কতদূর ভয়ে থাকবে”
০৫। আমাদের শাসকের বাইরের যে রূপটি আমরা সযতেœ সকলের সামনে তুলে ধরেছি, তাহ’লো, তিনি শুধু মাত্র জাতির মঙ্গলের জন্য তাঁর সমস্ত শক্তি নিয়োগ ক’রবেন  এবং তাঁর ব্যক্তিগত বা বংশের উপকারের জন্য কিছইু ক’রবেন না। এই ডেকোরাম (পদ্ধতি) বজায় রাখলে তাঁর শাসন কর্তৃত্ব সকলের কাছে সম্মানীত হবে এবং প্রজারা সকলেই তার হেফাযত ক’রবে, কারণ তারা বুঝে নেবে যে, এর সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের ভাল মন্দ জড়িত এবং এর উপরেই সমস্ত জনগনের সাধারণ জীবন যাত্রার শৃঙ্খলা রক্ষিত হবে।
০৬। প্রকাশ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শাসকের শাসনের দূর্বলতাকেই প্রকাশ করে । 
০৭। আমাদের শাসক সব সময়ে  একদল লোক - যারা বাহ্যত উৎসুক নর-নারী বলে মনে হবে - তাদের দ্বারা বেষ্টিত থাকবেন। তারা সামনে থেকে পিছনের লোকজনদের নিয়ন্ত্রন করবে এবং মনে হবে যেন এরা ঘটনা চক্রে বা হঠাৎই সামনে এসেছে, এর ফলে অন্যান্যরা একটা শৃঙ্খলার মধ্যে সংযত হয়ে চলবে। যদি কোন দরখাস্তকারী শাসকের হাতে কোন দরকাস্ত পৌঁছাতে চায়, তাহলে প্রথম সারির লোকজনই তা গ্রহন করবে এবং দরখাস্তকারীর চোখের সামনেই তা শাসকের হাতে তুলে দেবে। জনসাধারণ জানতে পারলো যে, তার দরখাস্ত জায়গামত পৌছে গেছে, আর এ ব্যাপারে শাসকের একটা নিয়ন্ত্রনও রয়েছে। শাসন ক্ষমতার দীপ্তিবলয় এর  জন্য প্রয়োজন হল জনসাধারন যেন বলতে পারে -“সম্রাট যদি এটা জানতেন” অথবা “সম্রাট এটা শুনতেন” ইত্যাদি।
০৮। অফিসিয়াল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খোলা খুলিভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে কর্তৃপক্ষের শক্তির অলৌকিক মর্যাদা বিলুপ্ত হয় । কিছুটা ধৃষ্টতা জন্মায়, আর সবাই নিজেকে দুর্বিনীত হওয়ার ’মাস্টার’ মনে করে । বিদ্রোহ সৃষ্টিকারীরা ঐ সম্বন্ধে ওয়াকিফহাল থাকে এবং সুযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার উদ্যোগ নেয়। অ-ইহুদীদের জন্য অবশ্য আমরা অ’ন্য ধরনের নিয়ম অনুশীলন ক’রছি, তবে বাস্তবিক পক্ষে আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই প্রকাশ্যে রক্ষা ব্যবস্থা  তাদেরকে কোন পর্যায়ে নিয়ে এসে দাঁড় করিয়েছে। 
০৯। আমাদের  সাথে যে সমস্ত অপরাধীরা বর্তমানে কাজ ক’রছে, প্রথম চোটেই আমরা গুরুতর সন্দেহের কারণ দেখিয়ে তাদের গেরেফতার ক’রব। সন্দেহের ব্যাপারে কিছু ভুলের সম্ভাবনা থাকলেও, সেই ভয়ে কোন রাজনৈতিক অপরাধীদের ফ’স্কে যাওয়ার কোন সুযোগই দেওয়া হবে না । কারন এ সমস্ত বিষয়ে আমরা আক্ষরিক ভাবেই হবো অত্যন্ত নির্মম । সাধারণ অপরাধীদের ক্ষেত্রে, কোন বিষয় সম্বন্ধে পূণর্বিবেচনা করা গেলেও, যে সব বিষয়ে সরকারই একমাত্র ভাল বুঝে, সে সব ব্যাপার নিয়ে মাতামতি যারা করে, তা’দের কিছুইতেই মাফ করা যাবে না । আর অন্যান্য সব সরকার সব রকমের কলাকৌশলও কায়দা কানুন বুঝেনা।

প্রটোকল নং ১৯
০১। যদিও আমরা রাজনৈতিক বিষয়ে এককভাবে কারও নাকগলানো সহ্য ক’রব না, তবুও অপর প’ক্ষে আমরা বিভিন্ন রিপোর্ট,দরখাস্ত, প্রস্তাবাদী পাঠানোর জন্য সকলকে উৎসাহিত ক’রব।  আমরা  জনসাধারনের মনে এমন একটা ধারণা দেব যে, অবস্থা জানার জন্য এবং একমাত্র তাদের কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যেই আমরা তাদের সম্পর্কে রিপোর্ট দরখাস্ত ও প্রস্তাব সমূহ গ্রহন ক’রছি। আসলে এ সকল দরখাস্ত ও প্রস্তাবাদির সাহায্যে আমরা আমাদের ত্র“টি এবং জন-গনের অলীক-কল্পনা গুলোও বুঝতে পারব। তারপর নিজেদের দোষ-ত্র“টি সংশোধণ করে অথবা জ্ঞানগর্ভ প্রতিউত্তর দিয়ে যারা ভূল বিচার বিবেচনা করছে তাদের অদূরদর্শিতা প্রমাণ ক’রে দেব। 
০২। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলাই যাদের ব্যবসা, তাদের সেই প্রচেষ্টা মানুষের কোলে বসে থাকা কুকুরের হাতীর উদ্দেশ্যে ঘেউঘেউ করার মত। পুলিশী তরফ থেকে নয় বরং জনগনের সমর্থনপুষ্ট একটি সুগঠিত সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার প্রচেষ্টা তেমনই, যেমন কোলের কুকুর বুঝেই না হাতীর কত ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয়তা। সেই কারণে সুযোগ ও সুবিধা মত উভয়ের গুরুত্ব ও শক্তি সম্বন্ধে ধারনা হয়ে গেলে, হাতী দেখার সঙ্গে  সঙ্গে কুকুর চোখ বন্ধ করে দিয়ে লেজ নাড়তে থাকবে, ঘেউ ঘেউ করার আর সাহস পাবে না। 
০৩। রাজনৈতিকভাবে অপরাধীদের “হিরো” হওয়া সম্মান নষ্ট করার জন্য আমরা তাদের বিরুদ্ধে চুরী, হত্যা ও নানা রকম জঘন্য এবং নক্কার-জনক কাজের অভিযোগে বিচার করব। ফলে জনসাধারণ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়বে এবং সাধারণ অন্যান্য অপরাধীদের মতই তাদের ঘৃনা করতে থাকবে। 
০৪। আমাদের বিরুদ্ধে অ-ইহুদী সমাজ যাতে বিদ্রোহ করার সাহস না পায়, সে জন্য আমারা যথা সাধ্য চেষ্টা করেছি এবং আশা করা যায় যে, তাতে আমরা সফলও হয়েছি। এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আমরা পরোক্ষ ভাবে সংবাদ পত্র ও বিভিন্ন বক্তৃতাদির মাধ্যমে এবং সুকৌশলে তৈরী করা স্কুলের পাঠ্য ইতিহাসের বই এর মধ্যে আমরা প্রচার করে দিয়েছি যে, বিদ্রোহের সৃষ্টিকারীরা সাধারণ মানুষের কল্যাণের নামে নিজেদের মরণের পথ বেছে নিয়েছে। এই প্রচারনার ফলে উদারপন্থীদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে এবং হাজার হাজার অ-ইহুদী আমাদের গৃহপালিত পশু শ্রেণীতে পরিনত হয়েছে।

প্রটোকল-২০
০১। আজ আমরা আলোচনায় অর্থনৈতিক কর্মসূচীর সম্বন্ধে কিছু স্পর্শ করে যাব। এটা আমি আলোচনার শেষ পর্যায়ে উল্লেখ করছি এই জন্য যে, এটি আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে সব চেয়ে উচ্চমার্গের, চুড়ান্ত পর্যায়ের ও সর্বাপেক্ষা কঠিন। এর মধ্যে প্রবেশের আগে আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আমি ইতোপূর্বে একটু আভাষ দিয়ে গিয়েছি এই বলে যে, আমাদের সমস্ত তৎপরতার যোগফল, হিসাবের অংকেই স্থিরকৃত হবে। 
০২। যখন আমরা আমাদের রাজ্যে সমাসীন হব, তখন আমাদের স্বৈরচারী সরকার আত্মসংরক্ষনের নীতিতে এবং জনসাধারনেরকে করভাবে নিপীড়িত করার নিবুদ্ধিতাকে সযতেœ পরিহার ক’রে, পিতা ও রক্ষকের ভূমিকা পালন ক’রবে। কিন্তু যেহেতু রাষ্ট্র চালানো ব্যয় সাপেক্ষ, সেই কারণে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ ছাড়া কোন উপায় নেই, কাজেই এই ব্যাপারে এই সরকারকে অনেক বুঝে-শুনে ভারসাম্য রক্ষা ক’রে চলতে হবে। 
০৩। আমাদের শাসন ব্যবস্থার মধ্যে শাসনকর্তা আইন সম্মত ভাবেই ধারনা করবেন যে, রাষ্ট্রের সব কিছুতেই তাঁর মালিকানা (যা সহজেই বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়)। যে কারণে আমাদের শাসককে, রাষ্ট্রের সম্পদ রাষ্ট্রের মধ্যে আবর্তন করানোর উদ্দেশ্যে, সব রকমের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হবে। এর থেকে সম্পদের উপর প্রগতিশীল পন্থায় কর নির্ধারনের নীতি প্রচলিত হবে। এর দ্বারা সম্পদের মোট মূল্যের একটা শতকরা অংশ হিসাবে কর নির্ধারণ করা হবে। এতে, করদাতা অতিরিক্ত করভারে পীড়িত হবে না আবার তাদের সম্পত্তিও নষ্ট হবে না । ধনীরা এটাই বুঝে নেবে যে, তাদের কর্তব্য হবে তাদের বিপুল সম্পদের কিছু একটা অংশ রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া কারণ রাষ্ট্র তাদের বাকি সম্পদের মালিকানার নিশ্চয়তা দান করছে আর সৎ উপায়ে সম্পদ অর্জন করার পথও তাদের খোলা থাকছে। আমি বলেছি ”সৎ উপায়ে” কারণ সম্পত্তির উপর মালিকানার অধিকার আইন সম্মত চুরিকে’ও রোধ করে দেবে। 
০৪। এই সামাজিক পূনর্গঠন, উপরের শ্রেণীর থেকেই শুরু হওয়া উচিত, এবং এর জন্য এখনই সময়, আর এটি শক্তির জন্যও অপরিহার্য।

“আমরা মূলধন ধ্বংস করে দেব”
০৫। গরীবের উপর কর-আরোপই হ’ল বিপ্লবের বীজ, এটা রাষ্ট্রের জন্য স্বার্থহানীকর। এতে রাষ্ট্র নগন্য জিনিষের জন্য অনেক বড় জিনিষ হারায়। আর এর বিপরীতে পুঁজির উপর করারোপ, ব্যক্তির হাতে পুঁজি একত্রিভূত হতে বাধার সৃষ্টি করে। বর্তমানে আমরা অবশ্য অ-ইহুদী রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ব্যক্তির হাতে পুঁজি সঞ্চয়ের সপক্ষে রয়েছি যাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাদের রাষ্ট্রের অর্থনীতি।
০৬। পুঁজির উপর শতকরা হিসাবে ট্যাক্স বৃদ্ধি করার ফলে রাষ্ট্রের আয় বর্তমানে ব্যক্তির উপর বা সম্পত্তির উপর ধার্যকৃত করের তুলনায় অনেক অধিক হবে। এটা আমাদের জন্য অনেক জরুরী, কারন ব্যক্তি বা সম্পত্তির উপর কর আরোপ করিয়ে বর্তমনে আমরা অ-ইহুদী সমাজের লোকজনকে গোলযোগ ও অসন্তোষ স্রৃষ্টির  সুযোগ করে দিচ্ছি। (এখন আমরা জানি ১৬তম এমেন্ড—মেন্টের উদ্দেশ্য কি ছিল !!)। 
০৭। যে শক্তির উপর আমাদের সম্রাটের শাসন স্থিতিশীল থাকবে, তা হ’ল, সর্বত্র একটা ভারসাম্য বজায় রাখা ও শান্তির নিশ্চয়তা প্রদান করা । এর জন্য যা জরুরী তা হ’ল, পুঁজি-পতিরা তাদের আয়ের একটা বড় অংশ শাসনযন্ত্রের সুষ্ঠ পরিচালনার জন্য ব্যয় ক’রবে। রাষ্ট্রের প্রয়োজন তারাই মেটাবে, যারা এটাকে তাদের উপর একটা বোঝা মনে ক’রবে না এবং তাদের থেকে নেওয়ার মত যথেষ্ট সম্পদ তাদের আছে। 
 ০৮। এই ধরনের ব্যবস্থা, বড়লোকদের প্রতি গরীবদের ঘৃনাকে দূর করে দেবে, কারণ তারা দেখবে যে ধনীরা রাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক সহায় হিসাবে কাজ ক’রছে এবং সামাজিক শান্তি স্থাপন ও সকলের মঙ্গলের জন্য যথাসাধ্য খরচ-খরচা ক’রছে। 
০৯। যারা শিক্ষিত করদাতা, তারা নতুন করের ব্যাপারে যেন কোন কষ্ট বোধ না করে সেই উদ্দেশ্য এই করের অর্থ কোথায় খরচ হচ্ছে সে সম্পর্ক তাদের জানিয়ে দিতে হবে, অবশ্য এ বিষয়ে ব্যতিক্রম হবে শাসক এবং প্রশাসনিক সংস্থা গুলির জন্য যে খরচ হয় তার হিসাবটি । সেগুলি অবশ্যই থাকবে গোপনীয়। 
১০। যিনি শাসন কার্য পরিচালনা করবেন তার কোন ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকবে না, কারণ রাষ্ট্র-প্রধান দেশের সকলের পিতার মত, সেইজন্য সকলের সম্পদই তাঁর সম্পদ, এটা না হলে পরস্পর বিপরীত অবস্থা হয়ে দাঁড়াবে। ব্যক্তিগত সম্পত্তি রাখার অধিকার থাকলেও সকলের সম্পত্তিতে অধিকার রাখা সংগত হয় না। 

১১। যিনি শাসন কার্য পরিচালনা করেন তাঁর আত্মীয়স্বজন ও উত্তরাধিকারীদের রাষ্ট্রের খরচে প্রতিপালন করা হবে, কিন্তু অনান্য কর্মচারিদের মত তাদেরও রাষ্ট্রের চাকুরী করতে হবে, অথবা ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হবে । রাজকীয় রক্তের গৌরবে তারা যেন রাষ্ট্রের অর্থ অযথা অপব্যয় না করে।
১২। কোন কিছু ক্রয়, অর্থ-প্রাপ্তি, অথবা  উত্তরাকারী হওয়া - এসবের জন্যও স্ট্যাম্প- ট্যাক্স  দিতে হবে। সম্পত্তির হস্তান্তর, তা সে জমি বা অর্থ যাই হোক না কেন - যদি ট্যাক্স ছাড়া করা হয়, তবে তা ধরা পড়লে সম্পদের পূর্ববর্তী মালিককে ঐ কর         হস্তান্তরের দিন থেকে ধরা পড়ার দিন পর্যন্ত, সুদ সহ পরিশোধ করতে হবে। হস্তান্তরের সম¯ত দলিলপত্র সাপ্তাহিক ভাবে স্থানীয় ট্রেজারী অফিসে জমা করতে হবে এবং সেখানে পুরাতন মালিক ও নতুন মালিকের নাম, ডাক নাম, স্থায়ী ঠিকানা ইত্যাদি উল্লেখ করতে হবে। নাম রেজেষ্ট্রি সহ এই হস্তান্তর বা ক্রয় বিক্রয়ের যে খরচ, তার থেকে হিসাবে কিছু বেশী ধ’রে এই কর তার উপর কার্যকারী করা হবে এবং এই কর পরিশোধ ষ্ট্যাম্পের মাধ্যমে করতে হবে এবং তা ঐ মূল্যের উপর শতকরা হারে নির্ধারিত হবে।
 ১৩। এখন হিসাব করে দেখুন তো, এই করের কত গুন আদায় হলে তা অ-ইহুদী রাষ্ট্রের রাজস্বের সমপরিমান হবে? 
“আমরা মন্দা’র জন্ম দেব”
 ১৪। সরকারী রাজস্ব বিভাগে সর্বদাই একটা সুনির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সংরক্ষিত থাকবে এবং বেশী যা সংগৃহীত হবে তা আবর্তন (সার্কুলেশন) এর জন্য বাজারে ছেড়ে দেওয়া হবে। এর উপরই জনকল্যান-মূলক কাজের পরিকল্পনা গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্রের তরফ থেকে এই জনকল্যাণ-মূলক কাজের উদ্যোগ মেহনতী মানুষকে রাষ্ট্র এবং তার পরিচালকের সঙ্গে একাত্ম করে তুলবে। ঐ ফান্ডেরই কিছু অংশ, আবিস্কার ও উৎপাদন বাড়ানোর পুরস্কার হিসাবে প্রদান করা হবে। 
১৫। কোন কারনেই ঐ নির্দিষ্ট পরিমান অর্থের বেশী কোন অর্থই রাষ্ট্রিয় কোষাগারে জমা করে রাখা চলবে না । কেননা অর্থ আবর্তনের জন্যই, এটি স্থির হয়ে জমা হয়ে থাকলে, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ধ্বংসাত্মক পরিণতি দেখা দেবে। রাষ্ট্রযন্ত্রের জন্য এটি হচ্ছে পিচ্ছিল কারী তেলের মত, যা সচল না হলে, যন্ত্রের স্বাভাবিক কর্ম থেমে যেতে পারে। 
১৬। মুদ্রার বদলে সুদ ভিত্তিক কাগজে’র মাধ্যমে লেনদেন এইভাবে একটা অচল অবস্থার সৃষ্টিকরে দিয়েছে । এর ফলাফল ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবেই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে।
১৭। আমরা একাউন্টস বিভাগেরও একটি নতুন দপ্তর খুলবো, আমাদের শাসক, এর মধ্যে, যে কোন মূহুর্তে, সমগ্র রাষ্ট্রিয় আয় ব্যয়ের পূর্ণ হিসাব দেখতে পারবেন। তবে চলতি মাসের হিসাব এর মধ্যে থাকবে না, যা এখনও শেষ হয়নি, আর গত মাসের হিসাবও এসে না পৌছনোর কারনে নাও থাকতে পারে। 
১৮। একজন মাত্র মানুষ, রাষ্ট্রিয় তহবিল থেকে যাঁর অর্থ চুরীকরার কোন লোভ থাকবে না, তিনি হলেন রাষ্ট্রের মালিক; এর শাসক। এই কারণে তাঁর ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রন, সম্পদের অপচয় ও অপহরনের সম্ভবনাকে দূর করে দেবে। 
১৯। রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রতিনিধিত্বমূলক ভাবে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিষ্টাচার রক্ষার খাতিরে উপস্থিত থাকতে হয় বলে, অনেক সময়ের অপচয় হয়ে যায়। এই জন্য সব অনুষ্ঠানে যোগদান রাষ্ট্রপ্রধানের জন্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে, যাতে তিনি আরো সময় - নিয়ন্ত্রন ও পর্যালোচনার কাজে ব্যয় করতে পারেন। তাঁর শাসন ক্ষমতাকে খন্ড খন্ড ক’রে কখনওই ঐ সমস্ত লোকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে না - যা’রা জাঁক-জমক ও চমৎকারিত্ব দেখার লোভে সিংহাসনের আশে-পাশে ঘুর-ঘুর করে এবং নিজেদের স্বার্থ-চিন্তা ছাড়া রাষ্ট্রের সাধারণ স্বার্থের কথা মনেও করেনা। 
২০। একমাত্র মুদ্রার আবর্তন (সার্কুলেশন) বন্ধ করে দিয়েই আমরা অ-ইহুদী রাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি ক’রতে পেরেছি। রাষ্ট্রিয় তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ পুঁজি উঠিয়ে নিয়ে জমা ক’রে রাখা হয়েছে, যে জন্য রাষ্ট্র ঐ জমা ক’রে রাখা পুঁজি থেকে ঋণ গ্রহনের জন্য আবেদন করতে বাধ্য হচ্ছে। এই সমস্ত ঋণের উপর সুদ আদায় করার কারণে, তা রাষ্ট্রিয় পুঁজির উপর একটা বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং তাদেরকে ঐ পুঁজির কেনা গোলামে পরিণত ক’রছে। ছোট ছোট মালিকদের থেকে বড় পুঁজির মালিকদের হাতে সমস্ত শিল্প কারখানা কেন্দ্রীভূত হ’য়ে যাওয়ার কারণে জন সাধারণ ও রাষ্ট্রের সমস্ত নির্য্যাস (রস) গিয়ে জমছে ঐ বড় বড় পুঁজিপতিদের কাছে। (এখন আমরা বুঝলাম ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কর্পোরেশন এর উদ্দেশ্য কি?) 
২১। এখন বাজারে যে হারে মুদ্রা ছাড়া হয়, এটি মাথাপিছু প্রয়োজন এর তুলনায় নিতান্ত সামান্য, সেই কারণে তা সাধারণ শ্রমিকদের প্রয়োজন মিটাতে পারে না । জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে এই মুদ্রা ইস্যুর একটা সামঞ্জস্য থাকা দরকার, সেই জন্য শিশুদেরও জন্মের পর থেকে মুদ্রা ব্যবহারকারী হিসাবে ধরে নেওয়া উচিৎ। তাই বাজারে অর্থ ছাড়ার ব্যাপারটির বর্তমানে প্রচলিত রীতিনীতি, পরিবর্তিত হওয়ার দাবী রাখে। 
২২। আপনারা জানেন যে, স্বর্ণকে আদান প্রদানের মাধ্যম হিসাবে পরিণত করার নীতি যে রাষ্ট্র গ্রহন করেছে, তারাই ধ্বংস হয়ে গেছে। এটি অর্থের চাহিদাকে পুরন করতে ব্যর্থ হ’য়েছে, কারণ আমরা বাজার থেকে যতদূর সম্ভব স্বর্ণের আবর্তনকে উঠিয়ে নিয়েছি। 
“অ-ইহুদী রাষ্ট্র গুলো দেউলিয়া”
২৩। আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যে অবশ্যই এই জিনিষটি প্রবর্তন করা হবে, তাহ’ল মেহনতী মানুষের জন্য খরচ কত প’ড়ছে তার একটা হিসাব বে’র করা । এর হিসাব যে ভাবেই হোক না কেন, আমাদের বে’র করতেই হবে, কারন আমরা মুদ্রা বাজারে মুদ্রা ছাড়ব, প্রতিটি মানুষের স্বাভাবিক খরচ কত হয়, তার মোট হিসাব করে, প্রতিটি জন্মের ক্ষেত্রে এই হিসাব বাড়বে, তেমনি মৃত্যুর ক্ষেত্রে এই হিসাব কমবে। 
২৪। এর হিসাব ব্যবস্থাপনা প্রত্যেক দপ্তর, প্রত্যেক বিভাগকেই ক’রতে হবে (ফ্রান্সের প্রশাসনিক ডিভিশন)। 
২৫। যা’তে রাষ্ট্রিয় কাজের খরচের জন্য অর্থ পরিশোধে কোন কালক্ষেপ না হয়, সেই উদ্দেশ্যে অর্থের পরিমাণ ও পরিশোধের শর্তাবলী শাসন কর্তার আদেশে নির্ধারণ করা হবে এর দ্বারা কোন মন্ত্রনালয় তার স্বার্থে অপর কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়াবে না। 
২৬। রাষ্ট্রের আয় ও ব্যয়ের বাজেটে আয় ও ব্যয়ের হিসাব পাশাপাশি থাকতে হবে। অষ্পষ্টভাবে একটি থেকে অপরটি দূরে দূরে থাকবে না। 
২৭। অ-ইহুদীদের রাজত্বে অর্থনৈতিক সংস্থা এবং নীতি সমূহের মধ্যে যে সমস্ত পরিবর্তন আমাদের দ্বারা করা হবে তা এমন সৌন্দর্যমন্ডিত পোষাকে ও আকারে সাজিয়ে দেওয়া হবে যে, এর সম্বন্ধে কেউ কোন রকম সন্দিহান হবে না। আমরা নির্দিষ্ট ক’রে দেখিয়ে দেব যে অ-ইহুদী সমাজ তাদের অর্থনৈতিক অব্যবস্থা ও বিশৃঙ্খলার ফলে যে ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে, তা থেকে উত্তরনের জন্য ঐ সমস্ত সংস্কার অবশ্য প্রয়োজনীয়। তাদের প্রথম অনিয়ম যা আমরা উল্লেখ করব তা হল, একই ধরনের মাত্র একটি বাজেট অনুমোদন করা যা নিম¥লিখিত কারণে বছরের পর বছর ধরে কেবল মাত্র বেড়েই চলে । এই বাজেট এ প্রথম অর্ধ বছর অর্থাৎ ছয়মাস কাল কোন মতে টেনেটুনে চালানো হয়। তারপর অপর একটি বাজেট দ্বারা সেটাকে পুনরায় বর্ধিত করা হয়। তা দিয়ে আবার হয়তো তিন মাস চলে। পরে পূনরায় একটি সাপ্লিমেন্টারী বাজেট তৈরী করা হয় আর পূরাতন বাজেট টি অকেজো প্রমানিত হয়। এর শেষে তৈরী হয় লিকুইভিসন বাজেট এবং পূর্ববর্তী সব বাজেট গুলি সম্পূর্ণ ভাবে অকেজো প্রমানিত হয়। পরবর্তী বছরে আবার পূর্ব অভিজ্ঞতার জন্য অন্ততঃ শতকরা ৫০ভাগ বাড়িয়ে বাজেট তৈরী করা হয় । কিন্তু তা’ও ব্যর্থ হ’য়ে যায়। এভাবে মাত্র ১০ বৎসর সময়ের মধ্যেই  অ-ইহুদী রাষ্ট্রের বৎসরিক বাজেট প্রায় তিন গুন বড় হয়ে পড়ে। এই পদ্ধতিকে ধন্যবাদ এই কারণে যে এর অনুসরণ দ্বারা অইহুদী রাষ্ট্রের শাসকদের অসতর্কতায় তাদের অর্থভান্ডার আজ প্রায় শূন্য। ঋণ পরিশোধের তারিখ শেষ হয়েছে এবং সুদের কারণে ঋণ বৃদ্ধি হতে হতে মূলধনকে গ্রাসকরে ফেলে, এর কারণে রাষ্ট্র দেউলিয়া হয়ে পড়ে।   (১৯২৯ সালের জেনেভা কনভেনশনে যুক্তরাষ্ট্রকে দেউলিয়া ঘোষনা করা হয়েছিল!)       [ দেখুন ৩১ইউ.এস.সি ৫১১২,৫১১৮,ও৫১১৯]
১৮। আপনারা অবশ্যই সঠিক ভাবে বুঝে নিয়েছেন যে, এই ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করার জন্য আমরাই অ-ইহুদী রাষ্ট্রকে প্ররোচিত করেছি, যা আমরা আমাদের রাষ্ট্রের বিষয়ে গ্রহন করতে পারি না । 
২৯। ‘ঋণ গ্রহণ এর অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রের জন্য দুর্বলতা এবং রাষ্ট্রের অধিকার সম্বন্ধে সমঝোতার অভাবে। ঋণ ডেমোকোল (গ্রীকদেবতা) এর তরবারীর মত শাসকের মাথার উপর ঝুলে থাকে, যিনি তার প্রজাদের থেকে সাময়িকভাবে কর গ্রহণ করে, কিছু কিছু পরিশোধ করার পরিবর্তে আমাদের ব্যাংকারদের সামনে ভিক্ষার হাত প্রসারিত করে দেন। এর ফলে বিদেশী ঋণ জোঁকের মত রাষ্ট্রের গায়ে বসে, অ-ইহুদী জনগনের রক্ত চুঁষে খেতে থাকে, যতক্ষণ না এটি আপনা আপনি পড়ে না যায় বা জোর করে গায়ের থেকে ছুটিয়ে ফেলা না হয়। কিন্তু অ-ইহুদী রাষ্ট্রগুলি এদেরকে গায়ের থেকে ছুটিয়ে ফেলতে পারে না বরং তারা এগুলি দেহের উপর আরো জেঁেক বসাতে থাকে এভাবে স্বইচ্ছায় রক্ত দান ক,রে অ-ইহুদী রাষ্ট্রগুলি নিজেদেরকে ধ্বংশের পথে নিয়ে যায়। 
“সুদের জুলুমবাজী”
৩০। ঋণ আসলে কি ব’স্তু? বিশেষ করে, বৈদেশিক ঋণ? ঋণ হচ্ছে একটা বিনিময় বিল, যা কোন সরকারের ইস্যু করা -এর আসল অর্থের পরিমানের উপর শতকরা আনুপাতিক হারে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা থাকে । যদি সুদের হার শতকরা ৫ হয় তবে ২০বছরে তার জন্য কোন দেশ অনর্থক আসল ঋনের সমান পরিমানে সুদ প্রদান করতে বাধ্য হয়, ৪০ বৎসরে এই ঋণ হয় দ্বিগুন আয় ৬০ বৎসরে ৩গুন পরিশোধ করা হয় আর আসল তো অপরিশোধিত ঋণ হিসাবে থেকেই যায়। 
৩১। এই হিসাব থেকে এটাই স্বাভাবিক ভাবে দেখা যাচ্ছে যে, রাষ্ট্র বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করে, ঋণ দাতাদের ঋণ শোধ করতে গিয়ে, দেশের গরীব করদাতার অনেক কষ্টে অর্জিত প্রতিটি পয়সা, ধনী বিদেশীদের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে, যা কর দাতাদের নিজস্ব কল্যানের জন্যও খরচ করা যাচ্ছে না। 
৩২। ঋণ যত দিন আভ্যন্তরীন ভাবে দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, ততদিন অ-ইহুদীরা তাদের অর্থকে দরিদ্রের পকেট থেকে নিয়ে, বড় লোকের পকেট ভর্তি করেছে। কিন্তু যখন ঋণ গ্রহনের ব্যাপারটি আমরা আভ্যন্তরীন ক্ষেত্র থেকে নিয়ে বিদেশের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছি (উড্র-উইলসন এবং এফ.ডি. রুজভেন্ট) তখন তেকে অ-ইহুদীদের রাষ্ট্রের সম্পদ স্রোতের মত আমাদের ক্যাশ বাক্সে এসে ঢুকতে শুরু করেছে।
৩৩। অ-ইহুদী রাষ্ট্র-প্রধানদের রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যাপারে ভাসা ভাসা জ্ঞান, তাদের মন্ত্রীদের দূর্নীতি, অর্থনৈতিক বিষয়ে তাদের সমঝোতার অভাব, ইত্যাদি তাদের দেশগুলিকে আমাদের রাজকোষের কাছে এমনভাবে ঋণী করে দিয়েছে যে, যা তারা কোন দিনই পরিশোধ করতে পারবে না, তবে তাদের এই অবস্থায় পৌছানোর জন্য আমাদের অনেক ঝামেলা সহ্য করতে হয়েছে, আর অর্থ সম্পদের খরচ ও করতে হয়েছে।
৩৪। অর্থ সম্পদের এক জায়গায় পুঁঞ্জিভূত করা, আমরা কখনই বরদাস্ত ক’রব না । তাই আমাদের রাষ্ট্র, কোন সুদী কাগজও ইস্যু করবে না। তবে মাত্র শতকরা ১ হারে কিছু কাগজ চ’লতে পারে এর ফলে রক্ত পিপাসু কোন জোঁক রাষ্ট্রের শক্তিকে চুষে খেতে পারবে না । সুদী কাগজ ইস্যু করার  অধিকার কেবল মাত্র, শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠান গুলিকে দেওয়া হবে, যাদের আয়ের মধ্য থেকে সুদ পরিশোধ করতে কোন অসুবিধা হবে না। অপর পক্ষে রাষ্ট্র কখনও ঋন গ্রহন ক’রে শিল্প কারখানা গুলির মত সুদ পরিশোধ করতে পারবে না  কারণ রাষ্ট্র নিজে খরচের জন্য ঋণ নেবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য নয় । (এখন আমরা জানি প্রেসিডেন্ট কেনেডি কেন ১৯৬৩ সালে নিহত হয়েছিলেন যখন তিনি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে অস্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তরফ থেকে সুদ বিহীন “নোট” ইস্যু ক’রে ফান্ড সংগ্রহ করছিলেন!) 
৩৫। শিল্প কারখানার কাগজ (ঋণ পত্র) সরকারও খরিদ করবে এবং ঋণ গ্রহণ না করে বরং লাভের পরিবর্তে ঋণ প্রদান করবে। এর ফলে অর্থ এক জায়গায় জমা হয়ে পড়বে না আর পরগাছার মত মুনাফা’র লোভ ও অলসতা দূর হবে। যতদিন অ-ইহুদীরা স্বাধীন ছিল, এ গুলো সবই আমাদের দৃষ্টিতে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল, কিন্তু আমাদের রাজ্যে আমাদের জন্য এ সমস্ত কখনই অভিপ্রেত হবে না । 
৩৬। কত পরিস্কার ভাবে বুঝা যায় যে, অ-ইহুদীদের অপরিণত পশুতূল্য মগজের চিন্তা শক্তি কতই না অনুন্নত, যে কারণে তারা বুঝতে পারে না যে, তাদের এই ঋণ গ্রহণ  ও সুদ সহ পরিশোধের নীতির ফলে ঋণের সমস্ত টাকা আর সুদ-হিসাবে অতিরিক্ত পরিমাণ টাকা, তাদেরই রাষ্ট্রিয় পকেট থেকে বের ক’রে, আমাদের কাছে পরিশোধ ক’রতে হবে, অথচ যাদের পকেটের টাকা নিয়ে (জনগনের) তারা আমাদেরকে সুদ ও আসল পরিশোধ করবে- তাদের অর্থাৎ নিজেদের লোকের থেকেই এই ঋণ গ্রহণ করাটা কি তাদের জন্য সহজতর ছিল না ? 
৩৭। কিন্তু, এটার একটা সহজ প্রমাণ এই যে, আমরাই ঈশ্বরের মনো’নীত জাতী হিসাবে কতই না প্রতিভাবান!  কারণ এই ঋণ গ্রহণের বিষয় টি’কে আমরা তাদের (অ-ইহুদীদের) কাছে এমন হালকা ভাবে উপস্থাপিত করেছি যে, তারা এটাকে তাদের জন্য মঙ্গলজনক মনে ক’রছে। 
৩৮। যখন আমাদের  সময় আসবে, তখন আমাদের হিসাব-পত্র এমন স্বচ্ছ ও দ্ব্যর্থহীন ভাবে উপস্থাপন করব যার থেকে, মানুষ এক নজরেই বুঝবে যে,  আমাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতি কতই না সুবিধা-জনক ও সুন্দর ;  আসলে এর জ্ঞান আমরা অ-ইহুদী রাষ্ট্রের উপর শত শত বৎসরের পরীক্ষা-নীরিক্ষার অভিজ্ঞতায় অর্জন করতে পেরেছি। তারা এখন পর্যন্ত যে সমস্ত অনর্থক পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে,  তখন তা শেষ হবে। আমরা আমাদের রজ্যে এগুলি কখনই চলতে দেবনা । 
৩৯। আমরা আমাদের পদ্ধতি কে এমন ভাবেই ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে রেখেছি, বা  সীমারেখা দিয়ে দিয়েছি, যার ফলে কোন রাষ্ট্রের শাসক বা সরকারী কোন কর্মচারী কেউ সামান্য পরিমাণ অর্থও আমাদের নির্দেশিত লক্ষ্যে ছাড়া অন্য দিকে নিয়ে যেতে পারবে না । অর্থাৎ সেই অর্থ সেখানেই পৌছাবে যেখানকার জন্য আমরা আমাদের  পরিকল্পনা মোতাবেক তা নির্দিষ্ট ক’রে দিয়েছি। (এই কারণেই কি- “ইন্টারন্যাল রেভিনিউ সার্ভিস” নামে ব্যক্তি মালিকানাধীন সংস্থা, আমেরিকায় “ইনকাম ট্যাক্স” সংগ্রহ করার দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছে, আর সে কারণেই কি তারা এর সমুদয় অর্থ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে জমা দেয় এবং কখনই তা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারীতে জমা করা হয় না ??) 
৪০। একটি নির্দিষ্ট প্ল্যান প্রোগ্রাম ছাড়া, সুশাসন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। অপর্যাপ্ত সহায় সম্পদ নিয়ে, গর্তওয়ালা রাস্তা দিয়ে মার্চ করে আগিয়ে যেতে থাকলে, রথী-মহারথী বা সে যে দেবতাই হোক না কেন, ধ্বংস হ’য়ে যেতে বাধ্য। 
৪১।এক কালে আমরা অ-ইহুদী শাসকদের উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছি। তাদেরকে  আমরা - রাষ্ট্রিয় মেহমানদের অভ্যর্থনা, বিভিন্ন আদব কায়দা বজায় রাখা, রাষ্ট্রিয় ভোজের অনুষ্ঠান, বিভিন্ন আমোদ প্রমোদ ইত্যাদিতে ব্যস্ত রেখে, পরদার আড়াল থেকে প্রকৃত শাসন আমরাই চালিয়েছি। [হাউস অফ উইন্ডসর (গোয়েল্ফ) এবং ব্লাক - নোবিলিটির বাকি লোকজনদের মত’]।  বিভিন্ন ঘটনায় ব্যস্ত প্রিয় অমাত্য’রা - যারা ছিলেন হিসাব পত্রের জিম্মাদার, তাদের বদলে আমাদের এজেন্টরাই তাদের জন্য হিসাব- নিকাশ তৈরী করে দিয়েছে, এবং সব সময়েই এই অদূরদর্শী অ-ইহুদীদের বুঝিয়েছে - অদূর্ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক উন্নতি ও সমৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। কি ভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি? নতুন কর থেকে? এই সমস্ত প্রশ্ন উঠতে পারত, কিন্তু সে প্রশ্ন যারা ঐ হিসাব নিকাশ দেখতো - তারা কেউই করেনি। 
৪২। আপনারা জানেন, এই অসাবধানতার ফলে তারা আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে! তাদের নিজস্ব লোকজন দের বড় বড় শিল্প কারখানা থাকা সত্ত্বেও আজ অর্থনৈতিক ধ্বংসের কোন গহ্বরের কিনারায় তারা এসে পৌছে গেছে! 
প্রটোকল নং -২১
১।  বিগত সম্মেলনে আমি আপনাদের যা বলেছিলাম, তার সাথে এখন, আভ্যন্তরীণ ঋণ দানের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু যোগ করব। বিদেশী ঋণ সম্বন্ধে আর কিছু আমি বলব না, কেননা এর দ্বারাই আমরা অ-ইহুদীদের জাতীয় সম্পদের উপর থেকে খাই-দাই। কিন্তু আমাদের রাজ্যে কেউ বিদেশী নয় । অর্থাৎ আমাদের প্রজারা বাইরের কেউ নয়। 
০২।  আমাদের অর্থ সম্পদকে দ্বিগুন, তিন গুন বা বহুগুন করতে অ-ইহুদী শাসকদের দূর্নীতি পরায়নতা ও ঢিলেমীর সুযোগে, আমরা তাদের সরকারকে ঋণ দিয়েছি, যা আদতে তাদের কোন প্রয়োজনই ছিলনা। এই কাজ কি আমাদের উপর দিয়ে অন্য কেউ করতে পারবে?.... সুতরাং আমি বর্তমানে শুধূ আভ্যন্তরীন ঋণ এর ব্যাপারে’ই আলোচনা করব। 
০৩। রাষ্ট্র ঘোষনা ক’রে দেয় যে - রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ঋণ গ্রহণ বন্ধ করে দিয়ে, তাদের নিজস্ব হুন্ডির মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করা হবে, অর্থাৎ রাষ্ট্রই ঋনপত্র  ছাড়বে। হুন্ডির দাম সকলের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য একশত টাকা থেকে একহাজার টাকা পর্যন্ত এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ক্রেতাদের জন্য একটা বাট্টাও নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। পরের দিনই কৃক্রিম উপায়ে হুন্ডির দাম বেড়ে যায়, এই অজুহাতে যে, সকলেই তা কিনতে চাইছে। অল্প কয়েক দিনেই, তা’দের ট্রেজারী টাকায় ভর্তি হয়ে গেছে বলে তারা দাবী করে । এমনকি অতিরিক্ত অর্থও সমাগম হতে থাকে! (আরে,তাহলে অতিরিক্ত নিচ্ছ কেন?)। সংগৃহীত চাঁদা - তারা দাবী করে -  মোট ঘোষনা দেওয়া পরিমাণের থেকে পাওয়া গেছে অনেক গুন বেশী, আর এখানেই রয়েছে নাটকের আসল কথা, তারা বলে “দেখ, আমাদের সরকারের হুন্ডির উপর জনগনের কত আস্থা!” 
০৪। কিন্তু তার পর এই মিলনাত্মক নাটকের শেষে দেখা যায় কি? দেখা যায়, বিরাট একটা অংকের ঋনের বোঝা মাথায় উপর চেপে বসেছে। কারণ এই ঋনের সুদ পরিশোধ করতে আবার নতুন ঋণ গ্রহণ করতে হয়, এর ফলে আসল ঋনের পরিমাণ ক্রমাগত বেশী হ’তে থাকে, ফলে এধরনের ঋণ গ্রহনের পথ যখন বন্ধ হ’য়ে যায়, তখন নতুন ট্যাক্স ধার্য করা জরুরী হ’য়ে দাঁড়ায়। ঋনের আসল পরিশোধের জন্য নয়, বরং তার সুদ পরিশোধের  জন্য। ঐ ট্যাক্স গুলিও এক ধরনের ঋণ, অন্য ঋণকে চাপা দেওয়ার জন্য। (এই ভাবে বাজেট ব্যালান্স মিলানোর সময়ে, তখন কান্না শুরু হয়ে যায়)। 
০৫। এর পর এই সমস্ত ঋণকে অন্য ধরনের ঋণে পরিবর্তন করার সময় এসে যায়। তখন তারা ঋণকে পরিশোধ না ক’রে সুদের হার কমিয়ে দিয়ে নতুন ধরনের ঋণ গ্রহণ করাতে চায়। কিন্তু দাতাদের ( হুন্ডিক্রেতা) মতামত ছাড়া তা করা যায় না, তাই পরিবর্তিত সুদের হারে ঋণ প্রস্তাব দিয়ে যারা সুদের হার কমাতে চান না, তাদের অর্থ 

ফেরৎ দেওয়ার ঘোষনা দেওয়া হয়। যদি প্রত্যেকেই সুদের হার কমানোতে অনিচ্ছুক হয়ে তাদের অর্থ এক যোগে ফেরৎ চায়, তাহলে, সরকার কিন্তু নিজের ফাঁদে নিজেই আটকে প’ড়ে ঋণ পরিশোধে অসমর্থ হবে। অ-ইহুদী সরকারের কপাল ভাল যে তার প্রজারা তার অর্থনীতির ব্যাপারে কিছুই বুঝে না, তাই এই ধরনের হুন্ডির ব্যাপারে ক্ষতি স্বীকার ক’রে নিয়েও সুদের হার পরিবর্তন মেনে নেয়, আর অ-ইহুদী সরকার গুলো এইভাবেই বহুবার বহুকোটি টাকার ঋণের বোঝা কাঁধ-ঝাড়া দিয়ে ফেলে দেয়। 
০৬। এখনকার দিনে অ-ইহুদী সরকার বিদেশী ঋনের ব্যাপারে আমাদের সাথে এই রকম কায়দা কানুন করতে পারে না, কারণ তারা জানে যে, তাহলে আমরা একসঙ্গে আমাদের সমস্ত টাকা তখনই ফেরৎ চাইবো। 
০৭। এই ভাবে বিভিন্ন দেশ অনিবার্য ভাবে দেউলিয়া হ’য়ে পড়ে এবং সে দেশের সরকার ও জনসাধারনের স্বার্থ পরস্পর বিপরীত মুখী হ’য়ে দাঁড়ায়।
০৮। আমি আপনাদেরকে এই বিষয়টির প্রতি পুরোপুরি মনোযোগ দিতে অনুরোধ ক’রছি তা এই যে - এখন কার দিনে সব রকমের আভ্যন্তরীন ঋণ তথাকথিত ভাসমান ঋনের মধ্যে একত্রিত হয়। ভাসমান ঋণ পরিশোধ করার মেয়াদ খুব কম থাকে। সেভিং ব্যাংক ও রিজার্ভ ফান্ডের হিসাব থেকেই এই ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। যদি সরকারের হাতে এই ঋণ বেশী দিন ফেলে রাখা হয় তবে তা বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য গায়েব হয়ে যায়। তারপর অন্য খাত থেকে সমপরিশান অর্থ এনে আবার ঐ স্থান পুরণ করা হয়। 
০৯। এই ভাবে পট্টি বেঁধে বেঁধে অ-ইহুদী রাষ্ট্রের ট্রেজারী (রাজকোষ) এর ছিদ্র বন্ধ করে রাখার চেষ্টা করা হয় । 
১০। যখন আমরা সমগ্র পৃথিবীর সিংহাসনে আসীন হব, তখন এই সমস্ত অর্থনৈতিক ও আর্থিক বিষয়গুলি, যা আমাদের স্বার্থের অনুকুল নয়, তা সম্পূর্ণভাবে নি:চিহ্ন ক’রে মুছে দেব ; আমরা সমস্ত মুদ্রা বাজারও বন্ধ করে দেব, কেননা আমরা যে মূল্যমান নির্ধারণ করে দেব,আমাদের মর্যাদায় আঘাত ক’রে, তা কম বেশী করার সুযোগ কেউ’ই পাবে    না। আমরা দ্রব্য-মূল্য আইন ক’রে সেই রকমই বেঁধে দেব, যা তার পূর্ণমূল্য হ’তে পারে, কোন রকম কমা-বাড়ার সম্ভাবনা ছাড়াই। (যার দাম বাড়তে পারে, তার দাম কমতেও পারে, অবশ্য অ-ইহুদী রাষ্ট্রের মধ্যে আমরাই দ্রব্য মূল্যকে কমবেশী করিয়েছি)। 
১১। আমরা বড় আকারের পরিকল্পিত সরকারী ঋণ সংস্থা চালু করে, মুদ্রা বাজারকে বন্ধ করে দেব। এর উদ্দেশ্য হবে, শিল্পে উৎপাদিত পন্য সমূহের দাম সরকার যেমন চায়, তেমনি ভাবেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া। এই সমস্ত ঋণদান সংস্থা গুলো ইচ্ছা করলে, একই দিনে বাজারে পঞ্চাশ কোটি ডলার মূল্যের শিল্প ঋণপত্র ছেড়ে দিতে পারবে বা কিনেও নিতে পারবে। এইভাবে সমস্ত শিল্প সংস্থা গুলি আমাদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। আপনারা নিজেরাই কল্পনা করুন, এ সমস্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করে আমরা কতই না শক্তির অধিকারী হব। 

প্রটোকল -২২
 ০১। এ পর্যন্ত আমি আপনাদের সামনে যা বলেছি, তা দিয়ে সুন্দর ভাবে ছবির ম’ত বুঝাতে চেয়েছি, যা কিছু ভবিষ্যতে হ’তে যাচ্ছে, অতীতে কি হ’য়েছে এবং বর্তমানে কি হ’চ্ছে, আরও অদূর ভবিষ্যতে বিপুল বন্যার মত কি কি ঘটনা প্রবাহ দ্রুত ঘ’টতে যাচ্ছে এসব এর গোপন রহস্য, আর অ-ইহুদীদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বিভিন্নতা এবং আমাদের দ্বারা গৃহীত বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যকলাপের উদ্দেশ্য । এই ব্যাপারে আর সামান্য কিছু আমি যোগ করতে চাই। 
০২। আজকের দিনে আমাদের হাতে যে শ্রেষ্ট শক্তি রয়েছে তাহ’ল ”স্বণর্”, মাত্র দুই দিনের মধ্যে আমরা ইচ্ছা করলেই আমাদের গুদাম থেকে যে কোন পরিমান স্বর্ণ সংগ্রহ করে নিতে পারি। 
০৩। তাই, আমাদের শাসন যে ঈশ্বরের দ্বারা পূর্ব নির্ধিরিত, তা প্রমাণ করার জন্য আর অতিরিক্ত কোন প্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। আমরা আমাদের এই বিপুল সম্পদ দিয়ে কখনই এটা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হব না যে, বহু  শতাব্দী ধরে আমরা যে সমস্ত অপকর্ম করে এসেছি, তা আমাদের করতে হয়েছে, ভবিষ্যতকে উজ্জ্বল করার জন্য এবং  প্রতিটি জিনিষকে সুশৃঙ্খলতায় আনার জন্য । হয়তো কখনও কখনও এর জন্য, আমাদের হিংসাত্মক কাজ কর্মের আশ্রয়ও নিতে হয়েছে, তবুও পরিশেষে শৃঙ্খলা স্থাপিত হবেই। (ফ্রি ম্যাসনদের আপ্তবাক্য ” ঙঁঃ ড়ভ ঈযধড়ং, পধসব ঈড়ংসড়ং অর্থাৎ বিশৃঙ্খলতার মধ্য থেকেই শৃঙ্খলা এসেছিল)। আমরা যুক্তি দিয়ে প্রমান করে দেবো যে, আমরাই প্রকৃত উপকারী এবং আমরাই এই দলাদলি ও হানাহানীর দুনিয়ায় প্রকৃত পক্ষে শান্তি, ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং প্রকৃত কল্যাণকর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেছি  এবং এর মাধ্যমে পৃথিবীকে শান্তি-শৃঙ্খলায় বসবাস উপযোগী করা গিয়েছে, প্রকৃত সম্মান ও পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে - অবশ্য কঠোর ভাবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে তো বটেই - যা আমাদের দ্বারাই স্থাপিত হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে একথ্য সকলকে বুঝিয়ে দেব’ যে স্বাধীনতার অর্থ স্বেচ্ছাচারীতা নয় । যা ইচ্ছা তাই করার অধিকার এর নামও স্বাধীনতা নয়। চিন্তার স্বাধীনতা ও সমানাধিকারের নামে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলে ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত করানোর নামও স্বাধীনতা নয়। বরং যে ব্যক্তি, জীবনের সাধারণ নিয়মগুলিকে সসম্মানে ও কঠিনভাবে মেনে চলে, এবং এটি ম’নে করে যে, মানুষের সম্মান তার অধিকারের সচেতনতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে, সেই প্রকৃত অলঙ্ঘণীয়ভাবে স্বাধীন। নিজের অধিকারের বিষয়ে সচেতন থেকে অ’ন্যের অধিকারে কোন হস্তক্ষেপ না করলেই মানব-সমাজের প্রকৃত মর্যদা রক্ষা হয়, যা কখনই কারো অহংবোধ থেকে সৃষ্ট আজগুবী কল্পনার দ্বারা রক্ষিত হয় না। 
০৪। একটি কর্তৃত্বই গৌরবময় হবে এবং তা হবে আমাদের, কেননা এটি হবে সব দিক দিয়ে ক্ষমতার অধিকারী, এটি শাসনও করবে আবার পথনির্দেশনাও দেবে। অর্থহীন শব্দ রচনাকারী নেতা ও বক্তাদের কোন গুরুত্ব দেওয়া হবে না, কারন এরা সকলেই অবাস্তব কল্পনা বিলাসী। আমাদের শাসন ক্ষমতার মাথায় থাকবে হুকুমের মুকুট এবং তার মধ্যেই সকল মানুষের সুখ লুকিয়ে আছে। আমাদের এই শাসনের দীপ্তি-চক্রের কাছে সব লোক শ্রদ্ধায় ও ভয়ে মাথানত করবে। প্রকৃত শক্তি কখনও কারো অধিকারের দাবীর সাথে আপোষ করে না। এমনকি ঈশ্বরের সাথেও নয়। কেউ এর কাছে আসতেও সাহস পাবে না। সকলেই একটা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখবে। 
“প্রটোকল- ২৩”
 ০১। মানুষ যা’তে ধীরে ধীরে মান্যতায় অভ্যস্ত হয়, সেই লক্ষ্যে, তাদেরকে আড়ম্বরহীনতা শিক্ষা দেওয়ার দরকার এবং এই উদ্দেশ্যে বিলাস সামগ্রীর উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া প্রয়োজন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা সমাজের নৈতিক মানকে উন্নত করতে পারব, যা আমরা অ-ইহুদীদের  ব্যাপারে, বিলাস সামগ্রীর ক্ষেত্রকে তৈলাক্ত -  পিচ্ছিল করে দিয়ে, তাদের অধ:পতিত করে দিয়েছি। আমরা ক্ষুদ্র শিল্প ব্যবস্থাকে নিপুনভাবে পূণ:প্রতিষ্ঠিত করব। এর অর্থ হবে বৃহৎ ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্প কারখানার নীচে’য় একটা মাইন স্থাপন ক’রে দেওয়া। আর এই কাজটি আরো জরুরী এই জন্য যে, বৃহৎ শিল্প-কারখানা সংস্থা, অনেক সময় নিজেদের অজ্ঞাতসারে, জনসাধারণকে সরকারের বিরুদ্ধে পরিচালিত করে ফেলে। ক্ষূদ্র শিল্পের অধিকারী বেকার সমস্যার সঙ্গে পরিচিত নয় এবং সে নিজেকে পুরোপুরি বিদ্যমান শাসন কর্তৃত্বের সঙ্গে খাপখাইয়ে নেয়। আমাদের হাতে শাসন কর্তৃক আসার সাথে সাথে, আমরা এর সমাধান করে নেবো (বেকার সমস্যার)। মদ্যপান আইনত: নিষিদ্ধ ও দন্ডনীয় অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে। কেননা মদের নেশার প্রভাবে মানুষ মনুষত্ব বিসর্জন দিয়ে পশুর পর্যায়ে  নেমে আসে। 
 ০২। আমি আরও একবার পূনরাবৃত্তি করছি যে, প্রজারা কেবলমাত্র শক্ত হাতের শাসনের কাছে অন্ধভাবে বশ্যাতা স্বীকার করে, যে শাসন প্রজাদের কোন রকম হস্ত-ক্ষেপের উর্দ্ধে। কারণ এর মধ্যেই তারা প্রতিরোধের তরবারী আর সামাজিক অব্যবস্থার বিরুদ্ধে আশ্রয়স্থল খুঁজে পায়। তারা ফেরেশতার মতো নিরীহ স্বভাবের রাজা নিয়ে কি করবে? তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে তারা বল প্রয়োগ ও শক্তির সমন্বয় দেখতে চায়। 
০৩। যখন আমাদের সমগ্র বিশ্বের শাসন কর্তা, বর্তমান শাসকবর্গের স্থান দখল করবেন, তখন তার প্রথম কর্তব্য হবে সমাজের মধ্যে চতুর্দিকে নৈরাজ্যের যে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে, তা নিভিয়ে ফেলা, আর সে আগুন সৃষ্টি হয়েছে, আমাদের দ্বারাই, বর্তমান সমাজের মেরুদন্ডকে ভেঙ্গে দেওয়ার ফলে। যার কারণে এই সমাজ ঈশ্বরের কর্তৃত্বকেও মেনে নিতে অস্বীকার করেছে। তাই এই জরাজীর্ন সমাজকে খতম করে দিয়ে তিনি নিজের রক্তে একে ধুয়ে মুছে সুসংগঠিত সমাজব্যবস্থা হিসাবে পূনর্জীবিত করে গড়ে তুলবেন, যে সমাজের মানুষ সচেতন ভাবে সব রকমের  সমাজ বিরোধী অপ-তৎপরতার প্রতিরোধ করবে, যাতে সমাজের গা’য়ে আর কোন ক্ষতের সৃষ্টি যেন না হয় । 
 ০৪। ঈশ্বরের মনোনীত ব্যক্তি উপর থেকেই প্রেরিত হয়েছেন মানব সমাজের নির্বোধ লোক গুলোকে উৎখাত করার জন্য, যারা যুক্তির  সাহায্যে নয় বরং প্রবৃত্তির তাড়নায় চালিত হয়, যারা মানবতার দ্বারা নয় বরং পশুত্বের দ্বারা পরিচালিত হয়। এই শক্তি গুলি বর্তমানে স্বাধীনতা ও অধিকারের নীতির মুখোশ পরে সমাজের মধ্যে যাবতীয় হিংসাত্মক কাজ ও চুরী-ডাকাতির মধ্যে লিপ্ত হয়ে গেছে । তারা আসলেই পূর্ববর্তী সব সামাজিক কাঠামোগুলোকে ভেঙ্গে দিয়ে ইহুদী সম্রাটের সিংহাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছে। তখন এটাই প্রয়োজনীয় হবে যে, তাঁর পথ থেকে এই সমস্ত আপদ বালাই সম্পূর্ণ  মুঝে দেওয়া, যাতে সে পথে না থাকবে কোন নুড়ি, আর না কোন পাথর । 
০৫। তখন সমগ্র পৃথিবীবাসীদের এই কথা বলা আমাদের জন্য সম্ভব হবে যে “ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিন, আর তাঁরই কাছে নতজানু হোন, কেননা তাঁর কাছেই রয়েছে মানুষের পূর্বনির্ধারিত ভাগ্যের সিলমোহর । স্বয়ং ঈশ্বরই আমাদের ভাগ্যে লিখে দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া অপর কেউ’ই, আমাদেরকে, ইতিপূর্বে উল্লেখিত অপশক্তি ও অন্যায়কারীদের হাত থেকে উদ্ধার করতে পারবেন না। 
“প্রটোকল-২৪”
০১। এখন আমি রাজা দাউদের (দাউদ আঃ) বংশপরস্পরা এবং পৃথিবীর শেষ হওয়া পর্যন্ত এর ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়টি আপনাদের সামনে আলোচনা করব। 
০২। এই আলোচনার বিষয়টি সর্বপ্রথমে এবং অবশ্যম্ভাবী রূপে আমাদের বিজ্ঞ প্রবীনদের লেখা, বিশ্ব-সমাজের আদব কায়দা সম্পর্কীত বইটিতে সংযোজিত হবে, যা মানুষকে সমগ্র মানবতার বিষয়ে চিন্তার শিক্ষা দিয়ে থাকে। 
০৩। দাউদ (আঃ) এর বংশধারা কিছু ব্যক্তি রাজা ও তার উত্তরাধিকারীদের তৈরী করবেন। শুধু বংশের যোগ্যতায় নয় বরং তাদের নিজস্ব কর্মকুশলতার কথা বিবেচনা করেই তাদের নির্বাচিত করা হবে, তাদেরকে রাজনৈতিক চরম গুপ্ত রহস্য সম্বন্ধে শিক্ষা দেওয়া হবে। সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার তাৎপর্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে, যা অপর কেউই জানতে পারবে না । এই ধরনের কর্মপদ্ধতির উদ্দেশ্য এই যে, সকলেই যেন জানতে পারে, সরকার পরিচালনার ভার ঐ সমস্ত ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া যায় না, যারা রাজনীতির গুপ্ত রহস্য সম্বন্ধে অজ্ঞ । 
০৪। কেবল মাত্র ঐ সমস্ত ব্যক্তিদেরকে’ই - আমাদের বহু শতাব্দির অভিজ্ঞতা লব্দ জ্ঞানের তুলনামূলক বিচার ক’রে - উপরোক্ত বিষয় সমূহের বাস্তব প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, তাদেরকে শেখানো হবে, সকল রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কার্যকলাপের পর্যবেক্ষন লব্দ জ্ঞান ও সমাজ বিজ্ঞানের  সুক্ষè নিয়ম-নীতি সমূহকে। এক কথায় সকল আইনের সারবস্তু, যা প্রকৃতিগত ভাবে মানবসমাজের পারস্পরিক সম্বন্ধকে সুদৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে । 
০৫। রাজার সরাসরি উত্তরাধিকারদের প্রশিক্ষনের সময়ে, যদি তাদের মধ্যে চপলতা বা নমনীয়তা অথবা অন্যান্য বদগুন যা কর্তৃত্ব চালানোর ব্যাপারে ক্ষতি কারক, সেগুলি তারে মধ্যে দেখা যায়,  তাহলে তাদের শাসন ক্ষমতায় বসানো হবে না । কারন ঐ সমস্ত বিষয়গুলি শাসনকার্যের জন্য অযোগ্যতা এবং তা রাজার দপ্তরের জন্য বিপদজনক। 
০৬। শুধু যারা অটলভাবে দৃঢ়, শাসন কার্যে সক্ষম, এমনকি - যদিও তা নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে পড়ে, তারাই শুধু আমাদের বিজ্ঞ প্রবীনদের থেকে শাসন ক্ষমতা লাভ করবেন। 
০৭। যদি কোন রাজা ইচ্ছা শক্তির দুর্বলতা রোগে আক্রান্ত হন বা তার চরিত্রের মধ্যে অন্য কোন অযোগ্যতা দেখা দেয়, ক্ষেত্রে রাজ্যভার আইনগতভাবে নূতন ও যোগ্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর ক’রতে হবে। রাজার বর্তমান ও ভবিষ্যতের কর্ম পরিকল্পনা সম্পূর্ণ গোপন থাকবে। এমনকি তার ঘনিষ্টতম পরামর্শদাতাও তা জানবেন না। 

ইহুদীদের রাজা
০৯। কেবলমাত্র রাজা, এবং অপর তিন ব্যক্তি, যারা তার জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, তারাই জানবেন রাজা কে হচ্ছেন।
১০। যে রাজা, তাঁর দূর্দমনীয় ইচ্ছাশক্তির জন্য, তার নিজের এবং মানবতার মনিব, সকলেই তার মধ্যে ভাগ্যনির্দিষ্ট অলৌকিকত্ব দেখতে পাবে। কেউ জানবে না রাজা কি  ক’রতে চান, তাই তাঁর কাজের প্রতিবন্ধক ও কেউ হ’তে পারবে না ।
১১। এটা বুঝে নিতে হবে যে, রাজার মস্তিস্ক অবশ্যই সরকারী পরিকল্পনাগুলিকে উদ্দেশ্য মাফিক পরিচালনা করার উপযোগী হতে হবে । এই কারণেই, যিনি রাজা হবেন, তাঁর মানসিক অবস্থা অবশ্যই উপরে উল্লেখিত বিজ্ঞ প্রবীনদের দ্বারা পরীক্ষা নিরিক্ষার পর উপযুক্ত প্রমানিত হ’তে হবে। 
১২। যাতে জনসাধরণ তাদের রাজাকে সরাসরি জানতে ও ভালবাসতে পারে ,সেই জন্য রাজাকে জনসাধারনের সাথে হাটে বাজারে উপস্থিত হ’তে ও জনগনের সাথে বিভিন্ন আলাপ আলোচনা করতে হবে। এর দ্বারা সেই দুটি শক্তি আবার একীভূত হতে পারবে, যা এ যাবত আমরা ভীতির সাহয্যে পরস্পরে’র থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছি। 
১৩। আমাদের দ্বারা এই ভীতি উৎপাদন একান্তই জরুরী ছিল, কারণ এই দুটি শক্তিকে এতদিন পরস্পর পৃথক করে রাখা, তা’দেরকে আমাদের করায়ত্ব রাখার জন্যই একান্তভাবে প্রয়োজনীয় ছিল। 
১৪। ইহুদীদের রাজা কখনই কামনা বাসনার অধীন হবেন না, বিশেষত: কাম প্রবৃত্তির অধীন’তো নয়ই। তাঁর চরিত্রের মধ্যে কোন দিক দিয়েই পশু-শক্তিকে তাঁর মনের উপর প্রভাব বিস্তার ক’রতে দেবেন না। কাম-প্রবৃত্তি হচ্ছে চরম দোষ, যা মানবিক গুনাবলী ও মনের স্বচ্ছতাকে নষ্ট করে দেয় ও মনের চিন্তাধারাকে নিম্নতম পশুর পর্যায়ে নামিয়ে আনে। 
১৫। মানবতার আশ্রয়স্থল, বিশ্বের সর্বোচ্চ শাসক, দাউদের (আঃ) পবিত্র বংশধর তাঁর সকল ব্যক্তিগত সুখ সুবিধা প্রজাদের স্বার্থে বিসর্জন দিয়ে দিবেন। 
 ১৬। আমাদের সর্বোচ্চ শাসক অবশ্যই হবেন, উদাহরণ-জনক ভাবে নিষ্কলঙ্ক চরিত্রের অধিকারী। 
        

তেত্রিশতম ডিগ্রীর জাইয়ন প্রতিনিধিদের দ্বারা স্বাক্ষরিত


সমাপ্ত


তারিখ: বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ।