ইসলামে ও ইহুদী/খৃস্টান ধর্মে নারীর অধিকার লেখক আনসার-উল-হক

ইসলামে ও ইহুদী/খৃস্টান ধর্মে নারীর অধিকার লেখক আনসার-উল-হক

ইসলামে ও ইহুদী/খৃস্টান ধর্মে নারীর অধিকার   লেখক আনসার-উল-হক

ইসলামে ও ইহুদী/খৃস্টান ধর্মে নারীর অধিকার ।


ইহুদী /খৃস্টান সমাজ, বিশেষতঃ ইউরোপীয় ও আমেরিকান ইহুদী/ খৃস্টান সমাজ যে রাষ্ট্রীয় আইনের আওতায় বসবাস করছেন, তাঁরা সেটাকেই মনে করেন বোধ হয় তাদের ধর্মে ঐ সমস্ত অধিকার দেওয়া  আছে। কিন্তু আসলে তা নয়, আসল সত্য এই যে, ‘তোরাহ’ এবং বাইবেলের ‘নুতন নিয়মে’ কতটুকু নারী স্বাধীনতা দেওয়া আছে এবং নারীর সামাজিক মর্যাদা কতটুকু দেওয়া হয়েছিল ইহুদী ও খৃস্টান ধর্মে তা অনেকেই জানেন না। কারন বর্তমান ইউরোপীয় ও আমেরিকান ইহুদী ও খৃস্টান সম্প্রদায় বাইবেল তো পড়ার অবসরই পান না। একে তো ইউরোপ ও আমেরিকার দশ ভাগের নয় ভাগ লোক ধর্ম সম্বন্ধে কোন পরওয়াই করেন না, খবরও রাখেন না।  শতকরা দশ জন লোক শুধুমাত্র নাম কা ওয়াস্তে ইহুদী বা খৃস্টান, অর্থাৎ মুসা ও যিশুকে নবী বলে মানেন আর খৃস্টানরা পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার উপর মৌখিক বিশ্বাস রেখেই খালাস। রবিবারে গীর্জায় যান কম লোকই আর বড়দিনে নাচানাচি আর কিছু উপহার দিতে পারলেই ধর্মীয় কর্তব্য শেষ। তাওরাত / বাইবেল পড়াশুনা করেন শুধুমাত্র যাজক সম্প্রদায় আর ধর্মীয় ব্যাপারে গবেষনা করেন  এমন লোকজন, তাঁরা শতকরা কয়জন হতে পারেন তা ধারনা করা যায়। সুতরাং তাওরাত / বাইবেলে অর্থাত  তাদের নিজ ধর্মে নারী স্বাধীনতা কতটুকু দেওয়া আছে তা বিবেচনায় না এনেই অনেক ইহুদী/খৃস্টান ভাইবোন রা অনেক সময় ইসলাম সম্বন্ধে অনেক গাল ভরা অযৌক্তিক কথা বলে থাকেন। এখন আসুন দেখা যাক,আমরা বাইবেল থেকে বিভিন্ন উদ্ধৃতি দিয়ে দেখব যে বাস্তবিক পক্ষে নারীকে কতটুকু মর্যাদা দিয়েছে ইহুদী / খৃস্টান ধর্ম।  

যা বলার প্রয়োজন তা ন্যায় সঙ্গত ভাবে বলতেই হবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُواْ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى وَبِعَهْدِ اللّهِ أَوْفُواْ ذَلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ *
“যখন তোমরা কথা বলবে তখন ন্যায়পরায়নতা বহাল রাখবে, যদিও সে আত্মীয় হয় , আর আল্লাহ তায়ালা কে দেওয়া ওয়াদা পূর্ন করবে ; এ সব নির্দেশ তিনি তোমাদের দিয়েছেন যেন তোমরা উপদেশ গ্রহন কর।” (সূরা আল আনআম : ১৫২)।
আল্লাহ তায়ালা পুনরায় বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُونُواْ قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاء لِلّهِ وَلَوْ عَلَى أَنفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالأَقْرَبِينَ إِن يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقَيرًا فَاللّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلاَ تَتَّبِعُواْ الْهَوَى أَن تَعْدِلُواْ وَإِن تَلْوُواْ أَوْ تُعْرِضُواْ فَإِنَّ اللّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا 
“ওহে যারা ঈমান এনেছো, তোমরা ন্যায় বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্টিত থাকবে আল্লাহ’র স্বাক্ষী স্বরূপ, যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিম্বা পিতামাতা ও আত্মীয় স্বজনের বিরূদ্ধে হয়; হোক সে ধনী অথবা দরিদ্র উভয়ের সাথে আল্লাহ’র সম্পর্ক অধিকতর। অতএব ন্যায়বিচার করতে গিয়ে তোমরা কামনা বাসনার অনুসরন ক’র না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বল অথবা পাশ কাটিয়ে যাও তবে জেনে রেখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তোমরা যা কর তার পরিপূর্ন খবর রাখেন”। (সূরা নিসা : ১৩৫)
অতএব আমরা যা বলব বা লিখব তা অবশ্যই সত্য এবং ন্যায় সঙ্গত হতে হবে।
সম্পত্তি তে নারীর অধিকার :
বাইবেলের এর মধ্যে দেখা যায় যে আদিতে (প্রাচীন সমাজে) নারীদের সম্পত্তিতে কোন অধিকারই ছিল না।  মৃত স্বামীর সম্পত্তিতে বিধবার ছিলনা কোন অধিকার । পিতার সম্পত্তিতে অধিকার ছিল পুত্রের, কন্যারা ছিল সম্পূর্ন ভাবে বঞ্চিত। বাইবেলের পুরাতন নিয়মের ‘গননাপুস্তক’ যা ইহুদীদের পঞ্চপুস্তক বা পেন্টাটুক এর চতুর্থ ভাগ, এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে  .........  
“ পরে যোষেফের পুত্র মনঃশির গোষ্ঠিভুক্ত সলফাদের কন্যাগন আসিল  ..  ..  তাহারা মোশীর সম্মুখে ও ইলিয়াসর যাজকের সম্মুখে সমাগম তাম্বুর দ্বারে দাঁড়াইয়া এই কথা কহিল, ..  .. আমাদের পিতার পুত্র নাই বলিয়া তাঁহার গোষ্টি হইতে তাঁহার নাম কেন লোপ পাইবে ? আমাদের পিতৃকুলের ভাতৃগনের মধ্যে আমাদিগকে অধিকার দিউন। তখন মোশী সদাপ্রভুর সম্মুখে তাহাদের বিচার উপস্থিত করিলেন .. .. আর সদাপ্রভু মোশীকে কহিলেন , সালফাদের কন্যাগন যথার্থ কহিতেছে .. .. আর ইস্রায়েল সন্তানগনকে বল  কেহ যদি অপুত্রক হইয়া মরে,  তবে তোমরা তাহার অধিকার তাহার কন্যাকে দিবে । যদি তাহার কন্যা না থাকে তবে তাহার ভাতৃগনকে তাহার অধিকার দিবে । যদি তাহার ভ্রাতা না থাকে  ..  .. ” ইত্যাদি।  ( গননাপুস্তক : ২৭ : ৮,৯,১০,১১ )
এখানে দেখা যায় পুত্র না থাকলে তবেই কন্যারা পিতার সম্পত্তিতে অধিকার পাবে, নচেত নয়। পুত্র থাকলে কন্যা কোন সম্পত্তির মালিক হবে না।
তবে কন্যার এই পিতৃসম্পত্তি লাভ আরও একটি শর্ত সাপেক্ষ। দেখুন বাইবেলে কী শর্ত আরোপিত হয়েছে।
“ আর ইস্রায়েল সন্তানগন প্রত্যেকে যেন আপন আপন পৈত্রিক অধিকার ভোগ করে সেইজন্য ইস্রায়েল সন্তানগনের কোন বংশের মধ্যে অধিকারিনী প্রত্যেক কন্যা আপন পিতৃ বংশীয় গোষ্ঠির মধ্যে কোন এক পুরুষের স্ত্রী হইবে। এইরূপে এক বংশ হইতে অন্য বংশে অধিকার যাইবে না । কারন ইস্রায়েল সন্তানগনের প্রত্যেক বংশ আপন আপন অধিকার ভুক্ত থাকিবে।” ( গননা পুস্তক ৩৬ : ৮, ৯) । অর্থাত পিতৃ সম্পত্তিতে অধিকার লাভকারিনী  কন্যাকে তার পিতৃ বংশের অর্থাত তার চাচাতো ভাই বা ঐ ধরনের আত্মিয়ের সঙ্গেই বিবাহ করতে হবে, অন্যত্র বিবাহের অধিকার তার থাকবে না।

দেখা যাক কন্যার বিবাহের পর কী অবস্থা ।
কন্যার বিয়ের পরে স্বামী যদি বলে সে কুমারী নয় ও তাকে ঘৃণা করে তবে কন্যার পিতা মাতা  কন্যার কৌমার্যের চিহ্ন স্বরূপ রক্তমাখা কাপড় (যা প্রথম স্বামীসহবাসের কারনে, সতীচ্ছদ ছিন্ন হওয়ার ফলে হতে পারে) সমাজের প্রাচীন লোকদের দেখাবে ( কত বড় লজ্জার কথা !)। তখন ঐ স্বামীর কথা মিথ্যা হলে তাকে এক শত শেকল পরিমান রৌপ্য দন্ড দিতে হবে। তা কন্যার পিতা পাবে, আর যদি কন্যা সত্যই ভ্রষ্টা হয়ে থাকে তবে ঐ কন্যাকে তার পিতার বাড়ীর সামনে পাথর মেরে হত্যা করতে হবে। 
( দ্বিতীয় বিবরন ২২ : ১৩ থেকে ২৩ পদ)।

স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে তাওরাতে ( ওল্ড টেষ্টামেন্ট)  মুসা (আঃ) এর বিধান এই :- 
“কোন পুরুষ কোন স্ত্রীকে গ্রহন করিয়া বিবাহ করিবার পর যদি তাহাতে কোন প্রকার অনুপযুক্ত ব্যবহার দেখিতে পায় আর সেইজন্য সেই স্ত্রী তাহার দৃষ্টিতে প্রীতিপাত্র না হয় তবে সেই পুরুষ তাহার জন্য এক ত্যাগপত্র লিখিয়া তাহার হস্তে দিয়া আপন বাটি হইতে তাহাকে বিদায় করিতে পারিবে। আর সে স্ত্রী তাহার বাটী হইতে বাহির হইবার পর গিয়া অন্য পুরুষের ভার্য্যা  হইতে পারে।” (দ্বিতীয় বিবরন ২৪ : ১, ২ পদ )। 
এখানে পরিত্যাক্তা স্ত্রীর প্রাপ্য খোরপোষ, দেনমোহর বা কোন আর্থিক সুবিধাদি প্রদানের কোন উল্লেখই নাই । তাছাড়া ঐ পরিত্যাক্তা স্ত্রী কত দিন পরে বিবাহ করতে পারে বা যদি তার গর্ভে কোন সন্তান থাকে তার জন্য বিধান কী  তারও কোন সুস্পস্ট নির্দেশ তাওরাতে নাই, যা কোরআনুল করিমে সুস্পষ্ট ভাবে নির্দেশিত হয়েছে ।  তাওরাতের এই সমস্ত  অপূর্ণতার জন্যই পরবর্তিতে কোরআনুল করিমের প্রয়োজন পড়ে যা সমগ্র মানব জাতীর জন্য হেদায়াত বা পথপ্রদর্শক । এই কারনেই কোরআনুল করিম কে ঋরহধষ ঞবংঃধসবহঃ এই নাম দেওয়া হয়েছে।

এরপর ঈশা (আঃ) এর বাণী  বলে বাইবেল নূতন নিয়মে যা লেখা আছে তা হল   “ আর উক্ত হইয়া ছিল ‘ যে কেহ আপন স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে , সে তাহাকে ত্যাগপত্র দিউক, ’  কিন্তু আমি তোমাদিগকে বলিতেছি  যে কেহ ব্যাভিচার ভিন্ন অন্য কারণে আপন স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে সে তাহাকে ব্যাভিচারিণী করে এবং যে ব্যক্তি উক্ত পরিত্যাক্তা স্ত্রীকে বিবাহ করে সে ব্যাভিচার করে।” (মথি ৫ : ৩২ )  ।

উপরোক্ত বাণী অনুসারে রোমান ক্যাথলিকগন বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চান না। বর্তমান ইউরোপ ও আমেরিকার খৃস্টান ভাইÑবোনরা আপনারা ভেবে দেখুন উপরোক্ত বাণী অনুসারে কেমন ব্যাভিচারের মধ্যে বসবাস ও জীবন কাটাচ্ছেন আপনারা।

খৃস্টান সমাজে স্ত্রীলোকের অধিকার কতটুকু দেখা যাক  :
“যেমন পবিত্র গনের সমস্ত মন্ডলীতে হইয়া থাকে , স্ত্রীলোকেরা মন্ডলীতে নিরব থাকুক, কেননা কথা কহিবার অনুমতি তাহাদিগকে দেওয়া যায় না, বরং যেমন ব্যবস্থাও (মুসা আঃ এর শরিয়ত)  বলে  তাহারা বশীভূতা হইয়া থাকুক।  আর যদি তাহারা কিছু শিখিতে চায় তবে নিজ নিজ স্বামীকে ঘরে জিঞ্জাসা করুক, কারন মন্ডলীতে স্ত্রীলোকের কথা বলা লজ্জার বিষয়।”  (১ করিন্থীয় ১৪ : ৩৪, ৩৫ ) ।
“ নারীগন তোমরা যেমন প্রভূর, তেমনি নিজনিজ স্বামীর বশীভূতা হও, কেননা স্বামী স্ত্রীর মস্তক।” 
( ইফিষীয় ৫ : ২২ )।
“ এইজন্য মনুষ্য পিতামাতাকে ত্যাগ করিয়া আপন স্ত্রীতে আসক্ত হইবে এবং সেই দুইজন একাঙ্গ হইবে। ..  .. তথাপী তোমরা আপন আপন স্ত্রীকে তদ্রুপ আপনার মত প্রেম কর কিন্তু স্ত্রীর উচিত যেন স্বামীকে ভয় করে।”  ( ইফিষীয় ৫ : ৩১.. .. ৩৩ )।
উপরোক্ত অনুজ্ঞাটি  আদিপুস্তক  ২ : ২৪ পদেও দেখা যায় । এই পদটি খৃস্টান স্ত্রীদের বড়ই পছন্দের , বিশেষতঃ যে  সমস্ত স্বামীরা তাদের পিতা-মাতার একটু বেশী খোঁজ কবর নিতে চান তাদের স্ত্রীদের। শোনা যায় তারা নাকি প্রায়ই এই পদটির উদ্ধৃতি দিয়ে তাদের স্বামীদের কাছে বলেন  “ দেখো ঈশ্বরতো বাইবেলের মধ্যেই আদেশ দিয়েছেন পিতামাতাকে ত্যাগ করে স্ত্রীর সঙ্গে মিলেমিশে থাকার জন্য সুতরাং তোমরা পিতামাতার এত খোঁজখবর নিতে চাও কেন ? ”

বাইবেলে  নারীর পরিত্রানের একমাত্র উপায় কী লেখা আছে তাই দেখুন ।
“নারী সম্পূর্ন বশ্যতাপূর্বক মৌনভাবে শিক্ষা করুক। আমি উপদেশ দিবার কিম্বা পুরুষের উপর কর্তৃত্ব করিবার অনুমতি নারীকে দিইনা, কিন্তু মৌন ভাবে থাকিতে বলি। কারন প্রথমে আদমকে পরে হবাকে নির্মান করা হইয়াছিল,  আর আদম প্রবঞ্চিত হইলেন না (?) , কিন্তু নারী প্রবঞ্চিতা হইয়া অপরাধে পতিতা হইলেন, তথাপি যদি আত্মার সংযমের সহিত বিশ্বাসে প্রেমে ও পবিত্রতায় তাহারা স্থির থাকে তবে নারী সন্তান প্রসব দিয়া পরিত্রাণ পাইবে।”  ( ১ তীমথীয়  ২ : ১১, ১২ )।

“ যাহারা প্রকৃত বিধবা সেই বিধবাদিগকে সমাদর কর। কিন্তু যদি কোন বিধবার পুত্র কি পৌত্রগন থাকে তবে তাঁহারা প্রথমতঃ নিজ বাটীর লোকদের প্রতি ভক্তি প্রকাশ করিতে ও পিতামাতার প্রত্যুপকার করিতে শিক্ষা করুক, কেননা ইহাই ঈশ্বরের সাক্ষাতে গ্রাহ্য। যে স্ত্রী প্রকৃত বিধবা ও অনাথা সে ঈশ্বরের উপর প্রত্যাশা রাখিয়া রাত দিন বিনতি ও প্রার্থনায় নিবিষ্টা থাকে । .. .. বিধবা বলিয়া কেবল তাহাকেই গননা করা হউক যাহার বয়স ষাট বতসরের নীচে নয় এবং যাহার একমাত্র স্বামী ছিল এবং যাহার পক্ষে নানা সত কর্মের প্রমান পাওয়া যায় ; অর্থাত যদি সে সন্তানদের লালন পালন করিয়া থাকে , যদি অতিথি সেবা করিয়া থাকে, যদি পবিত্র দিগের পা ধুইয়া থাকে, যদি ক্লিষ্টদিগের উপকার করিয়া থাকে, যদি সমস্ত সত কর্মের অনুষ্ঠান করিয়া থাকে। কিন্তু যুবতী বিধবা দিগকে অস্বীকার কর, কেননা খৃষ্টের বিরূদ্ধে বিলাসিনী হইলে তাহারা বিবাহ করিতে চায়। তাহারা প্রথম বিশ্বাস অগ্রাহ্য করাতে দন্ডাজ্ঞা প্রাপ্ত হয় । ইহা ছাড়া তাহারা বাড়ী বাড়ী ঘুরিয়া বেড়াইয়া  অলস হইতে শিখে, কেবল অলসও নয় বরং বাচাল ও অনধিকার চর্চাকারিণী হইতে ও অনুচিত কথা কহিতে শিখে। অতএব আমার বাসনা এই, যুবতী বিধবারা বিবাহ করুক, সন্তান প্রসব করুক, গৃহে কর্তৃত্ব করুক, বিপক্ষকে নিন্দা করিবার কোন সুত্র না দিউক। ” 
( ১ তীমথীয় ৫ : ৩ ..  .. ১৬ )।

“প্রাচীনা দিগকে বল যেন তাঁহারা আচার ব্যবহারে ভয়শীলা হন, অপবাদিকা কি বহু মদ্যের দাসী না হন, সুশিক্ষাদায়িনী হন, তাহারা যেন যুবতীদিগকে সংযত করিয়া তুলেন, যেন ইহারা পতীপ্রিয়া , সন্তানপ্রিয়া, সংযতা, সতী, গৃহকার্যে ব্যাপৃতা, সুশীলা ও আপন আপন স্বামীর বশীভূতা হয়, এইরূপে যেন ঈশ্বরের বাক্য নিন্দিত না হয়।”  ( তীত ২ : ৩, ৪, ৫ )
“ হে ভার্য্যাসকল, তোমরা আপন আপন স্বামীর বশীভূতা হও। যেন কেহ কেহ যদিও বাক্যের অবাধ্য হয়, তথাপি যখন তাহারা তোমাদের সভয় বিশুদ্ধ আচার ব্যবহার স্বচক্ষে দেখিতে পায়, তখন বাক্য বিহীনে আপন আপন ভার্য্যার আচার ব্যবহার দ্বারা তাহাদিগকে লাভ করা হয়। আর কেশ বিন্যাস ও স্বর্নাভরন কিম্বা বস্ত্র পরিধানরূপ বাহ্য ভূষণ, তাহা নয়, কিন্তু হৃদয়ের গুপ্ত মনুষ্য, মৃদু ও প্রশান্ত আত্মার অক্ষয় শোভা তাহাদের ভূষণ হউক; তাই  ঈশ্বরের দৃষ্টিতে বহু মূল্য । কেননা পূর্বকালের যে পবিত্র নারীগন ঈশ্বরে প্রত্যাশা রাখিতেন, তাঁহারাও সেই প্রকারে আপনাদিগকে ভূষিত করিতেন, যেমন সারা আব্রাহামের আজ্ঞা মানিতেন, ’নাথ’ বলিয়া তাঁহাকে ডাকিতেন।”  ( ১  পিতর  ৩ : ১.. ..৬ )।

বাইবেলে নারী/পুরুষের  সমান অধিকার দেওয়া আছে বলে খৃষ্টান ভাইরা যে দাবী করে থাকেন, সেই কথাটি হল : “কারন তোমরা যত লোক খ্রীষ্টের উদ্দেশ্যে বাপ্তাইজিত হইয়াছ, সকলে খ্রীষ্টকে পরিধান করিয়াছ। ইহুদী কি গ্রীক আর হইতে পারে না, দাস কি স্বাধীন আর হইতে পারে না, নর কি নারী আর হইতে পারে না, কেননা খ্রীষ্ট যীশুতে তোমরা সকলেই এক।” (গালাতীয় ৩ : ২৮)। 
একথার দ্বারা এইটুকুই বোঝা যায় যে ঈশ্বরের কাছে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার যেমন প্রত্যেকটি মানুষই ঈশ্বরের কাছে ভিত্তিগত ভাবে সমান অধিকার সম্পন্ন। 
উপরোক্ত উদ্ধৃতি সমূহ ছাড়া বাইবেল পুরাতন (তাওরাত) বা নূতন নিয়মে নারীজাতীর কর্তব্য, অধিকার, জীবনযাপনের নির্দেশ সম্বলিত আর কোন অনুজ্ঞা নাই।
পবিত্র কোরআনুল করিমে উল্লেখিত হয়েছে :
إِنْ أَرَادُواْ إِصْلاَحًا وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ  
       * وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ وَاللّهُ عَزِيزٌ حَكُيم
“নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে পুরুষদের উপর যেমন পুরুষদের আছে নারীর উপর, আল্লাহ তায়ালা পরাক্রমশালী, মহা বিজ্ঞ ।” (সূরা বাকারা : ২২৮)।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন : 
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاء بِمَا فَضَّلَ اللّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى 
* بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُواْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ
অর্থাত “ পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল, কারন আল্লাহ তায়ালা তাদের কতককে (পুরুষকে) কতকের (নারীর) উপর শ্রেষ্টত্ব দান করেছেন এবং পুরুষেরা নিজেদের অর্থ (নারীদের জন্য) ব্যয় করে।” (সূরা নিসা : আয়াত ৩৪)। 

এখানে উল্লেখযোগ্য এই যে, ইসলামের বিধানে স্বামীকে স্ত্রীর উপর কর্তৃত্বশীল করা হয়েছে ঠিকই , এটি কেবল মাত্র নারীকে সংরক্ষণ ও নিরাপদ রাখার জন্য, কারন পুরুষ শক্তিসামর্থ ও মানসিক ভাবে নারীর অপেক্ষা প্রাকৃতিক ভাবেই কিছুটা অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন হওয়ায় এই অধিকার প্রদত্ত হয়েছে কিন্তু আইন গত ভাবে দুই জনের অধিকারই সমান। আর স্ত্রী কখনই সংসারের জন্য বা স্বামী থাকা অবস্থায় নিজের জন্য কোন ব্যয় করতে বাধ্য নয়।
  
ইসলামে নারীর অধিকার সমূহ কত সুন্দর কত সুস্পষ্ট ভাবে বিধৃত হয়েছে । 
একজন মুসলিম নারী তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ধর্মীয় ভাবে নিম্ন লিখিত অধিকার গুলি উপভোগ করে থাকেন।

১। শিক্ষালাভের অধিকার ।
২। নারীর নিজস্ব সম্পদ ও সম্পত্তির (স্থাবর ও অস্থাবর) মালিকানা অর্জনের অধিকার । নারীর সেই সম্পদ ও সম্পত্তিতে তার স্বামীর বা অপর কারও কোন অধিকার থাকে না, সেই সম্পত্তি নারী তার ইচ্ছামত বিক্রয়, দান, বন্ধক সবই করতে পারে।
৩। নিজে উপায় উপার্জনের অধিকার (ব্যবসা বা চাকুরীর সাহায্যে) এবং সেই উপার্জনের উপর অন্যকারও কোন অধিকার নাই। স্বেচ্ছ্য়া কিছু না দিলে কেউ তার থেকে কিছু নিতে পারবে না।
৪। পিতা এবং বিবাহিতা হলে স্বামীর কাছ থেকে ভরন পোষন লাভ করার অধিকার। মেয়ে বা স্ত্রী কোন কিছু খরচ করতে বাধ্য নয়।
৫। সৎকর্মে সমান পুরষ্কার লাভ করার অধিকার। 
৬। তার নিজের মতামত স্বাধীন ভাবে প্রকাশ করার অধিকার। নিজের বিবাহে নিজ পছন্দমত স্বামী গ্রহন করতে পারার অধিকার। পিতা মাতা বা অভিভাবক জবরদস্তি করে কোন কন্যা সন্তানের বিবাহ দিতে পারবেন না।
৭। পারিবারিক ভাবে নির্ধারিত বিবাহেও অসম্মতি প্রদান করতে পারার অধিকার।
৮। রাসুলে করিম এর সময়কাল থেকে এখন পর্যন্ত মেয়েদের স্বাধীন ভাবে ভোট দানের (মাশওয়ারায় অংশ গ্রহন করার) অধিকার।
৯। নিজের বিবাহের দেনমোহর ও অন্যান্য শর্তাবলী নির্ধারন ও দেনমোহর নিজে গ্রহন করে, নিরঙ্কুশ ভাবে ভোগ করার অধিকার। কোন কন্যার দেনমোহরের উপর তার পিতা মাতা বা স্বামীর কোন অধিকার থাকেনা।  
১০। স্বামীর কাছ থেকে যৌনতৃপ্তি লাভ করার অধিকার। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হলে পৃথক হওয়ার জন্য তালাক চাওয়ার অধিকার। এ ব্যাপারে স্বামীকে “সে পছন্দ করতে পারছে না” এই কথাই যথেষ্ট।
১১। তার অভাব অভিযোগ নিয়ে স্বাধীন মতামত প্রকাশ করা বা নালিশ জানানোর ও বিচার পাওয়ার অধিকার।
১২। পিতামাতা, স্বামী বা অন্য আত্মিয়স্বজনের মৃত্যুর পর তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হওয়ার অধিকার।
১৩। স্বামীর মৃত্যু বা বিবাহ বিচ্ছেদের পর পুনরায় বিবাহ করার অধিকার।
১৪। বিবাহ বিচ্ছেদের পর সন্তানের ‘কাষ্টডি’ লাভের অধিকার। (যদি সন্তানের ভরন পোষনের জন্য তার উপযুক্ত সামর্থ থেকে থাকে)।
১৫। সন্তান কে বুকের দুধ খাওয়াতে কোন নারী বাধ্য নয় (ঐচ্ছিক)। পিতা সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর জন্য ধাত্রী নিয়োগ করতে পারেন। 
১৬। তালাক প্রাপ্তার খোরপোশের অধিকার। তাকে (তালাক প্রাপ্তাকে) স্বামী জোর করে বাড়ী থেকে বের করে দিতে পারবে না।

ইসলামে মহিলারা নিম্ন লিখিত দায়দায়িত্ব হতে সম্পূর্ন ভাবে মুক্ত।

১। একজন মহিলা কোন ভাবেই সংসারের জন্য কোন খরচ পত্র বহন করতে বাধ্য নন। এই দায়দায়িত্ব হতে তিনি সম্পূর্ন ভাবে মুক্ত।
২। সন্তান ধারন বা দুধদানের পর্যায়ে এবং ঋতুশ্রাবের সময়ে রোজা (উপবাস) রাখা তাদের উপর প্রযোজ্য নয়। তবে অবস্থার পরিবর্তন হলে সে গুলিকে আদায় করতে হবে।
৩। ঋতুশ্রাব ও সন্তান জন্মদানের পর ৪০ দিন দৈনিক ৫ বার নামাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকতে পারবে। এ গুলিকে পরে আদায় করতে হবে না।
৪। ঐ সময়ে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করা থেকেও বিরত থাকবে। তবে মসজিদে উপস্থিত হয়ে, তসবিহ / তাহলীল করতে পারবে।
৫। কোন যুদ্ধে যোগদান করা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তবে এর থেকে তাদের নিষেধও করা হয়নি।
৬। স্বাভাবিক অবস্থায় পুরুষ মানুষের অন্যান্য যে কোন কাজ করার জন্য তারা অনুমতিপ্রাপ্ত।
৭। ঋতুশ্রাবের পর্যায়ে ও সন্তান প্রসবের পর ৪০ দিন এর মধ্যেও ঈদ জাতীয় যেকোন অনুষ্ঠানের সমাবেশে গিয়ে তসবীহ তাহলীল করতে পাবে কিন্তু নামাজে যোগদান করতে পারবেনা।
৮। ঋতুবতী মহিলারা হজ্বের অধিকাংশ ক্রিয়া কলাপেও অংশগ্রহন করতে পারবেন তবে ২ /১ টিতে ছাড়া।
৯। ইসলামী আইন কখনও এ কথা বলে না যে মহিলারা শুধুমাত্র গৃহকর্মেই ব্যপৃত থাকবে।
১০। আরওয়া বিনতে আহাম্মদ নামে একজন মহিলা ইয়েমেন প্রদেশের গভর্নর হিসাবে ফাতেমী খেলাফতের অধীনে রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে কাজ করেছেন।

এখন বলুন তো অন্য কোন ধর্মে বা ধর্মীয় পুস্তকে মেয়েদের উপরোক্ত অধিকার সমূহ দেয়া আছে কি ? না নেই।  
স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর পুনরায় কত দিন পরে সে অপর স্বামীগ্রহন করতে পারে তার বিশদ বিবরন, সন্তানের পিতৃ পরিচয় কি ভাবে হবে,  সমস্ত কিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে মহান আল্লাহ তায়ালার আদেশ হিসাবে  কোরআনুল করিমে বিধৃত রয়েছে। কোরআনুল করিম  নারীকে শুধুমাত্র পুরুষের সঙ্গিনী হিসাবে নয় বরং মাতা, কন্যা, ভগ্নী রূপে ছাড়াও সমাজের একজন সদস্যা হিসাবে Ñ অর্থাত নারীর সামগ্রীক রূপে, তাকে একটি পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে জীবনের দিকদর্শন দিয়ে থাকে।  নারীর পোষাকের শালীনতা দিয়ে ইসলাম দিয়েছে তাকে সম্ভ্রম রক্ষা করে যেকোন পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করার মানসিক ও শারীরিক রক্ষা কবচ যা অন্য কোন ধর্মগ্রন্থে র মধ্যে দেখা যায় না এক কথায় অন্য কোন ধর্মের মধ্যে নাই। বর্তমান সভ্যতা নারী স্বাধীনতার অজুহাতে নারীকে শুধুমাত্র বিবস্ত্র করার আয়োজন করছে এবং পুরুষের লালসার সামগ্রীতে পরিনত করতে পেরেছে ; ইসলাম যে টুকু অধিকার দিতে পেরেছে নারীকে তা আর কোন ধর্মই দিতে পারে নি। 

ইহুদী ও খৃস্টান ধর্মের অনুসারীদের এ কথা বিশেষ ভাবে চিন্তা করে দেখা উচিত যে একেশ্বরবাদী ধর্মসমূহের মধ্যে ইসলামই সর্ব কনিষ্ঠ সময়ের দিক দিয়ে। এটি সবচেয়ে শেষে এসেছে , তাই নিঃসন্দেহে আগের গুলি অপেক্ষা সকল দিক থেকে পরিশুদ্ধ এক কথায় পূর্ণতম। অবশ্য ইব্রাহিম (আঃ) এর প্রচারিত ধর্মমতকে যদি ইসলাম হিসাবে ধরা হয় (এটিই সত্য) তবে ইসলামই পৃথিবীর বুকে একেশ্বরবাদী ধর্ম হিসাবে প্রথম ও শেষ ধর্ম।  এটি একটি  ঈড়সঢ়ষবঃব ঈড়ফব ড়ভ খরভব. সুতরাং মনুষ্যজাতির অর্ধেক হিসাবে নারী জাতির জন্য ও ইসলামে রয়েছে এক সর্বাঙ্গীন পূর্ণতা বিশিষ্ট জীবনÑব্যবস্থা যা ইহুদী বা খৃস্টান বা অন্যান্য ধর্মে একান্তই অনুপস্থিত। 
তাই অনর্থক বক্রোক্তি না করে আসুন, দেখান, আপনার ধর্মে কোথায় কতটুকু নারীÑস্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।  
It is an open challenge to the Jews and Christian World.  
আল্লাহ’র রহমতে একজন যে কোন সাধারন মুসলমানের এই চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়ানোর ইমানী শক্তি সমগ্র ইহুদী/খৃস্টান জগতের কারও নাই। 


তারিখ: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০১৫ ।