ঈশ্বরপুত্র অথবা মানবপুত্র ! রচনা আনসার-উল-হক

ঈশ্বরপুত্র অথবা মানবপুত্র ! রচনা আনসার-উল-হক

ঈশ্বরপুত্র অথবা মানবপুত্র !  রচনা আনসার-উল-হক

ঈশ্বরপুত্র না মানবপুত্র
ঈসা (আঃ) বা যীশু যে পিতার ঔরসজাত না হয়েও আল্ল¬¬াহ তায়ালার অসীম কুদরতে কুমারী মায়ের গর্ভে স্থান লাভ ক’রে, মানুষ হিসাবে দুনিয়ায় জন্মগ্রহন করে ছিলেন এ বিষয়ে খৃস্টান ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের লোকজনই প্রায় একমত। “প্রায়” বলছি এই কারনে যে খৃস্টান সম্প্রদায়ের কিছু লোকজন আছেন ( যেমন চার্চ অফ স্কটল্যান্ড ) যারা কুমারীর সন্তান জন্মদানের বিষয়টি স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে পারছেন না বিধায় তা বাইবেল থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষপাতী।
আর মুসলমানদের ব্যাপার হ’ল উপরোক্ত বিষয়টি বিশ্বাস না করলে একজন মুসলমান আর মুসলমান থাকতে পারবেন না। তিনি একজন অবিশ্বাসীতে পরিনত হবেন। কারণ এটি তাঁর ধর্মবিশ্বাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 
এখন, ঈসা (আঃ) এর জন্মের বিষয়ে বাইবেল কি বলছে তা দেখা যাক। 
মথি লিখিত সুসমাচারের মধ্যে আমরা পাই : “যীশু খৃষ্টের জন্ম এইরূপে হইয়াছিল। তাঁহার মাতা যোসেফের প্রতি বাকদত্তা হইলে তাঁহাদের সহবাসের পূর্বে জানা গেল, তাঁহার গর্ভ হইয়াছে --  পবিত্র আত্মা হইতে। আর তাঁহার স্বামী যোসেফ ধার্ম্মিক হওয়াতে ও তাঁহাকে সাধারনের কাছে নিন্দার পাত্র করিতে ইচ্ছা না করাতে, গোপনে ত্যাগ করার মানস করিলেন। তিনি এই সকল ভাবিতেছেন, এমন সময় দেখ, প্রভূর এক দূত স্বপ্নে তাঁহাকে দর্শন দিয়া কহিলেন, যোসেফ, দাউদ সন্তান, তোমার স্ত্রী মরিয়মকে গ্রহন করিতে ভয় করিও না, কেন না তাঁহার গর্ভে যাহা জন্মিয়াছে, তাহা পবিত্র আত্মা হইতে হইয়াছে। আর তিনি পুত্র প্রসব করিবেন, এবং তুমি তাহার নাম যীশু  
(ত্রাণকর্তা) রাখিবে ; কারন তিনিই আপন প্রজা দিগকে তাহাদের পাপ হইতে পরিত্রাণ করিবেন।” 
(মথি ১: ১৮ -- ২১)
লূক লিখিত সুসমাচারের মধ্যে আমরা পাচ্ছি : “ পরে ষষ্ঠ মাসে গাব্রিয়েল দূত ঈশ্বরের নিকট হইতে গালীল দেশের নাসরত নামক নগরে একটি কুমারীর নিকটে প্রেরিত হইলেন ..  ..  ..  সেই কুমারীর নাম মরিয়ম। দূত গৃহমধ্যে তাঁহার কাছে আসিয়া কহিলেন, অয়ি মহানুগৃহীতে, মঙ্গল হউক; প্রভূ তোমার সহবর্তী। ...  ..  ..  দূত   তাহাকে কহিলেন, মরিয়ম ভয় করিও না, কেননা তুমি ঈশ্বরের নিকট অনুগ্রহ পাইয়াছ। আর দেখ তুমি গর্ভবতী হইয়া পুত্র প্রসব করিবে ও তাহার নাম যীশু রাখিবে। ..  ..  তখন মরিয়ম দূতকে কহিলেন, ইহা কিরূপে হইবে ? আমি তো পুরুষকে চিনি না। দূত উত্তর করিয়া তাহাকে কহিলেন, পবিত্র আত্মা তোমার উপরে আসিবেন, এবং পরাতপরের শক্তি তোমার উপরে ছায়া করিবে, এই কারন যে পবিত্র সন্তান জন্মিবেন, তাঁহাকে ঈশ্বরের পুত্র বলা যাইবে। ” (লূক ১ : ২৬  -- ৩৫)
এখন দেখা যাক আল কোরআনুল করিমে এ ব্যাপারে কি উল্লে¬খ রয়েছে। 
“আর এ কিতাবে বর্ননা করুন মরিয়মের কথা, যথন সে নিজ পরিবারের লোকদের থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকে একটি নির্জন স্থানে আশ্রয় নিয়েছিল। তারপর সে তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য পর্দা করল। অতঃপর আমরা তাঁর কাছে আমাদের রূহ কে প্রেরন করলাম। সে তার কাছে এক পূর্ণ মনুষ্যাকৃতি ধারন করে আত্মপ্রকাশ করল। মরিয়ম বলল : আমি তোমার থেকে দয়াময় আল্ল¬াহ’র আশ্রয় চাইছি, যদি তুমি আল্ল¬াহ’কে ভয় কর। ফেরেশতা বলল : আমি তো শুধু আপনার রবের প্রেরিত একজন দ্যুত , আপনাকে এক পবিত্র সন্তান দান করার জন্য এসেছি। মরিয়ম বলল : কি ভাবে আমার পুত্র হবে ? অথচ কোন মানুষ আমাকে স্পর্ষ পর্যন্ত করেনি এবং আমি অসতীও নই। ফেরেশতা বলল : এরূপই হবে। আপনার রব বলেছেন : “এ রূপ করা আমার পক্ষে সহজ। আমি তাকে মানুষের জন্য একটি নিদর্শন ও আমার তরফ থেকে রহমত স্বরূপ করতে চাই। আর এটি তো একটি স্থিরকৃত বিষয়।” তারপর সে তাকে গর্ভে ধারণ করল এবং তা নিয়ে কোন দূরবর্তী স্থানে চলে গেল।” (সূরা মরিয়ম : আয়াত ১৬ -- ২২ )। 
অতএব দেখা যাচ্ছে এই বিষয়ে কোরআন ও বাইবেলের ভাষ্য প্রায় একই রকম এই কারনে যে উভয়ের মধ্যেই উল্লেখিত হয়েছে যে, যীশু (ঈসা আঃ) বিনা পিতায়, আল্ল¬াহ তায়ালার অসীম কুদরতের নিদর্শন স্বরূপ সৃষ্টি হয়েছেন।
 তবে বাইবেলে একথাটি উল্লেখ করা হয়েছে যে “পবিত্র আত্মা তোমার উপরে আসিবেন, এবং পরাতপরের শক্তি তোমার উপরে ছায়া করিবে, এই কারন যে পবিত্র সন্তান জন্মিবেন, তাঁহাকে ঈশ্বরের পুত্র বলা যাইবে ”।
“ঈশ্বর পুত্র”
যীশু অর্থাত (ঈসা আঃ) কে খৃষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজন যে সমস্ত কারনে “ঈশ্বর পুত্র” বলে অভিহিত করেন, তাদের মধ্যে একটি উপরে উল্লে¬¬খিত হয়েছে। অর্থাত বিনা পিতায় ঈশ্বরের কুদরতে জন্মগ্রহন করার কারনে খৃষ্টান ভাই’রা তাকে “ঈশ্বর পুত্র” বলে থাকেন।
বহু সংখক সাধারন খৃষ্টান ভাই’ দের ধারনা যেহেতু ঈসা আঃ এর পিতা ছিলেন না এবং তিনি ঈশ্বরের কুদরতে জন্মগ্রহন করেছেন তাই তিনি “ঈশ্বর পুত্র”। কেউ বা তাঁকে ঈশ্বরের সাক্ষাত সন্তান (Begotten son) বলে অবিহিত করতে চান।
এ বিষয়ে একটা কথা বিশেষ ভাবে আলোচনার প্রয়োজন, তা’হল  -  ঈশ্বর বা আল্ল¬াহ তায়ালা চিরঞ্জীব, চিরকাল তিনি  সমভাবে অবস্থান করবেন, তিনি  যে কোন মানবীয় সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতার উর্দ্ধে, তাঁর কোন পরিবর্তন নাই, ক্লান্তি বা তন্দ্রা তাঁকে স্পর্ষ করতে পারে না। তিনি কার ও ঔরসজাত নন, তাঁর ঔরসজাতও কেউই হতে পারে না। ঈশ্বরের উপর মানবীয় দুর্বলতা ও সীমবদ্ধতা আরোপ ইত্যাদি বিষয় গুলি ঈশ্বরীয় বৈশিষ্টের জন্য নিতান্তই অশোভন ও অবমাননাকর। 
যীশুখৃষ্টের জীবনকালে এমন কি তাঁর অন্তর্ধ্যানের পর পরও তিনি যে ঈশ্বরপুত্র , স্বয়ং ঈশ্বর বা তিন ঈশ্বরের একজন, এমন ধারনাগুলি দানা বেঁধে উঠেনি। বাইবেলের অনেক স্থানে “ঈশ্বরপুত্র” কথাটি ব্যবহার হলেও তার অর্থ ঈশ্বরের সাক্ষাত পুত্র বা ঔরসজাত পুত্র এমন ধারনা করার কোন কারন ছিল না । কারন বাইবেল ’পুরাতন নিয়ম’ ও ’নূতন নিয়ম’ এর কয়েক জায়গায় “ঈশ্বরপুত্র” কথাটি উলে¬¬খ থাকলেও তা কেবল মাত্র ঈশ্বরের প্রিয়পাত্র বা  প্রেরিত-পুরুষ (Prophet)  দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়েছে। ঈশ্বরের সাক্ষাত পুত্র বা ঔরসজাত সন্তান হিসাবে কখনই ব্যবহৃত হয়নি। ঈশ্বর নিরাকার ও অসীম, মানবীয় দুর্বলতা ও দোষগুনের বহু উর্দ্ধে তিনি, তাই মানুষের মত সীমাবদ্ধতা নিয়ে মনুষ্য জন্ম পরিগ্রহ করা বা সন্তানের জন্ম দেওয়া তাঁর জন্য সম্ভব নয়, কেন না ঈশ্বর যদিও সবই পারেন কিন্তু তিনি তাঁর মহিমান্মিত গুনাবলীর বিপরীত কিছু করতে পারেন না, তাছাড়া তিনি তাঁর সমকক্ষ আর একজন কে সৃষ্টি করতে পারেন না। সেই যুক্তিতেই তাঁর ঔরসজাত সন্তান হওয়া সম্ভব নয়।
“ঈশ্বর পুত্র” বলতে বাইবেলে আসলে কি বোঝানো হয়েছে, বা ইহুদীরা ঈশ্বরপুত্র বলতে আদতে কোন ব্যক্তিদের বোঝাতে চেয়েছেন তা আমরা বাইবেলের বিভিন্ন উদ্ধৃতি থেকে দেখার চেষ্টা করব। 
বাইবেল পুরাতন নিয়মের সর্বত্র দেখা যায় যে, সেখানে “ঈশ্বর পুত্র” বলতে  ঈশ্বরের প্রিয় পুরুষদের কথাই বলা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা ঈশ্বরের সন্তান বা ঔরসজাত। 
বাইবেল এর  পুরাতন নিয়মে আদি পুস্তক অধ্যায়ে দেখা যায় : “ এই রূপে যখন ভূমন্ডলে মনুষ্যদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাইতে লাগিল ও অনেক কন্যা জন্মিল, তখন ঈশ্বরের পুত্রেরা মনুষ্যদের কন্যা দিগকে সুন্দরী দেখিয়া যাহার যাহাকে ইচ্ছা সে তাহাকে বিবাহ করিতে লাগিল। তাহাতে সদাপ্রভূ কহিলেন ‘ আমার আত্মা মনুষ্যদের মধ্যে নিত্য অবস্থান করিবে না। তাহাদের বিপথ গমনে তাহারা মাংস মাত্র ..  ..   .. ততকালে পৃথিবীতে মহাবীরগন ছিল এবং ততপরেও ঈশ্বরের পুত্রেরা মনুষ্যদের কন্যাদের কাছে গমন করিলে তাহাদের গর্ভে সন্তান জন্মিল, তাহারাই সেকালের প্রসিদ্ধ বীর।” (আদিপুস্তক : ৬ : ১ থেকে ৪)।
এখানে ঈশ্বরপুত্র বলতে কোন মানুষদের কথা বলা হয়েছে ?  নিশ্চয়ই ঈশ্বরের ঔরসজাত বলে কাউকে উল্লে¬খ করা হয়নি। বাইবেলের টীকাকার দের মতে  এখানে “ঈশ্বরের পুত্রেরা” বলতে আদম বংশীয় পুরুষ দের কথা বলা বা বোঝানো হয়েছে, যারা ঈশ্বরে গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন বা ঈশ্বরের মনোনীত ছিলেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে “মনুষ্যদের কন্যাগন” বলতে কা’দের বুঝানো হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। বাইবেল-ওয়ালাগনও এর উপযুক্ত জবাব দিতে ব্যর্থ। কারন ইহুদী, খৃষ্টান ও মুসলমান সকলের মতে আদম (আঃ) ও তাঁর স্ত্রী হতেই পর্য্যায়ক্রমে সমগ্র মানবজাতীর উতপত্তি ও বংশবৃদ্ধি হয়েছে। আদম (আঃ) ও তাঁর স্ত্রী হাওয়া এদের থেকেই সমস্ত নারী-পুরুষ সৃষ্টি হওয়ায় প্রত্যেক মানুষ ই আদম সন্তান এবং প্রত্যেকেই মনুষ্যপুত্র বা মনুষ্যকন্যা । সেক্ষেত্রে যদি পুরুষদের ঈশ্বরপুত্র বলা হয় তাহলে নারীরাও ঈশ্বরকন্যা হতে পারেন। তাই “ ঈশ্বরের পুত্রেরা মনুষ্যদের কন্যাদের বিবাহ করিতে লাগিলেন” কথাটি নিতান্তই অসঙ্গত ও সামঞ্জস্যহীন। যাই হোক ঈশ্বরপুত্র বলতে বাইবেলের কোন স্থানেই ঈশ্বরের ঔরসজাত সন্তান এই অর্থ করা হয়নি। যেমন: 
“আর তুমি ফেরৌন কে কহিবে , সদাপ্রভূ এই কথা কহেন, “ইস্রায়েল আমার পুত্র, আমার প্রথম জাত। আর আমি তোমাকে বলিয়াছি আমার সেবা করনার্থে আমার পুত্রকে ছাড়িয়া দেও।” (যাত্রাপুস্তক ৪:২২-২৩)।
এখানে ঈশ্বর, মুসা (আঃ) কে উদ্দেশ্য করে ফেরাউন কে বলার জন্য এই কথা বলেছেন। লক্ষনীয় যে এখানে সমগ্র বনী-ইস্রায়েলকে অর্থাত সমগ্র ইহুদীজাতীকে “ ঈশ্বরপুত্র” প্রথমজাত বলা হয়েছে। কিন্তু সমগ্র ইহুদীজাতীকে কি এখানে “ ঈশ্বরের ঔরসজাত সন্তান” বলে বোঝানো হয়েছে ? নিশ্চয়ই তা বোঝানো হয়নি। বরং সমগ্র ইহুদীজাতীকে ঈশ্বরের প্রিয়পাত্র হিসাবেই বোঝানো হয়েছে।
পুনরায় বলা হয়েছে “ আমি তাহাদিগকে জলস্রোতের নিকট দিয়া সরল পথে গমন করাইব, সে পথে তাহারা উছোট খাইবে না, যেহেতু আমি ইস্রাইলের পিতা , এবং ইফ্রয়িম আমার প্রথমজাত পুত্র ”। 
ইতিপূর্বে (যাত্রাপুস্তক ৪:২২) এর মধ্যে বলা হয়েছে “ইস্রায়েল আমার পুত্র, আমার প্রথম জাত”, যা আমরা উপরে উল্লে¬খ করেছি। তাহলে আসলে প্রথমজাত কে ???  খৃষ্টান ভাইরা এর উত্তর দিতে পারেন কি?
“দেখ তোমার এক পুত্র জন্মিবে, সে বিশ্রামবারের মনুষ্য হইবে, আমি তাহার চারিদিকের সকল শত্র“ হইতে তাহাকে বিশ্রাম দিব, কেননা তাহার নাম শলোমন [শান্ত ] হইবে এবং তাহার সময়ে আমি ইস্রাইলকে শান্তি ও নির্বিঘনতা দিব। সেই আমার নামের জন্য গৃহ নির্মান করিবে। আর সে আমার পুত্র হইবে, আমি তাহার পিতা হইব”। (১ বংশাবলী ২২:১০)। এখানে দেখা যাচ্ছে যদিও আমরা জানি যে শলোমন দাউদের ঔরসজাত পুত্র তবুও তাঁর ঈশ্বরভক্তি ও ঈশ্বরের প্রিয়পাত্র হওয়ার কারনে সদাপ্রভূ ঈশ্বর শলোমন কে ‘ সে আমার পুত্র হইবে , আমি তাহার পিতা হইব।’ এই কথা বলেছেন। এর অর্থ এই নয় যে শলোমন দাউদের ঔরসজাত পুত্র নন, ঈশ্বরের ঔরসজাত (! )।
পুনরায় দাউদ (আঃ) বাইবেলের মধ্যে বলেছেন : “আর তিনি আমাকে বলিয়াছেন তোমার পুত্র শলোমনই আমার গৃহ ও আমার প্রাঙ্গন সকল নির্মান করিবে ; কেননা আমি তাহাকেই আমার পুত্র বলিয়া মনোনীত করিয়াছি, আমিই তাহার পিতা হইব।” ( ১-বংশাবলী: ২৮: ৬)। 
গীত সংহিতায় দাউদ (আঃ) পুনরায় বলেন: “আমি সেই বিধির বৃত্তান্ত প্রচার করিব,সদাপ্রভূ আমাকে কহিলেন, তুমি আমার পুত্র , অদ্য আমি তোমাকে জন্ম দিয়াছি। আমার নিকট যাচ্ঞা কর , আমি জাতীগনকে তোমার দয়াংশ করিব।” 
এখানে সহজেই অনুমান করা যায় যে ঈশ্বর দাউদ (আঃ) কে “ তুমি আমার পুত্র , অদ্য আমি তোমাকে জন্ম দিয়াছি” -- এই কথা বললেও আমরা জানি যে দাউদ (আঃ) ঔরসজাত হিসাবে যিশয়ের পুত্র , সুতরাং কথাটি ভাবার্থগত ভাবে ছাড়া অন্য কোন ভাবে গ্রহন করার কোন সুযোগ নেই। দাউদ (আঃ) ঈশ্বরের মনোনীত, প্রিয়পাত্র ও নবী হওয়ার কারনে ঈশ্বর তাঁকে পুত্র হিসাবে সম্বোধন করেছেন, এ কথা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। এ পিতা-পুত্র সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্ট মানুষ এর মধ্যের সম্পর্ক ; পালনকর্তা ও পালিতের সম্বন্ধ। “অদ্য আমি তোমাকে জন্ম দিয়াছি” এর অর্থ এই যে “আজ থেকে আমি তোমাকে নবী হিসাবে মনোনীত করেছি।” 
একই ভাবে আবার ২ শ্যামুয়েল : ১২- ১৪ এর মধ্যে ‘দাউদ (আঃ) এর কাছে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞায়’  দেখা যায় - ঈশ্বর দাউদ (আঃ) কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন : “ তোমার দিন সম্পূর্ন হইলে যখন তুমি আপন পিতৃলোকদের সহিত নিদ্রগত হইবে , তখন আমি তোমার পরে তোমার বংশকে , যে তোমার ঔরসে জন্মিবে [শলোমন বা শুলেমান (আঃ) ] তাহাকে স্থাপন করিব এবং তাহার রাজ্য সুস্থির করিব। আমার নামের নিমিত্ত সে এক গৃহ নির্মান করিবে, এবং আমি তাহার রাজসিংহাসন চিরস্থায়ী করিব। আমি তাহার পিতা হইব ও সে আমার পুত্র হইবে”। আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি যে ঈশ্বর দাউদ (আঃ) কে “তুমি আমার পুত্র , অদ্য আমি তোমাকে জন্ম দিয়াছি” -- এই কথা বললেও পুনরায় দাউদ (আঃ) এর পুত্র শলোমন (আঃ) এর জন্য বলছেন -- “আমি তাহার পিতা হইব ও সে আমার পুত্র হইবে”। সুতরাং এ কথাগুলি যে ঈশ্বরের প্রিয়পাত্র ও নবী দের জন্যই বলা হয়েছে তা বুঝতে কারও বিন্দুমাত্র অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। 
এখানে পালনকর্তা ঈশ্বর কে পিতা হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পিতা যেমন সযতনে সন্তানের লালন পালন করেন ঈশ্বরও ততোধিক যতনে তাঁর প্রিয় মানুষদের লালন-পালন ও রক্ষা করেন। যেমন :
“ঈশ্বর আপন পবিত্র বাসস্থানে পিতৃহীনদের পিতা ও বিধবাদের বিচারকর্তা”। (গীত সংহিতা ৬৮: ৫)
অন্যত্র দেখা যায় :
অনেক সময়ে নবীর অনুসারী সাধারন মানুষদেরও ঈশ্বরের সন্তান এই আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
“আমিই বলিয়াছি তোমরা ঈশ্বর, তোমরা সকলে পরাতপরের সন্তান, কিন্তু তোমরা মানুষের ন্যায় মরিবে, একজন অধ্যক্ষের ন্যায় পতিত হইবে।”  (গীত সংহিতা, আসফের সঙ্গীত,  ৮২: ৬, ৭)। এখানে যে মানুষকেই ঈশ্বর বা ঈশ্বরের সন্তান বলা হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নাই।
পুনরায় উলে¬খিত হয়েছে :“তোমরা আপনাদের ঈশ্বর সদাপ্রভূর সন্তান। তোমরা মৃত লোকদের ন্যায় আপন আপন শরীর কাটকুট করিবে না এবং ভ্রুমধ্যস্থল ক্ষৌরি করিবে না”। ( দ্বিতীয় বিবরন ১৪: ১) ।
উপরোক্ত আদেশটি মুসা (আঃ) এর একটি হুকুম এর অন্তর্ভূক্ত, যেখানে মুসা (আঃ) তাঁর অনুসারীদের ‘ সদাপ্রভূর সন্তান’ অর্থাত ‘ঈশ্বরের সন্তান’ হিসাবে উলে¬খ করেছেন। এখানে নিশ্চয়ই ঔরসজাত হিসাবে বোঝানো হয়নি।
ঈশ্বরের আদেশ বা অনুজ্ঞা পালন করলে, তাঁকে অন্তরে ভক্তি করলে, মানুষের সেবা করলে ্ঈশ্বরের প্রিয়পাত্র হওয়া যায়। ঈশ্বরের প্রিয়পাত্ররাই তাঁকে পিতা বলে দাবী করতে পারেণ। বাইবেলে তাঁদেরই অর্থাৎ বিশেষভাবে  নবী-রাসুলদেরই “ঈশ্বরপুত্র”  বলে উলে¬খ করা হয়েছে। কেবলমাত্র বাচনিক ভঙ্গির কারনে ঈশ্বর পালন কর্তা হিসাবে দয়া ও করুণার আধার এই কারনে পিতার মত স্নেহশীল বোঝাতে ঈশ্বরকে পিতা ও নবীদের কে ও ঈশ্বরের প্রিয় জন কে তাঁর পুত্র এই হিসাবে বোঝানো হয়েছে। 
বাইবেলের ‘নূতন নিয়ম’ এর মধ্যেও এই একই ধারনারই ব্যপ্তি দেখা যায়।  ঈশ্বরপুত্র হওয়ার যোগ্যতা কি কি তা নীচের উদ্ধৃতি থেকে বোঝা যায়। ঈশা (আঃ) বলেন : 
“ আমি তোমাদিগকে বলিতেছি তোমরা আপন আপন শত্র“দিগকে প্রেম করিও, এবং যাহারা তোমাদিগকে তাড়না করে তাহাদের জন্য প্রার্থনা করিও। যেন তোমরা আপনাদের স্বর্গস্থ পিতার সন্তান হও। কারন তিনি ভাল মন্দ লোকেদের উপরে আপনার সূর্য উদিত করেন এবং ধার্মিক-অধার্মিক লোকেদের উপরে জল বর্ষান”। (মথি ৫: ৪৪, ৪৫)।
“ ধন্য যাহারা মিলন করিয়া দেয়, কারন তাহারা ঈশ্বরের পুত্র বলিয়া আখ্যাত হইবে”। (মথি ৫ : ৯)।
“কিন্তু তুমি যখন দান কর, তখন তোমার দক্ষিন হস্ত কি করিতেছে তাহা তোমার বাম হস্ত কে জানিতে দিওনা। এরূপে তোমার দান যেন গোপনে হয়, তাহাতে তোমার পিতা যিনি গোপনে দেখেন, তিনি তোমাকে ফল দিবেন”।  (মথি ৬ : ৩, ৪)।
“তুমি যখন প্রার্থনা কর, তখন তোমার অন্তরাগারে প্রবেশ করিও, আর দ্বার রূদ্ধ করিয়া তোমার পিতা যিনি গোপনে বর্তমান তাঁহার নিকটে প্রার্থনা করিও, তাহাতে তোমার পিতা যিনি গোপনে দেখেন, তিনি তোমাকে ফল দিবেন”। (মথি ৬ : ৬)।
“ অতএব তোমরা এইমত প্রার্থনা করিও:- ‘হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতা ! তোমার নাম পবিত্র বলিয়া গন্য হউক ”। 
(মথি ৬ : ৯)।
“কারন তোমরা যদি লোকের অপরাধ ক্ষমা কর , তবে তোমাদের স্বর্গীয় পিতা তোমাদিগকে ক্ষমা করিবেন। কিন্তু তোমরা যদি লোকদিগকে ক্ষমা না কর, তবে তোমাদের পিতা তোমাদেরও অপরাধ ক্ষমা করিবেন না। (মথি ৬ : ১৪, ১৫)।
“তুমি যখন উপবাস কর, তখন মাথায় তৈল মাখিও এবং মুখ ধুইও ; যেন লোকে তোমার উপবাস না দেখিতে পায়, কিন্তু তোমার পিতা যিনি গোপনে বর্তমান, তিনিই দেখিতে পান, তাহাতে তোমার পিতা যিনি গোপনে দেখেন, তিনি তোমাকে ফল দিবেন”।  (মথি ৬ : ১৭, ১৮)।
“অতএব তোমরা মন্দ হইয়াও যদি তোমাদের সন্তান দিগকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করিতে জান, তবে ইহা কত অধিক নিশ্চয় যে তোমাদের স্বর্গস্থ পিতা, যাহারা তাঁহার কাছে যাচ্ঞা করে তাহাদিগকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করিবেন”। ।  (মথি ৭ : ১১)।
উপরোক্ত উদ্ধৃতি গুলি থেকে এ কথাই প্রমান হয় যে ঈশ্বর কে সৃষ্টিকর্তা বা পালনকর্তা হিসাবে পিতা বলে সম্বোধন ও উলে¬খ করা ইহুদীজাতীর বৈশিষ্ট্য, এর অর্থ এই নয় যে ইহুদীজাতী ঈশ্বরের ঔরসে জন্মগ্রহন করেছে ।
(নাউজুবিল¬াহ)। 
মার্কের সুসমাচার এর প্রথমেই দেখা যায় : “যিশু খৃষ্টের সুসমাচার আরম্ভ ; তিনি ঈশ্বরের পুত্র”। (মার্ক ১: ১) এখানে “ঈশ্বরের পুত্র” বলতে তাঁকে নবী হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
“আর দেখ স্বর্গ হইতে এই বাণী হইল, ‘ইনিই আমার প্রিয়পুত্র, ইঁহাতেই আমি প্রীত” (মথি ৩: ১৭)
“আর স্বর্গ হইতে এই বাণী হইল, ‘তুমিই আমার প্রিয়পুত্র, তোমাতেই আমি প্রীত”। (মার্ক ১: ১১)।

বাইবেল নূতন নিয়মে যিশুকে “ঈশ্বরের পুত্র” হিসাবে উলে¬খ করা হলেও তা শুধুমাত্র ঈশ্বরের প্রিয় এবং একজন নবী হিসাবে বোঝানো হয়েছে, যে রকম বোঝানো হয়েছে বাইবেল পুরাতন নিয়মের মধ্যে বিভিন্ন নবী দের কথা উলে¬খ করার ক্ষেত্রে, যা ইতিপূর্বে উলে¬খিত বিভিন্ন উদ্ধৃতির মধ্যে আমরা লক্ষ্য করেছি।। সকলকেই “ঈশ্বরের পুত্র” বলা হয়েছে, কেবল মাত্র যিশু খৃষ্টের ব্যাপারেই একথা বলা হয়নি, তাই কেবলমাত্র যিশুখৃষ্ট ই “ঈশ্বরের একমাত্র পুত্র” বা only begotten son খৃষ্টান সম্প্রদায়ের এই দাবীর কোন যৌক্তিকতা নেই । কেবলমাত্র একজন নবী হওয়ার ফলে এবং আল¬¬াহ তায়ালার বিশেষ অনুগৃহীত ব্যক্তি হিসাবে বিবেচিত হওয়ায় তাঁকে “ঈশ্বরের পুত্র” এই আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এটি ততকালীন ইহুদী সমাজের একাট প্রচলিত কথা হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে।
যদি পিতা ছাড়া জন্মের কারনে খৃষ্টান ভাইরা ঈশা (আঃ) কে “ঈশ্বর পুত্র” আখ্যা দিয়ে তাঁকে আরাধনা বা উপাসনার বিষয়বস্তু বানিয়ে থাকেন সে ক্ষেত্রে আদম (আঃ) কে তাঁরা কি বলে আখ্যায়িত করতে চান ? তিনি তো পিতা মাতা উভয়ের অবর্তমানে ঈশ্বরের আদেশে সৃষ্টি হয়েছেন। তবে কি তিনিও খৃষ্টান ভাই দের মতে “ঈশ্বর পুত্র” হিসাবে উপাসনার অংশীদার ? যদি না হন তবে  ঈশা (আঃ) এর বিশেষত্ব কোনখানে ?
পুনরায় আর একটি উদাহরন দেওয়া যায় । 
“সেই যে মল্কীষেদক, .. .. .. তিনি ধার্ম্মিকতার রাজা,পরে শালেমের রাজা, অর্থাত শান্তিরাজ, তাঁহার পিতা নাই মাতা নাই, পূর্বপুরুষাবলী নাই, আয়ুর আদি কি জীবনের অন্ত নাই (খিজির আঃ) ; কিন্তু তিনি ঈশ্বর-পুত্রের সদৃশীকৃত; তিনি ..  ..  ..  আব্রাহাম হইতে দশমাংশ লইয়াছিলেন”। (ইব্রীয় ৭ : ১ -- ৬)।  তাহলে দেখা যাচ্ছে এই মল্কীষেদক বলে যাকে উল্লে¬খ করা হয়েছে তিনি যীশু বা ঈশা (আঃ) থেকে বহু গুনে শ্রেষ্ঠ কেন না ঈশা (আঃ) এর শুধু পিতা ছিলেন না, আর এই ব্যক্তির তো “পিতা নাই, মাতা নাই, পূর্বপুরুষাবলী নাই, আয়ুর আদি কি জীবনের অন্ত নাই” - তিনি যীশু বা ঈশা (আঃ) থেকে বহু গুনে শ্রেষ্ঠ না হয়ে পারেন কি ভাবে ? 
যদিও পল তার লেখা “ইব্রীয়দের প্রতি পত্র ” এই অধ্যায়ে নানা বাগাড়ম্বরের সাহায্যে প্রমান করার চেষ্টা করেছেন যে যীশু ই “ মল্কীষেদক এর রীতি অনুসারে অনন্তকালীন যাজক” তাহলেও এর সাহায্যে তিনি মল্কীষেদক এর মহত্ব বা শ্রেষ্টত্ব কে যে কোন ভাবে খর্ব করতে ব্যর্থ হয়েছেন। 
কই, মল্কীষেদক তো “ঈশ্বর পুত্র” হিসাবে বা উপাসনার অংশীদার হিসাবে বিবেচ্য নন। কেন নন?  তিনি তো বাইবেলের বর্ননা অনুসারে দেখা যায়, যীশু বা ঈশা (আঃ) থেকে বহু গুনে শ্রেষ্ঠ। তাহলে তিনি “ঈশ্বর পুত্র” নন কেন? বা উপাসনার অংশীদার হিসাবে বিবেচ্য নন কেন ?  এর কোন উত্তর কোন সাধারণ খৃষ্টান ভাই তো দূরের কথা কোন পাদরী ভাইও দিতে পারেন না। উত্তর এইটাই আর তা হল: চার্চ তো আমাদের তা করতে বলেনি।
ঈশা (আঃ) কে “ঈশ্বর পুত্র” হিসাবে উপাসনার অংশীদার বানানো খৃষ্টান সম্প্রদায়ের এই অপকর্মের অসারতা প্রমানের জন্য মানব সভ্যতা কে ২০০০ বতসর অপেক্ষা করে থাকতে হয়নি বরং আল-কোরআন প্রায় ১৪০০ বতসরের আগেই সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষনা করে এই মিথ্যার অপনোদন করে গেছে : 

“মসীহ ইবনে মরিয়ম একজন রাসুল ছাড়া অন্য কিছু নন। তাঁর পূর্বে আরও অনেক রাসুল গত হয়েছেন এবং তাঁর মা একজন সত্যনিষ্ঠ মহিলা ছিলেন। তাঁরা উভয়েই খাদ্য ভক্ষন (সাধারন মানুষের মত) করতেন। দেখ, তাদের জন্য কিরূপ যুক্তি-প্রমান বিশদ ভাবে বর্ননা করছি আরও দেখ তারা উল্টা কোন দিকে যাচ্ছে।”  সূরা মায়েদাহ : আয়াত ৭৫ ।
“তারা বলে : আল্লাহ সন্তান গ্রহন করেছেন ! তিনি (আল্লাহ) মহান ও পবিত্র। তিনি অমুখাপেক্ষী। যা কিছু আছে আসমানে এবং যা কিছু আছে জমিনে তা সবই তাঁর (আল্লাহ ’র)। তোমাদের কাছে কোন সনদ নেই (তোমাদের) এ দাবীর পক্ষে। তোমরা কি আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কথা বলছ যা তোমরা জানো না ”? সূরা ইউনুস : আয়াত ৬৮

“ তারা বলে : দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহন করেছেন। নিশ্চয়ই তোমরা এক জঘন্য কাজ করে বসেছ, এতে যেন আকাশ ফেটে পড়বে, জমিন খন্ড বিখন্ড হয়ে যাবে এবং পর্বতমালা চূর্ন বিচূর্ন হয়ে ধসে পড়বে , কেননা তারা দয়াময় আল্লাহ ’র প্রতি সন্তান আরোপ করে ! অথচ সন্তান গ্রহন করা দয়াময় আল্লাহ ’র জন্য শোভনীয় নয়। কেন না আসমান ও জমিনে এমন কেউ নেই যে দয়াময় আল্লাহ ’র সমীপে বান্দা রূপে উপস্থিত হবে না”। সূরা ত্বাহা : আয়াত ৮৮ -- ৯৩।
যীশু অর্থাৎ ঈশা (আঃ) আল্লাহ তায়ালার দাস ও একজন বিশিষ্ট নবী ছিলেন  
ঈশা (আঃ) সব সময়ে নিজেকে আল¬াহ’র একজন দাস হিসাবে উলে¬খ করতেই পছন্দ করতেন। তিনি নিজেকে যখন স্বর্গীয় পিতার পুত্র বলে উলে¬খ করেছেন সেটি কেবলমাত্র ভাবাবেগ ও ঈশ্বরের সঙ্গে অন্তরঙ্গতা বোঝানোর উদ্দেশ্যে, নিজেকে ঈশ্বরের অংশ হিসাবে বা উপাসনার পাওনাদার হিসাবে নয়।
মথি ১২ : ১৮ “ দেখ, আমার দাস, তিনি আমার মনোনীত..  .. ..”
প্রেরিত ৩ : ১৩  “ আব্রাহাম, ইস্হাকের, ও যাকোবের ঈশ্বর, আমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর, আপনার দাস এই যীশুকে গৌরবান্মিত করিয়াছেন”।  
প্রেরিত ৪ : ২৭ “ কেননা সত্যই তোমার পবিত্র দাস যীশু, যাহাকে তুমি অভিষিক্ত করিয়াছ,  ..  ..  ..  ”  
তিনি ইহুদী মায়ের গর্ভে, ইহুদী সমাজে জন্মগ্রহন করেন, তাঁর পালক পিতাও ছিলেন ইহুদী; ইহুদীধর্মের সব কিছুই অক্ষরে অক্ষরে পালন করে গেছেন ঈশা (আঃ) সারা জীবন, তিনি ছিলেন মনে প্রানে একজন খাটি ইহুদী  ( A practicing Jew ) অন্ততঃ বাইবেলে তো তাই বলে। 

তিনি বলেছেন: “ মনে করিও না যে , আমি ব্যবস্থা কি ভাববাদী গ্রন্থ ( তাওরাত) লোপ করিতে আসিয়াছি ; আমি লোপ করিতে আসি নাই  কিন্তু পূর্ণ করিতে আসিয়াছি । কেন না আমি তোমাদিগকে সত্য কহিতেছি যে পর্যন্ত আকাশ ও পৃথিবী লুপ্ত না হইবে সে পর্যন্ত ব্যবস্থার ( মুসা আঃ এর শরীয়তের আইন) এক মাত্রা কি এক বিন্দু ও লুপ্ত হইবে না , সমস্তই সফল হইবে । অতএব যে কেহ এই সকল ক্ষুদ্রতম আজ্ঞার মধ্যে কোন একটি আজ্ঞা  লঙ্ঘন করে ও লোক দিগকে সেইরূপ শিক্ষা দেয় , তাহাকে স্বর্গরাজ্যে অতি ক্ষুদ্র বলা যাইবে ; কিন্তু যে কেহ সে সকল পালন করে ও শিক্ষা দেয় , তাহাকে স্বর্গরাজ্যে মহান বলা যাইবে ।” (মথি ৫ : ১৭, ১৮, ১৯ )।
ইহুদীধর্মের খুঁটিনাটি আচার-অনুঠানকেও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করার আদেশ দিয়ে গেছেন। যেমন, তিনি বলেছেন: “লোকদের কাছে সাক্ষ্য দিবার জন্য তোমার শুদ্ধিকরন সম্বন্ধে মোশির আজ্ঞা অনুসারে নৈবেদ্য উতসর্গ কর”। (লুক ৫ : ১৪)।
তিনি আরও বলেন : “ব্যবস্থার ( মুসা আঃ এর শরীয়তের) একবিন্দু  পড়িয়া যাওয়া অপেক্ষা বরং আকাশের ও পৃথিবীর লোপ হওয়া সহজ”। (লুক ১৬ : ১৭)।
বাইবেল বলছে : “তখন যীশু লোক সমূহকে ও নিজ শিষ্যদিগকে কহিলেন, অধ্যাপক ও ফরিসীরা মোশির আসনে বসে । অতএব তাহারা তোমাদিগকে যাহা কিছু বলে তাহা পালন করিও, মানিও কিন্তু তাহাদের কর্মের মত কর্ম করিওনা। কেননা তাহারা বলে কিন্তু করেনা”।  (মথি ২৩ : ১)।
কালের পরিবর্তনে ইহুদীধর্মের মধ্যে যে বিকৃতি ও কুপমন্ডুকতা দেখা গিয়েছিল সেগুলি দূর করার জন্যই তিনি এসেছিলেন এবং সে চেষ্টাই তিনি করে গেছেন তাঁর অন্তর্ধ্যানের পূর্ব পর্যন্ত। ইহুদীধর্মের মধ্যে কালের বিবর্তনে নানা রকম বিকৃতি প্রবেশ করলেও মূলতঃ এটি ছিল আগাগোড়া একটি একেশ্বরবাদী ধর্ম। এই ধর্মে ঈশ্বরের সন্তান হওয়া, ঈশ্বরের অবতার হিসাবে মনুষ্যজন্ম গ্রহন ইত্যাদি কোন বিষয়ই নাই। এই ধর্মে ঈশ্বর একক ক্ষমতার অধিকারী , তাঁর কোন অংশীদার নাই। পবিত্র আত্মা একজন বাণীবাহক দূত মাত্র , ঈশ্বরের আদেশে তিনি ঈশ্বরের বাণী পৌছিয়ে দেন বিভিন্ন নবী রাসুল দের কাছে। সুতরাং তিনিও ঈশ্বরের সঙ্গে উপাসনায় অংশীদারীত্বের দাবীদার নন। যেমন কোন নবী-রাসুলও ঈশ্বরের সঙ্গে উপাসনার যোগ্য নন। 
ঈশা (আঃ) এর ব্যতিক্রম কিছুই প্রচার করেন নি। তিনি সব সময়ে নিজেকে ঈশ্বরের দাস হিসাবেই উপস্থাপন করেছেন। ঈশ্বরের আদেশ ছাড়া কোন কিছুই করার ক্ষমতা তাঁর ছিলন্ াএকথা তিনি স্বয়ং স্বীকার করে গেছেন যা বহুবার উলে¬খিত হয়েছে বাইবেলের নূতন নিয়মে। 
“সেই দিনের  (কেয়ামতের দিনের), সেই দন্ডের তত্ত্ব কেহই জানেনা, স্বর্গের দূতগনও জানেন না, পুত্র ও জানেন না কেবল পিতা জানেন”। (মথি ২৪: ৩৬, ৩৭) এবং ( মার্ক ১৩: ৩২)। 
যদি খৃষ্টান ভাইরা যেমন বিশ্বাস করেন অর্থাত পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা তিনজন মিলে এক ঈশ্বর হতেন তবেতো সব কিছু তিনজনেরই জানা থাকতো । কিন্তু যীশু নিজ মুখেই স্বীকার করেছেন যে একমাত্র পিতা ছাড়া অর্থাত ঈশ্বর ব্যতিত অপর কেউই “সেই দিনের সেই দন্ডের তত্ত্ব ” জানেন না, তিনিও জানেন না। এতেই 
একজন নবী হিসাবে যীশু অনেক অলৌকিক কাজ সম্পাদন করেছিলেন। যেমন অনেক জন্মান্ধের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া, খঞ্জের চলত শক্তিলাভ, কুষ্ঠরোগীর নিরাময় এমন কি মৃতের পূনর্জীবন লাভ ইত্যাদি অনেক আশ্চর্যজনক কাজ তিনি প্রার্থনার সাহায্যে সম্পাদন করেছিলেন। এই সমস্ত অলৌকিক কাজ এর জন্য সাধারন মানুষ যীশুকে ঐশ্বরিক ক্ষমতা সম্পন্ন মনে করতেন এবং প্রধানতঃ এই কারনেই সাধারন মানুষ তাঁর উপর ঈশ্বরত্ব আরোপ করে তাঁকে ঈশ্বরপুত্র, ঈশ্বরের অংশ, ঈশ্বরের অবতার ইত্যাদি তে পরিনত করে ফেলেছেন। মানুষ যাতে এই রকম কোন ভ্রান্ত ধারনার বশবর্তী না হয় সেইজন্য যীশু স্বয়ং এর ব্যাখ্যা আগে থাকতেই দিয়ে গেছেন। কিন্তু মানুষ তাঁর কথায় কর্নপাত করেনি। 
তিনি বলেছেন : “আমি আপনা হইতে কিছুই করিতে পারি না, যেমন শুনি তেমন বিচার করি। আর আমার বিচার ন্যায্য, কেননা আমি আপনার ইচ্ছা পূর্ন করিতে চেষ্টা করি না, কিন্তু আমার প্রেরনকর্তার ইচ্ছা পূর্ন করিতে চেষ্টা করি”। ( যোহন ৫: ৩০)।
কত সহজ স্বীকারোক্তি, একজন ঈশ্বরপ্রিয় নবীর কথাই এখানে প্রতিফলিত হয়েছে, যিনি তাঁর প্রেরনকর্তা অর্থাত ঈশ্বরের ইচ্ছা ও আদেশেই সব কাজ সম্পন্ন করতেন। তাঁর সমস্ত অলৌকিক কার্যবলী যে ঈশ্বরের গৌরব বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তাঁরই (ঈশ্বরের) আদেশে যীশু সম্পন্ন করতেন উপরোক্ত উদ্ধৃতিতে তা স্পষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন : “সত্য সত্যই আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, পুত্র আপনা হইতে কিছুই করিতে পারে না,  কেবল পিতাকে যাহা করিতে দেখেন তাহাই করেন..  ..  ..  পুত্রকে যে সমাদর করে না সে পিতাকে সমাদর করে না, যিনি তাহাকে পাঠাইয়াছেন”। (যোহন ৫: ১৯ .. .. ২৩)। 
এই কথার মাধ্যমে যীশু স্পষ্ট ভাবে বলেছেন যে তিনি ঈশ্বর প্রেরিত একজন নবী এবং তাঁর সব কাজকর্ম ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই সম্পাদিত হ’ত।
“তোমরা আমার পাত্রে পান করিবে বটে, কিন্তু যাহাদের জন্য আমার পিতা কর্তৃক স্থান প্রস্তুত করা হইয়াছে, তাহাদের ভিন্ন আর কাহাকেও আমার দক্ষিন পার্শ্বে বা বাম পার্শ্বে বসিতে দিতে আমার অধিকার নাই”। (মথি ২০ : ২৩ ) । 
খৃষ্টান ভাইরা যে যীশুকে ত্রানকর্তা হিসাবে ধারনা করেন তা কত বড় ভুল তা উপরোক্ত উদ্ধৃতি থেকেই বোঝা যায়।
“আমার খাদ্য এই, যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন যেন তাঁহার ইচ্ছা পালন করি ও তাঁহার কার্য সাধন করি”।         (যোহন: ৪ : ৩৪)। 
তাঁর পৃথিবীতে আগমনের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যীশু বলেন: “কেননা আমার ইচ্ছা সাধন করিবার জন্য আমি স্বর্গ হইতে নামিয়া আসি নাই, কিন্তু যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন তাঁহারই ইচ্ছা সাধন করিবার জন্য ”। ( যোহন ৬: ৩৮)।

তাঁর মুখনিস্মৃত বাণী যে তাঁর নিজের কথা নয় বরং ঈশ্বরেরই বাণী তাও তিনি স্পষ্ট ভাবে উলে¬খ করে গেছেন: “যিশু তাহাদিগকে উত্তর করিয়া কহিলেন, আমার উপদেশ আমার নহে, কিন্তু যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন তাঁহার”।
যিশু একজন ঈশ্বর-প্রেরিত নবী হিসাবে ঈশ্বরেরই গুনগান করেছেন, ঈশ্বরের মাহাত্ম প্রচার করে গেছেন , কোন দিনও তাঁর নিজের বড়ত্ব নয়।
ব্যবস্থার মধ্যে কোন আজ্ঞা মহত, এই প্রশ্ন যীশুকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিলেন:“ তোমার সমস্ত অন্তঃকরন, তোমার সমস্ত প্রান ও তোমার সমস্ত মন দিয়া তোমার ঈশ্বর প্রভূকে প্রেম করিবে”। (মথি ২২:৩৭)। 
ঈশ্বরের প্রতি প্রেমই যে ধর্মের গোড়ার কথা তা যীশু বুঝিয়ে গেছেন। এই কথা পূনরায় ব্যক্ত হয়েছে এই উদ্ধৃতিতে: “ যীশু উত্তর করিলেন, প্রথমটি এই: হে ইস্রায়েল শুন, আমাদের ঈশ্বর প্রভূ একই প্রভূ, আর তুমি তোমার সমস্ত অন্তঃকরন, তোমার সমস্ত প্রান ও তোমার সমস্ত মন ও তোমার সমস্ত শক্তি দিয়া তোমার ঈশ্বর প্রভূকে প্রেম করিবে” ( মার্ক ১২: ২৯, ৩০)।
ঈশ্বর প্রেমই যে তাঁর কাছে প্রধান তা তিনি ব্যক্ত করেছেন, আর ও বার বার বলে গেছেন যে, সেই ঈশ্বর একই ঈশ্বর এবং তিনি (ঈশ্বর) এক এবং অদ্বিতীয়।
“যীশু তাহাকে কহিলেন, আমাকে সত কেন বলিতেছ ? একজন ব্যতিরেকে সত আর কেহ নাই, তিনি ঈশ্বর। (মার্ক ১০: ১৮)।
উপরোক্ত উদ্ধৃতি গুলি এটাই প্রমান করে যে, যীশু ভুলেও কোন দিন নিজেকে ঈশ্বর বা ঈশ্বরের অংশ বলে মনে করেন নি বা তা প্রচারও করেন নি। তাঁর অন্তর্ধ্যানের পর তিনি যা নন, মানুষের অন্ধ আবেগ ও কল্পনা তাঁকে তাই বানিয়েছে। যীশুর অন্তর্ধ্যানের পর যখন তাঁর শিষ্যেরা বিধর্মী , পৌত্তলিক ও পরজাতীয়দের মধ্যে ধর্মপ্রচারের জন্য শমরীয়া বা অন্যান্য স্থানে গেছেন তখনই তাদের মধ্যে বিজাতীয়দের চিন্তা চেতনা স্খান লাভ করতে থাকে। এই ধরনের আশঙ্কা যীশুর মনে পূর্ব হতেই ছিল। সেই কারনে তিনি তাঁর শিষ্যদের বিজাতীয়দের মধ্যে ধর্মপ্রচার করতে নিষেধ করে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন : “তোমরা পরজাতীগনের পথে যাইওনা এবং শমরীয়দের কোন নগরে প্রবেশ করিওনা, বরং ইস্রাইলকুলের হারানো মেষদের কাছে যাও”। (মথি ১০ : ৬)।
নিজের সম্বন্ধে  তিনি বলেছেন : “ ইস্রাইলকুলের হারানো মেষ ছাড়া আর কাহারো নিকটে আমি প্রেরিত হই নাই।
..   ..   .. তিনি উত্তর করিয়া কহিলেন , “সন্তানদের খাদ্য লইয়া কুকুরদের কাছে ফেলিয়া দেওয়া ভাল নয় ”। (মথি ১৫ : ২৪ --২৬)। 
মার্ক ৭ : ২৭ , ২৮ এর মধ্যে যীশু পুনরায় বলেন “ সন্তানদের খাদ্য লইয়া কুকুরদের কাছে ফেলিয়া দেওয়া ভাল নয় ”।
উপরোক্ত উদ্ধৃতি গুলি থেকে নি:সন্দেহে প্রমানিত হয় যে  যীশু অ-ইহুদীদের কাছে তার ধর্মকে প্রচার করতে নিষেধ করেন। কিন্ত তার কথা অমান্য করার কারনেই তাঁর একেশ্বরবাদী ধর্ম বিজাতীয় সংস্কৃতি ও পৌত্তলিকতার সংস্পর্শে এসে বর্তমানের কলুষিত অবস্থায় পরিবর্তিত  হয়ে গেছে। 

ঈশ্বরের সন্তান হওয়ার ধারনা বা মানুষ হিসাবে জন্মগ্রহনকারী ঈশ্বরের ধারনা রোমান ও ভারতীয় সহ পৃথিবীর বিভিন্ন পৌত্তলিক ধর্মগুলির মধ্যে বহু পূর্ব হতে প্রচলিত ছিল। খৃষ্ট ধর্ম রোমান অঞ্চলে অইহুদী দের মধ্যে প্রচারিত হওয়ার সময়ে রোমানদের পৌত্তলিকতা, ঈশ্বরের ত্রিত্বরূপ, ঈশ্বরের মনুষ্য হিসাবে জন্মগ্রহন ইতাদি বিষয়গুলি সন্নিবেশিত হতে থাকে এবং যীশুর অন্তর্ধ্যানের প্রায় আড়াই শত বৎসর থেকে তিনশত বৎসরের মধ্যে তা খৃষ্টধর্মের মধ্যে পাকা পোক্ত ভাবে বসে যায়। কারও মধ্যে অলৌকিক কিছু দেখলেই তাকে ঈশ্বরের অবতার বা দেবতা ইত্যাদি সম্বোধন করতে, ঐ সমস্ত বিজাতীয় অজ্ঞলোকদের মোটেই দেরী হয়নি। যীশুর অলৌকিক কাজ গুলির কারনে বিজাতীয় লোকেরা তাকে ঈশ্বরের অবতার হিসাবে জ্ঞান করতে শুরু করে। কিন্তু ঈশ্বর প্রেরিত নবী-রাসুলরা সব সময়েই কিছু না কিছূ অলৌকিক কাজ করে গেছেন ঈশ্বরের মহিমা প্রচারের উদ্দেশ্যে। তাঁদের ব্যক্তিগত কোন উদ্দেধ্য চরিতার্থ করার জন্য নয়। 
আল কোরআনুল করিমে ঈশা (আঃ) কে “ঈশা ইবনে মরিয়ম” বা “মরিয়মের পুত্র” বলে উলে¬খ করা হয়েছে এবং পবিত্র বাইবেল এর গসপেল গুলির মধ্যেও তিনি “মরিয়মের পুত্র” হিসাবে উলে¬খিত হয়েছিলেন, আর আল্লাহ তায়ালার যে বাণী ঈশা (আঃ) এর অন্তর জগতকে উদ্ভাসিত করেছিল এবং যা তিনি তাঁর অনুসারী শিষ্যদের কাছে মৌখিক ভাবে ব্যক্ত করে ছিলেন, লোক মুখে মুখে অচীরেই তা রূপকথা ও পৌরানিক লোককাহিনীতে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। “মরিয়মপুত্র” হয়ে গেছেন ভাইবোন পরিবেষ্টিত “যোসেফ পুত্র”, পরবর্তিতে “দাউদের সন্তান” এবং পর্যায়ক্রমে “মনুষ্যপুত্র”, “ঈশ্বরপুত্র”, “পুত্র”, “ত্রাণকর্তা” এবং সব শেষে “ঊতসর্গীত মেষ”। 

বাইবেলে প্রায় ৮৪ বার যীশু “মনুষ্য পুত্র” বলে কারও কথা উল্লেখ করেছেন। এই মনুষ্য পুত্র কে ? যীশু নিজেই বহুবার “মনুষ্যপুত্র” এর আগমনের কথা উল্লে¬খ করেছেন। খৃষ্টান ভাইগন বলেন “মনুষ্য পুত্র” বলতে ঈশা (আঃ) নিজেকেই বুঝিয়েছেন। সত্যই কি তাই ? প্রসঙ্গটি বিস্তারিত আলোচনার দাবী রাখে। যুক্তির নীরিখে বিচার করতে গেলে আমরা অর্থাত মুসলমান ভাইরা ঈশা (আঃ) এর ঐ দুইটি নামের (“ঈশ্বরপুত্র” এবং “মনুষ্যপুত্র”)  কোনটিকেই যথার্থ বলে মেনে নিতে পারি না। কারন যদি ঈশ্বরকে “পিতা” সম্বোধন করা যায় আর  “ঈশ্বরপুত্র” বলতে যদি নবী রাসুলদের বা ঈশ্বরপ্রিয় লোকদের বোঝানো হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে সমস্ত  নবী রাসুলদেরই , ঐ নামে সম্বোধন করা যাবে আর  একই ভাবে ঈশা (আঃ) কে যদি যোসেফ নামীয় কাঠমিস্ত্রির সন্তান ও পাঁচভাই এর একজন, যাদের আরো কয়েকজন বিবাহিত বোন ছিলেন (গসপেলে যে ভাবে উলে¬খিত হয়েছে) এভাবে দেখা হয়, তাহলে শুধু ঈশা (আঃ) কেন, মানুষের সন্তান হিসাবে যে কোন মানুষকেই তো “মনুষ্যপুত্র” আখ্যা দেওয়া যেতে পারে । তাহলে “মনুষ্যপুত্র” বলতে ঈশা (আঃ) বাইবেলে  আসলে কাকে বুঝিয়েছেন ? এর উত্তর কোন খৃষ্টান পাদরী বা যাজক ভাই আমাদের দিতে পারবেন কি? আমার আশঙ্কা হয় যে এক কোটি খৃষ্টান ভাইদের মধ্যে একজনও এই ব্যাপারে বিন্দুমাত্র চিন্তা করে দেখার অবকাশ পান না। কারন তাদের চার্চ তাদেরকে যত অযৌক্তিক আর অসম্ভব বিষয়ই বলুক না কেন তারা তাই অন্ধবিশ্বাসে মেনে নেন। তারা একবারও যুক্তি দিয়ে সামান্যতম বাছ বিচারও করেন না, যে কারনে তারা ক্রসপুজার মত জঘন্যতম জিনিসও নির্দ্বিধায় ধর্মের নামে চালিয়ে যেতে পারছেন। যদি তাই না হ’ত তাহলে যে ক্রসের মধ্যে তাদের নবী কে হত্যা করা হয়েছিল বলে তারা মনে করেন সেই ক্রসের পূজা তাঁরা করেন কি ভাবে। এ যেন ভাতৃহত্যার অস্ত্রটিকে পূজা করা তাও আবার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পিতার উপস্থিতি তে। 
“মনুষ্যপুত্র” বলতে ঈশা (আঃ) বাইবেলে আসলে কাকে বুঝিয়েছেন এ বিষয়ে আলোচনার প্রথমেই আমাদের দেখতে হবে যে "Son of Man" কথাটি ইহুদীদের প্রাচীন লিপির মধ্যে যাকে "Barnasha" “বারনাশা ” বলা হয়েছে , বাইবেলে তাঁর ব্যক্তিত্বকে কি ভাবে চিত্রিত করা হয়েছে। বাইবেলে এই “মনুষ্যপুত্র” কে কখনই একজন বিনীত, নম্র,  প্রতিবাদ বিহীন বা যার কোন মাথা গোঁজার স্থান নেই, সহায় সম্বলহীন, প্রতিপত্তিহীন এ ভাবে চিত্রিত করা হয়নি, যে ভাবে যীশুকে চিত্রিত করা হয়েছে। বরং বাইবেলে “মনুষ্যপুত্র” কে অসাধারন সমৃদ্ধি ও প্রতিপত্তি সম্পন্ন শক্তিশালী যিনি ঈশ্বরের শত্র“দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের সম্পূর্নভাবে ধ্বংশ করতে সক্ষম এমন একজনের কথাই বার বার করে উলে¬¬খ করা  হয়েছে যার সঙ্গে যীশুর চরিত্রের কোন মিলই খুঁজে পাওয়া যায় না। ইহুদীরা যীশুকে বার বার করে সেই “বারনাশা ” বা “মনুষ্যপুত্র” এর কথা উলে¬¬খ করতে শুনে ছিলেন, এই শব্দটি তাঁর নিজের  বানানো বা আবিষ্কার নয় বরং এটি ইহুদীদের প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থ “ইনোখের পুস্তক”, শিবিলাইন পুস্তক সমূহ (Sibylline Books), মোসীর ধারনাপুস্তক (the Assumption of Moses),দানিয়েলের পুস্তক (The Book of Daniel)  এর থেকে নেওয়া । এগুলি থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে যীশু তাঁর পরে যে নবী/রাসুল এর আগমনের কথা বার বার করে উল্লেখ করেিেছলেন, তিনি আর কেউ নন, তিনি শেষ নবী মোহাম্মদ (সাঃ) , যার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে “বারনাশা ” হিসাবে বাইবেলে উল্লে¬¬খিত ব্যক্তির যথেষ্ট মিল পাওয়া যায়। বিষয়টি আরও  বিস্তারিত আলোচনার দাবী রাখে।
বার্নাবাস ও পল যখন লুকায়নিয়ার লুস্ত্রা নামক নগরীতে ধর্মপ্রচার করছিলেন, স্থানীয় বিজাতীয় অধিবাসীরা ‘বার্নাবাস’ কে জুপিটার ও ‘পল’ কে মার্কুরিয়াস  দেবতা মনে করে তাদের উদ্দেশ্যে বলিদান করতে উদ্যত হয়। এই সময়ে বার্নাবাস ও পল বহু কষ্টে তাদের এই কাজ থেকে নিবৃত্ত করেন। (প্রেরিত ১৪: ১২ .. .. ১৭)
সুতরাং মানুষের পূজা বা ঈশ্বরীয় অবতার হিসাবে কোন নবীর পূজা খৃষ্ট ধর্মের একেশ্বরবাদী  তত্ত্বের একেবারেই বিরোধী।
ঈশ্বর অসীম, মানুষ তাঁর সৃষ্টি। দুনিয়ায় মানুষ ঈশ্বরের প্রতিনিধি। প্রতিনিধি কখনই মূলের সমমর্যাদা সম্পন্ন হতে পারে না। ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, ঈশ্বর যদি মানুষ হিসাবে জন্ম নিতেন তাহলে তাঁর শক্তিমত্তা ও মহাত্ম সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ত, যা ঐশ্বরীয় গুনাবলীর চরম অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়।  
তাই যিশুও ঈশ্বর বা ঈশ্বরের অংশ নন, বরং একজন মানুষ ও ঈশ্বর-প্রেরিত নবী-রাসুল হিসাবে ঈশ্বরেরই গুনগান করেছেন, ঈশ্বরের মাহাত্ম প্রচার করে গেছেন সারা জীবন।
পবিত্র কোরআনুল করিমে আল্লাহ তায়ালা উলে¬¬খ করেছেন :
“আর যখন আল্লাহ তায়ালা বলবেন Ñ হে মরিয়ম পুত্র ঈশা আমি কি তোমাকে বলেছিলাম মানুষদের বলতে যে তোমাকে ও তোমার মা কে আল্লাহ ’র বদলে উপাস্য স্থির কর ? (ঈশা আঃ) বলবেন Ñ সমস্ত গৌরব আপনারই জন্য,  আমি কখনই তা বলতে পারিনা যা বলার অধিকার আমার নাই। আমি যদি ঐ কথা বলতাম তাহলে অবশ্যই আপনি তা জানতেন। আমার অন্তরে যা কিছু  আছে সবই আপনি জানেন আর আপনার অন্তরের কথা আমার জানা নাই, অবশ্যই আপনি অদৃশ্যের বিষয় সমূহ অবগত। আমি তাদের তাই বলেছি যা বলার জন্য আপনি আমাকে আদেশ দিয়েছেন Ñ তা এই যে, সেই আল্লাহ’রই উপাসনা কর যিনি আমার এবং তোমাদেরও প্রভু, আর আমি তাদের মধ্যে সাক্ষী স্বরূপ ছিলাম যত দিন আমি তাদের মধ্যে বসবাস করেছি, আর যখন আপনি আমাকে মৃত্যু দিলেন, তখন থেকে আপনিই ছিলেন তাহাদের পরিদর্শক , আর আপনি স্বয়ং সমস্ত বিষয়ের উপর সাক্ষ্য”।
সুরা মায়েদা  আয়াত  ১১৬,১১৭,১১৮
আল্লাহ তায়ালা আর ও বলেন : 
“কোন মানুষের পক্ষে এটি সম্ভব নয় যে , আল্লাহ তায়ালা তাঁকে কিতাব এবং জ্ঞান ও নবুয়ত প্রদান করবেন অতঃপর সে লোকেদের কে বলবে  আমার বান্দা হয়ে যাও, আল্লাহ কে পরিত্যাগ করে (!) , বরং সে বলবে তোমরা আল্লাহ ওয়ালা হয়ে যাও , এই জন্য যে তোমরা কিতাব শিক্ষা দাও এবং এই জন্যও যে তোমরা স্বয়ং সেটি পাঠ কর। আর এ কথারও নির্দেশ দেবে না যে তোমরা ফেরেশতাদের এবং নবী দের কে আপন উপাস্য প্রভূ নির্ধারন করে নাও। তিনি কি তোমাদেরকে কুফরীর কথা বলে দেবেন, তোমরা আত্মসমর্পণকারী (মুসলমান) হওয়ার পর ?” সুরা আলে ইমরান ঃ আয়াত  ৭৯
কোরআনুল করিম দ্বর্থ্য হীন ভাষায় উলে¬খ করেছে :
নিঃসন্দেহে  তারা কাফের ( অবিশ্বাসী ও অংশীবাদী ) যারা বলে আল্লাহ স্বয়ং মশীহ্  ইবনে মরিয়ম, আপনি জিজ্ঞাসা করুন যদি তাই হয় তাহা হ’লে বলতো, এমন কি কেউ আছে যে আল্লাহ ’র থেকে তাদেরকে রক্ষা করতে পারে যদি আল্লাহ তায়ালা মশীহ্  ইবনে মরিয়ম কে, তাঁর মাকে এবং ভূপৃষ্ঠে আরো যারা আছে তাদের সকলকে ধ্বংশ করে দিতে ইচ্ছা করেন ! আর আল্লাহ তায়ালার’ ই প্রভূত্ব নির্দিষ্ট রয়েছে আসমান সমূহ ও পৃথিবীতে এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সমস্ত বস্তুর উপর এবং তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আর আল্লাহ সমস্ত বস্তুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। সুরা মায়েদা ঃ আয়াত ১৭   
 কোরআনুল করিম এ পুনরায় উল্লে¬¬খিত হয়েছে :
“নিশ্চয়ই তারা কাফের যারা বলে যে  আল্লাহ তিনিই তো মসীহ্ ইবনে মরিয়াম (মরিয়ম নন্দন ঈশা ) অথচ মসীহ্  নিজেই বলেছেন যে  হে বনী ইস্রাইল, তোমরা আল্লাহ ’র  ইবাদত ( উপাসনা ) কর, যিনি আমারও প্রতিপালক তোমাদেরও প্রতিপালক, নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহ ’র অংশীস্থির করবে তবে তার জন্য আল্ল¬াহ তায়ালা বেহেস্ত  (স্বর্গ ) কে হারাম করে দেবেন এবং তার বাসস্থান হ’বে দোজখ (নরক) এবং সে রকম জালেমদের কোন সাহায্যকারীও হবে না ।” সুরা মায়েদা ঃ আয়াত ৭২   
 কোরআনুল করিম আবার বলেছে :
“নিঃসন্দেহে এই লোকেরাও কাফের , যারা বলে আল্লাহ তিনের এক, অথচ এক মাবুদ ( উপাস্য ) ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই। আর যদি এরা নিজেদের উক্তি থেকে বিরত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কাফেরই থাকবে, তাদের উপর যন্ত্রনা দায়ক শাস্তি পতিত হবে। এর পরও কি তারা আল্লাহ তায়ালার কাছে তওবা করে না , এবং তাঁহার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে না !   অথচ আল্লাহ তায়ালা অতিশয় ক্ষমাশীল ও পরম করুণাময় ।” 
সুরা মায়েদা ঃ আয়াত ৭৩ 
আল্লাহ তায়ালার সুষ্পষ্ট ঘোষনা :
“মসীহ্ ইবনে মরিয়াম একজন রাসুল ব্যতিত আর কিছুই নন, তাঁর পূর্বে আরও বহু রাসুল গত হয়েছেন, তাঁর মা একজন সত্যাশ্রয়ী সতী রমনী ছিলেন। তাঁরা উভযেই খাদ্য খেতেন (সাধারন মানুষের মত) , লক্ষ্য করুন আমি কি ভাবে প্রমান সমূহ তাদের কাছে বর্ননা করছি অতঃপর লক্ষ্য করুন , তারা উল্টা কোন দিকে যাচ্ছে।” 
সুরা মায়েদা ঃ আয়াত ৭৫ , ৭৬ 
অতএব উপরোক্ত আলোচনা থেকে একথাই স্পষ্ট প্রমানিত হচ্ছে যে মরিয়ম পুত্র ঈশা (আঃ) আল্লাহ তায়ালার একজন প্রখ্যাত নবী এবং তাঁরই দাস ; ঈশ্বর বা ঈশ্বরের অংশ নন বরং একজন মানুষ। আর বাইবেলে তাঁর নিজস্ব বানী বলে এখনও যেটুকু অবশিষ্ট আছে , সে টুকু থেকে নিঃসন্দেহে প্রমানিত হয় যে ঈশা (আঃ) নিজে কখনই নিজেকে ঈশ্বর, ঈশ্বরের অংশ, ঈশ্বরের পুত্র বা স্বর্গীয় বলে দাবী করেননি। বরং তিনি নিজেকে সব সময়েই ঈশ্বরের  মুখাপেক্ষী একজন অনুগত দাস হিসাবে উলে¬¬খ করতেই পছন্দ করতেন। যা কিছু অলৌকিক ঘটনার তিনি সৃষ্টি করেছিলেন তা সবই আল্লাহ তায়ালার আদেশে এবং  আল্লাহ তায়ালার ই গৌরব বৃদ্ধিও উদ্দেশ্যে ; নিজের মহাত্ম বৃদ্ধির  উদ্দেশ্যে নয় । অথচ তাঁর অন্তর্ধ্যান এর পরপরই বিজাতীয় পৌত্তলিক জেন্টাইল দের  ধর্মীয় ধ্যানধারনা এর সংস্পর্ষে এসে একেশ্বরবাদী খৃষ্টান ধর্ম এর আসল চরিত্র সম্পূর্ন ভাবে হারিয়ে ফেলে। 

তাই খৃষ্টান ভাইবোনদের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ এই যে বাইবেল পড়–ন, বারবার পড়–ন, এর মধ্যে যিশু খৃষ্টের নিজের কথা বলে যা কিছু অবশিষ্ট আছে সে গুলি মানার চেষ্টা করুন (পল এর কথা নয় কারন তিনি নবী নন, যিশু নবী ), Paraclitos (আর এক সহায়) বলতে বাইবেলে কাকে বুঝানো হয়েছে তা বোঝার চেষ্টা করুন, তিনি যে Holy Ghost নন বরং শেষ নবী আল্লাহ ’র রাসুল মোহাম্মদ (তাঁর ও তাঁর বংশধরদের উপর আল্লাহ ’র তরফ থেকে শান্তি) তা অবশ্যই বুঝতে পারবেন। বাইবেলে Paraclitos (আর এক সহায়) বলতে যাকে বুঝানো হয়েছে তিনি যীশুর পরে পৃথিবীতে এসে ধর্মীয় ব্যাপারে  মানুষকে সমস্ত কিছু  বুঝিয়ে যাবেন বলে উলে¬খ করা হয়েছে, কিন্তু Holy Ghost একজন ফেরেশতা (জিব্রাইল) তিনি পৃথিবীতে এসে সাধারন মানুষকে ধর্মীয় ব্যাপারে কোন কিছু বুঝিয়ে দিযে গেছেন বলে অন্ততঃ বাইবেলে কোন উল্লে¬খ নাই। (বাইবেল নূতন নিয়ম যোহন ১৪ : ১৬ এবং ২৬, যোহন : ১৬ : ৭,৮, ১৩, ১৪, ১৫, প্রেরিত : ৩ : ২২, ২৩, এবং ৭: ৩৭ ) পড়–ন। সত্যকে জানার ও মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন । 
আল্ল¬াহ বলেছেন :
“ হে আহলে কিতাব ( তাওরাত ও ইঞ্জিলের অনুসারী অর্থাত ইহুদী ও খৃষ্টানগন) তোমাদের কাছে আমার রাসুল (মোহাম্মদ  সাঃ) এসেছেন, তিনি তোমাদের কাছে প্রকাশ করেন কিতাবের এমন অনেক কিছু যা তোমরা গোপন করতে এবং অনেক বিষয় উপেক্ষা করেন। তোমাদের কাছে এসেছে আল্লাহ ’র তরফ থেকে এক জ্যোতি ও একটি সমুজ্জল কিতাব (কোরআন  The Final Testament)।  যারা  আল্লাহ ’র সন্তুষ্টি কামনা করে , এ কিতাব দিয়ে তিনি তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং তাদের  তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে স্বীয় অনুমতি ক্রমে আর তিনি তাদের পরিচালিত করেন সরল সঠিক পথে।..  ..  ..  .. হে আহলে কিতাব তোমাদের কাছে এসেছেন আমাদের রাসুল , যিনি রাসুল আগমনের বিরতির পর তোমাদের কাছে স্পষ্ট ভাবে বর্ননা করছেন যাতে তোমরা বলতে না পার যে, “ তোমাদের কাছে কোন সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারী আসেনি।” এখন তো তোমাদের কাছে এসে গেছেন একজন সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারী। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।” (সূরা মায়িদাহ : আয়াত ১৫,১৬.. .. ..  ১৯)
আল্লাহ অবশ্যই বিশ্বাসীদের সহায় হবেন।   

শেষ


  


তারিখ: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০১৫ ।